04/10/2026
"আমার ছেলেটারে ওরা মা*-ইরা ফেললো ভাই! আমার ছেলেটারে মা*-ইরা ফেললো! আমার বাচ্চাটা...একদম সুস্থ বাচ্চা, হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে আসছে। আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু লাগবে না।
শোনেন, বিশ্বাস করেন, আমি চাকরি করি না। ছেলেটারে স্কুলে দিবো বলে আমি ছোট ছোট কাজ করি। আমি আমার ওয়াইফের সাথে প্ল্যান করছি, আমি আর বাচ্চা নেব না। তা না হলে আভানের প্রতি ভালোবাসা কমে যাবে।
আমি আভানকে কারও সাথে শেয়ার করি না। ওকে কারো কাছে দেই না। ওকে আমি বাইকে নিয়ে ঘুরি। ও একটা লাল গাড়ি কিনবে, তাই আমি গাড়ির জন্য টাকা জমাচ্ছি
ভাই!
আমার ছেলেটারে ওরা মা*-রা ফেললো ভাই!
ও আর নেই ভাই! আমি বিশ্বাস করতে পারছি না! ও ভাই, আমাকে... আমাকে মে**ই ফেলেন ভাই!
আমার ছেলে হেঁটে হাসপাতালে এসেছে। ওরা ভুল চিকিৎসা না দিলে ভাই, আমাকে কিছু একটা জানাতো না? তিন দিন ধরে ওয়ার্ডে ও খাচ্ছে। বাসা থেকে চিকেন নিয়ে আসা হয়েছে, সেমাই নিয়ে আসা হয়েছে।
আমাদের কাছে ভিডিও আছে। ও খাচ্ছিল আর বলছিল, 'পাপা, তুমি চলে আসো'। আমি ইমার্জেন্সি টিকিট কেটেছি, আমি আর এখানে থাকবো না। ওরা ভাই ক্যানুলা পর্যন্ত করতে পারে না!
কেউ যদি এদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো বলে প্রমাণ করতে পারে, আমি এখানে নাকে খত দিয়ে চলে যাব ভাই! এদের সেবা নিয়ে কেউ কি একটা ভালো কথা বলতে পারবে?"
মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে কলিজা ফেটে এভাবেই কাঁদছিলেন আর কথাগুলো বলছিলেন এই বাবা।
সাড়ে চার বছরের ছেলে আভানকে সামান্য জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন তার বাবা, গণমাধ্যমকর্মী মৃদুল ইসলাম।
কিন্তু ভুল চিকিৎসা, অবহেলা আর অতিরিক্ত মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে, আভানের অবস্থা যখন খারাপের দিকে যাচ্ছিলো...তার পরিবার বুঝতে পেরে যখন তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল পেপার্স ও লিখিত তথ্য দিতে গড়িমসি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করে। তারা রেফার করতেও রাজি হয়নি, আবার নিজেরাও বাঁচানোর চেষ্টা করেনি।
ফলস্বরূপ, গতকাল আভান জান্নাতের পাখি হয়ে এই নিকৃষ্ট পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। ওর বাবার কান্না দেখে মনে হয় না কেউ স্থির থাকতে পারবে।
ইয়া আল্লাহ!!!
তুমি তার মনকে শান্ত করে দেও। 😭😭