01/11/2025
কুড়িগ্রামে সার সংকটে কৃষক পড়ছে ভোগান্তিতে।
রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায়-রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ডি,এ,পি,টি,এস,পি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন লাখো কৃষক। ফলে মৌসুমি ফসল আবাদে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রবি মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা এখন জমিতে আলু, ভুট্টা ও শাক-সবজির আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু মাঠে কাজের গতি মন্থর হয়ে গেছে সারের সংকটে। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি, এই তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না কৃষকরা।
কুড়িগ্রাম, রৌমারী উপজেলায়,সদর ইউনিয়ন রৌমারী গ্রামের কৃষক আবদার হোসেন বলেন, 'ডিলারদের কাছে গেলে বলে সার শেষ। কিন্তু খুচরা দোকানে গেলেই মেলে- তাও প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়।' একই অভিযোগ রাজিব পুর উপজেলার এক কৃষক আবু তালেবের। তিনি বলেন, 'নন-ইউরিয়া সার ছাড়া জমি তৈরি করা যাচ্ছে না। নভেম্বরে সারের চাহিদা আরও বাড়বে। এখনই যদি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতি হবে।'
বন্দবেড় ইউনিয়নের এক কৃষক সুজন মিয়া বলেন, 'অতিরিক্ত দাম দিলেও সার মেলে না। চরে ভূট্টা আবাদ নিয়ে আমরা এখন দিশাহারা।' কাউনিয়ার কৃষক জয়নাল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ডিলারের কাছে নেই, খুচরায় বেশি দামে, সবকিছুই যেন
অতিরিক্ত দামেও সার মিলছে না কৃষকদের
কৃষি বিভাগ বলছে, 'সংকট কৃত্রিম'
ডিলারদের দাবি, 'বরাদ্দ কম'
উল্টো চলছে। বিএডিসি লালমনিরহাট গুদামের সহকারী পরিচালক একরামুল হক জানান, জেলায় ১৪৪ জন ডিলারের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দরে সার বিক্রি হচ্ছে। সরকার টিএসপি ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা দরে দেয়। ডিলাররা কেজিতে ২ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করতে পারেন। তিনি বলেন, গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, তবে বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
বিএডিসির রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, কোনো জেলাতেই প্রকৃত সংকট নেই। কিছু অসাধু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। বাজার মনিটরিং চলছে, দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সারের ঘাটতি নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় সংকট সৃষ্টি করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।