10/07/2026
“দুর্যোগে মানবতার দীপশিখা: বন্ধু মো. আরাফাত উদ্দীনের মহৎ উদ্যোগ”
মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা খ্যাতিতে নয়; বরং প্রকাশ পায় তার হৃদয়ের বিশালতায়। চারদিকে যখন দুর্যোগের কালো ছায়া নেমে আসে, যখন অসহায় মানুষের আর্তনাদ বাতাসকে ভারী করে তোলে, তখন যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে অন্যের হাত ধরে দাঁড়ায় সেই মানুষটিই হয়ে ওঠে মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা। অনেকের ঘরে নেই একমুঠো খাবার, নেই নিরাপদ আশ্রয়। এমন কঠিন বাস্তবতায় অনেকেই দূর থেকে সহানুভূতির বার্তা জানিয়েছেন; কিন্তু পটিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রামের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষাবর্ষ ২০২০–২০২১-এর বিদায়ী শিক্ষার্থী, বাঁশখালীর কাথরিয়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ও আমার বন্ধু মো. আরাফাত উদ্দীন সহানুভূতির ভাষাকে রূপ দিয়েছেন মানবসেবার বাস্তব কর্মে।
নিজ উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের হাতে শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন মানবতা এখনো নিভে যায়নি; বরং কিছু নির্মল হৃদয়ের মানুষ আজও নীরবে মানুষের জন্য বেঁচে আছেন। তাঁর এই উদ্যোগ হয়তো বন্যার সমস্ত কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের চোখে একফোঁটা স্বস্তি, বিপন্ন হৃদয়ে একটুখানি আশার আলো এবং মানবতার প্রতি নতুন করে বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে অবশ্যই সক্ষম।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি একটি প্রাণকে রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।” সূরা আল-মায়িদাহ: ৩২। এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।” সহিহ মুসলিম। এ বাণীও যেন আজ নতুন করে সত্য হয়ে ধরা দেয়, “সবাই বড় বড় কাজ করতে পারে না; কিন্তু ছোট ছোট কাজও অনেক ভালোবাসা দিয়ে করা যায়।”
পটিয়া সরকারি কলেজে একসঙ্গে অধ্যয়নের দীর্ঘ পথচলায় আমরা বারবার আরাফাত উদ্দীনের মধ্যে একজন বিনয়ী, দায়িত্বশীল, পরোপকারী এবং মানবিক মানুষকে আবিষ্কার করেছি। মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা তাঁর স্বভাবেরই অংশ। আজ নিজের জন্মভূমির বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল একজন সহপাঠী নন, বরং মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই মহৎ কর্ম আমাদের গর্বিত করে, অনুপ্রাণিত করে এবং মনে করিয়ে দেয়। প্রকৃত শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই শিক্ষার সর্বোচ্চ সার্থকতা নিহিত। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজের প্রতিটি তরুণ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে মানবতার আলো কখনো নিভে যাবে না। বরং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধে গড়ে উঠবে আরও সুন্দর, আরও মানবিক একটি সমাজ।
পটিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রামের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০২০–২০২১-এর সকল শিক্ষার্থী এবং “স্মৃতির খেয়া” পরিবারের পক্ষ থেকে আমার প্রিয় সহপাঠী মো. আরাফাত উদ্দীন-এর এই মহৎ মানবিক উদ্যোগের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, গভীর শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন।
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর এই খেদমত কবুল করুন, তাঁর জীবনকে কল্যাণ, বরকত ও সম্মানে পরিপূর্ণ করুন। একই সঙ্গে আমাদের প্রত্যেককে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর হৃদয়, সাহস ও তাওফিক দান করুন। মানবতার এই দীপ্ত শিখা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্বলে থাকুক; মানুষের জন্য মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার এই অঙ্গীকারই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।