08/04/2026
🖋️ লিখেছেন উস্তাদ মুফতী মুহাম্মদ আলী [হাফিঃ]
আমার ছেলে মাহমুদ আলীকে কেন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছি?
মাহমুদ আলী কোন অশ্লীল সংস্কৃতি অনুসরণ না করে সে তার বাবাকে ভালোবাসে বলেই চাল-চলন, কথা-বার্তা ও পোশাকে বাবা হিসেবে আমাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে এটা একজন বাবা হিসেবে আমার জন্য গর্বের বিষয়।
এটা স্বাভাবিক যে, সবাই সবার পছন্দ হবে না। কারো ভালো লাগতে পারে আবার কারো নাও লাগতে পারে। তাই বলে কি গালা-গালি করতে হবে!!!
একটু ভেবে দেখুন,
সে কোনো নায়ক, খেলোয়াড় বা অশ্লীল সংস্কৃতির অনুসরণ করছে না , সে তো কোন অশ্লীল গান পরিবেশন করেনি বরং তার বাবার ইসলামী বক্তব্য অনুসরণ করে দিচ্ছে।
তার পড়াশোনা ও আগ্রহ:
সে বর্তমানে জেনারেল বিভাগে নবম শ্রেণীতে এবং মাদ্রাসা বিভাগে শরহে বেকায়া জামাতে অধ্যয়নরত, আলহামদুলিল্লাহ।
পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময়ে নিজে নিজে বক্তব্য তৈরি করা এবং মাদ্রাসাতুল হিদায়ার সেমিনারে নতুন নতুন বিষয়ে বক্তব্য তৈরি করা তার খুবই প্রিয় কাজ।
মাদ্রাসার সেমিনারের পাশাপাশি মাদ্রাসার ছুটির সময়ে ওরা দু'ভাই মাহফিলে যেতে মাঝে মাঝেই বায়না করে। তাই অবসর সময়ে অল্প কয়েকটি মাহফিলে আমার সাথে গিয়েছে এবং মানুষের সামনে বক্তব্য দেয়ার ট্রেনিং দেয়ার লক্ষ্যে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। এবং প্রায় সব মাদ্রাসার মাহফিলে ট্রেনিং এর উদ্দেশ্যে বাচ্চাদেরকে বক্তব্য দেয়ানো হয়। আমার বিশ্বাস যারা সমালোচনা করছেন সম্ভব হলে তাদের বাচ্চাদেরকেও বক্তব্যের সুযোগ করে দিতেন।
তাকে নিয়ে কিছু ভুল ধারণার জবাব:
তাকে কখনোই নিয়মিত বক্তা হিসেবে মাঠে নামানো হয়নি।
আজ পর্যন্ত কোনো মাহফিলের পোস্টারে তার নাম দেওয়া হয়নি।
কোনো মাহফিলে তাকে আনুষ্ঠানিক বক্তা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়নি।
বক্তব্য দেয়ার পর তার জন্য টাকা চেয়েছি এমনটা কখনোই হয়নি তাহলে যারা বলছেন ওকে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি এটা কি হিংসা থেকে বলছেন নাকি ইসলামী বক্তা তৈরি হওয়ার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছেন?
যদি হিংসা বা বিদ্বেষ করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য, সুসংবাদ! মাদ্রাসাতুল হিদায়া'তে এমন অসংখ্য বক্তা তৈরি হচ্ছে,আলহামদুলিল্লাহ।
বিশ্বের উন্নত প্রায় প্রতিষ্ঠানে সেমিনারের মাধ্যমে বক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরুপ ড.জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠানের দিকে এবং তার ছেলে ফারিক নায়েকের দিকে খেয়াল করতে পারেন।
ছোট বেলা থেকেই ক্যামেরার সামনে বা অনেক মানুষের সামনে বক্তব্যের ট্রেনিং দেয়া উচিৎ অন্যথায় অনেকে দাওরা/মাষ্টার্স শেষ করেও পাঁচ মিনিট বক্তব্য দিতে অক্ষমতা পেশ করেন।
ছোট বেলায় বক্তব্য দেয়ার দলিল যদি চান তাহলে,তাহলে বুখারীতে উল্লেখিত
متى يصح سماع الصغير এই অধ্যায়ের হাদীস গুলো পড়ে নিবেন, ইনশাআল্লাহ।
বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীসটি ও দেখে নিতে পারেন।
كانَ عُمَرُ يُدْخِلُنِي مع أشْيَاخِ بَدْرٍ، فَكَأنَّ بَعْضَهُمْ وجَدَ في نَفْسِهِ، فَقالَ: لِمَ تُدْخِلُ هذا معنَا ولَنَا أبْنَاءٌ مِثْلُهُ؟! فَقالَ عُمَرُ: إنَّه مَن قدْ عَلِمْتُمْ، فَدَعَاهُ ذَاتَ يَومٍ فأدْخَلَهُ معهُمْ، فَما رُئِيتُ أنَّه دَعَانِي يَومَئذٍ إلَّا لِيُرِيَهُمْ، قالَ: ما تَقُولونَ في قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ}؟ فَقالَ بَعْضُهُمْ: أُمِرْنَا أنْ نَحْمَدَ اللَّهَ ونَسْتَغْفِرَهُ إذَا نُصِرْنَا وفُتِحَ عَلَيْنَا، وسَكَتَ بَعْضُهُمْ فَلَمْ يَقُلْ شيئًا، فَقالَ لِي: أكَذَاكَ تَقُولُ يا ابْنَ عَبَّاسٍ؟ فَقُلتُ: لَا، قالَ: فَما تَقُولُ؟ قُلتُ: هو أجَلُ رَسولِ اللَّهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم أعْلَمَهُ له، قالَ: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ}، وذلكَ عَلَامَةُ أجَلِكَ، {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا}، فَقالَ عُمَرُ: ما أعْلَمُ منها إلَّا ما تَقُولُ.
আরেকটি বিষয় মাদ্রাসাতুল হিদায়ায় ছাত্রদের প্রশ্নোত্তর প্রোগ্রামে অসংখ্য ক্যামেরাম্যান নিজের আগ্রহে উপস্থিত থাকেন, এদের কাউকেই কোনো টাকা দেওয়া হয় না।
তাই “টাকা দিয়ে আনা” বা “মাইক্রোফোন এডিট করা”এ ধরনের কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অহেতুক সমালোচনাকে আমি গুরুত্ব দেইনা কারণ কিছু আইডি ও পেইজের জন্মই হয়েছে সমালোচনার জন্য তবে গঠনমূলক সমালোচনাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেই তাই গঠনমূলক সমালোচনা করুন আপনার কাছ থেকেও আমি শিখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
যারা দোয়া ও পরামর্শ কিংবা গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আমার সন্তানসহ সকল মুসলিম সন্তানের জন্য দোয়ার আবেদন, আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের দ্বায়ী ও যোগ্য আলেম হিসেবে কবুল করুন, আমীন।