07/03/2026
জার্মানিতে এরাবিয়ান মসজিদে জুস্মার আলোচনা বা খুৎবা মূলত তাদের দেশের আর জার্মান ভাষায় হয়।
রোষ্টক মসজিদে গত জুম্মার খুৎবা ট্রান্সলেট করে যা পেলাম।
ট্রান্সলেট মূলত Chatgpt দিয়ে করা হয়েছে তাই শব্দের অর্থের হালকা ভুল থাকতেও পারে।
প্রিয় ভাইয়েরা,
আল্লাহ আমাদের অনেক ইবাদত দিয়েছেন। এই ইবাদতগুলোর একটি হলো রমজানের রোজা।
আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেছেন যে তিনি রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন, যেমন আগের জাতিদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল। আর এই রোজার উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা, যেমন আল্লাহ কুরআনে বলেছেন।
প্রশ্ন হলো—তাকওয়া কী?
আলেমরা তাকওয়ার অনেক সংজ্ঞা দিয়েছেন। সবচেয়ে সহজ সংজ্ঞা হলো:
তুমি আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করবে, নবী ﷺ-এর অনুসরণ করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবে।
অর্থাৎ তুমি এমন কাজ করবে যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং এমন সব কাজ থেকে দূরে থাকবে যা তিনি অপছন্দ করেন।
প্রিয় ভাইয়েরা, যখন রমজান আসে, আল্লাহ চান আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করি। রমজান আসলে আমাদের আত্মা ও চরিত্রকে সংশোধন করার সময়।
ইমাম বলেছেন—আলেমরা বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর সৃষ্টি চার ধরনের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন।
প্রথম বৈশিষ্ট্য: সাধারণ পশু।
তাদের বৈশিষ্ট্য হলো খাওয়া, পান করা এবং বংশবৃদ্ধি করা।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: হিংস্র পশু।
তারা অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করে এবং হত্যা করে খায়—তাদের মধ্যে আগ্রাসন থাকে।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: শয়তানি স্বভাব।
অহংকার, দাম্ভিকতা—যেমন শয়তান বলেছিল: “আমি আদমের চেয়ে উত্তম, কেন আমি তাকে সিজদা করবো?”
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: ফেরেশতাদের স্বভাব।
তারা আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করে, কোনো বিতর্ক করে না। তারা সবসময় তাসবিহ, যিকির ও ইবাদতে ব্যস্ত থাকে।
এই চার ধরনের বৈশিষ্ট্য আল্লাহ বিভিন্ন সৃষ্টির মধ্যে দিয়েছেন।
কিন্তু মানুষকে আল্লাহ এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে এই চারটি বৈশিষ্ট্যই মানুষের মধ্যে রয়েছে—
পশুসুলভ স্বভাব
হিংস্র স্বভাব
শয়তানি স্বভাব
ফেরেশতাসুলভ স্বভাব
মানুষের দায়িত্ব হলো—নিম্ন স্বভাবগুলো দমন করা এবং ফেরেশতাসুলভ গুণগুলো বৃদ্ধি করা, যাতে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
রমজান এই কাজের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ।
যখন আমরা ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত না খাই, না পান করি এবং দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকি—তখন আমরা আমাদের পশুসুলভ প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করি।
কিন্তু সব মানুষ রোজার সময় একই রকম আচরণ করে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ রোজা রেখেও রাগান্বিত বা আক্রমণাত্মক হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
যদি কেউ তোমার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাহলে বলো—
“আমি রোজাদার।”
অর্থাৎ তুমি নিজেকে শান্ত করবে এবং ঝগড়া এড়িয়ে যাবে।
এভাবে আমরা আমাদের হিংস্র স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করি।
আবার কখনো মানুষ অন্যদের দেখে হিংসা করতে পারে—কারো কাছে বেশি সম্পদ, শক্তি বা মর্যাদা আছে দেখে। তখন মানুষের মধ্যে হিংসা ও অহংকার জন্ম নিতে পারে।
রমজানে আমরা এই শয়তানি স্বভাবকেও দমন করি—
কোনো মানুষের প্রতি শত্রুতা রাখি না, হিংসা করি না, অহংকার করি না।
এই কারণেই রমজান আমাদের জন্য যেন একটি প্রশিক্ষণ শিবির—যেখানে আমরা তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ পাই।
রমজানে শুধু রোজা নয়, আরও অনেক ইবাদত রয়েছে—
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
নফল ও সুন্নত নামাজ
কিয়ামুল লাইল
কুরআন তিলাওয়াত
যিকির
সদকা
আমরা দেখি অনেক ভাই একসাথে বসে কুরআন পড়ছেন—আলহামদুলিল্লাহ।
এই সব ইবাদত আমাদের মধ্যে ফেরেশতাসুলভ গুণাবলী বৃদ্ধি করে।
এই হলো রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
আমাদের সচেতনভাবে রোজা রাখতে হবে—শুধু অন্যরা রাখছে বলে নয়, বা শুধু ফরজ বলে নয়; বরং এর গভীর অর্থ বুঝে।
ইমাম আরেকটি সুন্দর বিষয় বলেছেন—
মানুষ জীবনে ভুল করে, গুনাহ করে। এজন্য আল্লাহ কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা রেখেছেন।
কাফফারার বিভিন্ন ধরন আছে। যেমন—
দাস মুক্ত করা
দরিদ্রকে খাবার দেওয়া
অর্থ প্রদান করা
অর্থাৎ অনেক কাফফারা অন্য মানুষের উপকারের সাথে সম্পর্কিত।
কিন্তু রোজা একটি বিশেষ কাফফারা, যা মূলত নিজের জন্য।
কখনো কাউকে দাস মুক্ত করতে বলা হয়েছে, দরিদ্রকে খাওয়াতে বলা হয়েছে—আর যদি তা সম্ভব না হয়, তখন বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময় রোজা রাখতে।
এভাবে আমরা বুঝতে পারি—রোজা শুধু অন্যের উপকার নয়, বরং নিজের আত্মাকে সংশোধন করার উপায়।
শেষে আমি বলবো—
রোজা আমাদেরকে আমাদের নফসের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে।
যদি আমরা সচেতনভাবে রোজা রাখি এবং এর উদ্দেশ্য বুঝি, তাহলে রোজা আমাদের আত্মাকে মুক্ত করে।
তখন আমরা সত্যিই আল্লাহর বান্দা হয়ে উঠতে পারি।
والله أعلم
ওয়াসসালামু আলাইকুম।