Green Ummah

Green Ummah Effort of Green Earth, Don't waste property of Earth unnecessary. একটা সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টা মাত্র

দেশত্যাগী এক মহাবীরের গল্পতিনি বিশ্বের একমাত্র পাইলট যিনি এক মিনিটের কম সময়ে (২৩ সেকেন্ডে) ৫টি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছ...
26/03/2026

দেশত্যাগী এক মহাবীরের গল্প

তিনি বিশ্বের একমাত্র পাইলট যিনি এক মিনিটের কম সময়ে (২৩ সেকেন্ডে) ৫টি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছেন। এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বরেকর্ড। পুরো যুদ্ধে তিনি মোট ৯টি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেন এবং অপর দুটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

বলছিলাম মুহাম্মদ মাহমুদ আলম এর কথা। তিনি ১৯৩৫ সালের ৬ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মুহাম্মদ মাসুদ আলম। তিনি পাকিস্তান আন্দোলন এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সমর্থন করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানী বিমান তাদের বাড়িতে বোমাবর্ষণ করে। ঐ সময় ব্রিটিশ পাইলট মরিস প্রিং ৩টি জাপানী বিমান ভূপাতিত করেন। কলকাতায় লোকেরা তার সম্মানে র‍্যালি করেছিল। তিনি তখন থেকে যুদ্ধ পাইলট হতে সংকল্প করেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় ১১ বছর বয়সে তিনি আত্মরক্ষার্থে একজনকে হত্যা করেছিলেন। তিনি ঢাকার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

মাধ্যমিক শিক্ষাকালে তিনি পোলিশ পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুচোস্কির অধীনে শাহীন এয়ার ট্রেনিং কর্পস (SATC)-এর সদস্য হন এবং কোয়েটায় স্নাতক কুচকাওয়াজের সময় তার কাঙ্ক্ষিত গ্লাইডার উইংস অর্জন করেন।

তিনি কোয়েটায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারপর ফ্লাইট ক্যাডেট হিসেবে ১৯৫২ সালে আরপিএএফ কলেজে যোগদান করেন। তিনি ১৫তম জিডি(পি) কোর্সের অংশ হিসেবে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সে কমিশন লাভ করেন।

তিনি পিএএফ স্টেশন মৌরিপুরে ফাইটার কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করেন। দ্রুতই তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় ফাইটার পাইলট হিসেবে আবির্ভূত হন এবং আকাশ থেকে আকাশে গোলাবর্ষণ প্রতিযোগিতায় পিএএফ-এর সর্বোচ্চ স্কোরার হন।

১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর ৩টি এফ-৮৬ সাব্রি ফর্মেশনে ফ্লাই করে স্কোয়াড্রন লিডার আলম হালওয়ারা বিমান ঘাঁটির উপর হারতীয় বায়ুসেনার একটি হকার হান্টার বিমান ভূপাতিত করেন, যেটি চালাচ্ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার একে রাওলি।

পরের দিন, ৭ সেপ্টেম্বর তিনি সারগোদার উপর একটি কমব্যাট এয়ার পেট্রোল মিশনে ফ্লাই করেন। এ সময় তিনি বায়ুসেনার একে এক পাঁচটি হকার হান্টারের মুখোমুখি হন এবং পাঁচটি বিমানকেই গুলি করে ভূপাতিত করেছেন।

বায়ুসেনার ঐ সকল বিমানের পাইলট ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার ওঙ্কার নাথ কাকার ও এ বি দেবাইয়া, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট গুহা ও ফ্লাইং অফিসার ব্রার এবং স্কোয়াড্রন লিডার ভাগবত। অবশ্য, হারত এই রেকর্ডে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিল।

১৬ সেপ্টেম্বর স্কোয়াড্রন লিডার ও ফ্লাইং অফিসার মোহাম্মদ শওকতুল ইসলাম হারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করেন। বায়ুসেনার ফ্লাইং অফিসার প্রকাশ সদাশিব রাও পিঙ্গলে ও ফারুক দারা বুনশা দ্রুত তাদেরকে ধাওয়া করে।

পিঙ্গলে তখন শওকতের বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করেন। আর বুনশা এদিকে আলমকে ধাওয়া করেন। ডগফাইটে সুদক্ষ আলম কৌশলে বুনশাকে পেছনে ফেলে দেন এবং তার হান্টার বিমানটি গুলি করে ফেলে দেন। বুনশা যুদ্ধে নিহত হন।

একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো আলমের সকল উইংম্যান অকার্যকর চছিলেন। তাদের বিমান শট ডাউন হতো এবং তারা নিহত হতেন; অতচ একইসাথে থাকা আলমের একই বিমান দ্রুততার সাথে ১০টি হান্টারকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।

যুদ্ধের পর, সরকার তাঁকে সিতারা-ই-জুরাত পুরস্কারে ভূষিত করে। পুরস্কার বিতরণকালে তার সাথে পরিচিত হওয়ার সময় আইয়ুব খানের চোখে জল এসে গিয়েছিল। তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন তাঁকে একটি বাসভবন উপহার দেয় (তিনি গ্রহণ করেননি)।

