Swami Nigamananda.bd

Swami Nigamananda.bd গুরু ছাড়া নাইরে গতি এই সংসারে তাই সময় থাকতে করো রে মন গুরুর সাধনা 🌷🙏🌷🕉

যখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যাবতীয় বিষয় পরিত্যাগ করিয়া, ইহমুত্রার্থ ফলভোগে বিরাগ জন্মিয়া একমাত্র ভগবানকে আশ্রয় ও অবলম্বন করিবে, ...
15/05/2026

যখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যাবতীয় বিষয় পরিত্যাগ করিয়া, ইহমুত্রার্থ ফলভোগে বিরাগ জন্মিয়া একমাত্র ভগবানকে আশ্রয় ও অবলম্বন করিবে, তখন ভগবানের প্রতি যে অনুরাগ বা আসক্তির সঞ্চার হয়, তাহাই জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি। প্রকৃত ভক্তির ইহাই প্রথম স্তর। এই ভক্তিতে স্তব-স্তুতি থাকে, প্রার্থনা-মিনতি থাকে; আরাধনা উপাসনা সকলই থাকে। কাজেই ইহার নাম সাধন-ভক্তি। তৎপরে ক্রমশঃ সাধকের চিত্ত ভগবানে একাগ্র হয়—ভক্তির কোলে আত্মসমর্পণ করিয়া তাঁহার স্নিগ্ধতনুস্পর্শে সংসার-কোলাহল ভুলিয়া, যখন সমগ্র হৃদয়বৃত্তির সহিত সাধক তাহাতে মজে, তখন জ্ঞানের বন্ধন খুলিয়া যায়। জ্ঞানশূন্য হইলে ভক্তি তদগতা—স্বার্থ চিন্তা থাকেনা, বিচার থাকেনা, উদ্দেশ্য থাকেনা—ষোল আনাই তুমি। জ্ঞানশূন্যা বিশুদ্ধ ভক্তির সাধনায় ক্রমশঃ ভগবানের মহিমজ্ঞান দূরে যায়, অর্থাৎ ভগবান্ সর্ব্বশক্তিমান্, পাপ-পুণ্যের দণ্ডদাতা, সৃষ্টিস্থিতি প্রলয়কর্তা প্রভৃতি ঐশ্বর্য্যজ্ঞান দূরীভূত হইয়া প্রেমের সঞ্চার হয়। তখন সে আমার প্রাণ, আমার প্রাণের প্রাণ, মাত্র এইজ্ঞানে পুত্রের ন্যায়, ভৃত্যের ন্যায়, প্রেমপূর্ণ হৃদয়ে ভগবানের সেবা করিতে বাসনা জন্মে। এইখানে রাগানুগাভক্তি প্রকৃত পক্ষে ভাবভক্তিতে পর্য্যবসিত হইল। ভাবের মোহে বিভোর হইতে পারিলে ভগবান্ আপনার হয়েন, নিকটে আসেন।

সাধনায় দাস্য ভাব পুষ্ট হইয়া দাস্যের সঙ্কোচ দূরে যায়, তখন ভগবানে প্রাণের প্রেম-সখীত্ব 'অর্পিত হয়। সখ্যপ্রেমের ক্ষীরধারায় ভগবান্ পরিতৃপ্তিলাভ করিয়া আনন্দিত ও প্রীত হয়েন। সখ্যভাবে ভক্ত ও ভগবান্ এক হইয়া যান। তখন ব্রজের রাখালবালকগণের ন্যায় অসঙ্কোচে ভগবানের সহিত খেলা, কাঁধে চড়া চড়ি, একত্র শয়ন-ভোজন, নবপল্লবে ব্যজন, বন-ফুল মালায় বিভূষণ প্রভৃতি করিয়া ভক্ত বিভোর হইয়া যান। তাঁহার অভাবে চারিদিক শূন্য দেখেন।

