25/12/2025
পঁচিশের ইতিকথা...
এখন নিজের বাড়িটাকে আর নিজের বাড়ি বলে মনে হয় না।
মনে হয়, যেন কোনো অচেনা জায়গায় সাময়িকভাবে এসে উঠেছি—একজন অতিথির মতো, যার এখানে থাকার কোনো অধিকার নেই, শুধু থাকার অনুমতি আছে। ঘরের দেয়ালগুলো চেনা, কিন্তু অনুভূতিটা একেবারেই অচেনা। যেখানে একসময় শান্তি খুঁজে পেতাম, সেখানে এখন শুধু ভারী একটা শূন্যতা জমে থাকে।
মা নেই।
এই একটা বাক্যই যেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ফাঁকা জায়গাটা তৈরি করে দিয়েছে। মায়ের অনুপস্থিতিটা শুধু একজন মানুষ হারানোর কষ্ট না—এটা একটা নিরাপদ আশ্রয় হারানোর ব্যথা। কার কাছে গেলে “সব ঠিক হয়ে যাবে” শুনতে পাব, সেটা আর জানা নেই। মায়ের ডাক, মায়ের অপেক্ষা, মায়ের চোখের সেই নিঃশর্ত বিশ্বাস—সবই এখন শুধু স্মৃতির মধ্যে আটকে আছে।
ছোট ভাইয়ের সাথে প্রায় এক মাস কথা হয় না।
কখন যে এই দূরত্ব তৈরি হলো, বুঝতেই পারিনি। রক্তের সম্পর্ক হয়েও কথার অভাব এতটাই গভীর যে, মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা অদৃশ্য দেয়াল—যেটা কেউ ভাঙতে চায় না, বা ভাঙার শক্তি কারও নেই।
বড় বোনের সাথে কথা হলেই টাকার প্রসঙ্গ এসে পড়ে।
কথাগুলো আর আপন থাকে না, সম্পর্কটা যেন হিসাবের খাতায় পরিণত হয়েছে। ভাই-বোনের সম্পর্কের উষ্ণতার জায়গায় এখন শুধু দুশ্চিন্তা আর চাপ। আমি জানি, তারও কষ্ট আছে, কিন্তু তবুও প্রতিবার মনে হয়— আমি কখনও কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পারলাম না ।
বাবার সাথে তো কোনো কাজ ছাড়া কথা বলাই হয়নি এক যুগ হয়ে গেল।
আর কথা হলেও সেটা শান্তিতে শেষ হয় না—চিল্লাচিল্লি, রাগ, গ্যাঞ্জাম। একসাথে বসে কথা বলা, হাসা, বা শুধু “কেমন আছিস?”—এই সাধারণ জিনিসগুলো আমাদের মধ্যে কোনোদিনই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। বাবা হয়েও তিনি যেন আমার জীবনে একজন অচেনা কর্তৃত্ব, ভালোবাসার মানুষ নন।
এই ২৬ বছরের জীবনে তাকিয়ে দেখি—আমি যেন শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারিনি।
স্বপ্ন ছিল, ইচ্ছে ছিল, কিন্তু বাস্তবতার ভারে সব একে একে চুপ করে গেছে। বাবার অঢেল সম্পদ থাকলেও কী আসে যায়? যখন নিজের বলতে কিছুই নেই। নিজের অর্জন নেই, নিজের জায়গা নেই, নিজের পরিচয় নেই। সবকিছু থাকার মাঝেও আমি যেন ভীষণ রকমের নিঃস্ব।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—এই শূন্যতার কথাগুলো কাউকে ঠিকমতো বলাও যায় না।
কারণ বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হয়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে পড়ছি। তবুও কাউকে দেখাতে পারছি না, কাউকে বোঝাতে পারছি না—আমি কতটা একা।
এত সবকিছুর ভিতরেও ,একজন মানুষ আমার পাশে সব সময় ছিল ,ধন্যবাদ আপনাকে ।