24/05/2026
Checkered keelback
Non venomous snake
Checkered Keelback (বৈজ্ঞানিক নাম: Fowlea piscator, আগে Xenochrophis piscator বলা হতো) ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যন্ত পরিচিত এবং বহুল পরিমানে দেখা যাওয়া একটি জলচর সাপ। বাংলায় এটিকে সাধারণত জলঢোঁড়া বা ঢোঁড়া সাপ নামে ডাকা হয়।
Conversation with Gemini
Checkered keelback snake samporke likhe dao
Checkered Keelback (বৈজ্ঞানিক নাম: Fowlea piscator, আগে Xenochrophis piscator বলা হতো) ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যন্ত পরিচিত এবং বহুল পরিমানে দেখা যাওয়া একটি জলচর সাপ। বাংলায় এটিকে সাধারণত জলঢোঁড়া বা ঢোঁড়া সাপ নামে ডাকা হয়।
নিচে এই সাপের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
Checkered Keelback (জলঢোঁড়া সাপ), AI generated
Checkered Keelback (জলঢোঁড়া সাপ). Source: Wikipedia
১. শারীরিক গঠন ও চেনার উপায়
গায়ের রঙ ও প্যাটার্ন: এদের পিঠের রঙ জলপাই-সবুজ (olive-green), ধূসর বা বাদামী হতে পারে। শরীরের ওপর দাবার বোর্ডের মতো চারকোনা কালো কালো ছোপ বা Checkered Pattern থাকে, যা দেখে এদের সহজেই চেনা যায়।
চোখের দাগ: এদের চোখের নিচে এবং পেছনের দিকে দুটি স্পষ্ট কালো দাগ বা রেখা থাকে, যা নিচের দিকে নেমে যায়।
আঁশ: এদের পিঠের আঁশগুলো খসখসে বা নৌকার তলার মতো খাঁজকাটা (keeled) হয়, যার কারণে এদের নাম "Keelback"।
আকার: এরা মাঝারি আকৃতির সাপ। সাধারণত ২ থেকে ৩ ফুট লম্বা হয়, তবে স্ত্রী সাপগুলো পুরুষদের চেয়ে আকারে কিছুটা বড় এবং বেশি মোটা হতে পারে।
২. বিষহীন ও কামড়ের স্বভাব
সম্পূর্ণ বিষহীন (Non-venomous): জলঢোঁড়া সাপের কোনো বিষ নেই। এদের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর কোনো ঝুঁকি থাকে না।
আক্রমণাত্মক আচরণ: বিষ না থাকলেও এরা স্বভাবগতভাবে বেশ রাগী ও চটপটে হয়। ভয় পেলে বা কোণঠাসা বোধ করলে এরা শরীর ফুলিয়ে ফণা তোলার মতো ভঙ্গি করে (যেমনটি ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে) এবং খুব দ্রুত ঘন ঘন কামড়াতে আসে।
৩. বাসস্থান ও খাদ্যাভ্যাস
পানির আশেপাশে বসবাস: এরা মূলত আধা-জলচর (semi-aquatic)। পুকুর, নদী, ডোবা, বিল, ধানক্ষেত বা যেকোনো জলাশয়ের আশেপাশে এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
প্রধান খাবার: এরা চমৎকার সাঁতার কাটতে পারে। এদের প্রধান খাদ্য হলো ছোট মাছ, ব্যাঙ এবং ব্যাঙাচি। মাঝেমধ্যে এরা ছোট ছোট ইঁদুর বা পাখিও খেয়ে থাকে।
৪. প্রজনন ও স্বভাব
এরা ডিম পাড়ে। স্ত্রী সাপ একবারে ২০ থেকে ৯০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। ডিম ফোটার জন্য এরা জলাশয়ের কাছের স্যাঁতসেঁতে বা নিরাপদ জায়গা বেছে নেয়।
এরা নিশাচর এবং দিবাচর উভয়ই হতে পারে। দিনের বেলা জলাশয়ের ধারে রোদ পোহাতে বা রাতে পানির আশেপাশে শিকার খুঁজতে এদের বেশি সক্রিয় দেখা যায়।
জরুরি নোট: ক্ষতিকর বা বিষাক্ত না হলেও গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় মানুষ বিষধর সাপ ভেবে ভুল করে এদের মেরে ফেলে। তবে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ব্যাঙের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই সাপগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।