এই সখ্য-ভাব পরিপুষ্ট হইলে বাৎসল্য ভাবের সঞ্চার হয়। তখন সাধক, ভগবানকে নিজ অপেক্ষাও ক্ষুদ্র বোধ করিয়া থাকেন ভক্ত নিজে পিতা মাতা হইয়া, ভগবানকে শিশু পুত্রের ন্যায় আদর যত্ন করিয়া থাকেন। নিজের স্বার্থ ভুলিয়া-বাসনা-কামনা বিসর্জন দিয়া একমাত্র পুত্রের সেবাই জনক-জননীর ধ্যান-জ্ঞান। পুত্রের নিকট পিতা মাতা কিছুই চাহেন না; আপনা ভুলিয়া, সর্ব্বস্ব দিয়া পুত্রের সুখ-স্বাস্থ্যের জন্য ব্যস্ত। এইরূপ ভাব ভগবানে জন্মিলে, তাহাকে বাৎসল্য ভাব বলে। নন্দ-যশোদার বাৎসল্যভক্তিতে ভগবান্ বালক সাজিয়া যশোদার স্তন্যপান, নন্দের বাধা মাথায় বহন করিয়া ছিলেন।

বাৎসল্য ভাবের পরিপাক দশায় যখন ভক্ত আত্মহারা হইয়া যান, তাহার সমস্ত দেহ-মন-বুদ্ধি ভগবানে সমর্পিত হইয়া যায়, তখনই কান্তাভাব বলা যায়। স্ত্রী যেমন স্বামীকে ভালবাসে, সেইরূপ প্রাণ দিয়া, যৌবন-জীবন দেহভার সমর্পণ করিয়া ভগবানকে ভালবাসিলে, তখন তাঁহাকে প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহাই সাধ্যের শেষ অবস্থা—ভাবভক্তির ইহাই উৎকৃষ্ট অবস্থা।

—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(প্রেমিকগুরু)
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

14/05/2026

জয়গুরু জয়মা,
মুক্তি মোক্ষদাতা, শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজ বলছেন, তোমরা আমার এপারের কর্মের ভার নাও, আমি তোমাদের ওপারের ভার নিলাম। এত সাধন-ভজন করে ঠাকুরের যে গতি, বিনা সাধন- ভজনে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর আদেশ প্রতিপালন করে তোমাদেরও সেই গতি।(জয়গুরু জয়মা)
(অভয় বাণী) শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতীদেব।

#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

আমাদের ঠাকুরের চরন ছোঁয়ার আশায় প্রত্যেকে ব্যাকুল হয়ে ওঠে জয়গুরু ❤️🙏   #জয়গুরু  #শ্রীশ্রীঠাকুর
11/05/2026

আমাদের ঠাকুরের চরন ছোঁয়ার আশায় প্রত্যেকে ব্যাকুল হয়ে ওঠে জয়গুরু ❤️🙏

#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

11/05/2026

স্বপ্নে যে কু-দৃশ্যাদি দেখিয়া থাক, তাহারও বিশেষ কারণ আছে। কোন কোন ঔষধ সেবনে যে রোগ বৃদ্ধি হয়, তাহার কারণ ঔষধে শরীরস্থ রোগের বীজ বাহির করিয়া দিয়া উহার জড় মারিয়া দেয়। তদ্রূপ ভগবদ্ভক্তেরও ভগবানের কৃপায় মনে যে জন্মজন্মান্তরের ভোগসংস্কার থাকে ও যে কর্মফল সঞ্চিত থাকে, স্বপ্নে তাহার ক্রিয়া হইয়া যায়। কর্মানুযায়ী স্থূলে যাহা ভোগ করিতে হইত, স্বপ্নে তাহাই ভোগ হইয়া কর্মক্ষয় হইয়া যাইতেছে। ইহাতে দুঃখিত না হইয়া ভগবানের কৃপা মনে করিয়া নির্বিকারে অবস্থান করাই কর্তব্য। ভাল-মন্দ, সম্পদ-বিপদ তাঁরই দান ভাবিয়া মাথা পাতিয়া লইতে শেখ। সবই নিজের মনের মত পাইতে হইলে আর কামনা ছাড়িল কৈ? প্রেমিকার মত প্রেমময়ের সকল প্রকার দানই সমভাবে গ্রহণ করিতে হইবে। অনিত্য সুখ-দুঃখ তুচ্ছ ভাবিয়া সর্বদা আনন্দে থাকিতে অভ্যাস কর।
—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(ঠাকুরের চিঠি)
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

🕉️জয়গুরু জয়মা🙏🙏কথা প্রসঙ্গে ঠাকুর বলতে লাগলেন, "আশ্বিন মাসে মায়ের এই যে পূজা হয় এটি কন্যাভাবের সাধনা। ভাব ভক্তিতে প্রতিম...
11/05/2026

