19/07/2026
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একজন পরিচিত ছোটভাই তার বউ কে নিয়ে মালদ্বীপ ঘুরতে গিয়েছে। সমুদ্রের নীল পানিতে তাদের দুজনার সুন্দর একটা ভিডিও দেখে লাভ রিঅ্যাক্ট দিতে গিয়ে তার লেখা ক্যাপশনটা চোখে পড়ল।
সেই ছোট ভাই লিখেছেন, মালদ্বীপের এই ট্রিপটা স্পেশালি তার বউকে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেবার জন্য ছোট্ট একটা উপহার। এইজন্যই বাবুকে পরিবারের কাছে রেখে এই ট্রিপে তারা দুজনা এসেছে।
ভিডিও দেখে যতটা না ভাল লেগেছিল, ক্যাপশন পড়ে মনটা ভরে গেল!
মনে পড়ল, বেশ কিছুদিন আগে, আমার মামাতো ভাই তাদের দ্বিতীয় বাবু হওয়ার পর বাচ্চাদেরকে পরিবারের কাছে রেখে ভাবিকে জোর করে সেইন্ট মার্টিনস নিয়ে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছিল আমাকে। ভাইয়া ভাবি দুজনাই ডাক্তার। প্রথমে তো ভাবি যেতেই চায়নি বাবুদের ছাড়া, গাইগুই করছিল। ভাইয়া বলছিল, ভাবি বাসে উঠে যাওয়ার পরও বারবার বলছিল, বাচ্চাদের নিয়ে এলেই ভাল হত, বাচ্চাদের জন্য মন কেমন করছে.. ভাল লাগছেনা..
তারপরও ভাইয়া একরকম কনভিন্স করেন ভাবিকে যাওয়ার জন্য। এরপর সেইন্ট মার্টিনস পৌঁছে রাতে ডিনার সেরে নেওয়ার পর ভাইয়া দেখে ভাবি একা একা গিয়ে সমুদ্রের তীরে বসে আছে।
কিছুক্ষণ পর ভাইয়া গিয়ে আস্তে করে পাশে বসার পর লক্ষ্য করল যে ভাবি বিশাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে।
খানিক্ষণ চুপ থেকে ভাবি আস্তে আস্তে ভাইয়াকে বলল,
"তুমি কিভাবে জানলে I needed this"
মেয়েদের জীবন শুরু থেকেই একটা Endless chaos.
মেজরিটি কেইসে বিয়ের পর সেটা আরও বাড়ে। আর একটা বাচ্চা হওয়ার পর তো একটা শান্ত, নীরব রাতের ঘুম কি সেইটাও ভুলতে বসে মেয়েরা।
ছোটবেলা থেকে দেখেছি, নিজের জীবনের হতাশা ভুলতে ছেলেরা অফিস থেকে ফিরে রোজ বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে।
আর মেয়েদের হতাশা কিসে কাটে এই ধারণা বোধ করি দুনিয়ার ৮০ ভাগ ছেলেদেরই কোন কন্সার্নের বিষয় না।
আমার বাবা যেমন ক্লাস টাস নেওয়া শেষ করে বাসায় ফিরে রোজ সন্ধ্যায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে যেতেন। বন্ধুদের সাথে গল্প করতেন, খেলা দেখতেন, আড্ডা দিতেন।
আর আম্মু থাকতো বাসায়।
তার সমস্ত হতাশা,পোস্ট পার্টাম, ডিপ্রেশনের চ্যানেল ছিলাম আমি।
আমি তখন কেবল স্কুলে ঢুকেছি। আম্মু সাদা জামা পরা পছন্দ করতেন না। একে তো বাচ্চা মানুষ সাদা জিনিস নোংরা করে ফেলার চান্স শতভাগ, আর সাদা জামায় শরীর বোঝা যায়, যেটা ডিপ রং এ সাধারণত যায়না। এইদিকে সাদা আমার জানের জান প্রাণের প্রাণ। সাদা জামা, সাদা শাড়ি পরার জন্য আমার মন আকুপাকু করে। একদিন এমন মনের আনন্দে সাদা জামা পরার জন্য মানুষের সামনে আম্মা আমাকে ঠাস করে থাপ্পড় মেরেছিলেন।
সেই থাপ্পড়ের ব্যথা আমার মনে নাই, কিন্তু সবার সামনে থাপ্পড় মারার সেই অপমান ৩৭ বছরেও ভুলতে পারিনাই। চোখ ফেটে কান্না এসেছিল গিলে ফেলেছিলাম।
কিন্তু এখন আমি আম্মুর ট্রমা, ডিপ্রেশন, মানসিক ক্ষয় সব কিছুরই প্যাটার্ন স্পষ্ট বুঝতে পারি।
আমার আব্বু বোঝেন নাই।
আম্মু এত ঘুরতে যেতে চাইতেন কোথাও, অথচ আব্বু বাসা ছেড়ে এক পা নড়েন নাই কোনদিন।
এইজন্য যেসব ছেলেরা বউ এর কি দরকার সেটা মুখ ফুটে বলার আগেই বুঝে ফেলে তাদের আমি অসম্ভব শ্রদ্ধা করি।
তাদের বউ এর মুখের হাসি দেখলে আমার অসম্ভব আনন্দ হয়।
হয়তো আপনার বউ ঘুরতে যেতে চায়না, হয়তো চায় আপনি তাকে অফিস থেকে ফেরার পথে তার ফেভারিট ফুলটা কিনে এনে দেন বা একদিন তাকে কোন স্পেশাল ডেটে নিয়ে গেলেন। বা রাত জেগে বাচ্চাকে ঘুম পাড়ালেন, বাচ্চার মাকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দিয়ে। যেদিন তাকে সবচেয়ে ক্লান্ত দেখাবে সেদিন তাকে বললেন, তুমি জানো, তুমি দেখতে কত সুন্দর?
Do it for her!
Make her feel special, make her heart flutter ♥️
আপনার বউ এর মন ভাল থাকলে আপনার বাচ্চাও একজন সুখী সুস্থ মায়ের ভালবাসায় বড় হবে। তাদের জীবনে ট্রমা কম থাকবে। তারাও সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠবে। এবং পুরুষদের মনে রাখা উচিৎ, বাবা মা সারাজীবন থাকেন না। ভাই-বোনেরও একটা সময়ে নিজেদের পরিবার হয়ে যায়। ওই শেষ পর্যন্ত পাশে থেকে যায় আপনার বউ-ই, in health, and in sickness. সেই বউ যাদেরকে আপনারা সাধারণত খয়রাতি ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। আর টিটকারি মেরে বলেন একটা গেলে আরেকটা আসে।
আস্তে আস্তে আমার ভাইগুলোর মত, আমার বর এর মত, আমার পরিচিত সব গুলো গ্রীন ফ্ল্যাগ গুলোর মত পুরুষ মানুষ দিয়ে পৃথিবীটা ভরে উঠুক।
আমীন ♥️
©Anima
এইসব পোস্ট ছেলেরা দেখেনা, এগুলো শুধু মেয়েরাই দেখে আর দুঃখবিলাস করে... 🙂