১৯৭০ সালে সিরীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে সিরিয়া সরকারের অনুরোধে তাঁকে সিরিয়ায় ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। ১৯৭১ সালে পূর্বপাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি হলে তিনি অত্যন্ত হতাশ হন এবং কয়েক মাস কাজে যোগ দেননি।

কর্মে অনুপস্থিতির ঐ সকল মাসে তিনি তার বেতন নিতে অস্বীকার করেন। বরং পাকিস্তানের অপর কিছু পাইলট সিরীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত দাবি করেছিলেন, তখন আলম তাদেরকে কোর্ট-মার্শালে শাস্তির মুখোমুখি করিয়েছিলেন।

১৯৭৩ সালের আরব-জ্রায়েল যুদ্ধে তিনি ১৬ জন পিএএফ পাইলটের একটি দলের নেতৃত্ব দেন এবং জ্রায়েলি বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেন এবং তারপরে মিগ-২১ বিমানের একটি সিরীয় স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭৮ সালে আলম এয়ার কমোডর হন এবং তার অবদানের জন্য তাকে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ ভূষিত করা হয়। ১৯৮০ সালে ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজ তাকে ফিল্ড মার্শাল উইলিয়াম স্লিম এর সাথে তুলনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

পাকিস্তানে ফিরে আসার পর তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন যে, তাকে একটি অপারেশনাল এয়ার বেসের কমান্ড দেওয়া হবে কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। মার্চ ১৯৮১-এ, তাকে সহকারী বিমান প্রধান (পরিকল্পনা) হিসেবে মনোনীত করা হয়।

পাক বিমান বাহিনীর বর্তমান উন্নয়নে তার এক অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিমান ক্রয়ের চুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউল হক ও এয়ার চিফ মার্শাল আনোয়ার শামিম আলোচনা করছিলেন। সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আলোচনায় ক্ষুব্ধ হন এবং প্রোটোকল ভেঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে মার্শাল শামিমকে নিম্নমানের বিমান ক্রয় বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি উষ্মার সাথে বলেন- "Sir, we should go for nothing less than F-16s which would serve our needs for the next 20-30 years."

তার এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জে জিয়া অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। অনুষ্ঠান শেষ করার পূর্বে জিয়া
জিয়া তার ফোল্ডারটি টেবিলের উপর ছুঁড়ে ফেলে বলেন, "Gentlemen, I don't think you have done your homework properly".

পরে জেনারেল জিয়া বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনী শেষ পর্যন্ত অবশেষে F-16 বিমানগুলো কিনেছিল। ওদিকে, মার্শাল শামিমের বিষয়ে জানা যায় যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ডলারের একটি খামারবাড়ি কিনেছিলেন।

নির্ভীক-দুঃসাহসী আলম সরাসরি শামিমের মুখোমুখি হন এবং ঐ বিষয়ে তদন্ত পরিচালনার সুপারিশ করেন। তার পরিবর্তে, শামিম বছরের শেষে আলমকে নেতিবাচক এসিআর দেন এবং তার চরিত্র এবং যুদ্ধের রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আলম তখন শামিমের দুর্নীতির বিষয়টি জেনারেল জিয়ার নজরে আনেন। জিয়া উত্তর দেন, আপনি কি মনে করেন যে, আমি জানি না- আপনি আমাকে কী বলছেন।" আলম উত্তর দেন, "আমি পাকিস্তানের জন্য খুব উদ্বিগ্ন এবং আমি আর চাকরি করতে অস্বীকার করছি।"

তাকে নির্ধারিত সময়ের আগে অবসর দেওয়া হয়। ইনকামের অপর কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তিনি পেনশন নিতে অস্বীকার করেন। জেনারেল জিয়া তাকে অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রদূত ও ইসলামাবাদে ইনস্টিটিউট অফ স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের চেয়ারম্যান পদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি উভয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং যাযাবর জীবন শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান। মূলত তিনি সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে তিনি বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে মুজাহিদিন-আক্রমণে অংশ নেন।

তিনি পায়ে হেঁটে ও ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ের উপর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রা করেন। ল্যান্ড মাইন এড়িয়ে গোলাগুলির মধ্যে দিয়ে লোগার প্রদেশের আজরো উচ্চভূমি অতিক্রম করে এবং বাগরামে পৌঁছানোর জন্য আরও তিনটি প্রদেশ পার হতে হয়েছিল।

সেখানে উচ্চভূমির মাঝপথে আলম বরফযুক্ত পাথরে পিছলে যান। তার বাম হাত ভেঙে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর, তিনি সঠিক চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে ফিরে আসেন। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার তাঁকে একটি পিস্তল উপহার দিয়েছিলেন।

আফগানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের শেষের দিকে, আলম পাঞ্জশির উপত্যকায় আসেন এবং গেরিলা কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের অতিথি হন। তাদের নিয়মিত হতো এবং আলমকে তিনি "জেনারেল" বলে সম্বোধন করতেন।

