03/07/2026
ভালোবাসা আসলে কেমন হওয়া উচিত? অনেকে বলেন, ভালোবাসা হলো একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা। আবার কেউ বলেন, ভালোবাসা এমন এক বন্ধন যা মৃ'ত্যু'র ওপারেও ফুরিয়ে যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেথ এবং হেলেন ফেলামলি দম্পতি যেন সেই রূপকথার মতোই এক ভালোবাসার গল্প লিখে গেছেন এই পৃথিবীতে, যা আজও হৃদয়কে এক অদ্ভুত আবেগে ভরিয়ে দেয়।
তাদের একসঙ্গে পথচলার গল্পটি কিন্তু দুই-একদিনের নয়, টানা ৭০ বছরের! সাতটি দশক তারা একে অপরের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ভাগ করে নিয়েছেন। পরিবারের মানুষেরা বলেন, এই দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তারা কখনোই একটি রাতের জন্যও একে অপরের থেকে আলাদা ঘুমাননি।
আটটি সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছেন তারা। প্রতিদিনের সকালের নাশতা থেকে শুরু করে রাতের ঘুম—সবকিছুতেই জড়িয়ে ছিল তাদের একে অপরের সঙ্গ। ভালোবাসা এতটাই প্রগাঢ় ছিল যে, একবার একটি ফেরিতে ভ্রমণের সময় তারা আলাদা বিছানায় ঘুমাতে অস্বীকৃতি জানান। শেষমেশ একটি বাঙ্ক বেডের নিচের ছোট্ট সরু অংশেই দুজন একসঙ্গে রাত কাটিয়েছিলেন, শুধু যাতে একে অপরের হাতটা ছেড়ে থাকতে না হয়!
কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম তো অমোঘ। ২০১৪ সালে ৯২ বছর বয়সে হেলেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। যে মানুষটি ৭০ বছর ধরে প্রতিটি মুহূর্ত ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, তাকে হারিয়ে কেনেথ যেন একদম নিঃস্ব হয়ে গেলেন। হেলেনের চলে যাওয়ার শূন্যতা তিনি মেনে নিতে পারেননি, হয়তো চাননি তার প্রিয়তমা একাকী কোনো অচিন দেশে পাড়ি দিক।
হেলেনের মৃ'ত্যু'র মাত্র ১৫ ঘণ্টা পর, ৯১ বছর বয়সে কেনেথও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাত দশকের দীর্ঘ পথচলায় তারা মাত্র কয়েকটা ঘণ্টার জন্য একে অপরের থেকে আলাদা ছিলেন। কেনেথ যেন হেলেনকে একা যেতে দিতে চাননি বলেই তার হাতটি ধরে পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তের উদ্দেশ্যে।
এই নি'ষ্ঠু'র পৃথিবীতে যেখানে সম্পর্কগুলো খুব দ্রুত রঙ হারায়, সেখানে কেনেথ আর হেলেনের এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা সত্যি অমর, যা মৃ'ত্যু'কে'ও হার মানাতে পারে।