Snigdho Photography

Snigdho Photography Personal Photography Itz my dream....

পর্ব ১৫পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনএক সময় প্রচণ্ড ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করলো শারকী। বনের মধ্যে খুঁজতে লাগলো কোথাও কোনো ঝর্ণা আ...
20/01/2026

পর্ব ১৫

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

এক সময় প্রচণ্ড ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করলো শারকী। বনের মধ্যে খুঁজতে লাগলো কোথাও কোনো ঝর্ণা আর কিছু ফলমূল পাওয়া যায় কি না। কিন্তু কোথাও কিছু চোখে পড়লো না। অথচ হাঁটতে হাঁটতে ক্ষুধা তৃষ্ণা বেড়ে গেলো দ্বিগুণ। সাবিহা পরী শারকীর দৃষ্টির আড়াল থেকে দেখছে সবই। বার বার তার চোখের পাতাও ভিজে উঠছে। শেষে পাখির ঠোঁট থেকে শারকীর সামনেই পড়লো একটি টসটসে পাকা ফল। ক্ষুধার্ত শারকী সঙ্গে সঙ্গে ফলটা খেয়ে ক্লান্ত শরীরে অবার ঘুমিয়ে পড়লো।
এভাবেই চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ সাবিহা পরী এসে দাঁড়ালো শারকীর সামনে। সাবিহা বললো, শারকী! তুমি আর একবার শুধু আমার কথাটা ভেবে দেখো। শারকী কাতর কণ্ঠে আবার সেই একই কথা বললো। সাবিহা যা হবার নয়, তা নিয়ে কেন আমাকে এতো কষ্ট দিচ্ছ কেন?
সাবিহা পরী আর কিছু না বলে মিলিয়ে গেলো সেখান থেকে। শারকীর পেটে আবার
জ্বলে উঠলো ক্ষুধার আগুন।
পাঁচদিন সেই শূন্যে ভাসা বাগানে পড়ে থাকার পর এক সকালে শারকী চোখ খুলেই দেখলো, সে ওদের দোতলার ছাদে শুয়ে আছে। আনন্দে চিৎকার করে বললো, মা আমি ফিরে এসেছি মা! সে ডাক মায়ের কানে পৌঁছে মাকে করে তুললো উতলা। পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে মা উঠে গেলেন ছাদে। শারকীর শুকনা চোখে আর পানি গড়ালো না। শেকড় কাটা লতার মতো সে ঢলে পড়লো মায়ের বুকে। দুর্বল ছেলেকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলেন মা। বাবা ভাইবোন সবাই ঘিরে ধরলো শারকীকে। একি কঙ্কাল সার হয়ে গেছে সেই সুন্দর শারকী। দেখলে যেনো চেনাই যায় না।
সেই সকাল বেলা গায়ের মানুষ এসে জড়ো হলো শারকীকে দেখতে। একে একে এলেন, হুজুর, কবিরাজ এবং ডাক্তার। সবাই ওষুধ, ঝাড় ফুক আর পথ্য দিলেন যেনো শারকী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে। প্রায় সপ্তাহ খানেক পর শারকী একটু সুস্থ হলে মা বলল, তোর এই ঘটনার পর মেয়ে পক্ষ অনেক কথাই বলেছিলো। কিন্তু এখন আবার বিয়ের জন্য খুব ধরা পড়া করছে। মেয়েটা নাকি কেঁদে কেটে অস্থির।
শারকী বললো মেয়েটার আর দোষ কি বলো। তা, তোমরা কি বলেছো?
কি আর বলবো, বলেছি সুস্থ হয়ে উঠুক, তারপর ভাবা যাবে। তাছাড়া আমাদের মতামতে চেয়ে তুই যা বলিস তাই হবে।
যা হবার হয়ে গেছে। এখন এ বিয়েতে মেয়ের পূর্ণ সম্মতি থাকলে আমার কিছু বলার নেই।
তারপর শারকী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর ঐ মেয়ের সাথেই তার বিয়ে হয়ে গেলো।
বিয়ের পর তার স্ত্রী বললো, একদিন একটি মেয়ে এসে আমার হাতে এই গহনাগুলো তুলে দিয়ে বললো, এগুলো আমি তোমার বিয়ের উপহার হিসেবে দিলাম। আমি তো অবাক। বললাম ছেলেটার পরিচয় কি তাতো আগে বলো। সে বললো, তার নাম শারকী। খুব ভালো গান গায়। আর একটুও বাজে ছেলে নয় সে। তাকে বিয়ে করলে তুমি সুখী হবে।
আমি বললাম, সে তো সাবিহা নামে এক পরীকে ভালো জানে। তার সাথে যার যোগাযোগ তার সাথে কখনই বিয়ে হতে পারে না। সে বললো পরী তাকে কোন ক্ষতি করেনি আর সেও সাবিহাকে একজন বন্ধু ছাড়া অন্য কিছু ভাবে না। আমি বললাম, এসব কথা তুমি জানলে কি করে? সে বললো, আমি সব জানি। আমি অনেক কষ্ট স্বীকার করে তোমার কাছে এসেছি এই কথা বলতে যে, শারকী তোমাকেই বিয়ে করতে চায়। তুমি তাকে ভুল বুঝ না।
আমি বললাম, তাকে তো সাবিহা পরী নিয়ে গেছে। সবাই বলছে, পরী হয় তো তাকে মেরে ফেরেছে। মেয়েটি বললো- সে কালই ফিরে আসবে। আর তখনই তুমি বিয়ের জন্য লোক পাঠাবে সেখানে।
তখন আমার খুব ভয় করতে লাগলো। আমি বললাম, এবার সত্যি করে বলো, তুমি কে? সে বললো, আমিই সেই সাবিহা পরী। তোমাদের বিয়ের পর আমি আর কোনোদিন তোমাদের এই মাটির পৃথিবীতে আসবো না। তোমরা সুখী হও। এই বলেই সে ভেজা চোখ মুছতে মুছতে বললো, শুকরিয়া।
শারকী এতক্ষণ অবাক হয়ে শুনতে শুনতে কেমন যেনো হয়ে গেলো। সে বললো, সাবিহা সত্যি ভাল মেয়ে। ও যত সহজ তার চেয়ে অনেক বেশি অভিমানী। আমি জানি, সাবিহা আর কেনোদিন আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে না।...

