13/08/2026
রিভিউ লিখেছেন : লেখক Razib Ahamed ভাই। ভাইয়ের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। জাজাকাল্লাহ খাইরান।
চলমান বিশ্বের অন্যতম মহা আতঙ্কের নাম "ক্যান্সার" আর এর চিকিৎসার নামে গড়ে উঠেছে এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য- যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক থেকে শুরু করে বড় বড় ড্রাগস বাজারজাতকারী কোম্পানি ও হাসপাতালগুলো। শুনে হয়তো অবাক হবেন যে, তাঁদের মূল লক্ষ্য রোগ নিরাময় নয়, বরং ক্যান্সারকে ঘিরে ব্যবসা করে অধিক মুনাফা অর্জন!
এসব অনাচার নিয়ে প্রতিবাদ শুধু আমি একলাই করি না, পৃথিবীর নানা প্রান্তে আরো কিছু প্রতিবাদী মানুষ আছেন; তাঁদেরই একজন কানাডার মার্ক স্লোন। তিনি যখন মাত্র ১২ বছরের কিশোর, তখন তাঁর মা জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং যথারীতি প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্বারস্থ হন। চিকিৎসকদেরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে কেমোথেরাপি থেকে শুরু করে সকল প্রটোকল অনুসরণ করেন। কিন্তু কথিত চিকিৎসার তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে অচিরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বিছানায় শুয়ে মায়ের সেই নীরব কান্না, ছটফটানি আর অসহ্য আর্তনাদ কিশোর মার্ক স্লোন খুব কাছ থেকে দেখেছেন, যা তাঁকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পেছনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার বাণিজ্যিক দিকগুলো অনুসন্ধানে উৎসুক করে তোলে। তাঁর সেই গবেষণার ফসল মলাটবন্দি করেছেন "দ্যা ক্যান্সার ইন্ডাস্ট্রি” নামে- যে বইটি চোখ খুলে দেওয়ার মতো অনেক অপ্রিয়, কিন্তু বাস্তব সত্যকে সকলের সামনে মেলে ধরেছে।
বইটিতে অত্যন্ত সাহসী ভঙ্গিতে বলা হয়েছে- ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে সুদীর্ঘ ৫০ বছরে ক্যান্সার গবেষণায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকের অর্থ খরচ করার পরেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা কমে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো বেড়ে গেল কেন? লেখক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন- এটি কি আসলেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যর্থতা, না সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক চক্রান্ত? কেননা যে ক্যান্সার ইন্ডাস্ট্রি চিকিৎসার নামে বছরে ১২৫ বিলিয়নেরও বেশি ডলারের এক বিশাল বৈশ্বিক ব্যবসা পরিচালনা করে, তারা কি চাইবে রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাক?
বইয়ের পাঁচটি অধ্যায়ে কথিত ক্যান্সার চিকিৎসার অন্ধকার দিকগুলো প্রমাণসহ তুলে ধরা হয়েছে। যেমন : সার্জারি কিভাবে ক্যান্সারকে শরীরে আরো ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে? কেমোথেরাপির মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, রেডিওথেরাপির অন্ধকার দিক, এক্স-রে বা কম-ডোজ রেডিয়েশনে লুকিয়ে থাকা বড় ঝুঁকি- কিছুই বাদ যায়নি তথ্যবহুল আলোচনা থেকে। ম্যামোগ্রাফি বা PSA টেস্টের মতো আগেভাগে রোগ নির্ণয়ের স্ক্রিনিংগুলো কিভাবে ভুল ডায়াগনোসিসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষকেও রোগী বানাচ্ছে, জালিয়াতিপূর্ণ ক্যান্সার গবেষণার আসল সত্য কিভাবে গোপন করা হয়- সব উঠে এসেছে বইটির পৃষ্ঠা জুড়ে। বইটি পড়লে আরো জানতে পারবেন-
• সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি আসলেই জীবন বাঁচায় নাকি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে?
• ক্যান্সার স্ক্রিনিং টেস্টের কারণে কিভাবে ভুল ডায়াগনোসিস এবং অতিরিক্ত ট্রিটমেন্টের শিকার হতে হয়?
• ক্যান্সার ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে পরিসংখ্যানের কারসাজি করে মূলধারার চিকিৎসার ব্যর্থতা ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করছে?
• চিকিৎসকদের ভুল বা ক্ষতিকর চিকিৎসাপদ্ধতি এবং হাসপাতালের ব্যবসায়িক ফাঁদ থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায়?
• জীবনে যেন কখনো শরীরে ক্যান্সার দানা বাঁধতে না পারে, তার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাকৃতিক বা বিকল্প উপায়সমূহ
"দ্যা ক্যান্সার ইন্ডাস্ট্রি” বইটি প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী 'হুইসেল ব্লোয়ার' বা তথ্য ফাঁসকারী দলিল। লেখক যেভাবে তথ্যের গভীরতা এবং যৌক্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। বইটি প্রচলিত চিকিৎসার প্রতি অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে বাধ্য করবে এবং একইসঙ্গে নিজের ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ দেখাবে। এটি তাই ক্যান্সারাক্রান্ত রোগী, তাঁদের পরিবার এবং প্রত্যেক সচেতন মানুষের জন্য অবশ্য পাঠ্য। মূল বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন Azmin Akther Eva; প্রকাশ করেছে ফাউন্টেন পাবলিকেশন্স।