11/09/2020
ইংরেজীতে যাকে বলে কো-ইনসিডেন্স বাংলায় সেটা কাকতালীয়। কাকতালীয় হচ্ছে সেটাই যেটা সাধারণ নিয়মে কোনভাবেই হবার কথা না।
এই যেমন ধরুন ১৯২১ সালে অ্যারিজোনাতে হুভার বাঁধ প্রকল্প নামে একটি বাঁধ নির্মান প্রকল্প চলছিলো। প্রায় ১৪ বছর যাবত চলা এই প্রকল্পে ১১২ জন মারা যান। প্রথম যিনি মারা মারা যান তার নাম ছিলো J G Tierney, ১৯২১ সালের ২০ ডিসেম্বর। ১৯৩৫ সালে ঐ প্রোজেক্টে সর্বশেষ যিনি মারা যান তিনি আর কেউই না, প্রথম ব্যক্তিরই ছেলে Patric Tierney. তারিখটা কবে জানেন? ২০ ডিসেম্বর !!
১৯৭৪ সালে বারমুডাতে মোপেড (এক ধরনের স্কুটি টাইপ বাইক) চালানোর সময় ১৭ বছর বয়সী লরেন্স এবিন ট্যাক্সি ক্যাবের ধাক্কায় মারা যান। দুর্ঘটনা বলে ট্যাক্সি ড্রাইভার কোন শাস্তি পাননি। ঠিক এক বছর পরে ১৯৭৫ ঐ মোপেড চালাতে গিয়েই এবিন এর ভাই নেভিল ঐ রাস্তাতেই ট্যাক্সি ক্যাবের সাথে ধাক্কায় খেয়ে মারা যান। তখন তার বয়স ১৭ দিন। ভাবছেন এখানেই শেষ? ট্যাক্সিটি ছিলো সেই আগের ট্যাক্সি, সেই আগের ড্রাইভার, এমনকি প্যাসেঞ্জার ও ছিলো একই।
এগুলো যদি ছোট খাটো কাকতালীয় ব্যাপার হয় এবার তাহলে এদের বাপ টাইপের একটা ঘটনা বলি। ১৬৬০ সালে ডোবারে একটা জাহাজ ডুবে যায়। সৌভাগ্যক্রমে একজন মানুষ বেঁচে যান জাহাজের। আর তার নাম ছিল হাগ উইলিয়ামস। এরপরের ঘটনা ১৭৬৭ সালের। একই স্থানে সেবার আরো একটি জাহাজ ডুবে যায়। মৃত্যু হয় জাহাজে থাকা ১২৮জন মানুষের ভেতরে ১২৭জনের। সৌভাগ্যক্রমে সেবারেও বেঁচে যান একজন। নাম হাগ উইলিয়ামস। পরবর্তীতে ১৮২০ সালের ৮ আগস্ট টেমস নদীতে ডুবে যায় আরেকটি জাহাজ। এবারো বেঁচে যায় একজন। নাম? হাগ উইলিয়ামস। শেষ ঘটনাটি ১৯৪০ সালের ১০ জুলাই এর। এক ব্রিটিশ ট্রলার জার্মান গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনায় ট্রলারের মাত্র দুজন মানুষ বেঁচে গিয়েছিলেন। সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচা আর ভাতিজা। আর তাদের নাম? হ্যা, ঠিক তাই, দুজনেরই নাম ছিল হাগ উইলিয়ামস।
শুধু মৃত্যু, ধ্বংস এর কথাই বলছি। এবার একটা ভালো কাহিনী শুনাই। একই সাথে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ব্যাপার। ১৯৩০ সালের কোন এক দুপুরে জোসেফ ফিগলক ডেট্রয়েটের রাস্তা দিয়ে গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছিলেন। একটা বড় বিল্ডিং এর পাশ দিয়ে যাবার সময় কয়েক তলা উপরের জানালার উপর থেকে একটা মায়ের অসাবধানতায় তার ছোট বাচ্চা গড়িয়ে পড়লো। পড়বি তো পর এক্কেবারে জোসেফের গায়ে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত কারো কিছু হলোনা। এখনকার সময় হলে জোসেফ নিশ্চয়ই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতেন,' এ কেমন বিচার?? ' লিখে। কারন এক বছর পর ঠিক ঐ বিল্ডিং এর নিচ দিয়ে যাবার সময় ঠিক ঐ বাচ্চাটাই আবার জোসেফের গায়ের উপর পড়লো। এবারো দুইজনেই বেঁচে গেলেন। হাসবেন না ঐ বাচ্চার অভিভাবকদের গালাগালি দেবেন, আপনার বিষয়।
ফেলুদার গল্পে উদ্ধৃত করা সেই কাকতালীয় ঘটনা নিশ্চয়ই মনে আছে? ঘটনাটি হল আমেরিকার দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট, আব্রাহাম লিঙ্কন ও জন এফ কেনেডীকে নিয়ে। কেনেডী (Lincoln) ও লিঙ্কন (Kennedy) এই দুটো নাম লিখতে ৭টি অক্ষর লাগে। লিঙ্কন কংগ্রেস এ নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৮৪৬ সালে, কেনেডী হয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে (ঠিক ১০০ বছর পরে)। লিঙ্কন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৮৬০ সালে, কেনেডী হয়েছিলেন ১৯৬০ সালে (ঠিক ১০০ বছর পরে)। দুজনেই নাগরিক অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন, দুজনের স্ত্রী-ই হোয়াইট হাউজে থাকাকালীন সময়ে সন্তান হারান। লিঙ্কনের সেক্রেটারীর নাম ছিল কেনেডী আবার কেনেডীর সেক্রেটারীর নাম ছিল লিঙ্কন। দুজনকেই শুক্রবারে হত্যা করা হয়, মাথায় গুলি করে। লিঙ্কন ফোর্ড নামের থিয়েটারে নিহত হন আর কেনেডী নিহত হন ফোর্ড কোম্পানীর গাড়ীতে। লিঙ্কন এর পরে ক্ষমতায় আসেন এন্ড্রু জনসন, কেনেডির পরে ক্ষমতায় আসেন লিন্ডন জনসন। এই দুই জনসনের জন্মসাল যথাক্রমে ১৮০৮ ও ১৯০৮ (ঠিক ১০০ বছর)। লিঙ্কন ও কেনেডীর হত্যাকারী দুজনেরই নাম ১৫ অক্ষরের। লিঙ্কনের হত্যাকারী থিয়েটার থেকে পালিয়ে গুদামে লুকিয়ে থেকে ধরা পরে। কেনেডীর হত্যাকারী গুদাম থেকে পালিয়ে, থিয়েটারে লুকিয়ে থেকে ধরা পড়ে... ...
Collected