24/09/2016
আফগানিস্তানের বিপক্ষে
বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যাটিং
লাইনআপ
******||****||******
আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোন
প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে
না, সম্ভাব্য সেরা দলটাই খেলবে
বলে জানিয়েছিলেন নির্বাচক
কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন
নান্নু। আর এ কারণেই জাতীয়
দলের সব তারকা ব্যাটসম্যানদেরই
দেখতে পাওয়া যাবে
আফগানিস্তান সিরিজে। দেখে
নেয়া যাক কেমন হতে পারে ৩
ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজে
বাংলাদেশের ব্যাটিং
লাইনআপ।
♠ টপ অর্ডারে নামবেন
কারা?
★
বছর খানেক ধরেই টপ অর্ডার
ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য এক
মধুর সমস্যার নাম। সবাই ফর্মে
থাকায় কাকে ছেড়ে কাকে
একাদশে রাখবে টিম
ম্যানেজমেন্ট, সেটা নিয়েই
পড়তে হয় মধুর বিড়ম্বনায়। যথারীতি
ব্যতিক্রম ছিল না এই
আফগানিস্তান সিরিজ প্রি
সিলেকশনেও। ২০ জনের পুলে
ওপেনারই ছিলেন ৪ জন! এবং সবাই
একাদশে জায়গা পাওয়ার যোগ্য
ছিলেন।
তবে সব জল্পনা কল্পনা শেষে
ওপেনিং জুটি হিসেবে দেখা
যাবে তামিম-সৌম্য অথবা
তামিম-ইমরুলকে। তামিম ফার্স্ট
চয়েজ। আসল আলোচনা তাই
তামিমের ওপেনিং সঙ্গী
নিয়ে। সৌম্য এবং ইমরুলের সমান
সম্ভাবনা আছে একাদশে জায়গা
করে নেয়ার। তবে সেই লড়াইয়ে
কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন
সৌম্য সরকার।
স্বপ্নের মত এক বিশ্বকাপ কাটিয়ে
আসার পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট
দেখা পায় দুইটি মূল্যবান
জিনিসের। একটি অবশ্যই
মুস্তাফিজুর রহমানের উত্থান,
আরেকটি হল তামিম-সৌম্য জুটি।
তামিম স্বভাবতই আক্রমণাত্মক
ব্যাটসম্যান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই
তাই তার পার্টনার খেলতেন
রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে।
কিন্তু প্রচলিত সেই ধারা ভেঙ্গে
দেন সৌম্য। দারুণ আক্রমণাত্মক
ভঙ্গিতে তামিমের সাথে
মিলে ছারখার করেছেন প্রতিপক্ষ
বোলিং লাইনআপকে। কখনো
কখনো তো আক্রমণের দিক থেকে
তামিমকেও ছাড়িয়ে গেছেন!
বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান,
ভারত, সাউথ আফ্রিকা আর
জিম্বাবুয়ে সিরিজ- প্রতিটিতেই
ছন্দে ছিল এই ওপেনিং জুটি।
তামিমের সাথে ওয়ানডেতে
ওপেন করেছেন, এমন জুটির মধ্যে
তামিম-সৌম্য জুটির এভারেজই
সবচেয়ে বেশি, ৪৭.৩৩! মাত্র ১২
ইনিংস একসাথে ব্যাট করে ৫৬৮
রান এই জুটির। একবার সেট হয়ে
গেলে যে এই জুটিকে থামানো
মুশকিল।
তার প্রমাণ দিতে যথেষ্ট একটি
তথ্য- ১২ ইনিংসে সেঞ্চুরি জুটি
করে ফেলেছেন ৩টি, ফিফটি
জুটি নেই একটিও! তিনটি সেঞ্চুরি
জুটি আবার এসেছে পরপর ৩
সিরিজে। প্রথমটি পাকিস্তানকে
ধবলধোলাই করা ম্যাচে, মিরপুরে
সেদিন ১৪৫ রান যোগ করেছিলেন
দুজন।
পরের সেঞ্চুরি জুটিটি আসে ঠিক
এর পরের ম্যাচেই। পাকিস্তানের
বিপক্ষে যেখানে শেষ
করেছিলেন, ভারতের বিপক্ষে
যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন।