সমাপ্ত

পর্ব ১৪পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনতুমি কখন আমাকে তোমার এই মায়াপুরীতে টেনে নিয়ে এলে?সেসব পরে হবে। তার আগে তুমি ঐ ঝর্ণায় গোসল...
20/01/2026

পর্ব ১৪

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

তুমি কখন আমাকে তোমার এই মায়াপুরীতে টেনে নিয়ে এলে?
সেসব পরে হবে। তার আগে তুমি ঐ ঝর্ণায় গোসল করে এসো। ঝর্ণার ডান পাশে একটি ঘর আছে। ওখানে তোমার প্রয়োজনীয় সব কিছুই রাখা আছে। ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি সমতল পাথরের ওপর পড়ে রূপার স্ফুলিঙ্গে মতো ছড়িয়ে পড়ছে চারদিক। শারকীর মনে হতে লাগলো, ঐ রূপার কণাগুলোর ছোঁয়ায় আমার দেহ মন হয়ে যাবে আরো সুন্দর। আমি হয়ে 'উঠবো এক অন্য মানুষ।
খাবার ঘরটার চারদিকেও দুলছে ভারী পর্দা। মেঝেতে মোটা কার্পেট বিছানো। মাঝখানে সবুজ পাথরের একটি লম্বা চৌকি। তার উপর অদ্ভুত আকারের সব পাত্র ভরা মধু ফল আর পানি। সেই ঘরে গিয়ে বসলো শারকী আর সাবিহা। সাবিহা পরী বললো, বিসমিল্লাহ বলে খেতে শুরু করো। সঙ্গে সঙ্গে শারকী খেতে শুরু করে দিলো। খাচ্ছে আর খাচ্ছে। কিন্তু পেট যেনো ভরছে না। এক সময় খাওয়া শেষ করে শারকী বললো, এবার বলো তো, তুমি আমাকে কেমন করে এখানে নিয়ে এলে?
আসলে শারকী আর সেই আগের শারকী নেই, আগের অনেক ঘটনাই ওর মনের পড়ছে না এখন। একটা পর্দার নিচে ঢাকা পড়ে আছে। সে শুধু জানে, সে পৃথিবীর মানুষ আর সাবিহা পরী ব্রাজ্যের মেয়ে।
সাবিহা সত্যি কথাটা বলি বলি করে কেটে গেলো এক সপ্তাহ। শেষে একদিন বললো, কি হবে পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে তার চেয়ে তুমি বরং এখানেই থেকে যাও। শারকী বললো, এখানে তুমি আর তোমার বান্ধবী ছাড়া আর কিছুই তো দেখি না। তুমি আমাকে বাইরে নিয়ে চলো। বন্দি খাঁচা আর ভালো লাগে না।
সাবিহা বললো, বাইরে যাওয়াটা তোমার জন্য নিরাপদ নয়।
কেন?
বাইরে গেলে অন্য জিনদের চোখে পড়ে যেতে পারো।
তাহলে কেন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছো?
এতক্ষণে ধীরে ধীরে সবমনে পড়তে লাগলো শারকীর। ওর মনে তখন বাবা-মার মুখটা ভেসে উঠলো। না জানি তারা এখন কি অবস্থায় আছেন। শারকী উতলা হয়ে বললো, তুমি এক্ষুণি আমাকে আমার বাড়িতে নিয়ে চলো। তুমি কি জানো, তুমি কতো বড় অন্যায় করেছো। আমি তো খাঁচার পাখি নই! স্বাধীনতা ছাড়া কেউই বাঁচতে পারে না।
তাহলে চলো অন্য কোথাও চলে যাই। যেখানে স্বাধীনভাবে
চলা ফেরা করা যায়। যতো টাকা পয়সা লাগে আমি দেবো। সাবিহা তুমি কি পাগল হয়ে গেলে! টাকা পয়সা দিয়ে কি কোন সুখ কেনা যায়? তুমি আজই আমাকে নিয়ে চলো।
সাবিহার মুখে কোনো কথা নেই। সে ধীরে ধীরে অন্য এক সাবিহা হয়ে উঠলো। চোখে মুখে ফুটে উঠলো প্রতিহিংসা। চিৎকার করে বললো, শারকী তুমি কোনো দিনই এখান থেকে ফিরে যেতে পারবে না।
আমি জানি না তুমি এতোটা ক্ষেপে উঠেছো কেন? তোমাদের রাজ্যে কি আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই! এখন তোমার যা ইচ্ছা তাই করতে পারো আমাকে।
এদিকে সাবিহার ভয় কখন যে জিনদের চোখে পড়ে যায় শারকী। আবার প্রতিহিংসার জ্বালা মিটাতে কষ্টের মধ্যে ডুবাতে চায় তার প্রিয় জনকে। তাই হঠাৎ এক রাতে ঘুমন্ত শারকীকে রেখে এলো এক গভীর বনে। সে খবর জানলো না সাবিহার বান্ধবীরাও।
প্রভাতে পাখিদের কলকাকলিতে ঘুম ভাঙলো শারকীর, সে চোখ মেলে আর অবাক হলো না আগের মতো। শারকী ভাবলো সাবিহা রাগ করে ভালো কাজটিই করেছে। এখান, থেকে পথ খুঁজে চলে গেলেই হলো। শারকী হাঁটতে হাঁটতে ঘন গাছপালা পেরিয়ে বাগানের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছালো। কিন্তু একি! এ যে শূন্যে ভাসমান গোলাকার এক সবুজবৃত্ত। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণী নেই সেখানে। খুব হতাশ হয়ে ভাবতে লাগলো, ধুঁকে ধুঁকে এখানেই বুঝি তার মৃত্যু হবে একদিন।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

পর্ব ১৩পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনএকদিন এক হুজুর আসলেন বাড়িতে। তিনি শারকীকে বললেন, বাবা, জিন হোক আর পরীই হোক ওরা সবাই মানুষ...
19/01/2026

