23/08/2026
রংপুরের হত্যাকাণ্ডের দোষী পাওয়া গেছে এবং থ্রিলার মুভির মতো ঘটনা যা আমার আপনার সাথেও যেকোন সময় ঘটতে পারে।
আসামী দুজনঃ
১) সিদ্ধার্ত
২) মুগ্ধ দাস
রংপুরে পুলিশ অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান,
তারা সকলে একই এলাকার বাসিন্দা ও একে অপরের পরিচিতজন, আসামীরা স্যারকে কাকা ডাকে।
ঘটনা যেভাবে ঘটিয়েছেঃ
সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার রাত
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বিল্ডিং এর সাথেই লাগোয়া আরেকটি বিল্ডিং রয়েছে, আসামী দুজন ঐ বিল্ডিং এর ছাদে উঠে গণপতি স্যারের বিল্ডিং এর ছাদে নেমে ই**য়া*/বা নিতে থাকে।
এমন মুহূর্তে গণপতি স্যার ছাদে উঠলে ওদের দেখে ফেলে, এবং বকা ঝকা করে।
কিন্তু যেহেতু স্যারের অনেক সুনাম তাই তারা ভয় পায় যে, স্যার তাদের দেখে ফেলার কথা সবাইকে বলে দেবে, থানায়ও বলতে পারে, পাশাপশি তারা মাদকাসক্ত ছিল, তাৎক্ষনিক তারা স্যারকে স্যারের সাথে থাকা গামছা দিয়ে গলায় চেপে ধরে, মনিট পাঁচেক এভাবে ধস্তাধস্তি চলে, তখন শব্দ পেয়ে স্যারের স্ত্রী ছাদের দিকে আসে, এবং তাদের এই কাণ্ড দেখে ফেলে।
ফলে, স্ত্রীকেও একই কায়দায় সিড়িতে শেষ বিদায় করে দেয়।
তার সাথে এমন ধস্তাধস্তির শব্দে তাদের মেয়ে এগিয়ে আসলে মেয়েকেও একই কায়দায় বিদায় করে।
তখন ঘরে ছোট ছেলেটা একা।
তাকে কিছু করে না।
কিছুক্ষণ পর তাদের মাথায় আসে যে, এই ছেলে তো সিদ্ধার্থের ভাইয়ের সাথে খেলাধুলা করে, তাদের সবাইকে ভালো করে চিনে। আজ না হোক কাল, একদিন বলেই দেবে সব।
তখন তাকেও বালিশ চাপা ও গামছা দিয়ে বিদায় করে 😓
এরপর তারা ওদের ওয়াশরুমে গোসল করে
তাদের রুমে বসে আরেকটি ই/বাবা খায়….
শুক্রবার সকাল হয়ে যায়
সিদ্ধার্থ বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে…
তারা তখন ঐ বাসার সব আসবাবপত্র খুলে সব বের করে, সকল গহনা বের করে, সিদ্ধার্থ আগুন জ্বালিয়ে কোনটা আসল সোনা চিহ্নিত করে
এসব করতে করতে বেলা গড়িয়ে যেতে থাকে….
তখন তারা চিন্তা করে, এখন বের হলে মানুষ দেখে ফেলবে, তাই তারা জুমার নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে
এসময় তারা ডাউনিং এ বসে বয়মারে খেজুর খায়, মাদকের ভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায়
জুমার নামাজের সময় হলে সবাই যখন মসজিদে যায় তখন তারা একই উপায়ে ছাদ দিয়ে পাশের বাসার ছাদ ঘুরে বেরিয়ে যায়।
পুলিশ এসব কিভাবে জানলোঃ
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আলামত হিসেবে অনেক কিছু জব্দ করে, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল
১) ইবাবার আলামত।
২) আগুন দিয়ে কিছু অলংকার পরীক্ষা করার আলামত
অর্থাৎ, এই দুইটি পয়েন্ট এক করলে পাওয়া যায়, অপরাধীরা ইবাববা সেবন করে, এবং তাদের কেউ আসল স্বর্ণ চেনার বিষয়ে অভিজ্ঞ।
এই সুত্র ধরে এলাকায় তদন্ত চালায় এবং এই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে খুঁজে পায়।
তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এই বিস্তারিত ঘটনা জানায় এবং বাকি মালামালের সন্ধান দেয়।
এখন, আরো বিশেষ তদন্তের আলামত পুলিশের কাছে রয়েছে, যেমনঃ
- খেজুর খেয়ে খেজুরের বিচি টেবিলে রাখা ছিল, সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রয়েছে
- শসা খেয়ে কিছু অংশ ফ্লোরে ফেলে রেখেছিল, সেখানে ফিঙ্গার প্রিন্ট রয়েছে
এগুলোর সাথে এই দুইজনের ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলে গেলেই পুলিশ কোর্টে রিপোর্ট প্রকাশ করবে।
আসামী দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এই হচ্ছে গতরাতের নির্মম ঘটনার আপডেট, আশাকরি কেউ গুজব ছড়াবেন না।
আমরা আমাদের কিভাবে নিরাপদ রাখবো আশেপাশের সব ইয়াবাখোর সাইকোদের থেকে সেটা খুব এলার্মিং ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সরকারের এখনই মাদকের বিরুদ্ধে অল আউট ওয়ারে না গেলে এই ধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড আরও ঘটতেই থাকবে।