07/04/2023
— বৌমা! ও বৌমা উঠবে না?
— হ্যাঁ উঠছি মা।
— কটা বাজে জানো?
— আসলে মা শরীরটা ভালো না, ম্যাজম্যাজ করছে কেমন! আমি উঠছি।
— আমায় বলতে পারতে, আমিই না হয় জলখাবার করে দিতাম। এই সব করবো এই অভ্যাসটা তো ছাড়তে পারো এবার।
— আপনারও তো বয়েস হয়েছে মা!
— নিজের ছেলেকে খাওয়াতে পারবো আশা করি। যাইহোক, উঠতে হবে না, বিশ্রাম নাও।
শুভশ্রী তবু ধীরে ধীরে উঠলো বিছানা ছেড়ে। মাথাটা ভীষণ ধরে আছে। জ্বর আসবে বোধহয়। ওদিকে সুজন প্রায় রেডি অফিসের জন্য। রান্নাঘরে গিয়ে ও দেখলো শাশুড়ি মা জলখাবার করতে শুরু করে দিয়েছেন। শুভশ্রী আস্তে আস্তে বাস গুলো নামাতে থাকে।
— তোমাকে তো আসতে বারণ করলাম বৌমা! বেশি দেখাও নাকি?
— আমি একটু সাহায্য করি?
— তুমি আসার আগে কে সাহায্য করতো আমায়?
শুভশ্রী চুপ থাকে, তারপর নিজের রুমে চলে যায়। সুজন রেডি হচ্ছে আয়নার সামনে।
— আজ মা রান্নাঘরে কেন?
শুভশ্রী কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর আস্তে আস্তে বিছানা গোছাতে থাকে।
— দেরি হয়ে গেছে গো! আমি খেয়ে বেড়চ্ছি, মায়ের সাথে ঝামেলা করো না। সাবধানে থেকো।
শুভশ্রী অবাক হয়ে যায়। " মায়ের সাথে ঝামেলা করো না মানে?" ও ঝামেলা করবে? ওর মতো মেয়ে? ও নিজের কাজ করতে থাকে। সারাদিন ওর শাশুড়ি মা কথা বলেন নি ওর সাথে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর জ্বরটাও বেড়েছে। সন্ধ্যা হতে আর মাথা তুলতে পারছে না শুভশ্রী। ঘরটা অন্ধকার করে শুয়ে থাকে।
— শুভ! কোথায় তুমি? ঘর অন্ধকার করে আছো!
— শরীরটা ভালো লাগছে না গো।
সুজন ধীরে ধীরে গিয়ে বসে শুভশ্রীর পাশে। কপালে হাত রাখে।
— তোমার গা তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে, ওষুধ খেয়েছো?
— না গো!
— মা আসেনি! মা..ও মা!
— ওনাকে ডেকো না, বয়েস হয়েছে আমাকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবেন।
— কিন্তু আমি বাড়ি ঢুকতে তোমাকে নিয়ে একগাদা অভিযোগ শুনিয়ে দিলো আমায়। তুমি নাকি আজ বিছানা থেকে ওঠো নি, মাকে সব কাজ একা করতে হয়েছে।
শুভশ্রী কিছু বলতে পারে না। ওর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। মায়ের কথা ভীষণ মনে পড়ছে এখন।
— কাঁদছো শুভ? বুঝতে পেরেছি কি হয়েছে! মায়ের হয়ে আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। আর আমি কথা বলবো এই নিয়ে, প্রমিশ!
— না সুজন থাক, ওনার বয়েস হয়েছে।
— ভুল হলে সেটা ভুলই। তোমাকে যখন নিয়ে আসি ও বাড়ি থেকে আমি তোমার বাবা– মাকে কথা দিয়ে এসেছি তোমার কোনো অযত্ন হতে দেবো না আমি। এই নাও এইবার একটু উঠে বসো, ওষুধগুলো আনি।
শুভশ্রী উঠে বসে। সুজন ওকে ওষুধটা খাইয়ে দেয়।
— আজ স্নান করোনি তাই না? চুলটা কেমন ঘেঁটে আছে, দাঁড়াও ঠিক করে দি।
সুজন চিরুনি দিয়ে চুলটা আঁচড়াতে শুরু করলো শুভশ্রীর। পরম আবেশে চোখ বুজে আসছে ওর, জ্বরের ঘোরে না ভালোবাসার স্পর্শে তা অবশ্য ও জানে না।🙂🖤