পর্ব ১৩

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

একদিন এক হুজুর আসলেন বাড়িতে। তিনি শারকীকে বললেন, বাবা, জিন হোক আর পরীই হোক ওরা সবাই মানুষের দাস। ওদের বেতমেজি অনেক দেখেছি। তার জন্য শাস্তিও পেয়েছে। তুমি ঘাবড়াবে না। বাবা-মায়ের দোয়া আছে তোমার সঙ্গে। পরী তোমার কোনা ক্ষতিই করতে পারবে না। তারপর একদিন হুজুরের উপস্থিতিতেই শারকীর গায়ে হলুদ দেয়া হলো। হুজুর বললেন, আর কোনো ভয় নেই। আর আগের সেই মাদুলিটা সবসময় শরীরে রাখতে হবে।
পরদিন শারকী চললো বিয়ের বর সেজে বিয়ে করতে। বাসের পথ দূরত্বও একেবারে কম নয়। সন্ধ্যার পরই ওরা পৌঁছে গেলো মেয়ের বাড়িতে। বাড়ির সামনে অনেকটা খোলা জায়গা। পাশেই খানকা। পুরো জায়গা জুড়ে চাঁদোয়া টানানো। বরের বসবার ব্যবস্থা হয়েছে খানকার মধ্যে। খোলা আঙিনার পাশ দিয়েই রয়েছে ছোট খাটো একটা দীঘি।
বেশ সুন্দর পরিবেশ। ওখানে বিদ্যুৎ না থাকলেও কয়েকটা হেজাগ লাইটের আলোয় জমজমাট পরিবেশ। লোকজন ছুটোছুটি করছে। বিয়ে পড়ানোর পর বর যাত্রীদের খানা দেয়া হবে। দেখতে দেখতে রাত বেজে গেলো দশটা।
হঠাৎ দীঘির উত্তর দিক থেকে ফুট বলের মতো তিনটি উজ্জ্বল আলো- ঢুকে পড়লো সামিয়ানার মধ্যে। তিনটি আলোর ছুটোছুটি দেখে ভয়ে লোকজন দিশাহারা। হুড়োহুড়ি লেগে গেলো বিয়ে বাড়িতে। সেও মাত্র দু'এক মিনিটের বেশি নয়। তারপর আলো তিনটি আবার হারিয়ে গেলো- রাতের আকাশে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার সব ঠিকঠাক হয়ে গেলো। আরো কিছু আলোর ব্যবস্থাও করা হলো। কিন্তু হঠাৎ সবাই কেমন আর্তনাদ করে উঠলো, বর নেই। বর কোথায় গেলো। লোকজন তন্ন তন্ন করে খুঁজলো গোটা এলাকা। কিন্তু বরকে আর কোথাও পাওয়া গেলো না।
দু'পক্ষেরই মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। কথা চালাচালি করতে করতে উঠে পড়লো সাবিহা পরীর কথা। শারকীর এই পরীর ব্যাপারটা মেয়ে পক্ষের কারো জানা ছিল না। শেষে মেয়ে পক্ষই বললো, ঐ পরীটাই তুলে নিয়ে গেছে ছেলেকে। এই ছেলের সাথে কখনো আমরা মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতাম না- যদি ঘটনাটা আগেই জানতাম। বড় বাঁচা বেঁচে গেছি।
এক মুহূর্তে সব আনন্দ শেষ হয়ে গেলো। কিসের মেহমান আর কিসের খাওয়া দাওয়া। বাস ভর্তি বরযাত্রী আবার ফিরে গেলো গ্রামে। হায় হায় করে উঠলো শারকীর বাবা-মা। পাড়া পড়শিরাও ছুটে এলো সেই রাতে। কেউ ছুটলো হুজুরের বাড়িতে। খবর শুনে তখনই হুজুর মুরাকাবায় বসলেন। তারপর তিনি এই সংবাদ শুনালেন যে, সাবিহা পরী ওকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে ভয়ের কোনা কারণ নেই। আর শারকীকে কোনো ক্ষর্তিও করবে না সাবিহা পরীটা। শারকী দু'এক দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে।
হুজুর ঠিকই বলেছেন। সাবিহা এবং তার দুই বান্ধবী বিয়ের আসর থেকে শারকীকে তুলে নিয়ে গেছে।
শারকী এখন পরী রাজ্যের পাহাড় ঘেরা এক প্রাসাদ কক্ষে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। স্বেত পাথরের গোলাকার একটি খাটের ওপর শুয়ে আছে শারকী। ঘরটাও গোলাকার। চারদিকে বড় বড় পর্দা। পর্দায় ফুটে উঠেছে নক্ষত্র খচিত রাতের আকাশ।
সকাল বেলা অসংখ্য পাখ-পাখালির, মিষ্টি সুরের প্রভাতি গান কানে আসতেই ঘুম ভেঙে' গেলো শারকীর। চোখ মেলেই সে মহাঘোরের মধ্যে পড়ে গেলো। অবাক হয়ে ভাবতে চেষ্টা করলো, আমি এখন কোথায়? ঘরের প্রতিটি আসবাবপত্র দেখতে দেখতে পর্দা সরিয়ে তাকালো বাইরে। অন্যরকম এক আকাশ'। হাত-বাড়ালেই বুঝি ছোঁয়া যায় ভাসমান ঐ সাদা মেঘের ভেলা। সবুজ পাহাড়ের গায়ে প্রজাপতি আর ছোট ছোট বিচিত্র পাখিদের মেলা। দরজা খুলে বাইরে এলো শারকী। প্রাসাদের খুব কাছেই বিশাল এক পাথরের পাহাড়। থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা আকারের, নানা বর্ণের পাথর। তারই গা বেয়ে আয়নার মতো স্বচ্ছ ঝর্ণা ধারা গড়াচ্ছে সমতলে। পাশ দিয়ে ছাতিম গাছের মতো ধাপে ধাপে ডাল ছড়ানো সারি বাধা গাছ। ছবির মতো সাজানো সোনালি রঙের পাতা। আর পাতার মাঝখান দিয়ে রক্তের মতো লাল রেখা। শারকী বুঝতে পারলো এটা নিশ্চয়ই পরীদের রাজ্য, আর সাবিহ-াই হয়তো আমাকে নিয়ে এসেছে এখানে।
এদিকে সাবিহার আনন্দের শেষ নেই। শারকীর দৃষ্টির আড়াল দিয়ে কেবল ছুটোছুটি আর শারকীর জন্য কত যে আয়োজন। কিন্তু লুকোচুরি আর কতক্ষণ। শেষে সাবিহা পায়ে পায়ে এসে দাঁড়ালো শারকীর পেছনে। ওর পরনে পিঙ্গল রঙের কাপড় তাতে পুথির দানার কারুকাজ। মাথার ওপর জাফরান রঙের ওড়না। সাবিহা মুখে নেকাব টেনে ডাকলো, শারকী.......
হঠাৎ নিজের নামটা শুনে ঘুরে দাঁড়ালো শারকী। তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে স্বরূপে সাবিহা। শারকীর নির্বাক চোখের সামনে সাবিহা কেমন যেনো লাজুক লতার মতো একটু নড়ে উঠলো।
শারকী বললো, তুমি সাবিহা!
হ্যা- বলো।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

পর্ব ১২পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনএবার বুঝতে পরেছিস, ঐ রাতে আমি তিন পরীকেও দেখেছি। পরীরা এটা ওটা দিয়ে তোর গান শুনছে, তোর মন...
19/01/2026

