24/04/2025
**সীধলার দুই বন্ধু**
*লেখক: রাব্বি হাসান*
নাঈম শেখ, আমার চাচা, আর তার বন্ধু শিমুল ছিলেন সীধলা ইউনিয়নের দুই সেরা বন্ধু। তারা যখন দেশে ছিলেন, তখন সীধলা ইউনিয়নের প্রতিটি কাজে তাদের হাত থাকত। গ্রামের মানুষ বলত, “নাঈম আর শিমুল মিলে সীধলার উপর রাজ করে।” মসজিদে টাকা তুলে দেওয়া, গরিবদের জন্য খাবারের আয়োজন, বা গ্রামের কোনো ঝগড়া মিটিয়ে দেওয়া—সবকিছু তারা একসঙ্গে করতেন। নাঈম চাচা ছিলেন একটু গম্ভীর, আর শিমুল কাকা ছিলেন হাসিখুশি। তাদের বন্ধুত্ব ছিল সীধলার সবার কাছে একটা গল্প।
কিন্তু পরিবারের দায়িত্বের কারণে নাঈম চাচাকে সৌদি আরবে যেতে হলো। তিনি সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে টাকা জমাতে লাগলেন, যাতে একদিন দেশে ফিরে আবার গ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন। নাঈম চাচা চলে যাওয়ার পর শিমুল কাকা সীধলায় রয়ে গেলেন। শিমুল কাকা এখন একা হলেও নাঈম চাচার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখলেন। তিনি নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করতে শুরু করলেন। শিমুল কাকা গ্রামের মানুষের জন্য সবসময় হাজির। কারো সমস্যা হলেই তিনি দৌড়ে যেতেন, আর সব সমাধান করে দিতেন।
আমরা, রাব্বি হাসান আর আমার পরিবার, শিমুল কাকার কাছে খুব কাছের। তিনি আমাদের খুব যত্ন করেন। আমাদের যেকোনো সমস্যা হলে শিমুল কাকা সঙ্গে সঙ্গে এসে সেটা সমাধান করে দেন। একবার আমাদের জমির সীমানা নিয়ে পাশের বাড়ির সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। শিমুল কাকা এসে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সব ঠিক করে দিলেন। গ্রামের সবাই তাকে এখন “সীধলার নতুন রাজা” বলে ডাকে।
এদিকে নাঈম চাচা সৌদি আরবে থাকলেও প্রতি বছর ঈদে দেশে আসেন। এসেই তিনি শিমুল কাকার সঙ্গে দেখা করেন। দুই বন্ধু মিলে আবার পুরোনো দিনের গল্প করেন, হাসেন, আর গ্রামের জন্য নতুন পরিকল্পনা করেন। নাঈম চাচা শিমুল কাকাকে বলেন, “তুই আমার অংশটাও পুরোপুরি সামলে নিয়েছিস, শিমুল। আমি নিশ্চিন্তে সৌদিতে থাকি, কারণ আমি জানি তুই সীধলাকে আগলে রাখবি।”
শিমুল কাকা হেসে বলেন, “তোর জন্য আমি সব করব, নাঈম। তুই শুধু সুস্থ থাক, আর টাকা জমা। আমরা দুজনে মিলে আবার সীধলাকে আরও সুন্দর করব।” তাদের এই বন্ধুত্ব দেখে আমি, রাব্বি হাসান, শিখেছি যে সত্যিকারের বন্ধুত্ব দূরত্বে কখনো কমে না। আমি ঠিক করেছি, একদিন আমিও আমার চাচা আর শিমুল কাকার মতো সীধলার জন্য কিছু করব।
**শেষ**