সোভিয়েত বিদায়ের মাস খানেক পর শীর্ণ ও ক্লান্ত দেহে লম্বা দঁড়িবিশিষ্ট আলম গভীর রাতে এয়ার মার্শাল আয়াজ আহমেদ খানের কাছে আসেন। তিনি দুই দিন ধরে অভুক্ত ছিলেন। খাওয়ার পর, তিনি তিন দিন ঘুমিয়ে কাটান। এরপর আয়াজ খানের সাথে তার আর কখনও যোগাযোগ হয়নি।

তিনি নিঃস্ব হয়ে যান। অতিরিক্ত ধূমপানের (দিনে দুই প্যাকেট) ফলে তাঁর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ২০০২ সালে এয়ার চিফ মুশাফ আলী তার জন্য একটি দুই বেডরুমের গেস্টহাউস তৈরি করান এবং তাকে পেনশন গ্রহণে রাজি করান।

তিনি ২০০৫-২০০৬ সাল পর্যন্ত ঐ গেস্টহাউসে বসবাস করেন। সেখান থেকে তাকে কিছু সময়ের জন্য করাচির ফয়সালে ঘাঁটিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি করাচিতে স্থায়ী হন এবং তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার র্নির্মাণ করেন।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাঁকে পিএনএস শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অসুস্থতার বিষয়ে মিডিয়ায় কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি। ২০১৩ সালে ১৮ মার্চ সকালে ৭৭ বছর বয়সে ধূমপান-জনিত জটিলতায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানে তার সম্মানে এমএম আলম একাদশ নামে একটি ক্রিকেট দল গঠন করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে লাহোরের মেইন মার্কেট থেকে গুলবার্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটি এমএম আলম রোড নামকরণ করা হয়।

২০১৪ সালে তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মিয়ানওয়ালী ঘাঁটির নাম পরিবর্তন করে পিএএফ বেস এম.এম. আলম রাখা হয়। তাঁর সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। তার ব্যবহৃত সাব্রি জেটটি করাচির পিএএফ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

আলম অবিবাহিত ছিলেন, কারণ তার বাবার মৃত্যুর পর ছোট ভাইবোনদের লালন-পালনের দায়িত্ব তাকে বিয়ে করার খুব কম সুযোগ দিয়েছিল। একজন আগ্রহী পাঠক হিসেবে, তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ৩,০০০ এর বেশি বই ছিল।

আল্লাহ্‌ তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতে দাখিল করুন।
Mohammad Salimullah

14/03/2026
07/03/2026

গল্পটা খুব সিম্পল, কিন্তু এর ইমপ্যাক্ট মাথা নষ্ট করার মতো।

মিডলইস্টে আমেরিকা এখন আক্ষরিক অর্থেই অন্ধ। কোনো রূপক নয়, লিটারেলি! জর্ডানে আমেরিকার ১ বিলিয়ন ডলারের THAAD রাডার সিস্টেমটাকে একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইরান।
আমেরিকার কাছে শক্তিশালী মিসাইল আছে, কিন্তু এই রাডার ছাড়া সেসব অচল প্রায়।

ইরান এখানে একটা ব্রিলিয়ান্ট 'ইকোনমিক গেম' খেলছে। তারা পাঠাচ্ছে মাত্র ২,০০০ ডলারের কিছু সস্তা ড্রোন। আর আমেরিকা সেই খেলনা ড্রোন ঠেকাতে খরচ করছে তাদের মিলিয়ন ডলারের একেকটা ইন্টারসেপ্টর মিসাইল।

অংকের হিসাবটা বুঝতে পারছেন? পকেটের টাকা খরচ করিয়ে একটা সুপারপাওয়ারের সামরিক ভাণ্ডার খালি করে দেওয়ার এর চেয়ে নিখুঁত প্ল্যান আর হয় না। আর ট্র্যাজেডি হলো, এই রাডার বা মিসাইলগুলো নতুন করে বানাতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ বছর!

আগে যখন হামলা হতো, আমেরিকা বা তার মিত্ররা ২০ মিনিট আগে টের পেত। এখন সেই সময়টা নেমে এসেছে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটে। অর্থাৎ, আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ থেকে বিপদ আপনার মাথায় আছড়ে পড়বে।

সবচেয়ে ভয়ের কথাঃ ইরান তাদের আসল 'হাইপারসনিক' অস্ত্রগুলো এখনো ছোঁড়েইনি। তারা শুধু সস্তা ড্রোন দিয়ে আমেরিকার ডিফেন্স নেটওয়ার্ককে ক্লান্ত আর অন্ধ করছে। আসল খেলা তো এখনো বাকি!

সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো আমেরিকাকে জায়গা দিয়েছিল নিরাপত্তার আশায়। এখন তারা দেখছে, আমেরিকার ঘাঁটি থাকা মানেই উল্টো নিজেদের ড্রোন হামলার টার্গেট বানানো।
অতএব, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন তাদের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আমেরিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।

আমেরিকা যখন যুদ্ধের চোরাবালিতে ক্লান্ত হচ্ছে, চীন তখন নিঃশব্দে চেক বই নিয়ে রেডি হচ্ছে 'ইউয়ান' চালুর জন্য। আর রাশিয়া গ্যালারিতে বসে পপকর্ন খেতে খেতে দেখছে কীভাবে তেলের দাম বাড়ছে আর তাদের পকেট ভারী হচ্ছে।

ইরানের শর্ত খুব পরিষ্কার—"আমেরিকা, তোমরা এই অঞ্চল থেকে পাততাড়ি গুটাও।" এই একটা রাজনৈতিক পরাজয় এড়াতে গিয়ে আমেরিকা এখন এমন এক কানাগলিতে ঢুকেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই।

আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর আমরা যখন পেছনের দিকে তাকাব, তখন হয়তো দেখব—জর্ডানের ওই একটা রাডার ধ্বংস হওয়াই ছিল আমেরিকার একক আধিপত্য শেষের শুরু।

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রটা চিরতরে বদলে যাচ্ছে। আমরা কি প্রস্তুত সেই নতুন পৃথিবীর জন্য?

Del h khan

07/03/2026

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রায় সবার ক্ষতি, সবচেয়ে বড় ক্ষতি চীন ও ইরানের এবং মূল লাভ অ্যামেরিকা ও রাশিয়ার।

ইরানের মূল বৈদেশিক আয় তেল বিক্রি এই পথেই হয়, তা বন্ধ হয়ে গেল। চীন হলো ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। সৌদী তেলেরও বড় ক্রেতা চীন। এখন তেল না পেয়ে চীনের যে ক্ষতি হবে, তা ভয়াবহ! দেখুন, চীনের পণ্যেই তো সমগ্র বিশ্বের ইন্ডাস্ট্রি সচল থাকে!

আবার, দরিদ্র দক্ষিণ এশিয়ার ৮০% তেল ও এলএনজি আসে এই পথে তা বন্ধ হয়ে গেল। এখন ইরাক, কুয়েত, কাতার, আমিরাতের তেল ও এলএনজি বিক্রি বন্ধ। এই সুযোগে অ্যামেরিকা এলএনজি রফতানিতে ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় করবে।

আবার, স্বস্তা ইরানী তেলের কারণে রাশিয়া কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এখন তারা চীন ও হারতের কাছে উচ্চ দামে তেল বিক্রি করবে। এদিকে, মিশর ও সৌদী আরবের বিকল্প সামুদ্রিক পথ খোলা রয়েছে। ফলে, তারা একচেটিয়ে তেল বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা অর্জন করবে।

যদিও লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন নস্যাৎ করার জন্যে ইরানের প্রক্সি- হুথিরা অনেক অপকর্ম করেছে। এর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে মিশরের, তাদের আয়ের প্রধান উৎস সুয়েজ খালের রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে। কিন্তু সৌদির কোনো ক্ষতিই হয় না; কারণ, সব সময় তাদের বিকল্প থাকে।

অন্যদিকে, হরমুজ বন্ধ থাকায় সুয়েজ খালে ট্র্যাফিক মাত্রাতিরিক্ত বাড়বে। এতে মিশরের ‘ফাও’ ইনকাম বাড়বে। সৌদীর তেল রপ্তানির একটি পথ বন্ধ হলেও অপর পথ চালু রইল। এক পথে রপ্তানি সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও সংকটের অযুহাতে দাম বাড়িয়ে আয় পুষিয়ে নেবে।

এদিকে, তেল ও এলএনজির মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধিতে ইউরোপের অর্থনীতি পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এটাও সৌদির কপাল খুলে দিচ্ছে। সৌদি তো নিজেকে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র বানাতে চায়! যাহোক, এখন লোহিত সাগরকে বাধামুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্যোগ নিয়েছে।

সৌদী ও মিশরের সমস্যা সমাধানের জন্য ইউরোপকে মাঠে নামতে হচ্ছে- এটা দেখতে পারা দারুণ ব্যাপার। অবশ্য ইরান যখন দেখতে পাবে- তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সৌদী ও মিশরের লাভ হচ্ছে, তখন তারা মাথার চুল ছিঁড়বে। নির্ঘাত হরমুজ খুলে দিতে চাইবে, কিন্তু হাতে আর সময় থাকবে না।

শয়তান নীরবে তার কাজ করে যাচ্ছে। জ্রায়েল জানাচ্ছে- হামলার প্রথম পর্ব খুবই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে কিছু মিসাইল লঞ্চিং প্যাড ধ্বংস করা গেছে। ফলে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার সামর্থ কমেছে, পরের পর্বে এটি গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

জ্রায়েলের কোনো ক্ষতি হয়েছে শুনতে আমাদের ভাল লাগে। কিন্তু শিয়া, সেকুলার ও গাদ্দারহুড তো তা শুনতে চায় না। তারা মুসলিম দেশের ক্ষতি হয়েছে শুললে বোগল বাজায়। তারা মক্কা-মদীনার দেশের ক্ষতি কামনা করে, সাহাবীদের হাতে গড়া মিশরের ক্ষতি কামনা করে; কিন্তু ইতিহাসের পরতে পরতে মুসলিমদের পিঠে ছুরি মারা দেশের ভাল চায়।

