13/08/2026
দেশে বিদ্যুৎ থাকবে কীভাবে?
ভাইরাল মিজানকে আমরা কমবেশি সবাই চিনি। আজ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটা কী? রাস্তার বৈদ্যুতিক পোল থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নিজের দোকান চালাচ্ছিলেন তিনি। পরে পুলিশ সেই অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি লোকজন নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন।
এখন একটু বড় পরিসরে বিষয়টা ভাবুন। মিজান হয়তো একজন, কিন্তু তার মতো কত হাজার মানুষ যে পোল থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবসা, দোকান, রিকশা চার্জিং কিংবা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার হিসাব কি আমরা কখনো করেছি?
ঢাকার ফুটপাতজুড়ে অসংখ্য হকার ও ছোট দোকান। তাদের অনেকের বিদ্যুৎ আসে কোথা থেকে? প্রশ্নটা কি কখনো করেছি?
শহরজুড়ে অসংখ্য অটোরিকশা প্রতিদিন চার্জ হচ্ছে। এত বিপুল সংখ্যক রিকশা কোথায়, কীভাবে এবং কার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ হচ্ছে, সেটাও কি আমরা ভেবে দেখেছি?
শীত এলেই প্রায় প্রতিটি এলাকায় রাস্তার পোল থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠে আলো জ্বলে। সেই বিদ্যুৎও কোথা থেকে আসে?
দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। আমরা দেখেও অনেক সময় না দেখার ভান করি, কারণ অবৈধ সুবিধাটা যখন নিজের বা পরিচিত কারও কাজে লাগে, তখন প্রশ্ন করার আগ্রহটাও যেন কমে যায়।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শুধু বিদ্যুৎ চুরি নয়। এটি বৈধভাবে বিল পরিশোধ করা মানুষের অধিকারেও সরাসরি আঘাত করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, সিস্টেম লস বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এর দায় এসে পড়ে পুরো দেশের ওপর।
তারপর দিনশেষে বিদ্যুৎ সংকট হলেই আমরা শুধু সরকারকে গালি দিই। সরকারের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে, অব্যবস্থাপনার সমালোচনাও অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের দায়টাও স্বীকার করতে হবে।
কারণ সমস্যা শুধু সরকারের নয়, সমস্যাটা আমাদের সমাজেরও। যেখানে সুযোগ পেলেই কেউ অবৈধ লাইন নেয়, কেউ বিদ্যুৎ চুরি করে, কেউ সেটার সুবিধা নেয়, আবার কেউ জেনেও চুপ থাকে, সেখানে শুধু সরকারকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না।
বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা আরও জরুরি। অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রশ্নটা তাই শুধু ‘বিদ্যুৎ নেই কেন?’ নয়।
প্রশ্নটা হওয়া উচিত, **যে বিদ্যুৎ আছে, সেটাই আমরা কতটা সঠিকভাবে ব্যবহার করছি?**
চুরি, অপচয় আর অবৈধ সংযোগ বন্ধ না হলে শুধু উৎপাদন বাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন।
এখন প্রশ্ন একটাই: **এই অবৈধ বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করবে কে, আর আমরা নিজেরা কবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াব?**
©