24/01/2026
শিউলির প্রতীক্ষা 🌺 | A Photo Story |
© zaksif.aks
Model: Epa Das
Direction & photography: Asif Karim Sifat
বিকেলের রোদে গ্রামের ধুলো সোনালি হয়ে ওঠে। নদীর ধারে এক সরু পথ, সেই পথ ধরে যায় শিউলি। বয়স আঠারো, কেশকালো চুল পিঠভরা, কপালে লাল টিপ। ওর সাজের মধ্যে কোনো অহংকার নেই—একটা মায়া আছে, যেমনটা নদীর জলে থাকে।
হাতে কলসি, গলার কাছে আলতার হালকা গন্ধ। প্রতিদিনের মতো আজও ও পুকুরে জল তুলতে এসেছে। এই সময়েই ওর চোখে ধরা পড়ে সে—পুকুরপাড়ের কৃষ্ণচূড়া গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষ। নামটা কেউ জানে না, হয়তো গ্রামও না। কিন্তু শিউলি জানে—সে প্রতিদিন আসে। একবারের জন্য, শুধু এক দৃষ্টি ফেলার জন্য।
শিউলি কখনো তাকায় না সরাসরি। পুকুরে জলের ঢেউয়ে নিজের মুখ দেখে নেয়, তারপর চোখের কোনা দিয়ে দেখে নেয় সেই ছায়াটাকে। মাটির কলসি ভরে ওঠে, কিন্তু বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা জমে থাকে।
গ্রামের মেয়েরা হাসাহাসি করে, কেউ বলে—
“ও নাকি প্রেম করে।”
কেউ বলে—
“ওর চোখে কেমন জানি কথা আছে।”
শিউলি কিছু বলে না। কেবল প্রতিদিন সেই সময়টায় ওর সাজটা একটু বেশি নিখুঁত হয়—আলতা একটু গভীর লাল, চুল একটু বেশি খোলা।
দিন যায়, ঋতু বদলায়। একদিন হঠাৎ লোকটা আর আসে না। পুকুরের জল আগের মতোই নড়ে, কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরায়, বিকেল নামে ঠিকই—শুধু ওই এক জায়গাটা ফাঁকা থাকে।
শিউলি পরের দিন আসে।
তার পরের দিনও।
আরও অনেক দিন।
প্রতিবারই সে একটু দেরিতে কলসি ভরায়, একটু বেশি সময় জল দেখে থাকে—যেন ঢেউয়ের ভেতর থেকে কেউ উঠে আসবে। কিন্তু আসে না।
একদিন কলসি ভরে গেলে ও থামে। হাঁটে না সঙ্গে সঙ্গে। পুকুরের জলে শেষবারের মতো নিজের মুখ দেখে নেয়। সেই মুখে বয়স আছে, আছে লাল টিপ, আছে আলতা—কিন্তু চোখে আর অপেক্ষা নেই, শুধু বুঝে নেওয়া।
কলসি নামিয়ে রাখে পুকুরপাড়ে।
খালি হাতে ধীরে ধীরে বাড়ির পথে হাঁটে।
গ্রামের বিকেল তখনও সোনালি,
কিন্তু শিউলি জানে—
কিছু দৃষ্টি এমন হয়,
যা না পাওয়া যায়, না ভুলে যাওয়া যায়।
হাতে থাকা কাঁচের চুড়িটা ভেঙে যায়—
ঠিক যেমন স্বপ্ন ভাঙে,
নীরবে, কারও অজান্তে 💙