06/10/2025
সৈকতের বুকে পরিবেশগত মহাবিপর্যয় ভ্রাম্যমাণ হকারদের দৌরাত্ম্যে সৌন্দর্য হারাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র।
সুগন্ধা বিচ, কক্সবাজার ২৮-০৯-২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
যেখানে সমুদ্রের গর্জন আর প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে, সেই নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত আজ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দিনের আলোয় অল্প সংখ্যক ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমাণ হকার দেখা গেলেও আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথেই সৈকতের আসল, ভয়ঙ্কর রূপটি প্রকাশ পায়। শত শত মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হয় প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট আর খাবারের উচ্ছিষ্ট। এই দৃশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা, যা মূলত প্রশাসনের চরম উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতারই প্রতিফলন।
মূলত, সৈকতের এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে নিয়ন্ত্রণহীন ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালারা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শত শত হকার তাদের অস্থায়ী দোকান নিয়ে সৈকত এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, নেই কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা। পর্যটকদের কাছে চটজলদি খাবার, খেলনা এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে তারা লাভবান হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী কুফল ভোগ করছে প্রকৃতি। পর্যটকরা খাবার গ্রহণ শেষে প্যাকেট, বোতল ও উচ্ছিষ্টগুলো সৈকতের বালুতেই ফেলে দিচ্ছেন, কারণ আশেপাশে ময়লা ফেলার মতো কোনো ডাস্টবিন নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে কীভাবে কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন ছাড়াই শত শত ফেরিওয়ালা ব্যবসা করার সুযোগ পায়? সৈকতের আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তারা কি দেখেও না দেখার ভান করছেন? তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং নীরব সম্মতিই কি ভ্রাম্যমাণ হকারদের এতটা বেপরোয়া করে তুলেছে? যদি সৈকত এলাকায় ফেরিওয়ালাদের প্রবেশ এবং ব্যবসা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেত, তবে এই এই দৃশ্য দেখতে হতো না।
কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ এবং দাবি:
এই মহাবিপর্যয় থেকে সৈকতকে রক্ষা করতে আর কোনো excuses বা বিলম্বের সুযোগ নেই। আমি অবিলম্বে উপর মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি:
১. জিরো টলারেন্স নীতি: সৈকত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের প্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের অস্থায়ী দোকান স্থাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. নিয়মিত অভিযান ও টহল: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ করে ট্যুরিস্ট পুলিশকে সৈকতে নিয়মিত টহল দিতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
৩. দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ: সৈকতের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজ সৈকতের এই করুণ দশা।
৪. জরুরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম: অবিলম্বে সৈকতকে আবর্জনামুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
© Tanvir's Everything