🕉️জয়গুরু জয়মা🙏🙏

কথা প্রসঙ্গে ঠাকুর বলতে লাগলেন, "আশ্বিন মাসে মায়ের এই যে পূজা হয় এটি কন্যাভাবের সাধনা। ভাব ভক্তিতে প্রতিমা শীঘ্র জাগ্রত হন। কিন্তু নিজ কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত না হলে প্রতিমার মহিমা কিছুই উপলব্ধি হয়না। এখনও পর্যন্ত অনেক জায়গায় যে সব জাগ্রত প্রতিমা আছেন তাঁর ভক্তের ভাবভক্তিতে পূর্বেই জাগ্রতা হয়েছেন। আগের দিনে দেবদেবীর পুজা কি রকম নিষ্ঠার সঙ্গে করা হত এবং দেবীরা কি ভাবে জাগ্রত হতেন তার একটি উদাহরণ বলছি শোন।

ভক্তিই পূজার প্রকৃত উপচার

ঢাকা জেলার নারায়ণপুরের অনতিদূরে কালিকাপুর গ্রাম। কালিকাপুরের দেওয়ান বাড়ি বহুদিন হতে সে অঞ্চলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। নীলকুঠিতে দেওয়ানগিরি করে তারা যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করেছিল। নানা জাতীয় ফলের প্রকাণ্ড বাগান। হাতী, ঘোড়া, বৃহৎ পুষ্করিণী প্রভৃতির জন্য দেওয়ান বাড়ি সে অঞ্চলের সকলেরই খুব পরিচিত। এই দেওয়ান বাড়িতে প্রতি বৎসর বড় জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপূজা হত। সে বৎসরও কলকাতা হতে ভাল যাত্রাদল এসেছে। পূজা এবং যাত্রা দেখবার জন্য দূরদূরান্তর হতে লোক যাওয়া আসা করছে। সন্ধ্যারতি হয়ে গেছে। যাত্রা গান আরম্ভ হওয়ার সময়ে দেওয়ান মহাশয় বিনয় নম্র বচনে সকলকে সম্ভাষণ করে তৃপ্ত করেছেন। বিষয়ীলোক বলে বিষয়ের অভিমান তথাপি তিনি ত্যাগ করতে পারেন নি। পুজা সম্বন্ধে লোকমুখে অজস্র প্রশংসা শুনে শুনে বৃদ্ধ দেওয়ানের ধারণা হয়েছে যে সত্যই এরকম পুজা আর কারও ঘরে হয়না। পরদিন অষ্টমী পূজা যাতে শীঘ্র হয় তার বিহিত ব্যবস্থা করে দেওয়ান মহাশয় নিজে গিয়ে শুয়ে পড়লেন। শোয়ার সময়ও তিনি মনে মনে ভাবছিলেন তাঁর ঘরে যেমন পূজা হয় এমন পুজা আর কারও ঘরে হয়না। আনন্দের আতিশয্যে বিছানায় শুয়ে তিনি শীঘ্রই, নিদ্রিত হয়ে পড়লেন। শেষরাত্রে তাঁর নিদ্রা ভঙ্গ হল। বৃদ্ধের মুখে আর সে প্রফুল্লতা নাই। কে যেন তাঁর মুখে কালি লেপে দিয়েছে। নিদ্রাভঙ্গের আগে তিনি স্বপ্ন দেখে ছিলেন, রক্তবস্ত্র পরিহিতা অষ্টমবর্ষীয়া এক সুন্দরী বালিকা বলছেন, "তুমি আর আমার কি পূজা করছ? এই নারায়ণপুরে দুর্গাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য আমার যে রকম পূজা করে সেরকম করার সাধ্য কারও নাই।” এই স্বপ্ন দেখে বৃদ্ধ দেওয়ানের অভিমানে বিশেষ আঘাত লেগেছে। সে অঞ্চলে তাঁর সমকক্ষ ব্যক্তি কেউ ছিলনা। বিশেষত নারায়ণপুরের দরিদ্র ব্রাহ্মণেরা তাঁর ঘর হতে ভিক্ষা নিয়ে সংসার চালায়। সে গ্রামে আবার দুর্গাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য বলে কে এমন লোক আছে যে সে যেমন পূজা করে, মা বলে গেলেন আর কেউ সে রকম পূজা করতে পারেনা!

