15/12/2021
ভাই ওপারে ভালো থাকিস 😭😭
তবুও বাঁচানো গেল না ফিরোজকে
নাজমুস সাকিব আকাশ :
-------------------
একত্রিশ বছর বয়সী ফিরোজ মাহমদু, বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে পিয়ন পদে যোগদান করেন। চাকরির পাঁচ বছরের মাথায় পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারি (এমএলএস) জমাদ্দার হন। স্ত্রী, একমাত্র পুত্র সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটছিলো। এরই মাঝে ফিরোজের একটি কিডনি রোগাক্রান্ত হয়ে বিকল হয়ে যায়। কয়েক মাসের ব্যবধানে তার অন্য কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়। ফিরোজদের সুখের সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। অবশেষে পিতা ও শ্বাশুড়ির দেয়া দু’টি কিডনী প্রতিস্থাপন করেও বাঁচানো গেল না তাকে।
ফিরোজ মাহমুদ যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের রোস্তম আলী ছেলে এবং রুপালী ব্যাংক বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার শাখার কর্মচারী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারে ফিরোজই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হন। গত ৬ মাস আগে শ্বাশুড়ির দেয়া একটি কিডনি কলকাতার দেবী শেঠি হাসপাতালে গিয়ে তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর নিয়মিত পরীক্ষার এক পর্যায়ে ফিরোজের দ্বিতীয় কিডনিটিও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। সহায়-সম্বল বিক্রি করে, ব্যাংকের স্টাফ ও গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে একমাস আগে তাকে কলকাতায় নিয়ে যান বাবা রোস্তম আলী। এবার নিজের দেয়া একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করেও বাঁচাতে পারেননি একমাত্র সন্তানকে। অপারেশন শেষে দেবি শেঠি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পনের দিনের মাথায় মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান ফিরোজ।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, ফিরোজের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। হাউমাউ করে স্বামীর জন্য কাঁদছেন তমা। উপস্থিত সকলের মাঝে পিতার মুখকে খুঁজছেন পাঁচ বছরের ছোট্ট আব্দুল্লাহ।
বাড়ির বারান্দায় ফিরোজের মা মর্জিনা বেগম ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আর বলে চলেছেন, ‘আমার বাবারে কে নিয়ে গেল, আমার বাবারে তোমরা আইন্নে (এনে) দাও।’
স্ত্রী তমা খাতুন হাহাকার করে ওঠে বলেন,‘ডায়ালাইসিস যতোক্ষণ করে ততোক্ষণই ভালো, তারপরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়তো। এজন্য কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলো। তবুও তাকে (স্বামী) বাঁচাতে পারলাম না।’
বুধবার রাতেই যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফিরোজ মাহমুদের মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
- আমাদের খাজুরা