14/10/2022
সময়ে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি
সময়টা ২০০০ সাল ১৪ ই ফেব্রুয়ারী ,বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সবে মাত্র জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে বিশ্ব ভালবাসা দিবস । শীতের সকাল ঘন কুয়াশায় ঢাকা, রাস্তা পুরোপুরি দেখা যায় না , ছোট ভাই টা এসে বললো ,ভাই আজকে তো বিশ্বভালবাসা দিবস তো আজ সকালে শোভাকে ( ছদ্দনাম) ফুল দিতে হবে ।
আমিও ছোট ভা্ইয়ের কথায় রাজি হয়ে যায় । আমি আবার সারা জীবনই একটু পরোপকারী মানুষ । এর জন্য অবশ্য জীবনে কম মাসুল দিতে হয়নি আমাকে । তো যেই কথা সেই কাজ , শোভা সকালে তার শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাবে ।
আমরা প্রস্তুতি নিয়ে সকালে শোভার প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে বুনের ঝাড়ের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে আছি কখন সে আসে ( বলে রাখা ভালো সেই সময় আমাদের অঞ্চলে বুনের ঝাড় দিয়ে বাড়ীর তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হতো বিশেষ করে বেড়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করা হতো । এখন অবশ্য সবার টাকা পয়শা হওয়াতে সবাই ইটের বাড়ী তৈরী করে ) শীতের সকাল ঘন কুয়াশায় ঢাকা, রাস্তা পুরোপুরি দেখা যায় না । একিভাবে তাকিয়ে আছি রাস্তার দিকে কোন মানুষের খোজ নাই । শীতের দিন আমাদের অঞ্চলে( রাজশাহী ) সূর্য মামার দেখা পেতে খুব বেগ পেতে হয় । হাড় কাপানো শীতে রীতিমত কাপনি শুরু হয়েগেছে । এদিকে যারা খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী করে তারা খেজুরের গাছে গাছে উঠে রস নামানোর কাজ করে যাচ্ছে ।
দুঃসম্পর্কর এক চাচা কাধে খেজুরের রসের নাড়ী ( মাটির তৈরী পাত্র ) নিয়ে আমাদের পাশ কেটে চলে গেল । ভযে তখন শীতের কাপনী আরো বেড়ে গেলো । আপনারা জানেন আগে গ্রামে চাচাদের শাসন , আদব কায়দা শেখানো এগুলো সবাই মানতো এবং আমরাও চাচাদের দেখলে ভয়ে সামনে যেতাম না তারা যেখানে থাকতো তার আশপাশে যেতাম না । এখন অবশ্য এসবের কোন বালাই নাই , কেউ কাউকে ছালামতো দুরের কথা , সামনে বসে সিগারেট টানে ।
অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো , হঠৎ দেখি নূপুরের শব্দ , সেই মহারানী নূপুর পরে রিনিক ঝিনিক করতে করতে চলে আসলো । ছোট ভাই পাশে দাড়ানো ,ছোট ভাইকে বলি তোর ফুল তুই দে । ছোট ভাই বলে আমি পারবো না আপনি দিয়ে দেন । আমি বলি আরে বোকা আমি ফুল দিলে হবে নাকি । সে তো অন্য কিছু ভাববে । ছোট ভাই বলে কোন কিছু ভাববে না আপনি দেন । বলে রাখা ভালো আমার চেহারা অতো ভালো না হওয়ার কারনে কখনো কেউকে প্রস্তাব দিতে সাহস পেতাম না । যাক ছোট ভাইয়ের পছন্দের মানুষকে ছোট ভাইয়ের হয়ে ফুলটা দিয়েই দিলাম । ফুল দেওয়া শেষ কোন কথা বলার আগেই দিলাম কুশোরের ভূই ( আখ খেত ) দিয়ে দিলাম দোড় । এক দোড়ে বাড়ি ।
দুপুরে বাবা খেতে বাসায় এসে ছিমলের ( শিমুলের) ডাল হাতে আমারে খুজে বেড়াচ্ছে । মানে হলো মেয়ে তার বাবাকে আমার নামে নালিশ করেছে আর মেয়ের বাবা আমার বাবাকে বলে দিয়েছে ।