পর্ব ১২

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

এবার বুঝতে পরেছিস, ঐ রাতে আমি তিন পরীকেও দেখেছি। পরীরা এটা ওটা দিয়ে তোর গান শুনছে, তোর মনটাও জয় করে নিচ্ছে। কিন্তু এর পরিণাম যে খুব খারাপ তা কি জানিস? যে কোনো মুহূর্তে তোকে মেরেও ফেলতে পারে। পরীরা কখনো মানুষের বন্ধু হতে পারে না। এটা ওদের তামাশা।
এবার মুখ খুলতেই হলো শারকীর। সে বললো, তুমি তো সব জেনেই গেছো। কিন্তু সাবিহা কখনো ও রকম মেয়ে নয়। মা বললেন, সাবিহা মানে ঐ পরী? শারকী বললো, হ্যাঁ। আর দু'জন ওর বান্ধবী। ওরা শুধু একদিনই এসেছে।
বাবা বললেন আমরা তোর ভালোর জন্যই বলছি। ওরা তোকে যা কিছু দিয়েছে সব ফেরত দিয়ে দে। আর কখনো রাতের বেলা ছাদে গান টান করিসনে। আমি হুজুরকে এনে বাড়ির বন্ধের ব্যবস্থা করছি। শারকী বললো, এখন আমি ওদের কোথায় পাবো যে এগুলো ফেরত দেবো।
মা বললেন, তাহলে নদীতে ফেলে দে ওসব।
ওরা যদি আর না আসে, তাহলে তা কিরবো।
দু'দিন পরই শারকী চলে এলো শহরে। আসার সময় মা ছোট্ট একটি মাদুলি বেঁধে দিলেন ওর ডান হাতের কব্জির ওপরে। হোস্টেলে এসে শারকী সেটা খুলে রেখে দিলো বাক্সের মধ্যে। সাবিহার দেয়া চেইনটা আর গলা থেকে খুললো না ও। শারকী জানে ঐ চেইনটা পাবার পর থেকে তার মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে তা তো আর কেউ জানে না।
সব ভুলে মনটাকে শক্ত করে পড়ালেখায় মন দিলো সে। দীর্ঘদিন আর বাড়িতেও যায় না শারকী। ওর বাবাই এসে খোঁজ খবর নিয়ে যায়।
এদিকে সাবিহা আর কোনোভাবেই দেখা করতে পারে না শারকীর সাথে। কষ্ট রাগ, অভিমান সব মিলে সে এমন অনুরাগী হয়ে উঠলো যে, কোনো বাধাই সে আর মানতে রাজি নয়। শারকীকে সে এবার চিরকালের জন্য নিজের করে নিতে চায়। কেমন যেনো পাগল হয়ে ওঠে সাবিহা।
হোস্টেলের পূর্ব দিকে লম্বা পুকুর। পুকুরের ও পাশে খোলা মাঠ। এ পাশে অনেকগুলো কৃষ্ণচূড়া গাছের পাশেই সান বাঁধা পাকা ঘাট। সন্ধ্যার পর তিন চার জন বন্ধু মিলে ঘাটে বসে গল্প করছিলো শারকী। বন্ধুরা একে একে চলে গেলে অনুচ্ছ স্বরে গান ধরলো ও। পুকুরের পানিতে চাঁদের প্রতিফলন। ঢেউয়ের দোলায় চাঁদটা কেমন এঁকে বেঁকে দুলছে। হঠাৎ শারকীর মনে হলো কেউ যেনো তার পেছনে এসে বসলো। অপূর্ব এক মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠলো চারপাশ। তবু অবাক না হয়ে ভাবলো, বন্ধুরা কেউ এসেছে হয়তো। কিন্তু পরক্ষণেই কে যেনো বললো, শারকী কেমন আছো?
শারকী চমকে উঠলো। সাবিহা চোখ রাখলো শারকীর চোখে। অশ্রু টলোমল সাবিহার দু'চোখ। শারকীর মনটা কেমন কষ্টে ভরে' যেতে লাগলো। সাবিহার একটা হাত ধরে ও বললো, তুমি কাঁদছো কেনো? সাবিহা বললো, আমি যে মরতে বসেছি তা কি তুমি জানো? কেন? তোমার তো কোনো কিছুর অভাব নেই।
এখন সব সময় তোমার কাছে থাকতে ইচ্ছে করে। পরীদের রাজ্যে আর ফিরে যাবো না।
তোমার কথা আমার মনে আছে। আমি কোনোদিন ভুলবো না তোমার কথা। কিন্তু সেদিনের পর ঘটনা জেনে গেছে আমার বাবা-মা।
সব শুনে সাবিহা বলো, তুমি আর যাই কবো না কেন, তোমার শরীরে কখনো তাবিজ কবজ রাখতে যেয়ো না। আমি তো এটাই চাই যে তুমি অনেক পড়ালেখা শিখবে। আমি পরীর দেশের সবাইকে গর্ব করে বলবো তোমার কথা। তুমি আমার কাছে যা চাইবে সব পাবে। টাকা পয়সা, সোনাদানা সবই আছে আমার। আমি তোমাকে এতো সম্পদ দেবো যে, তুমি এদেশের সম্রাট বনে যাবে।
শারকী কি যেনো ভাবলো। তারপর বললো, ও সবের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই।
আরো দু'টো বছর তুমি অপেক্ষা করো। আমার ইচ্ছে আমি বিদেশ যাবো। তখন ইচ্ছে করলে তুমিও যেতো পারবে আমার সঙ্গে। সেখানকার প্রকৃতি তোমার পক্ষে থাকবে।
সাবিহা বললো, তুমি কি আর তোমার বাড়িতে যাবে না।
যাবো না কেন- তবে ছাদে বসে আর গান গাওয়া চলবে না।
তুমি মাঝে মাঝে এখানে এসো।
তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো দু'বছর। শারকী বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলো। কিন্তু শারকীর মায়ের মনে এই ভাবনা হতে লাগলো যে, ছেলে বিদেশ গেলে, একেবারই পর হয়ে যাবে। কেননা সাবিহা পরী তাকে একেবারেই সংসারবিরাগী করে তুলবে।
বাবা-মায়ের এই প্রস্তাব শারকী কিছুতেই মনে নিতে পারলো না। সে বললো, আগে বিদেশ থেকে ফিরে আসি, তারপর তোমরা যা বলবে আমি তাই করবো। মা কাঁদে বাবা কাঁদে, ছোট ভাই বোন কাঁদে, সেই সাথে শারকীও কাঁদে।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

পর্ব ১১পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনশারকী বললো, তোমরা তিনজনই খুব ভালো। আজ সারারাত আমি তোমাদের গান শুনাবো।সুরের মায়ায় জেগে উঠল...
18/01/2026

