30/08/2026
ভালোবাসা জিনিসটারে আমার ভয়াবহ ভয় লাগে। ভালোবাসা জিনিসটার মাঝে যেমন প্রবল আনন্দ আছে, সুখ আছে, তেমনি বিপরীতে আছে ভয়াবহ কষ্ট ও বেদনা।
পৃথিবীতে ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা ফেরত পাওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যারা পায়, তারা ভাগ্যবান; বাকিদের কপালে অবহেলা আর নিষ্ঠুর প্রতারণা ছাড়া কিছুই জোটে না।
এই না পাওয়ার পেছনে মানুষ অধিকাংশ সময় নিজেদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের ঘাটতি, আর্থিক জীবনের টানাপোড়েন, সামাজিক মর্যাদাকে দায়ী করে। অথচ, পৃথিবীর বহু ক্ষমতাবান মানুষ, রূপে-গুণে পরিপূর্ণ মানুষও ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা ফেরত পায় নাই।
ভালোবাসা এমন এক বেহায়া জিনিস যে, মানুষ তার চোখের সামনে নিজেকে অবহেলার শিকার হতে দেখেও, নিজেকে প্রতারিত হতে দেখেও চুপচাপ সহ্য কইরা যায়; অপেক্ষা করে, আশায় থাকে—একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।
ভালোবাসা পাওয়ার নেশার চেয়ে দ্বিতীয় কোনো বড় নেশা পৃথিবীতে এখনও আবিষ্কারই হয়নি। এ নেশা যারে ধরেছে, সে জন্মের মরা মরেছে। এ নেশা এত তীব্র যে—এই নেশায় পড়ে মানুষ ঘুম হারায়, চোখের চুকুন হারায়, আত্মসম্মান হারায়, বন্ধু হারায়, পরিবার হারায়, ঘর হারায়। এমন হারাইতে হারাইতে যখন হারানোর মতো আর কিছুই থাকে না, তখন একদিন নিজেরে হারাইয়া ফেলে।
ভালোবাসার চেয়ে লোভনীয় কোনো জুয়া পৃথিবীতে নাই। এই খেলায় নিশ্চিত হেরে যাবে জেনেও মানুষ জেতার লাইগা নিজের যাবতীয় আবেগ, অনুভূতি, সময়, এমনকি গোটা সাম্রাজ্য বাজি লাগিয়ে দেয়। বারবার হেরে গিয়েও নির্লজ্জের মতো খেলতে থাকে।
রূপার ব্যাপারটাই দেখেন। রূপা ভালোবেসেছিল হিমুকে। প্রবলভাবে। হিমু আসবে না জেনেও নীল শাড়ি পরে অপেক্ষায় থাকত হিমুর জন্য। হিমু আসত না। রূপা হিমুর জন্মদিন মনে রাখত, লম্বা চিঠি লিখে পাঠাত। হিমু উত্তর দিত না। আর দিলেও ঐ চিঠি এতটাই ছোট হতো যে, পুরো চিঠিজুড়ে মাত্র একটা বাক্য থাকত—“কেমন আছো, রূপা?” কোন মানে হয়!
“কোথাও কেউ নেই” উপন্যাসের বাকেরকে ভাইরে দেখেন। পুরা মহল্লাজুড়ে মাস্তানি করলেও মুনার সামনে আইসা কাচুমাচু করত। মুনার লাইগা কত কী করল, তবু মুনা মানুষটারে ভালোবাসল না। এমনকি মরার পরেও না।
জীবনে ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা পাওয়া, কিংবা একজন বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী পাওয়া—মানুষরা জগৎ-সংসারের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ। এই কথার চেয়ে সত্য কথা দুনিয়ায় আর একটাও নাই।
(কপি পোস্ট)