বিষয়ান্ধ অহংকারী বৃদ্ধ এই স্বপ্নকে মিথ্যা মনে করলে ও একবারে মন থেকে উড়িয়ে দিতে পারলেন না। শেষে স্থির করলেন নিজে নারায়ণপুর গিয়ে দুর্গাপ্রসাদের ঘরে মায়ের পুজা দেখে এসে এ স্বপ্নের মীমাংসা করবেন। প্রাতঃকৃত্যাদি সেরে তিনি ছোট একটি নৌকায় একা গোপনে নারায়ণপুরে রওনা দিলেন। সেখানে গিয়ে বহু অনুসন্ধান করে দুর্গাপ্রসাদের ঘরে এসে পৌঁছালেন। ব্রাহ্মণের ঘরের অবস্থা দেখে দেওয়ান মনে করলেন স্বপ্নে বিশ্বাস করে এতদূর আসা অন্যায় হয়েছে। যাই হোক দুর্গাপ্রসাদকে একবার দেখে যাই এই ভেবে ব্রাহ্মণের দুয়ারে গিয়ে ডাকাডাকি করতে লাগলেন। ডাক শুনে ব্রাহ্মণের মেয়ে জগদীশ্বরী বাইরে এল। বৃদ্ধ দেওয়ান তাকে দেখে চমকে উঠলেন। দেখলেন সম্মুখে সৌন্দর্য্য-ঘনীভূত সাক্ষাত এক দেবী মুক্তি।

আগন্তুক কিছু না বলে কেবল তার দিকেই চেয়ে আছে দেখে জগদীশ্বরী লজ্জা বিনম্র মুখে প্রশ্ন করল, "বাবার সঙ্গে আপনার কিছু কাজ আছে কি।” বৃদ্ধের চমক ভেঙ্গে গেল। তিনি অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, "মা, তোমার বাবা কোথায়?” জগদীশ্বরী উত্তর দিল, "বাবা মহামায়ার পুজা করছেন।" "আমি একটু তাঁর পূজ। দেখতে চাই”-বৃদ্ধ এই কথা বলায় জগদীশ্বরী প্রত্যুত্তরে বলল, "আমাদের কুলদেবতা শ্রীধরের মন্দিরে মহামায়ার পূজা হয়। এ ছাড়া বহুদিন হতে আমাদের নিজের ঘরেও ঘটে মায়ের পূজা হয়। সে পূজা অন্য কেউ দেখেনা; তবে আপনি যখন পূজা দেখতে একান্ত ইচ্ছুক তাহলে একবার দেখে যান। কিন্তু বাবার সঙ্গে কোনও কথা বলবেন না।"

দুর্গাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য ঘটের কাছে পদ্মাসনে বসেছেন। সমস্ত শরীর হতে যেন জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। মুখে স্বর্গীয় আভা। দরবিগলিত ধারায় নয়নাশ্রু নির্গত হয়ে তাঁর বক্ষস্থল প্লাবিত হচ্ছে। ভক্তের মহনীয় ভাব দেখে দেওয়ান মহাশয় একটু সংকুচিত হলেন বটে কিন্তু পূজার উপচারে দৃষ্টি পড়তেই আবার তাঁর মনে গর্বের ভাব এল। জগদীশ্বরী দেওয়ান মহাশয়কে দেবীর প্রসাদ নিতে অনুরোধ করল। কিন্তু দেওয়ান নানা প্রকার আপত্তি করে প্রসাদ না নিয়ে চলে গেলেন। মনে মনে ভাবলেন আমি কে তা জানলে এই ব্রাহ্মণ কন্যা আমাকে থোড় ও নটে শাক ভাজার প্রসাদ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারত না। আমার ঘরে এ রকম একটি কন্যা নাই বটে কিন্তু আমার পুজা এর চেয়ে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।