পর্ব ১১

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

শারকী বললো, তোমরা তিনজনই খুব ভালো। আজ সারারাত আমি তোমাদের গান শুনাবো।
সুরের মায়ায় জেগে উঠলো নিস্তব্ধ রাতের প্রহর। রজনী গন্ধারা বুক উজাড় করে ঢেলে দিলো সুধা মাখা গন্ধ। পাগলা হাওয়ায় ঝুর ঝুর ঝরে পড়লো বকুল। আমলকীর বন থেকে কুহু কুহু ডেকে উঠলো কোকিল। সুরের তালে তালে পরীরা পাখা মেলে। মাঝে মাঝে টুকরো কথা আর খিল খিল হাসির শব্দ জোছনায় ভাসতে ভাসতে মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্তে। সে শব্দ শারকীর মায়ের কানেও পৌছে গেলো। কেঁপে উঠলো মায়ের বুক। যে ভয় তার বুকের মধ্যে ছায়ার মতো উঁকি ঝুঁকি মারছিলো এবার তা কঠিন পাথর হয়ে আঘাত হানলো বুকে। তিনি সন্তর্পণে ছাদের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।
যা কিছু বারংবার হতে থাকে, তার সাবধানতাও কমতে থাকে। সে কারণে অতি সাবধানী লোকেরও ভুল হয়ে যায়। শারকীও ভুল করে বসে। ছাদের দরজাটা বন্ধ করি করবো বলে ওটা ভেড়ানোই থাকে। শারকীর মা দরজার ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পায় ছাদে তিনটি সুন্দরী মেয়ে। আর ওরা যে তিনজনই পরী তা বেশ বুঝতে পারেন তিনি। ওরা নাচছে, আনন্দে হাসছে। তারপর তিনটি সবুজ আলো হয়ে এক সময় দ্রুত মিলিয়ে গেলো আকাশে। শারকী শুয়ে পড়লো সেখানেই।
ভোর হয়ে আসছে। হয়তো একটু পরেই আযান শুনা যাবে। শারকীর মা কিযে করবে কিছুই ভেবে পান না তিনি। এমন সময় আযানের সুর ভেসে এলো। তখন শরীরটাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো। তিনি দরজা খুলে উঠে গেলেন ছাদে। শারকী তখন গভীর ঘুমে। মা আর ওকে ডাকলেন না। হঠাৎ ছাদের ওপর কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখে তিনি সেটা হাতে তুলে নিলেন। জালের মতো ছড়ানো অদ্ভুত এক গাছ পায়ের নুপুর। মা আবার ঝুঁকে পড়লেন শারকীর বিছানায় ওপর। হারমোনিয়ামের পাশেই পড়ে আছে পালকীর মতো ছোট একটা সুন্দর রূপায় কোটা। কোটার গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সেটা দেখার জন্য হাত বাড়িয়ে,
কি ভেবে হাতটা আবার টেনে নিলেন তিনি।
তেতে উঠেছে রোদ। শারকীর মা দম ধরে বসে আছেন নাস্তার টেবিলে। কাউকে কিছুই বলেননি তিনি। শুধু মেয়েকে বললেন, যা তো তুরু, তোর ভাইয়া না উঠে থাকলে বল, 'ঘরে এসে ঘুমোতে। তরুর ডাকে শারকীর মুঘ ভাঙলো। তবে চোখ মেলেই দেখতে পেলো বেডের ওপর পড়ে আছে একটি কোটা। কোটাটা আড়াল করে বোনকে বললো, মা কি ওপরে এসেছিলেন?
জানি না। মা তো আমাকেই পাঠালো। তোমাকে ঘরে গিয়ে শুতে বলেছে।
বোনটা চলে যেতেই শারকী খুলে ফেললো কোটাটা। আর খুলেই বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো সে দিকে। আয়নার মতো মসৃণ তিন রঙের তিনটি পার। সবুজ লাল এবং খয়েরি। সব চেয়ে মজার ব্যাপার হলো, পাথর তিনটির গভীরে সাবিহা এবং ওর দুই বান্ধবীর জীবন্ত ছবি ফুটে আছে। ওদের চলা ফেরাও দেখা যাচ্ছে। যেনো তিন রঙের তিনটি টিভির পর্দা।
এই ঘটনার পর কেটে গেলো দুটো দিন। এর মধ্যে মা শারকীর বাবাকে খুলে বলেছে সব ঘটনা। এখন তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ঐ চেইনটাও পরীই দিয়েছে ওকে। বাবা-মা দু'জনেই চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলেন। এখন কীভাবে পরীর কবল থেকে সরিয়ে আনবেন ছেলেকে? আর এ সব কথা ছেলেকে বলি বলি করেও পার হলো আরো দুটো দিন। এদিকে শারকী চলে যাবে শহরে।
শেষে এক সন্ধ্যায় ছেলেকে ডাকলেন বাবা-মা। মা বললেন, শারকী, বাবা মায়ের কাছে মিথ্যা বলিসনে। সেদিন ছাদে গান গাওয়ার সময় তোর সাথে আর কে কে ছিলো? সঙ্গে সঙ্গে শারকী বুঝতে পারলো ছাই চাপা দিয়ে আগুন ঢেকে রাখা যাবে না। কিন্তু কি বলরে সে! মাথা নিচু করে থাকলো শারকী।
মা বললেন সত্যি করে বলতো ঐ চেইনটা তোকে কে দিয়েছিলো?
সে কথা সেদিনই তো বলেছি।
* ঠিক আছে। দেখতো এই নুপুরটা কার।
তুমি ওটা কোথায় পেয়েছে!?
ছাদে। যারা এসেছিলো, ওদের কারো পা থেকে খুলে পড়েছে।
শারকী এবার কিছুই বললো না। মা আবার বললেন, তোর বিছানার ওপর একটা কৌটা
ছিলো তার মধ্যে কী আছে?
শারকী চোখ জোড়া কপালে তুলে বললো, কৌটাটা তুমি দেখেছো?
কৌটা দেখেছি কিন্তু ওর ভেতরে কি আছে তা দেখিনি।.
তেমন কিছু নয়। তিন রঙের তিনটি পাথর।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

পর্ব ১০পরীর অভিমানদেলোয়ার হোসেনতারপর একদিন শারকী ভালো রেজাল্ট করে চলে এলো ঢাকা শহরে। ভালো কলেজে ভর্তি হলো। দ্বিগুণ উৎসাহ...
17/01/2026

