Nirapod Bangladesh

Nirapod Bangladesh I am trying to make some videos and some photography.
(6)

কলাই রুটিকালাই রুটি হলো বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি সংরক্ষণযোগ্য খাবার যা মাস কলাই ও...
16/09/2026

কলাই রুটি
কালাই রুটি হলো বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি সংরক্ষণযোগ্য খাবার যা মাস কলাই ও আতপ চালের আটা বা ময়দা, লবণ এবং পানি দিয়ে তৈরি করা হয়।
প্রাপ্তিস্থান
বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালাই রুটি পাওয়া যায়। এই অঞ্চলে মাছ-ভাত-ডালের মতই বহুল প্রচলিত একটি খাবার। শহরের প্রায় সকল জায়গায় চোখে পড়বে কালাই রুটির দোকান। এই জেলা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, নওগাঁ এবং ঢাকাতেও কালাই রুটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রন্ধন প্রণালী
প্রথমে মাষকালাই ও আতপ চাল পাটাতে বা যাঁতাতে পিষে আটা বানানো হয়। মেশিনে তৈরী আটা দিয়েও কালাই রুটি বানানো গেলেও পাটায় পিষ্ট আটা দিয়ে কালাই রুটি বানালে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এর সাথে স্বাদমতো লবণ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি মিশিয়ে খামির তৈরী করা হয়। খামির থেকে ছোট বল পরিমাণ আটা নিয়ে গোলাকার করা হয়। এরপর দুই হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বড় রুটি বানানো হয়। সাধারণত গমের রুটির চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু এবং বড়। এরপর রুটিটিকে মাটির তাওয়াতে সেঁকে গরম করা হয়। রুটির রঙ বাদামী হয়ে গেলে নামিয়ে নেওয়া হয়।
খাবার পদ্ধতি
কালাই রুটির সাথে সাধারণত বেগুন ভর্তা, শুকনো মরিচ ভর্তা, বট, পেঁয়াজ ভর্তা, মাংস ভুনা ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এসবের সাথে রুটির টুকরোর ছিড়ে গরম গরম খাওয়া হয়।
মূল্য
কালাই রুটির দাম সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে হয়। তবে কোন কোন স্থানে বিশেষ কালাই রুটি বানানো হয়, যার মূল্য ৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টতা
সমাজের অত্যন্ত দরিদ্র শ্রেণীর লোকজন কালাই রুটির ব্যবসার সাথে জড়িত। অধিকাংশ রুটির দোকান মহিলারা পরিচালনা করেন। অধিকাংশ দোকানের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর না। তবে বর্তমানে অভিজাত রেস্তোরাগুলোতেও কালাই রুটি বানানো হয়ে থাকে।
পুষ্টিগুণ
মাষকলাইয়ে থাকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল (জিঙ্ক, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম) ও অল্প পরিমাণে ফ্যাট আর চালে কার্বোহাইড্রেট, সামান্য প্রোটিন ও ফ্যাট। তবে কলাইয়ের চেয়ে চালে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। চালের এবং মাষকলাইয়ের ময়দার সংমিশ্রণে তৈরি হয় কালাই রুটি। এই রুটিতে যে পরিমাণ মিনারেল থাকে তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট শরীরের গঠন মজবুত ও অতিরিক্ত শক্তি জোগায়। মিনারেলগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া কালাই রুটিতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা শরীরের গঠন মজবুত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ভাতের চেয়ে রুটি খাওয়াই বেশি ভালো। সেক্ষেত্রে কলাই রুটি তাদের জন্য অধিক উপকারী।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হেল্পলাইন নম্বরসমূহঃ  জাতীয় তথ্য ও সেবা: ৩৩৩৩ (সরকারি সেবা ও তথ্য সম্পর্কে জানতে) জাতীয় জরুরি সেবা...
15/09/2026

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হেল্পলাইন নম্বরসমূহঃ

জাতীয় তথ্য ও সেবা: ৩৩৩৩ (সরকারি সেবা ও তথ্য সম্পর্কে জানতে) জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯ (পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): ১০৬ (অভিযোগ জানাতে)
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ: ১০৯ বা ১০৯২১
শিশু সহায়তা হেল্পলাইন: ১০৯৮
স্বাস্থ্য বাতায়ন: ১৬২৬৩
কৃষি বিষয়ক পরামর্শ: ১৬১২৩
আইনি সহায়তা: ১৬৪৩০
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি): ১০৫