Mohammad Salimullah

14/02/2026

জনাব Tarique Rahman, আপনি যদি আপনার দলকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করতে চান তাহলে খুব দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমার একটা পরামর্শ ভেবে দেখতে পারেন।

আপনার নেতা-কর্মীদের বিএনপির দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ কল্পে আপনার একান্ত ন্যায় নিষ্ঠ একটা বিশেষ টিম গঠন করবেন। যারা "ডাইরেক্ট তারেক রহমান / Direct Tareque Rahman / To Tareque Rahman" নামের একটা অ্যাপ্স পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী থেকে উঠে আসা সমস্যাগুলোর সমাধান নিতে সহায়ক হবে। অভিযোগ কারির পরিচয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

- মুখলেস বিন আব্দুল মান্নান

Bangladesh Nationalist Party-BNP'র অপরাধ ক্যাটাগরি (সংখ্যাসহ)______________________ #খুন – 231+ #ধর্ষণ – 64+ #চাঁদাবাজি ...
10/02/2026

Bangladesh Nationalist Party-BNP'র অপরাধ ক্যাটাগরি (সংখ্যাসহ)
______________________
#খুন – 231+
#ধর্ষণ – 64+
#চাঁদাবাজি – 273+
#হামলা / সংঘর্ষ – 353+
#লুটপাট – 80+
#দখল – 89+
#ইসলামবিদ্বেষ – 20+
#মাদক – 72+
#অস্ত্র – 89+
#চুরি / ডাকাতি – 60+
#শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস – 50+
#নিপীড়ন – 157+
#মামলা বাণিজ্য – 13+
#টেন্ডারবাজি – 16+
#গুম ও নিখোঁজ – 39+
#নারী নির্যাতন – 46+
#দুর্নীতি – 8+
#হুমকি – 28+
#গণতন্ত্র বাধা – 17+
বিবিধ – 42+

লাইভ অপরাধ আপডেট পেতে নিচের অপরাধ নামা লিংক চেক করুন
https://bnpnama.info/?fbclid=IwT01FWAP4UahleHRuA2FlbQIxMABzcnRjBmFwcF9pZAwzNTA2ODU1MzE3MjgAAR56wGLfoxg-nQQebLEpCHzSHn35ZZqWrmVA1Qzcr8z0UaaePP2YLFLmTQ9VqQ_aem_BsyIvlUXotw0nB6KnspyKw

🧭🌧️- বৃষ্টি পানি = সমস্যা নয়, সম্পদ- পানি দ্রুত সরানো নয়, ধরে রাখা + ধীরে বের করা১️⃣ শহরকে “স্পঞ্জ সিটি (Sponge City)” হ...
28/01/2026

🧭🌧️
- বৃষ্টি পানি = সমস্যা নয়, সম্পদ
- পানি দ্রুত সরানো নয়, ধরে রাখা + ধীরে বের করা

১️⃣ শহরকে “স্পঞ্জ সিটি (Sponge City)” হিসেবে রিডিজাইন
কী হবে?

- রাস্তাঘাট, পার্ক, ছাদ—সব জায়গা পানি শোষণ করবে
- পানি সরাসরি ড্রেনে না গিয়ে মাটিতে ঢুকবে
- Permeable Road & Footpath (ছিদ্রযুক্ত ব্লক)
- Green Roof (ছাদে ঘাস/বাগান)
- Rain Garden (পার্ক ও রাস্তার পাশে)
- Rainwater Harvesting বাধ্যতামূলক
📌 ফলাফল:
☑️ হঠাৎ জল জমবে না
☑️ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়বে

২️⃣ প্রাকৃতিক খাল–নদী–জলাভূমি ফিরিয়ে আনা (Hard Truth)

- কঠিন কিন্তু জরুরি সিদ্ধান্ত
- দখল হওয়া সব খাল উদ্ধার
- খালের পাশে ৩০–৫০ মিটার বাফার জোন
- জলাভূমিকে আইনিভাবে Flood Zone ঘোষণা
📌 ঢাকা ও চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এখানেই।

৩️⃣ মাল্টি-লেয়ার ড্রেনেজ সিস্টেম (Just Bigger Drain নয়)

৩ স্তরের পানি প্রবাহ
1️⃣ Surface Drain – রাস্তার পানি
2️⃣ Retention Pond – অস্থায়ী ধরে রাখা
3️⃣ Controlled Outflow – নদী/সাগরে ধীরে ছাড়
📌 চট্টগ্রামে জোয়ারের সময়:
Tidal Gate + Pump + AI Sensor দরকার

৪️⃣ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা = জলাবদ্ধতা সমাধানের ৫০%
ডিজাইন সিদ্ধান্ত

- ড্রেনের মুখে Trash Trap
- স্মার্ট ডাস্টবিন (Fill-level sensor)
- নিয়মিত রোবট দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার
📌 বাস্তবতা:
জলাবদ্ধতার অর্ধেক কারণ = প্লাস্টিক।

৫️⃣ AI + ডেটা-ভিত্তিক শহর ব্যবস্থাপনা
কী লাগবে?