পর্ব ১০

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

তারপর একদিন শারকী ভালো রেজাল্ট করে চলে এলো ঢাকা শহরে। ভালো কলেজে ভর্তি হলো। দ্বিগুণ উৎসাহে মন বসালো লেখাপড়ায়। বাড়িতে যাওয়ার সময়ই হয়ে ওঠে না তার। ককনো গেলেও ফিরে আসে দু'দিনেই। সাবিহার জন্য পূর্ণিমা পর্যন্ত আর অপেক্ষা করে না। এদিকে সাবিহা পরীর দুঃখ কেবল বাড়তেই থাকে। সে একবার ছোটে শহরে, একবার গিয়ে শারকীদের দোতলায় ছাদে দাঁড়িয়ে থাকে। শারকীর দেখা আর পায় না সে। একদিন গভীর রাতে হোস্টেলের বারান্দায় অসাধারণ একটি মেয়ে দেখতে পেলো ঐ হোস্টেলের একটি ছেলে। মেয়েটি শারকীর জানালার সামনে দাঁড়িয়ে কাকে যেনো ডাকছে। মেয়েটির পোশাক আশাক এ কালের মতো নয়। ছায়া ছায়া অন্ধকারে এমন দৃশ্য দেখে ছেলেটির মনে কৌতূহল জাগলো। সে ভাবলো, যে করেই হোক মেয়েটিকে পাকড়াও করতে হবে। পেছন থেকে চুপি চুপি যেই না ধরতে যায় অমনি চোখের পলকে অন্যখানে সরে যায় মেয়েটি। শেষে চোখের সামনে থেকে মেয়েটি কোথায় যে হাওয়া হয়ে গেলো, আর তাকে পাওয়া গেলো না।
পরদিন সকালেই ঘটনাটা জানাজানি হয়ে গেলো। শারকীকে রীতিমতো জেরা শুরু করলো ছেলেটি। মেয়েটি কে, কেনো এসেছিল? শারকী বললো, মেয়েটি কে- কেন এসেছিল সে কথা আমি কি করে বলব?
তুমি জানো। কারণ, তোমার জানালায় দাঁড়িয়ে তোমাকেই ডাকছিল।
শারকী যদিও বুঝতে পারল এই মেয়ে সাবিহা ছাড়া কেউ নয়। তবু সে কথা ভুল করেও প্রকাশ করা যাবে না। তখন সে ছেলেটিকে বললো, যাকে তুমি দেখেছো, সে ভূত, পেত্নী অথবা জিনও হতে পারে। বড় বাঁচা বেঁচে গেছো তুমি। আর কখনো এমন কাজটি করতে যেয়ো না।.
শারকীর কথায় ছেলেটি সত্যি ঘাবড়ে গেলো। অন্যরা অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিল কথাটি। তবে শারকী তখনই মনে মনে উতলা হলো বাড়ি ফেরার জন্য। আর হঠাৎ করেই একদিন বাড়ি চলে এলো সে। তখন চৈত্র মাস। ক'দিন পরই পূর্ণিমা। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম, রাতের বেলা শুরু হয় যায় বাতাসের হৈ চৈ। শারকী মাকে বললো, মা রাতে আমি ছাদে ঘুমোবো। গরমে ঘরে থাকা যাবে না।
মা বললেন, আজ পূর্ণিমা, আজই তোর ছাদে থাকা লাগবে?
শহরে কি আমাদের ছাদের মতো ছাদ আর আছে মা! তাছাড়া অনেক দিন হলো একটু মন খুলে গানও গাইতে পারি না। ছাদে কি আমি আজ নতুন থাকবো? আমার কিচ্ছু হবে না। শারকীর মা আর কিছু বললেন না। তবে শারকীর জন্য সুন্দর বেড তৈরি হলো ছাদে। সেখানে সন্ধ্যার পরই চাঁদ উঠলো। বাইরে থেকে ফিরে এলো শারকী। ছোট ভাই বোন বায়না ধরলো তারাও ছাদে থাকবে। সারকী বললো, থাকবে তবে রাত দশটার উপরে নয়।
আকাশের নদী সাঁতরে চাঁদ চলে এসেছে অনেকটা পথ। শূন্য ছাদে একা একা শুয়ে শারকী সাবিহার কথা ভাবতে ভাবতে ডুবে গেলো গভীর ঘুমে। এদিকে রাত বারোটা পার হতেই ছাদে এসে নামলো তিন পরী। ঝাড়ামুছা ছাদ জুড়ে যেনো রূপের ঢেউ খেলতে শুরু করলো। সাবিহা পরী বললো, শারকী দেখো আমার বান্ধবীরা এসেছে। উঠে পড়ো।
শারকী জানে সাবিহা আসবে। তাই সেও উঠে বসলো বিছান-ায়। আর তিন পরীকে একসঙ্গে দেখে মনে মনে একটু চমকে উঠে তাকালো তাদের দিকে।
তারপর বললো এরা কি তোমার বান্ধবী?
হ্যাঁ।
এরা তো পেঁচা ছিল। আবার এমন হাত পা গজালো কি করে?
শারকীর কথায় ওরা তিনজনই হেসে উঠলো। একজন বললো, সাবিহা তোর বন্ধুটি কিন্তু দারুণ রসিক। সাবিহা বললো, শুধু কি তাই? ওর গান শুনে আবার বেহুঁশ হয়ে যাসনে যেনো।
আবার ঝর্ণার মতো হেসে উঠলো তিন বান্ধবী।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

17/01/2026

পর্ব ০৯

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

মা বললেন, ছাদে তুই কি একাই ছিলি?
-একাই তো।
-পূর্ণিমা রাতে ছাদে একা একা গান গাওয়া থিক না। তার উপর গভীর রাত। এ সময় জীন পরীরা চলাফেরা করে। চল ঘরে চল।
আর কোন প্রসঙ্গ উঠার আগেই শারকি যেনো দৌরে পালালো ছাদ থেকে।