ভারতের বিপক্ষে ১ম ম্যাচে
গড়লেন ১০২ রানের জুটি।
আগের দুই সেঞ্চুরি জুটিকেও
ছাড়িয়ে গেলেন সাউথ
আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ
নির্ধারণী ম্যাচে। ১৫৪ রানের
জুটি গড়ে নিশ্চিত করলেন দলের
সিরিজ জয়, সেই সাথে পেয়ে
গেলেন নিজেদের তৃতীয়
সেঞ্চুরি জুটির দেখাও।
তবে এই বছরটা বেশ খারাপ গেছে
সৌম্য সরকারের ফর্ম। টি-
টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তেমন
কিছু করতে পারেননি। তবে
সৌম্যের জন্য প্লাস পয়েন্ট হলো,
এই বছর বাংলাদেশ টি-
টোয়েন্টিই খেলেছে, নিজের
প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে খেলার
সুযোগ পাননি এখনো। প্রিয়
ফরম্যাটে তাই আরেকবার সুযোগ
পেতেই পারেন সৌম্য।
সৌম্য সুযোগ না পেলে সেখানে
সুযোগ পেতে পারেন ইমরুল
কায়েস। বাংলাদেশের ওয়ানডে
ইতিহাসেরই ২য় সফলতম জুটি
তামিম-ইমরুল। ৫১ ইনিংস একসাথে
খেলে ১৪২৬ রান করেছেন এই
জুটি। ৮টি ফিফটি জুটির
পাশাপাশি রয়েছে ১টি
সেঞ্চুরি জুটিও। তামিম ইমরুলের
বোঝাপড়ার জন্যই একাদশে ঢুকে
যেতে পারেন ইমরুল।
টপ অর্ডারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট
ওয়ান ডাউন পজিশন। গত কয়েক
সিরিজের ধারাবাহিকতায় ৩
নম্বরে ব্যাট করতে আসার কথা
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরই। তবে চমক
দেখানোর জন্য এই পজিশনে দেখা
যেতে পারে সাব্বির
রহমানকেও।
টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিতই ৩
নম্বরে ব্যাট করেছেন সাব্বির,
সফলও হয়েছেন বেশ। নিজের
অভিষেকের পর থেকে
বাংলাদেশের হয়ে টি-
টোয়েন্টিতে ৩ নম্বরে সবচেয়ে
বেশি রান সাব্বিরেরই। দ্রুত
ওপেনিং জুটি ভেঙ্গে গেলে
পাওয়ার প্লের সুবিধা নেয়ার জন্য
৩ নম্বরে সাব্বিরকে পাঠিয়ে
দেয়াও হতে পারে।
♠ মিডল ও লেট
অর্ডারে হাল ধরবেন
যারা
মিডল অর্ডার নিয়ে অবশ্য এত
দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাকিব আল
হাসান, মুশফিকুর রহিম আর সাব্বির
রহমান/মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে
মাঝের ওভারে দলকে যোগাবেন
নির্ভরতা। তবে লড়াই জমবে লেট
অর্ডারে জায়গা পাওয়া নিয়ে।
সেখানে লড়াই হবে নাসির
হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনের
মধ্যে।
অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে এগিয়ে
থাকায় প্রথম পছন্দ হওয়ার কথা
নাসির হোসেনের। ব্যাটে বলে
ফিল্ডিংয়ে মিলে নাসির দলের
অন্যতম সেরা সম্পদ। নাসিরের অফ
স্পিন মাশরাফিরও আস্থার
জায়গা, বল হাতে নিয়ে উইকেট
এনে দেয়ার ক্ষমতা ভালই আছে
নাসিরের।
কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটে
বলে দারুণ পারফর্ম করা
মোসাদ্দেককে টপকে নাসিরকে
আগে নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে
কষ্টই হবে টিম ম্যানেজমেন্ট এর।
বিশেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচে
তিনি যেভাবে খেলেছেন
তাতে কষ্টটা আরো বেড়ে
গিয়েছে তাদের। লেট অর্ডারে
ফিনিশার কাম অলরাউন্ডারের
জায়গা নিয়ে তাই
ভালোভাবেই লড়াই জমবে এবার।