26/03/2026
মানুষের ইনসিকিউরিটি আসলে খুব অদ্ভুতভাবে কাজ করে। বাইরে থেকে বোঝা যায় না—ভেতরে ভেতরে সেটা চরিত্র, আচরণ, এমনকি সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
ছোটবেলা থেকে যে মানুষটা আদরের অভাবে বড় হয়—যার কাঁধে কেউ হাত রাখেনি, যার সাফল্যে কেউ চোখ ভিজায়নি—সে মানুষটা ভেতরে ভেতরে একটা শূন্যতা নিয়েই বড় হয়।
আবার এমনও আছে, যার দেখানোর মতো কোনো অর্জন নেই—না নিজের কাছে, না সমাজের কাছে। সে তখন নিজের ভেতরের সেই শূন্যতাকে সাময়িকভাবে ঢাকতে শেখে, কখনো নীরবতায়, কখনো ভান করা আত্মবিশ্বাসে।
তারপর হঠাৎ একদিন—হয়তো একটা চাকরি, একটা পদ, কিছু টাকা, বা সামান্য সামাজিক স্বীকৃতি—কিছু একটা সে পেয়ে যায়।
সেখান থেকেই শুরু হয় আসল নাটক।
সে আর অর্জনটাকে উপভোগ করে না—সে সেটাকে প্রদর্শন করতে থাকে। বারবার, প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে, কথায়, আচরণে। যেন নিজেকে বোঝাতে চায়—“দেখো, আমিও পারি… আমিও কিছু একটা।”
তার অবস্থা তখন অনেকটা সেই চড়ুই পাখির মতো, যে রাজার আধুলি চুরি করে এনে প্রতিদিন নিজের মনে জপে—
“রাজার আছে যেই ধন, আমারও আছে সেই ধন।”
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—সে আসলে অন্য কাউকে না, নিজেকেই বোঝাতে চায়। কারণ ভেতরে ভেতরে সে এখনও বিশ্বাস করতে পারেনি যে সে সত্যিই ওই জায়গার যোগ্য।
এই ধরনের মানুষদের আপনি সহজেই চিনতে পারবেন— যে ছোট একটা সাফল্যকে বারবার গল্প বানায়, যে প্রতিটা কথায় নিজের অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে আনে, যে সামান্য ক্ষমতা পেলেই সেটা প্রয়োগ করার সুযোগ খোঁজে।
কারণ তার জন্য অর্জনটা গন্তব্য না—ওটা একটা প্রমাণ; নিজেকে প্রমাণ করার ব্যর্থ, ক্লান্তিকর চেষ্টা।
অথচ যাদের ভেতরটা পূর্ণ, যাদের আত্মসম্মান ভেতর থেকেই তৈরি—তারা অর্জনকে খুব স্বাভাবিকভাবে নেয়। তারা দেখাতে চায় না, তারা হতে চায়।
শেষ পর্যন্ত পার্থক্যটা খুব সূক্ষ্ম—
একদল মানুষ অর্জনকে ব্যবহার করে নিজের শূন্যতা ঢাকতে, আরেকদল মানুষ অর্জন ছাড়াও পূর্ণ থাকে।
ইনসিকিউরিটি আসলে এখানেই—যেখানে আপনি যা পেয়েছেন, তার চেয়ে বেশি আপনি সেটা “দেখাতে” ব্যস্ত।