পরদিন সকালে বেশ বেলার হওয়ার পরেও শারকির ঘুম ভাঙ্গে না।

ঘুম ভাঙে না দেখে মা ছোট মেয়েকে বললেন, দেখ তো তরু, তোর ভাইয়ার ঘুম ভেঙ্গেছে কিনা। জলদি আসতে বল টেবিলে। বাবা বললেন, পরীক্ষা শেষ। রাতে গান গেয়েছে। একটু ঘুমোক না।
কিন্ত কিছুক্ষন পরেই শারকি এসে বসলো টেবিলে। শারকীর টি শার্টের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসছে চিকন রশির মত এক গোছা স্বর্ণের চেইন। জানালার ফাঁক গলে এক চিমটি আলো এসে পরছে তার উপর। শারকির নাড়াচাড়ার সাথে মায়া মরীচিকার মতো চিক চিক করছে সেটা। জিনিসটি সবার চোখেই পরলো। তবে, ছোট বোন তুরু উৎসুক হয়ে প্রশ্ন করলো, ভাইয়া তোমার গলায় ওটা কি?
কোথায় পেলে?
শারকি তাকালো ওদিকে। এবং প্রচন্ড অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো, কোথা থেকে এলো এই চেইনটা!
ধীরে ধীরে মনে পরলো, সাবিহা যাওয়ার সময় এটা দিয়েছিল। কিন্তু তারপর একবার মনে পরেনি সে কথা। এখন সে কি জবাব দেবে?
মা বললেন, কিরে কথা বলছিস না কেন? এটা তুই কোথায় পেয়েছিস?
শারকি অপরাধীর মত চুপ করে থেকে শেষে বললো, দিয়েছে।
-কে দিয়েছে? মা প্রশ্ন করলেন।
-সে মস্ত বড় ধনী একজন।
-তোকে কেনো দিতে গেলো? তুইই বা কেনো নিতে গেলি?
-সে আমার গান শুনে দিয়েছে। আমি নিতে চাইনি।
-দেখি খোল তো গলা থেকে।
শারকি ধিরে ধিরে চেইনটা খুলে মায়ের হাতে দিলো।
একে একে সবাই দেখলো অদ্ভুত সেই চেইনটা। দেখলে মনে হয়, এতা একা একাই সাপের মতো নড়াচড়া করছে।

মা বললেন, দারুন তো।
বাবা বললেন, এই যে তুমি ছেলের গান গাওয়া নিয়ে বকছিলে, এবার দেখলে তো সুরের মধে কি জাদু রয়েছে। অবস্থার কিছু পরিবর্তন হওয়ায় শারকী যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

নাস্তা শেষ করে সোজা চলে গেলো ওপরে।
কয়েকদিন পর ছোটবোন তুরু বললো, ভাইয়া চেইনটা আমাকে দাও না। শারকী বললো, নারে, এটা কাউকে দেয়া যাবে না। এটা হয়তো আমার ভালোর জন্যই আমার কাছে থাকা ভালো। আমার টাকা হলে এমন একটা চেইন তোকে গড়িয়ে দেবো। তারপর প্রায়ই আসে সাবিহা'পরী। পূর্ণিমায় শারকী গান গায় ছাদে। মা বকেন। শারকী বলে পূর্ণিমাতে গলা খোলে ভালো।
তাছাড়া নির্জন রাতেই সঙ্গীত সাধনা করা উত্তম।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

17/01/2026

পর্ব ০৮

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

তারপর শারকীর সাথে অনেক কথা হলো সাবিহার। সাবিহা বললো, সেদিন যে দুটো লক্ষ্মী পেঁচা দেখেছিলে, আসলে ওরা ছিলো আমার দুই বান্ধবী। আর এই গোলাপটা দীর্ঘদিন একই রকম তাজা থাকবে গন্ধও ছড়াবে। শারকী বললো, আমি লেখাপড়া শিখে বড় হতে চাই। সাবিহা বললো, আমিও তোমাকে অনেক বড় দেখতে চাই। তবে ভবিষ্যতে আমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে তুমি ভাবতে পারবে না।
তারপর থেকে শারকীর মনে সাবিহাকে নিয়ে যে নেশা নেশা স্বপ্নের ঘোর ছিলো- তা কেটে গেলো। একটা বিষয় শারকীকে খুব অবাক করে দিতে লাগলো যে, কোনো বিষয় না পড়লেও তার মনে হয় যে, কখন যেনো পড়েছি। আসলে সে অজানা বিষয়গুলো স্বপ্নের মধ্যে পড়ে ফেলে।
এভাবেই ছয় মাস পার হয়ে যায়। সাবিহা আর শারকীর সামনে না এলেও, নানা ছলে ঠিকই আসে আর সাহায্যও করে যায়। শারকী সেসব কিছুই জানে না, কিছুই জানে না, কিছু বুঝতেও পারে না। এভাবেই একদিন শেষ হয়ে যায় শারকীর স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা। তখন বিস্তর সময় এসে যায় শারকীর হাতে। মনের মধ্যে জাগে সুরের কাঁপন। ছাদে গিয়ে গানে গানে ভরে তোলে আকাশ বাতাস। আবার মনের আকাশ জুড়ে ভাসে সাবিহা পরীর মুখ। শারকী ভাবে, আসছে পূর্ণিমায় সাবিহার জন্য অপেক্ষা করবো ছাদে। ওর দেয়া গোলাপটা এখনো কেমন গন্ধ ছড়ায়।
এলো পূর্ণিমা রাত। আকাশ থেকে ঝরছে জোছনা কুসুম। বাড়ির অন্যরা ঘুমিয়ে গেলেই শারকী উঠে গেলো ছাদে। ঝিরঝির বাতাসের দোলায় বাঁশ বাগান থেকে ভেসে আসছে সুরের মূর্ছনা। সে সুর শারকীর কানে যেনো বাজতে থাকে। দুতিনটা বাদুড় উড়ে গেলো বাঁশ বাগানের ওপর দিয়ে। বড়শির ছিপের মতো কয়েকটি বাঁশের ডগা মৃদু দুলছে হাওয়ায়। শারকীর মনে হতে লাগলো ঐ বাঁশের ডগায় বসে ভূতের মতো দোল খাই আর গান গাই। বেভোলা মনটা কেমন যেনো পুলকে ভরে উঠলো। সে তখন গান ধরলো "মোর প্রিয়া হবে এসো রানী- দেবো খোপায় তারার ফুল।"
সাবিহা পরী যেনো শারকীর এই গানের অপেক্ষাতেই কান পেতে ছিলো। আনন্দে প্রজাপতির মতো রঙ ছড়িয়ে স্বেত শুভ্র রাজ হংসীর মতো ডানা মেলে শারকীর সামনে এসে দাঁড়ালো। আজ শারকীর মনের মধ্যে নেই কোনো জড়তা, সেই কোনো ভয়। তবু সাবিহাকে দেখে থেমে গেলো তার গান। এ যে চাওয়ার চেয়ে অধিক পাওয়া। মানুষের দৃষ্টির আড়ালে যে জগৎ, সেই জগতের এক সুন্দরী পরী বাস্তবে তার সামনে দাঁড়িয়ে। এ যে কতো বড় পাওয়া শারকী সে কথা কল্পনাতেও টানতে পারে না। তবু বললো, এই রাত দুপুরে আমি যে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি, তাকি তুমি বুঝেছিলে?
সে কথার উত্তরে সাবিহা বললো, তুমি গান থামালে কেনো? এই গান শুনার জন্যই তো নিশিদিন আমার। শারকী বললো, একটু অপেক্ষা করো- ছাদের দরজাটা বন্ধ করে আসি। হঠাৎ মা উঠে আসতে পারে।
একটার পর একটা গান গেয়ে চলেছে শারকী। তার সুর যেনো আজ তীক্ষ্ণধার ছুরির মতো সব বাধা অতিক্রম করে একেবারে বুকের গভীরে গিয়ে পৌঁছে। সুরের সাঁকো বেয়ে মন এসে ডুবে যায় সুরের উৎসের গভীরে। চাঁদ হেলে পড়েছে পশ্চিমে। মৃদু বাতাসে দুলছে নারকেল ড্যাগার ছায়া। সাবিহা শুয়ে আছে শীতল পাটির উপর। হঠাৎ শিড়ির দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে হকচকিয়ে গেলো শারকি। থেমে গেলো গান।
কে? প্রশ্ন করল শারকি।
ও পাশ থেকে উত্তর এলো - এত রাতে একা একা ছাদে গান গাইছিস কেন? আবার দরজাও বন্ধ!
দরজা খোল তো।
বেশ ঘাবড়ে গেলো শারকি।
সাবিহাকে বললো, মা আসছেন। তুমি পালাও।
সাবিহা বললো, আমি থাকলেও মা আমাকে দেখবে না। তবুও আমি চলে যাচ্ছি।
তখন পরীটা যাওয়ার সময় শারকির অলক্ষ্যে, ওর গলায় কিছু একটা দিয়ে তবেই বিদায় নিলো। শারকির সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় কোথায়? সে ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