- Rainfall Sensor
- Water Level Sensor
- Tide Sensor (চট্টগ্রাম)
- Central Flood Control Dashboard
📌 আগে সতর্কতা → আগেই গেট খোলা → পানি জমবে না

৬️⃣ এলাকাভিত্তিক বিশেষ ডিজাইন

🏙️ ঢাকা
পূর্বাচল–কেরানীগঞ্জ–ডেমরা = Flood Buffer Zone
হাতিরঝিল-ধাঁচের Micro Water Basin প্রতি ওয়ার্ডে
বেসমেন্ট পার্কিং নিষিদ্ধ (Flood Prone Zone)

🌊 চট্টগ্রাম
কর্ণফুলী ও খালের মুখে Automatic Sluice Gate
পাহাড় কাটায় কড়া নিয়ন্ত্রণ (নাহলে কাদা নেমে ড্রেন বন্ধ)
Coastal Wetland সংরক্ষণ

৭️⃣ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর

যত্রতত্র প্ল্যাস্টিক ব্যবহারের জন্য মাটি পানি শোষণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সেজন্য
- প্লাস্টিকের বিকল্প গবেষণা করা।
- উদ্ভাবিত বিকল্পকে টেকসই ও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেয়া।

৮⃣ আইন ও শাসন ছাড়া ডিজাইন ব্যর্থ হবেই
দরকার

Water Sensitive Urban Design (WSUD) আইন
নতুন বিল্ডিং অনুমতিতে:
-Rainwater Storage,
-Green Roof,
-Zero Discharge Rule.
-দখলকারীদের জন্য No Amnesty Policy

মুখলেস বিন আব্দুল মান্নান
- ৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরী
- ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
-২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ ইং

২৯ গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১) বিএনপির - ডাঃ জিয়াউল ইসলাম🌾২) জামায়াতে ইসলামী - মাজেদুর রহমান ⚖️৩) জাতীয় পার্টির - শ...
22/01/2026

২৯ গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে

১) বিএনপির - ডাঃ জিয়াউল ইসলাম🌾
২) জামায়াতে ইসলামী - মাজেদুর রহমান ⚖️
৩) জাতীয় পার্টির - শামীম হায়দার পাটোয়ারী
৪) ইসলামী আন্দোলন - রমজান আলী
৫) বাসদের মার্কসবাদী - পরমানন্দ দাশ (কাঁচি),
৬) আমজনতা - কাউসার আজম হান্নু- প্রজাপতি
৭) স্বতন্ত্র - সালমা আক্তার (কলস)
৮) সতন্ত্র - মোস্তফা মহসিন (ঢ়েঁকি)

20/01/2026

অর্থসহ ভেঙ্গে ভেঙ্গে ইসমে আজম মুখস্থ করবেন যে প্যাটার্নে -

১) ​اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ - হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি।
২) بِأَنِّي أَشْهَدُ - এই ওছিলায় যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
৩) أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ - নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ
৪) لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ - আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই
৫) الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ - যিনি একক, যিনি অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেয়নি, তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।

সাহাবিদের আমলে নির্মিত লালমনিরহাটের  #হারানো_মসজিদ​(৬৯ হিজরিতে নির্মিত, পুনরুদ্ধার ১৯৮৬ সাল)—মো. কায়ছার আলী_____________...
14/01/2026