পথে আসতে আসতে দেওয়ান মহাশয় চিন্তা করতে লাগলেন মা বোধহয় আমার মাহাত্ম্য বাড়ানোর জন্যই এরকম স্বপ্ন আমাকে দেখিয়ে ছিলেন। নচেৎ এদেশে আমার মত এত অর্থ ব্যয় করে এরকম পূজা করবার সাধ্য কারও নাই। তাই মা এই বুড়ার সঙ্গে এমন খেলা খেলে গেলেন। মনে এই অহংকার নিয়েই নৌকা থেকে নেমে তিনি নিজের দেবী মন্দিরে
চললেন। তখন দেবীর ভোগ শেষ হয়েছে। প্রণাম করে উঠে প্রতিমার দিকে চেয়েই তিনি দেখলেন দেবীর ঠোঁটে থোড়ের সূতা ও শাক লেগে আছে। জিজ্ঞাসা করে জানলেন থোড় কিম্বা শাক কিছু ভোগ দেওয়া হয়নি। এখানে মাকে ক্ষীর, সর, ছানা, পিঠা প্রভৃতি যা কিছু ভোগ দেওয়া হয়েছে তার কিছুইতো মায়ের মুখে লাগেনি! বৃদ্ধের আর বুঝতে বাকি রইল না যে দুর্গাপ্রসাদই মায়ের প্রকৃত পূজা করেছেন। মাও তাঁর পূজা গ্রহণ করে তাঁর শাকান্ন নৈবেদ্য সাদরে স্বীকার করেছেন। দেওয়ান মহাশয় তখন চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, "মাগো, এত দিনে আমি তোর ভাব বুঝলাম। আমি ধনের অভিমানে পদের অভিমানে মনে করে ছিলাম যে আমার মতন ভক্ত ত্রিভুবনে আর কেউ নাই। শাস্ত্রানুসারে ব্রাহ্মণ দ্বারা পূজা করিয়ে ভেবেছি সেই পূজাই তোর আসল পুজা। স্বর্ণপাত্রে অতি পবিত্ৰ ভাবে দুষ্প্রাপ্য উপাদেয় সামগ্রী ভোগ দিয়ে ভেবেছি আমি তোকে আমার ঘরেই আবদ্ধ করে রেখেছি। মা'গো, আজ আমার সে ভ্রম দূর হল। তুই যে ভক্তবৎসলা নাম নিয়েছিস তা অলীক নয়। ভক্ত ছাড়া আর কেউ তোকে বিষয় বিভব দ্বারা বাঁধতে পারে না। মা, কৃপা করে আমার এ অভিমান চূর্ণ করে দে।”

মুহূর্ত্ত মধ্যে এ সংবাদ সে অঞ্চলে রাষ্ট্র হয়ে গেল। দুর্গাপ্রসাদের কানেও সে সংবাদ পৌঁছাতে বাকি রইল না। তিনি মা মা বলে ধ্যানস্থ হয়ে পড়লেন। দেওয়ান মহাশয়ও নবজীবন লাভ করলেন। সেই দিন হতে দুর্গাপ্রসাদের নাম হল 'থোড় ভট্টাচার্য্য'।

—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(নীলাচল বাণী)

#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

মায়ের জাতি তোরা, রমণীত্ব ভুলিয়া জননীত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিতা হও। নিজের মধ্যে আত্মস্বরূপে সেই জগজ্জননী দয়াময়ী প্রেমময়ী...
10/05/2026

মায়ের জাতি তোরা, রমণীত্ব ভুলিয়া জননীত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিতা হও। নিজের মধ্যে আত্মস্বরূপে সেই জগজ্জননী দয়াময়ী প্রেমময়ীকে উপলব্ধি কর। জগতের সমস্ত নরনারীকে ছেলে-মেয়ে-জ্ঞানে পবিত্রভাবে দেখ; সকলের সুখ-দুঃখ নিজ হৃদয়ে অনুভব কর। মায়ের ন্যায় জগতের মঙ্গল ইচ্ছা তোদের অন্তরে জাগিয়া উঠুক; পাপী, তাপী, কামুক, লম্পট যেন তোদের মুখপানে চাহিয়া মাতৃশক্তিতে আবিষ্ট হইয়া যায়, পবিত্রভাবে তোদের চরণে লুটিয়া পড়ে!