16/01/2026

পর্ব ০৭

পরীর অভিমান
দেলোয়ার হোসেন

শারকী খাবার খেয়ে পড়তে বসলো। কিন্তু ওর মনটা তো আর বইয়ের পাতায় নেই। মনটা তখন কল্পলোকে সুন্দর এক স্বপ্নের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে আপন মনে। লাল সবুজ স্বপ্নের পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে হলুদ ফুল, সাদা প্রজাপতি আর রঙবেরঙের পাখি। নীলাভ ওড়না উড়িয়ে সাবিহা পরী সাদা গাঙচিলের মতো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে খেলছে লুকোচুরি। শারকীও শূন্যে ভাসছে তারই মতো। ওদের সাথে তারারও স্বেত পায়রার মতো উড়ে এসে আবার ফিরে যাচ্ছে আকাশের নীলে।
হঠাৎ দেয়াল ঘড়ির ঢং ঢং কানে বাজতেই শারকীর স্বপ্নের ভুবন হলো উধাও। মনু ফিরে এলো বাস্তবে। এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে বাড়ির সবাই। রাত বারোটা। এবার সে দোতলার ছাদে যাবে। এই নির্জন রাতে পরীর সাথে তার দেখা হবে।
কথাটা ভাবতেই পা থেকে পেট পর্যন্ত শিরশির করে উঠলো। মনের খুব গভীরে একটু খানি ভয়ও দুলে উঠলো। তবু রোমাঞ্চ আর কৌতূহল ওকে টেনে নিয়ে গেলো ছাদে। শারকী ছাদের দরজা খুলে দুরু দুরু মনে দৃষ্টি বাড়ালো সামনে। না-কেউ নেই। শূন্য ছাদ জুড়ে কেবল থৈ থৈ জোছনা।
তরে কি সব মিথ্যে। মনের মধ্যে এতো যে আয়োজন, কত যে অপেক্ষা তার কি হবে? শারকী ফিরে আসতে গিয়ে কি ভেবে আবার গিয়ে দাঁড়ালো ছাদের সেই কর্নারে। যেখানে দাঁড়িয়ে সাবিহা সেদিন সাদা লক্ষ্মী পেঁচা দেখিয়েছিলো। দু'হাতে ছাদের বাউন্ডারি ধরে তাকালো খোলা আকাশের দিকে। হঠাৎ সে শিরদাড়া সোজা করে, শক্ত হাতে চেপে ধরলো বাউন্ডারি ওয়াল। এ তো সাবিহা আসছে। ওর নীলাভ গাউন জুড়ে যেনো বসেছে জোনা-ি কর মেলা। চাঁদের আলো আর সাবিহা পরীর রূপের আলোয় পালটে গেলো প্রকৃতির রূপ। সত্যি সত্যি, সাবিহা হাসতে হাসতে এসে দাঁড়ালো শারকীর সামনে।
তুমি যে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছো- এজন্য আমি তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কথাগুলো বলেই সাবিহা পরী একটি সদ্য ফোটা রক্ত গোলাপ, এগিয়ে ধরলো শারকীর সামনে।
শারকী নির্বাক। সে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে পরীটার দিকে। নিখুঁত আর পরিপাটি করে সাজানো সাবিহার প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। শারকীর এমন অবস্থা দেখে সাবিহার মনে পড়লো সেদিনের কথা। সঙ্গে সঙ্গে শারকীর হাতে একটা আঙুলের ছোঁয়া দিয়ে বললো, তুমি কিন্তু সেদিনের মতো কাণ্ড করে বসো না। আমাকে দেখে ভয় পাবার কিছু নেই। আমাকে তুমি তোমার প্রিয় একজন বন্ধু ভাবতে পারো।
পরীটার ছোঁয়ায় শারকী একটু কেঁপে উঠলো বটে, তবে সেই সাথে একটু স্বাভাবিকও হয়ে
উঠলো। বললো, আমি কি স্বপ্ন দেখছি?
স্বপ্ন নয়, আমাকে তুমি ছুঁয়ে দেখতে পারো।
আমার খুব ভয় হচ্ছে।
কেন?
যদি তুমি কখনো আমার ক্ষতি করো।
আমার দ্বারা কখনো কোনো ক্ষতি হবে না. তোমার।
তাহলে এখানে নয়- চলো আমার ঘরে বসে কথা বলি।
তোমার ঘরটা কি আলাদা?
সিঁড়ির পাশের ঘরটাই আমার। ওপরে অনেকগুলো রুমের মধ্যে পশ্চিম দিকের শেষ রুমট-ায় থাকে মা আর আমার ছোট বোন। নিচে খাবার ঘর, রান্না ঘর, গোলাঘর, আর একটা রুমে বাবা আর ছোট ভাই থাকে। তোমার কোনো অসুবিধা হবে না।
বেশ, চলো।

চলবে ...
সম্পূর্ণ শুনতে: https://www.youtube.com/watch?v=ufz70hUzozk&t=2126s

Address

Mymensingh
2200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Snigdho Photography posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Snigdho Photography:

Share

Category