02/01/2023
Rate The Desh
Rateting:8.5
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানান্য তথ্য ভাণ্ডারের নাম বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর (Bangabandhu Military Museum)। পুর্বে এই জাদুঘরের নাম ছিলো বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর (Bangladesh Military Museum) যেটা থাকলেই মনে হয় ভাল হত।
১৯৮৭ সালে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের প্রবেশ পথে সর্বপ্রথম সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলেও দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৯ সালে বিজয় সরণিতে জাদুঘরটিকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয় এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর হিসাবে নামকরণ করা হয়। ২০২০ সালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জাদুঘরটি সংস্কার ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেয়।
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরটি বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের পশ্চিম পাশে ১০ একর জমিতে নির্মিত হয়েছে। যেখানে স্বাধীনতার আগে ও পরে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। জাদুঘরটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য নির্ধারিত গ্যালারিসহ ছয়টি পৃথক অংশ রয়েছে এবং প্রতিটি বাহিনীর গ্যালারিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার।
এখানে আর্ট গ্যালারিসহ মাল্টিপারপাস এক্সিবিশন গ্যালারি, ব্রিফিং রুম, স্যুভেনির শপ, ফাস্ট এইড কর্নার, মুক্তমঞ্চ, থ্রিডি সিনেমা হল, মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, লাইব্রেরি, আর্কাইভ, ভাস্কর্য, মুর্যাল, ক্যাফেটারিয়া, আলোকোজ্জ্বল ঝর্ণা ও বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত প্রান্তর সবকিছু মিলে একটি চমৎকার দৃষ্টি নন্দন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রবেশ টিকেট ও সময়সূচীঃ-
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর প্রবেশ করতে জনপ্রতি টিকেট মূল্য ১০০ টাকা। ৫ বছর বা তার ছোট বাচ্চাদের প্রবেশে কোন টিকেট এর প্রয়োজন হয়না। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশ গুলোর দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকেট ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশ ফি ৫০০ টাকা। টিকেট পাওয়া যাবে অনলাইনেও। (তবে ফরেনার দের জন্য এত চড়া দাম না হলেও হত)
সকালের প্রদর্শনী: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা
(বুধবার ও শুক্রবার বাদে) বিকেলের প্রদর্শনী: বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
(বুধবার বাদে)
সাপ্তাহিক বন্ধ: বুধবার
এছাড়া যে কোন জাতীয় ছুটির দিন গুলোতে জাদুঘর বন্ধ থাকে।
অনলাইনে টিকেট পাবেন নিচের লিংক থেকেঃ
https://bangabandhumilitarymuseum.co m/buy-ticket
কিভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া করে বিজয় সরণিতে নভো থিয়েটারের পাশে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর যেতে পারবেন। এছাড়া আপনার সুবিধামতো পরিবহণে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন অথবা চন্দ্ৰিমা উদ্যানের সামনে এসে রিক্সায় বা হেঁটে যেতে পারবেন সামরিক জাদুঘরে।(যারা ঢাকার বাইরে থাকেন, অবশ্যই জ্যামের ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন)
কোথায় খাবেন
খাওয়ার জন্যে জাদুঘর কমপ্লেক্সে খুব সুন্দর একটি রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া মিউজিয়ামের কাছে বিজয় সরণিতে বিভিন্ন খাবারের অনেক রেস্টুরেন্ট পাবেন।
পরিশেষে যাদের বাংলাদেশের ডিফেন্স সাইড নিয়ে কৌতুহল আছে বা ইতিহাস ভালবাসের তাদের জন্য অসাধারণ এক জায়গার নাম এটি, এখানকার ভিসুয়াল ভিউ আপনাকে বাস্তব সম্মত অভিজ্ঞতা দেবে, যা নিজে থেকে গিয়ে উপভোগ না করলে বুঝতে পারবেন না।
বিঃদ্রঃ মিউজিয়াম এর ভিতরে আপনাকে কোন প্রকার ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দিবে না। তবে, ওখানে ব্যাগ রাখার জন্য লকার আছে। আর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কোন অবকাশ নেই, কারন সম্পুর্ন জাদুঘর টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দারা নিয়ন্ত্রিত।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর এর সব গুলো গ্যালারি ভালো করে ঘুরে দেখতেই আপনার প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লেগে যাবে। তারপরেও হাতে সময় থাকলে খুব কাছেই নভোথিয়েটার, চন্দ্রিমা উদ্যান, বিমান বাহিনী জাদুঘর, সংসদ ভবন এলাকা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন।