24/09/2025
#তাসনিম_জারা: মেধা, সাহস আর বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এক নারী
২০১৬ সালে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তাসনিম জারা। দাদীর একটি সুতির শাড়ি পরে, গয়না বা মেকআপ ছাড়াই তিনি বিয়ে করেন খালেদ সাইফুল্লাহকে। তার সেই বিয়ের ছবি ভাইরাল হলে অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন—বেশিরভাগ নারীই একে “স্টান্টবাজি” আখ্যা দেন।
কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে, তাসনিম জারা অভিনব কোনো প্রচারণা নয়, বরং নিজের যোগ্যতাকেই সামনে এনেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, নারীকে পাহাড়সম উচ্চতায় পৌঁছতে বাহ্যিক চাকচিক্যের নয়, প্রয়োজন মেধা, অধ্যবসায় আর সততার। আজও তিনি মেকআপ ছাড়াই আত্মবিশ্বাসের সাথে পথ চলছেন—কারণ তার সত্যিকারের প্রয়োজনই পড়ে না।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, এরপর অ্যাপোলো হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার—এভাবেই গড়ে ওঠে তার চিকিৎসক জীবনের ভিত। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার বিষয়ে ডিস্টিংশনসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালসমূহে রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডের মর্যাদাপূর্ণ MRCP ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শুধু চিকিৎসক নন, তিনি একজন উদ্যোক্তা এবং জনস্বাস্থ্যকর্মীও। ‘সহায় হেলথ’ নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বাংলাভাষী জনগণের কাছে প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। ২০২৩ সালে তার নেতৃত্বেই তৈরি হয় ‘সহায় প্রেগন্যান্সি’ মোবাইল অ্যাপ, যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য প্রতিটি সপ্তাহভিত্তিক তথ্য ও পরামর্শ দেয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার অবদান অনস্বীকার্য। গবেষক হিসেবে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে তিনি বাংলায় স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও বানাতে শুরু করেন, যা ফেসবুক ও ইউটিউবে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তার ভিডিওগুলোতে প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, টিকা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিবিসি, স্কাই নিউজ, আইটিভি, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ আলোচিত হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্য সরকার তাকে বৈশ্বিক “ভ্যাকসিন লুমিনারি” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
মাত্র ৩১ বছর বয়সেই তাসনিম জারা ডাক্তারি পেশা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে কোটি টাকা আয় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি নিজের সবটুকু নিবেদন করেছেন বাংলাদেশকে বদলাতে, তরুণদের নেতৃত্ব দিতে, রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করতে।
কিন্তু আমরা তাকে কী দিলাম? যুক্তরাষ্ট্রের একটি এয়ারপোর্টে অশ্লীল গালাগালি আর অপমান!
তাসনিম জারাকে অপমান করার অর্থ হলো বাংলাদেশকেই অপমান করা। কারণ তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখপাত্র।
---
#স্বাস্থ্য_সেবা