মাগো! মাতৃত্বে হৃদয় পূর্ণ কর। রমণীত্ব শয়তানের উচ্ছিষ্ট। সুতরাং জননীত্ব ব্যতীত ভগবানের পবিত্র মূর্তি কাহারও নয়নগোচর হয় না। আশীর্বাদ করি তোমাদের মাঝে মাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হউক, মাতৃসত্তায় তোমরা চিরদিনের তরে বিলীনা হও।

রমণীহৃদয় কামগন্ধশূন্য মায়ের ন্যায় পবিত্র ও প্রেমপূর্ণ হইলেই সেই হৃদয়ে জগজ্জননীর আবেশ হইয়া থাকে। মা, স্ত্রী ও মেয়ে—এক মহামায়ারই ভিন্ন ভিন্ন ভাবের বিকাশ, আর জননীত্বে রমণীজীবনের পূর্ণত্ব একথা ভুলিও না।

—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(ঠাকুরের চিঠি)
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

❤️🙏জয়গুরু 🙏❤️গুরুশিষ্য-সম্বন্ধ নিকট হইতেও নিকটতম সম্বন্ধ;‎প্রকৃত গুরুশিষ্য এক আত্মা, কায়া ভিন্ন মাত্র। আবার‎উচ্চস্তরে উ...
09/05/2026

❤️🙏জয়গুরু 🙏❤️

গুরুশিষ্য-সম্বন্ধ নিকট হইতেও নিকটতম সম্বন্ধ;
‎প্রকৃত গুরুশিষ্য এক আত্মা, কায়া ভিন্ন মাত্র। আবার
‎উচ্চস্তরে উঠিলে গুরুই কায়া, শিষ্য ছায়া মাত্র। এইরূপে
‎একদিন ছায়া কায়ায় মিলাইয়া যাইবে।

‎ #জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

08/05/2026

কোনরূপে কাহারও অন্তঃকরণে বেদনা দিও না। মিথ্যা কথা বলিও না। যথাসাধ্য মৌন অবলম্বন করিবে। কিন্তু কথা না কহিলেও সহাস্য ভাব রক্ষা করিবে। পরদ্রব্য অপহরণ করিও না। স্বীয় অবস্থার সর্বদাই সন্তুষ্ট থাকিবে।
—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী
(ব্রহ্মচর্য্য সাধন)
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

ভোজনান্তে আচমনক্রিয়ার পরে মুখশোধনের প্রয়োজন কিন্তু পান-সুপারী, খয়ের-চুন মুখে দিবে না। ধনে, মৌরী, লবঙ্গ, ছোট ও বড় এলাচের ...
08/05/2026

ভোজনান্তে আচমনক্রিয়ার পরে মুখশোধনের প্রয়োজন কিন্তু পান-সুপারী, খয়ের-চুন মুখে দিবে না। ধনে, মৌরী, লবঙ্গ, ছোট ও বড় এলাচের দানা এবং দারুচিনি, এইগুলি একত্র করিয়া একটা কৌটায় বা শিশিতে রাখিবে, ভোজনান্তে মুখশোধনের জন্য সেই মশলা কিঞ্চিৎ ব্যবহার করিবে। ভোজনান্তে মুখশোধন না করিলে মুখে দুর্গন্ধ হইবার সম্ভাবনা। এই মুখশোধন-মসলাগুলি পরিপাকক্রিয়ার সহায়তা করিবে এবং মুখের দুর্গন্ধ নষ্ট করিবে। হরিতকী ব্যবহার সর্ব্বাপেক্ষা উত্তম ব্যবস্থা।
—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(ব্রহ্মচর্য্য-সাধন)
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

সংসারে এমন অনেক লোক আছে যারা তাদের নানা দুরভিসন্ধি সিদ্ধ করবার উদ্দেশ্যে সদগুরুর চরণে আশ্রয় নেয়। তারা মনে করে সাধু সন্ন্...
07/05/2026

সংসারে এমন অনেক লোক আছে যারা তাদের নানা দুরভিসন্ধি সিদ্ধ করবার উদ্দেশ্যে সদগুরুর চরণে আশ্রয় নেয়। তারা মনে করে সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে এমন একটা জিনিষ বা মন্ত্র পাবে, যার দ্বারা তারা নানা প্রকারে সাংসারিক উন্নতি করবে, লোক বশীভূত করবে বা মামলা মকদ্দমাতে জয়লাভ করে নিজ অভিসন্ধি পূরণ করবে। তারা মনে এই উদ্দেশ্য নিয়ে সদ গুরুর চরণাশ্রয় লাভ করতে আসে। সদ গুরু অন্তর্যামী। তিনি তাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পারলেও এমন উচ্চাঙ্গের সাধনা শিক্ষা দেন যা তাদের যুক্তি পথে নিয়ে যাবে। শিষ্য কিন্তু প্রথমে গুরুর কাছে নিজের অভিসন্ধি প্রকাশ করেন।"