সাহাবিদের আমলে নির্মিত লালমনিরহাটের #হারানো_মসজিদ
​(৬৯ হিজরিতে নির্মিত, পুনরুদ্ধার ১৯৮৬ সাল)
—মো. কায়ছার আলী
_______________________...রংপুর ও কুড়িগ্রাম মহাসড়কে পাশে রামদাস গ্রামের পূর্বপুরুষেরা এই অঞ্চলে প্রায় ২০০ বছর আগে আগমন করেন। অতীতে এই গ্রামটির বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল ‘মজদের আড়া’। আড়া মানে জঙ্গল বা জঙ্গলময় স্থান। যেখানে ছিল হিংস্রপ্রাণীদের নিরাপদ বসবাস। ভয়ে কেউ দিনের বেলাতেও ভিতরে প্রবেশ করত না। নানারকম রূপকথা প্রচলিত ছিল। একদিকে তিস্তা, অন্যদিকে বিশাল জঙ্গল। এই মজদের আড়ার পূর্ব মালিক ছিলেন পচা দালাল। ইয়াকুব আলী নামে এক ব্যক্তি সেটা কিনে নেন। উত্তরাধিকার সূত্রে সেই জমির মালিক হন নবাব আলী।
​১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে স্থানীয় জনগণ কৃষি কাজ তথা চাষাবাদের জন্য জায়গাটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়। জায়গাটি পরিষ্কার করে সমতল করার সময়, তারা দেখতে পায় ৭/৮টি মাটির উঁচু টিলা। তারা ভাবলেন হতে পারে সেগুলো কোনো অতীত কালের রাজা বাদশাহ বা জমিদারের বাড়ি। একটি টিলা বা ঘর উত্তর দক্ষিণে ২১ ফুট লম্বা এবং পূর্ব পশ্চিমে ১০ ফুট চওড়া। ৪টি স্তম্ভের মধ্যের ২টি স্তম্ভ ধ্বংসপ্রাপ্ত। প্রাচীনকালের প্রচুর ইট, পোড়ামাটি এবং সেই ইটের গায়ে অংকিত কিছু নান্দনিক ফুলের চিহ্ন। সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে আইয়ুব আলী পুরনো ইটের মধ্যে একটি শিলালিপি (৬" দৈর্ঘ্য, ৬" প্রস্থ ও ২" মোটা) খুঁজে পান। পরবর্তীতে শিলালিপিটি ভালো করে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেখতে পান সেখানে আরবিতে লিখা আছে কালেমা তাইয়্যেবা "লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" এবং হিজরি সন ৮ মহররম ৬৯।
​বর্তমানে শিলালিপিটি তাজহাট জমিদারবাড়ি রংপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মসজিদের দেওয়ালে শিলালিপিটির ছবি এবং পুরনো ইটের স্তূপ সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে। মূল মসজিদের প্রাচীরের দেওয়ালটির অংশ নতুন মসজিদের ভিতরে শক্ত মোটা কাঁচ দিয়ে কালের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে আমাদের এখনও অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস যোগায়। শিলালিপিটি পেয়েই সবার টনক নড়েচড়ে উঠে। চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গিয়ে গবেষণা শুরু হয়ে যায়। শতাধিক গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিকবিদ ও ইতিহাসবিদের চেষ্টায় এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ করে আমেরিকার ও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান সবকিছুই পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই সর্বসম্মতিক্রমে নিশ্চিত হয়েই একমত পোষণ করে ঘোষণা দেন যে, এই মসজিদটি ৬৯ হিজরিতে নির্মিত হয়েছে।
​১৯৯৩ সালে রংপুর টাউন হলে একটা সেমিনারের আয়োজন করা হয় যার বিষয়বস্তু ছিল "হিজরি প্রথম শতাব্দীতে ইসলাম ও বাংলাদেশ"। সব আলোচক ও প্রবন্ধকার এই মসজিদকে ৬৯ হিজরি এবং সাহাবায়ে কেরামগণ কর্তৃক এই হারানো মসজিদ নির্মাণ করা মোটেই অসম্ভব নয় বলে মতামত দেন। ১৩৭২ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মসজিদ ১৯৮৫ সালে পুনরুদ্ধার হওয়ায় মসজিদটির নাম রেখে দেন হারানো মসজিদ বা সাহাবায়ে কেরাম মসজিদ। মসজিদের সঙ্গে একটি নুরানী হাফেজিয়া ও কওমী মাদ্রাসা রয়েছে। মসজিদের আবিষ্কার বিস্ময়কর বটে।
​এ দেশের উত্তরাঞ্চলের ইতিহাসের সাথে বিশ্বসভ্যতার সম্পর্কের আরেক ইতিহাস জানার পথ খুলে যায়। খ্রিষ্টপূর্ব থেকে রোমান, চৈনিক, আরব ও বাংলা এই চার অঞ্চলে প্রাচীন যুগে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় আরব বণিকেরা সিকিম ও চীনের ভিতর দিয়ে নৌপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বহরের যাতায়াত ছিল। তাদের মতে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন বাণিজ্যের নৌরুট। চীনা ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে পাওয়া যায় সাহাবিদের যুগে চারজনের নেতৃত্বে ছিলেন আবু ওয়াক্কাস (রা.)। অপর তিনজন ছিলেন কায়েস ইবনু হুযাইফাহ (রা.), ওরায়াহ ইবনু আসাসা (রা.) এবং আবু কায়েস ইবনুল হারেস (রা.)। আমীর আবু ওয়াক্কাস (রা.) চীনের কোয়াংটা নদীর তীরে নির্মিত একটি মসজিদ এবং অদূরেই তাঁর সমাধি প্রায় চৌদ্দশত বছর ধরে চীনা মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য। অন্য দুইজন সাহাবী উপকূলীয় ফুচান প্রদেশের চুয়ান-চু বন্দরের নিকটবর্তী লিং নামক পাহাড়ের পাদদেশে সমাহিত রয়েছেন। চীনের কোয়াংটা মসজিদ এবং লালমনিরহাটের হারানো মসজিদের নির্মাণশৈলী একই রকমের। তাই ধরে নেওয়া হয় যে তিনি এবং তাঁর সাথীরা হারানো মসজিদ নির্মাণ করার পর চীনে গমন করেছিলেন।
​৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) ১০ হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে সোয়া লক্ষ সাহাবিদের সামনে বিদায় হজ্জের ভাষণ বা খুতবাহ দেন। মাত্র দশ হাজার সাহাবিদের কবর মক্কা-মদিনায় আছে। লক্ষাধিক সাহাবী জীবন বাজি রেখে অনুপস্থিত দুনিয়াবাসীর কাছে তাঁদের মাতৃভূমি, পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজনের মায়া মহব্বত উপেক্ষা করে সবকিছুই ফেলে নিজেকে ‘দায়ী ইলাল্লাহ’ মনে করে পৃথিবী চারিদিকে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে পাহাড়, পর্বত, সাগর-মহাসাগর, মরুভূমি অতিক্রম করে তাঁরা বেরিয়ে পড়েন। আল্লাহপাক আল কুরআনের সূরা আল মুজাদালাহ’র ২২ নং আয়াতে এজন্যই বলেছেন,
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
অর্থাৎ- "আল্লাহপাক তাঁদের উপর খুশি এবং তাঁরাও আল্লাহর উপর খুশি।"
​সুবহানআল্লাহ! মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে এবং নবী (সা.) প্রিয় সাহাবিদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা মক্কা-মদিনা থেকে এতদূরে বসবাস করে শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামের সুশীতল ছায়া পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। সাহাবিদের যুগের হারানো মসজিদ ফিরে পেয়েছি। আর কি মূল্যবান জিনিস পেলে আমরা প্রকৃত মুসলমান হতে পারব, তা আমার জানা নেই। সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক নির্মিত "হারানো মসজিদ"-এ আপনি/আপনারা গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকাআত নফল নামায আদায় করে একটু হলেও মানসিক তৃপ্তি পাবেন, এ ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত। ইসলামের ইতিহাসের তথ্যমতে ১১/১২ শতকে সূফী সাধকদের মাধ্যমে এ দেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল। তবে ইসলামের বীজবোপন হয়েছিল সাহাবিদের সোনালী যুগে ৬৯ হিজরিতে "হারানো মসজিদ"-এর প্রতিষ্ঠাকালে, এ কথায় বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। মহাকালের একমাত্র মালিক চিরঞ্জীব আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন। তাই সভ্যতার এই পালাবদলে আরও কত রহস্য লুকিয়ে আছে, এই অঞ্চলে তাও একদিন হয়তো জানা যাবে।(সংক্ষেপিত)