কাউগাঁ রেলওয়ে স্টেশন (স্থানীয়ভাবে কাউগা স্টেশন নামে পরিচিত) বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায...
15/09/2026

কাউগাঁ রেলওয়ে স্টেশন (স্থানীয়ভাবে কাউগা স্টেশন নামে পরিচিত) বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় অবস্থিত একটি ছোট এবং ঐতিহাসিক রেলওয়ে স্টেশন। দিনাজপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে আত্রাই নদীর অববাহিকার কাছে ছবির মতো সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এর অবস্থান।

মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদামুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা বা ড. কুদরাত-এ-খুদা (১ ডিসেম্বর ১৯০০ - ৩ নভেম্বর ১৯৭৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশী র...
14/09/2026

মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা বা ড. কুদরাত-এ-খুদা (১ ডিসেম্বর ১৯০০ - ৩ নভেম্বর ১৯৭৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রসায়নবিদ, গ্রন্থকার এবং শিক্ষাবিদ। শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৭৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

শৈশব
কুদরাত-এ-খুদা ১৯০০ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মাড়গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খোন্দকার আব্দুল মুকিদ, মাতা সৈয়দা ফাসিহা খাতুন। তাদের সাত সন্তানের মধ্যে কুদরাত-এ-খুদা ছিলেন দ্বিতীয়। কুদরাত-এ-খুদার নাম রেখেছিলেন কুদরতের পিতার পীর কলকাতার তালতলার হযরত সায়ীদ শাহ মুর্শিদ আল কাদেরী। খোন্দকার আবদুল মুকিত তৎকালীন সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছিলেন। তিনি সেসময় হাতে গোনা কয়েকজন মুসলিমের মধ্যে ছিলেন, যারা ইংরেজি ভাষা জানত।

শিক্ষা
তার পিতা খোন্দকার আব্দুল মুকিত পীর বংশের সন্তান এবং নিজেও পীর হওয়ায় কুদরাত-এ-খুদাকে মাদ্রাসায় পীর বানানোর নিমিত্তে ভর্তি করিয়ে দেন।

একদিন খুদার এক মামা তাদের বাড়িতে আসেন। তিনি তখন কলকাতায় পড়াশোনা করছেন। তিনি খুদাকে বাংলা বর্ণমালার বই দেন। বিকাল বেলা খুদাকে খেলতে দেখে, তার মামা, সেই বইটি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করায় বালক খুদা সব মুখস্থ উত্তর দেন। তিনি বালক খুদার প্রতিভা দেখে তাকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে এনে মাড়গ্রাম এম.ই. স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন।[৪] পরবর্তীতে তিনি চলে আসেন কলিকাতা উডবার্ন এম.ই. স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায়। কলকাতা মাদ্রাসা থেকে তিনি ১৯১৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর তিনি ভর্তি হন বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে। প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রিয় ছাত্র ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি ১৯২৫ সালে রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এম.এস.সি পাশ করেন। পাশ করার পর তিনি সরকারী বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান ডক্টরেট করার জন্য। সেখানে তিনি স্যার জে. এফ থর্পের অধীনে থিসিস করেন। প্রফেসর থর্প কুদরত এ খুদাকে স্বাধীনভাবে গবেষণা করতে দেন। ফলে তিনি চারবছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ কাজ করেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে Stainless Configuration of Multiplanmet Ring বিষয়ে গবেষণার জন্য তিনি ১৯২৯ সালে রসায়নে ডি.এসসি. ডিগ্রি লাভ করেন।

পেশা
ডক্টর অব সায়েন্স (ডি.এসসি. ডিগ্রী) লাভ করার পর দেশে ফিরে এসে প্রাথমিক ভাবে তার কোনো চাকরি জুটে নি। আড়াই বছর বেকার ছিলেন তিনি। সেসময় প্রেসিডেন্সি কলেজে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি নিয়ে গবেষণা থিসিস লিখেন তিনি।

কুদরাত-এ-খুদা ১৯৩১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি এ কলেজে বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তাকে ইসলামিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং ১৯৪৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ড. কুদরাত-এ-খুদা পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং জনশিক্ষা পরিচালকের দায়িত্ব নেন (১৯৪৭-১৯৪৯)। অতঃপর তিনি পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োজিত হন (১৯৫০-১৯৫৩)। ১৯৫৩-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারসমূহের পরিচালক ছিলেন। অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে গড়ে তুলেন বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগার। বাংলাদেশের দেশীয় শিল্পের বিকাশ হয় তার হাত দিয়ে। ১৯৬৩ সালে চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য যে শিক্ষাকমিশন গঠন করা হয় কুদরাত-এ-খুদা তার সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণীত হয়।