দীক্ষা শিক্ষা নেওয়ার কিছুদিন পরে যখন সে বুঝতে পারে যে সদগুরুর দ্বারা তার এ সব উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবেনা, তখন সে গুরুর শত্রুতাচরণ করে নানা ভাবে তার অনিষ্ট করতে চেষ্টা করে। কিন্তু সদ্‌গুরু পরম করুণাময়, পরম স্নেহময়। তিনি তাই অকাতরে তার সব উপদ্রব সহ্য করে তাকে মঙ্গল পথে চালিত করেন। প্রথম জন্মটা এই ভাবে কেটে যায়।"

"দ্বিতীয় জন্মে গুরুকৃপায় শিষ্যের প্রথম উদ্দেশ্যগুলি পূর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে সে বৈরাগ্য পাথ অগ্রসর হয়। সদগুরুর আকর্ষণে তার এই অগ্রগতি সম্ভবপর হয়। সদ্‌গুরু আত্মাকে দীক্ষা দেন। তাই সদগুরু প্রদত্ত মন্ত্র জপ না করলেও পারার বিষের মত মন্ত্রটি সর্বদা অন্তরে ক্রিয়া করে। অর্থাৎ আত্মা সর্বদা সদগুরু প্রদত্ত মন্ত্র জপ করেন।"

"দ্বিতীয় জন্মে সুখ ভোগের সঙ্গে সঙ্গে ভোগের প্রতি যে পরিমাণ বিতৃষ্ণা জন্মায় তদনুপাতে তার মন্ত্রচৈতন্য হয়। কিন্তু যখন মন্ত্রচৈতন্য হয় তখন হয়তো সেই শিষ্যটির মৃত্যু নিকটবর্তী। এই কারণে অথবা এ স্থূলদেহ দিয়ে নানা ব্যাভিচার সংঘটন করার অপরাধে সে জন্মেও সে কৈবল্য মুক্তির অধিকারী হয়না। তৃতীয় জন্মে সে ব্যক্তি পূর্ণজ্ঞান লাভ করে কৈবল্য মুক্তির অধিকারী হয়। সুতরাং সদ্‌গুরুর সঙ্গে শত্রুতাচরণ করলেও শিষ্যের নিস্তার নাই। যতই বিরুদ্ধাচরণ করুক না কেন সদ্‌গুরু তাকে নিশ্চয়ই কোলে টেনে নেবেন। তিন জন্ম হওয়ার এই হল কারণ। কিন্তু এ কথাও সত্য যে সদগুরু ইচ্ছা করলে এক জন্মেই শিষ্যকে কৈবল্য মুক্তির অধিকারী করতে পারেন।"

—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(নীলাচল বাণী)

#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

🔱🕉️ জয়গুরু জয়মা 🕉️🔱দৈব ও পুরুষকারশিববাবু-ঠাকুর, দৈব ও পুরুষকার কা'কে বলে?শ্রীশ্রীঠাকুর-দৈব ও পুরুষকারের অঙ্গাঙ্গী ভাব। এ...
04/05/2026

🔱🕉️ জয়গুরু জয়মা 🕉️🔱

দৈব ও পুরুষকার

শিববাবু-ঠাকুর, দৈব ও পুরুষকার কা'কে বলে?

শ্রীশ্রীঠাকুর-দৈব ও পুরুষকারের অঙ্গাঙ্গী ভাব। একটি ছাড়া অন্যটি অচল। অন্ধ যেমন দেখতে পায়না আর পঙ্গু যেমন দেখতে পারে কিন্তু চলতে পারেনা—সে ক্ষেত্রে অন্ধ যদি পঙ্গুকে কাঁধে করে চলে তবে তারা স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারে। এদের একজন অন্যের সাহায্য বিনা চলতে পারেনা। ঠিক সেই রকম কেবল দৈবানুকুল্যে চলেনা, পুরুষকারও চাই। ধর একজন চাষী অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে চাষ করল। কিন্তু বর্ষা না হওয়ায় তার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেল। একে বলে দৈব। আবার অনবরত বর্ষা হলেও কর্ষণ না করলে ফসল হবেনা। একে বলে পুরুষকার। দৈব ও পুরুষকার দুইই চাই। পুরুষকার হতেই দৈব উদ্ভূত হয়।
—শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
(নীলাচল বাণী)

#জয়গুরু

Address

Rangpur, Dhaka
Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Swami Nigamananda.bd posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share