08/08/2024
. #তাঁর__মৃত্যুদিনে............
আজকের বাংলাদেশের জামাই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বিয়ে করেছিলেন যশোহর থেকে। তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পৈতৃক বাড়ি ছিল খুলনা জেলার দক্ষিণডিহি গ্রাম। রবি ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-- তিনিও বাংলাদেশের জামাই । ঐ একই জেলা, একই গ্রাম। শুধু তাই নয়, আজকের বাংলাদেশেই থাকতেন রবি ঠাকুরের পূর্বপুরুষেরা। জেলা সেই খুলনা, থানা রূপসা, অঞ্চল পিঠাভোগ। জমিদারী দেখাশোনার ভার নিয়ে তিরিশ বছর বয়সে পূর্ববঙ্গে এসে রবীন্দ্রনাথ একটানা প্রায় দশ বছর কাটিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গে। এখানকার শিলাইদহতে বসেই তিনি লিখেছিলেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, ক্ষণিকা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের অজস্র কবিতা। লিখেছেন পঞ্চাশটার-ও বেশি ছোটগল্প। এসেছেন এখানকার উদার প্রকৃতির মত সহজসরল লোকগায়ক ও বাউলদের সংস্পর্শে । যার পরোক্ষ ফলাফল রবীন্দ্রনাথের একাধিক লোক আঙ্গিকের গান।
১৮৯৮ ও ১৯২৬ -- রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় এসেছিলেন দু'বার। ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি. লিট খেতাব দিলেও সশরীরে সেই সম্মাননা গ্রহণ করতে ঢাকায় আসতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' -- কেউ জোর করে চাপিয়ে দেয়নি তাদের উপর। মু ক্তি যু দ্ধ - এর সময় এই গান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মুখে মুখে ফিরত। আজকের ভাষায় 'ভাইরাল। ' সেই কারনেই স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর জনগণের ইচ্ছাকে মান্যতা দিতেই গানটির প্রথম দশ চরণ দেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়।
এখন শুনছি, তাদের জাতীয় সঙ্গীত নাকি পাল্টে যাবে। অবশ্য তাতে রবীন্দ্রনাথের কিছুই যায় আসে না!
বাংলাদেশে ৫ টি রবীন্দ্র-- মিউজিয়াম আছে। জানিনা, সেগুলি অ ক্ষ ত আছে কিনা বা থাকবে কিনা। যদিও তাতেও খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ রবিকবি সেই কবেই তো বলে গেছেন --
"যত বড়ো হও
তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও
আমি মৃত্যু -চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে
যাব আমি চলে। "
এক মুঠো অশুভ মেঘ চিরায়ত রবির বহ্নি কখনও নেভাতে পারে কি?
❤️
#বাংলাদেশ #ভারত #রবীন্দ্রনাথ