গবেষণা
পাটকাঠি থেকে মণ্ড তৈরী করে সেই মণ্ড থেকে অতি উন্নতমানের দৃঢ় তক্তা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। পারটেক্স কাঠ কুদরাত-এ-খুদার বিশেষ অবদান। সমুদ্রের পানি থেকে লবণ চাষিরা যে পদ্ধতিতে লবণ সংগ্রহ করেন তা থেকে শুধুমাত্র খাবার লবণ (NaCl) সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু সমুদ্রের পানিতে NaCl ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড ও স্বল্পমাত্রায় ব্রোমিন থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব রাসায়নিক প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে এসব বাংলাদেশে আমদানী করা হত। কুদরাত-এ-খুদাই প্রথম হিসাব করে দেখান, বড় কোনো কারখানায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লবণ আহরণ করা হলে, সে কারখানা যদি ১ লাখ টন লবণ উৎপাদন করে, তবে সেখানে তার পাশাপাশি বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে ১০ হাজার টন ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড, ১০ হাজার টন ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ও সেই অনুপাতে পটাশিয়াম ক্লোরাইড উৎপন্ন হবে।

কুদরাত-এ-খুদা স্টেরিও রসায়ন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পরবর্তীতে তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল বনৌষধি, গাছগাছড়ার গুণাগুণ, পাট, লবণ, কাঠকয়লা, মৃত্তিকা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ। বিজ্ঞানী হিসাবে তার ও তার সহকর্মীদের ১৮টি আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাটসংক্রান্ত। এর মধ্যে পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন, পাটকাঠি থেকে কাগজ এবং রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার আবিষ্কার উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট
মূল নিবন্ধ: কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন
প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী সমাজগঠনমূলক একটি সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার রুপরেখা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত 'জাতীয় শিক্ষা কমিশন' প্রণীত সুপারিশমালা। এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন কুদরাত-এ-খুদা। তার নাম অনুসারে পরবর্তীকালে রিপোর্টটির নাম রাখা হয় 'ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষাকমিশন রিপোর্ট'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালের মে মাসে 'বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট' নামে। এতে পরিশিষ্ট বাদে ৩৬টি অধ্যায় ছিল এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল মোট ৪৩০।

মৃত্যু
কুদরাত-এ-খুদা ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তার প্রকৃত ...
14/09/2026

শহীদুল্লা কায়সার (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তার প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং সাহিত্যে ১৯৯৮ সালে গল্পে অবদান রাখার জন‍্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[৪] পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তার পিতার নাম মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্ এবং মাতার নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন৷ এই দম্পত্তির আট জন সন্তান রয়েছে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে সরকারি মডেল স্কুলে এবং পরে মাদরাসা-ই-আলিয়া'র অ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে৷

১৯৪৬ সালে তিনি এখান থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন কিন্তু শেষ করেননি৷ একই সাথে তিনি 'রিপন কলেজে' (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ) আইন বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করেন৷ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তার বাবা ঢাকায় চলে আসেন এবং শহীদুল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তবে এ ডিগ্রি লাভ করার আগেই লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটান।

শহীদুল্লা কায়সার সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও ১৯৫১ সালে পার্টির সদস্য হন। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দেশপ্রেমিক ছদ্মনামে রাজনৈতিক পরিক্রমা ও বিশ্বকর্মা ছদ্মনামে বিচিত্রা কথা শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয় রচনা করেছেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন[৪] এবং ভাষা আন্দোলনে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন তিনি গ্রেফতার হন। এ সময় তাকে সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৫৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই পুনরায় গ্রেফতার হন। কয়েক বছর পর মুক্তি পান। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক আইন জারি হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ১৪ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ জন নিরাপত্তা আইনে তাকে এ পর্যায়ে ১৯৬২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আটক রাখা হয়৷

শহীদুল্লা কায়সার সাংবাদিকতা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন৷ পরবর্তীতে তিনি ১৯৫৮ সালে দৈনিক সংবাদ-এর সম্পাদকীয় বিভাগে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন৷ এ বছরই অক্টোবরে গ্রেফতার হন। ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়ে পুনরায় দৈনিক সংবাদে যোগদান করেন এবং তার পরবর্তী জীবন সাংবাদিকতা করেন।

বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রবন্ধকার, গবেষক, প্রকাশক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক শহীদুল্লা কায়সার সম্পর্কে বলেন,

"তাঁকে যখন চিনতাম তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি প্রখ্যাত সাংবাদিক, কম্যুনিস্ট পার্টির নেতা। কোন অনুষ্ঠানে সভাপতি কিংবা প্রধান অতিথি হিসেবে, রাজপথে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পুরোভাবে দেখেছি। ওনার সামনে সরাসরি যাবার বা কথা বলার যোগ্যতা বোধকরি তখন আমাদের ছিলনা। আমরা দ্বিধায় ভুগতাম। যদিও আমি জড়িত ছিলাম ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেই। আমরা মোহিত ছিলাম ওনার ব্যক্তিত্ব আর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে।"

শহীদুল্লা কায়সার ব্যক্তিগত জীবনে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ পান্না কায়সারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির শমী কায়সার ও অমিতাভ কায়সার নামে দুইজন সন্তান রয়েছে। পান্না কায়সার একজন লেখক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ যিনি সপ্তম জাতীয় সংসদ সদস্য (১৯৯৬ - ২০০১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শমী কায়সার একজন বাংলাদেশী টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। শহীদুল্লার ভাই জহির রায়হান ছিলেন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কজন সদস্য তাকে তার বাসা ২৯, বিকে গাঙ্গুলী লেন থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফেরেন নি।
তথ্য সংগ্রহঃ উইকিপিডিয়া।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা কেউ যেন কখনো মৃত্যুর কামনা না করে। কারণ মৃত্যুর...
14/09/2026

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
"তোমরা কেউ যেন কখনো মৃত্যুর কামনা না করে। কারণ মৃত্যুর আগের ভয়াবহতা ও কষ্ট অত্যন্ত কঠিন।"
(সুনানে আবু দাউদ)

14/09/2026

দিনাজপুর রাজবাড়ি

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুরের এই সাদা একতলা ভবনটি গ্রিল দিয়ে ঘিরে দিলে আর কোন আড্ডাবাজ আড্ডা দিতে পারব...
13/09/2026

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুরের এই সাদা একতলা ভবনটি গ্রিল দিয়ে ঘিরে দিলে আর কোন আড্ডাবাজ আড্ডা দিতে পারবে না। উদ্যোগ নিবে কে?

একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল হলো তার পুরাকীর্তি। বাংলাদেশের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে মহাস্থানগড়, পাহাড...
13/09/2026

একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল হলো তার পুরাকীর্তি। বাংলাদেশের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাট গম্বুজ মসজিদ, লালবাগ কেল্লা ও ময়নামতির মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। এই পুরাকীর্তিগুলো আমাদের অতীত গৌরবের পরিচয় বহন করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়কে তুলে ধরে। তাই এগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং সযত্নে সংরক্ষণ করা আমাদের সবার পরম দায়িত্ব।পুরাকীর্তি সংরক্ষণে রাষ্ট্রের যেমন বড় ভূমিকা রয়েছে, তেমনি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।

সরকারিভাবে পুরাকীর্তি আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে কেউ এই ঐতিহাসিক সম্পদগুলো ধ্বংস বা দখল করতে না পারে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অনেক সময় অসচেতনতার কারণে পর্যটকরা ঐতিহাসিক দেয়ালে নাম লেখেন, স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেন কিংবা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন—এই ধরনের আচরণ পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অমূল্য সম্পদগুলোর চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। পুরাকীর্তি শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি আমাদের জাতীয় অহংকার এবং পর্যটন শিল্পের এক বিশাল উৎস। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের পবিত্র নাগরিক কর্তব্য।

বাংলাদেশে প্রথম ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর রেল ট্রেন চালু হয়।   চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত দূরত্ব: ৫৩.১...
12/09/2026

বাংলাদেশে প্রথম ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর রেল ট্রেন চালু হয়। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত দূরত্ব: ৫৩.১১ কিলোমিটার (৩৩ মাইল) প্রতিষ্ঠা করে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। প্রথম স্টেশন: কুষ্টিয়ার জগতি রেলওয়ে স্টেশন।

Address

Rajshahi Court Bazar
Rajshahi
GPO-6000

Telephone

+8801757020284

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nirapod Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nirapod Bangladesh:

Shortcuts

Share