সাপ্তাহিক আরাফাত - পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭
৬৭ বর্ষ ।। ০৯-১০ সংখ্যা ।। ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ঈ.

মসজিদটিকে নিয়ে দেশ নিউজের প্রতিবেদন:
https://youtu.be/liabVvl0zSM?si=Ba2qhDdza4CJfP5T

গুগল ম্যাপে মসজিদটির লোকেশন:
https://maps.app.goo.gl/vEumCEVLGrxXrSdv8

#মসজিদ





#লালমনিরহাট
#হারারনো_মসজিদ
#সাহাবা_মসজিদ

05/01/2026

ফ্যামিলি কার্ড লাগবে না
শুধু #সরকার কর্তৃক #চলমান যেসব #ভাতা আছে সেসব শুধু উপযুক্ত গরিব দুস্থদেরকে বিনা মূল্যেই দিলেই যথেষ্ট

বাংলাদেশ সরকারের গরিব–দুস্থদের ভাতা: একসাথে সংক্ষিপ্ত সামারি
বাংলাদেশ সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটিরও বেশি গরিব ও দুর্বল মানুষকে নিয়মিত ভাতা দেয়। প্রধান ভাতাগুলোর সংখ্যা ও মাসিক টাকার পরিমাণ মোটামুটি নিচের মতো—
বয়স্ক ভাতা: প্রায় ৬১ লাখ মানুষ, মাসে ৬৫০ টাকা
বিধবা ও স্বামী-পরিত্যক্ত নারী ভাতা: প্রায় ২৯ লাখ নারী, মাসে ৬৫০ টাকা
প্রতিবন্ধী ভাতা: প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ, মাসে ৯০০ টাকা
মা ও শিশু সহায়তা ভাতা: প্রায় ১৭–১৮ লাখ উপকারভোগী, মাসে প্রায় ৮৫০ টাকা
হিজড়া/বেদে/চা-শ্রমিকসহ বিশেষ পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী: প্রায় ২–৩ লাখ, মাসে প্রায় ৬৫০ টাকা

📊 সামগ্রিক চিত্র
মোট সুবিধাভোগী: প্রায় ১.২ কোটি+
মাসিক ভাতা: সাধারণত ৬৫০–৯০০ টাকা
বার্ষিক মোট বাজেট বরাদ্দ: প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার বেশি

Address

Rangpur
5721

Opening Hours

Monday 20:00 - 23:00
Tuesday 19:00 - 23:00
Wednesday 19:00 - 23:00
Thursday 19:00 - 23:00
Friday 19:00 - 23:00
Saturday 07:00 - 22:00

Telephone

+8801887592590

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Green Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Green Ummah:

Share

Category