Shovan dutta

Shovan dutta Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Shovan dutta, Photographer, bongaon, west bengala, Bongaon.

01/06/2019

দুজন প্রেম করার সময় ভাবে, এই প্রেমের শেষ হবে একমাত্র মৃত্যুতে।

হয়ও তা-ই। বিয়ের পর দুজনই মরে অন্য মানুষ হয়ে যায়। সে বিয়েটা হোক ওদের দুজনের মধ্যে কিংবা অন্য কারো সাথে।

বিয়ে মানেই প্রেমের সমাপ্তি। বিয়ের পর প্রেম পরিবর্তিত হয় অভ্যস্ততায়। কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতায়।

বিয়ে মানুষ বদলানোর এক আশ্চর্য মেশিন।

দিনের শেষে, বিয়ে বিয়েই; যার সাথেই হোক না, ঘটনা কি দুর্ঘটনা-জাত অনুভূতি কমবেশি একই!

আবার অনেককে দেখেছি বিয়ের পর অন্য কারো প্রেমে পড়ে যেতে। ব্যাপারটা এমন নয় যে সে যাকে বিয়ে করেছে, তাকে সে আর ভালোবাসে না। সে তাকেও ভালোবাসে, আবার অন্য কাউকেও ভালোবাসে। কখনোবা, তাকে ভালো না বেসে অন্য কাউকে ভালোবাসে, কিন্তু তাকে ভালোবাসার অভিনয় করে যায়---নিজের সাথে, তার সাথে। লোকে এমন প্রেমের নাম দিয়েছে পরকীয়া। মানে, অন্য সম্পর্ক কিংবা অন্য প্রেম। এটা কেন হয়? মানুষের হৃদয় কি তবে চির-অতৃপ্তই থেকে যায় শেষ পর্যন্ত? লোকে কী খুঁজে চলে সারাটি জীবন?

ব্যাপারটা ভালই গোলমেলে। অনেকদিন ধরেই এটা কেন হয়, উত্তর খুঁজছিলাম। উত্তর পেয়ে গেলাম গুলাম আলীর একটা গজলে--- তামাম-এ-উমর তেরা ইন্তেজার হামনে কিয়া, হাফিজ হোশিয়ারপুরীর লেখা। গজলের অনুবাদ করা খুবই কঠিন কাজ, তবু কাছাকাছি অর্থটা নিজের মতো করে দিলাম:

তোমার প্রতীক্ষায় একটা জীবন খর্চা গেলো,
এই এক জীবনে কত প্রেয়সীই গেলো, এলো।

হে বন্ধু, এই প্রতীক্ষায় জীবন পুরোই যেন লাগে,
শত মুখের মাঝেও খুঁজি তোমাকেই সবার আগে!

তোমায় ভেবে বছর ঘুরে বেঁচেছে হৃদয় সুরের সুখে,
জানলে নাতো বিফল প্রেমের ঘায়ে কত মরেছি দুখে!

এ চাওয়াটা মরিয়া কেমন, সে খোঁজ নিয়ো ওই চোখেতে,
যেখানে হাফিজ চোখ রেখেছে, রাখেনি হৃদয় ভুলে ভুলেতে।

18/03/2018

প্রশ্নোত্তরে WBCS
১। West Bengal Civil Service ফর্ম সংক্রান্ত তথ্য আমরা কীভাবে পাব? কোন Website বা দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের www.pscwbonline.gov.in এই ওয়েবসাইট থেকে বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অফিস থেকে এই পরীক্ষার তথ্য জানা যাবে।
২। ফর্ম ফিল আপ এর ফী কত? এই ফী কি শিথিল করা হয়? কাদের ক্ষেত্রে করা হয়?
২০০ টাকা ফী ধার্য্য করা হয়। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ এর সময় নেট ব্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে বা অফলাইনে ব্যাঙ্কের কাউন্টারে গিয়ে তা জমা করা যায়। এস সি, এস টি ও ৪০% এর বেশি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কোনো ফী প্রয়োজন হয় না।
৩। WBCS পরীক্ষায় আবেদন করার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? কোনো নির্দিষ্ট percentage এর প্রয়োজন হয়?
উত্তরঃ UGC স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কোনো কলেজ থেকে যে কোনো শাখায় স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই এই পরীক্ষায় বসা যায়। পাস নাম্বার থাকলেই চলবে, যেকোনো % পেয়ে পাস করলেই হবে।
৪। এই পরীক্ষার জন্য বয়স সীমা কত? আর SC,ST, OBC দের ক্ষেত্রে কী এই সীমার কোনো পরিবর্তন করা হয়ে থাকে?
উত্তরঃ এই পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন গ্রুপের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বিভিন্ন, A গ্রুপের জন্য ২১ বছর থেকে ৩৬ বছর , B গ্রুপের জন্য ২০ থেকে ৩৬ বছর, c গ্রুপের জন্য ২১-৩৬ বছর এবং D গ্রুপের জন্য ২১ থেকে ৩৯ বছর বয়সসীমা নির্ধারিত আছে। যে বছরের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে সেই বছরের ১লা জানুয়ারী অনুযায়ী বয়স হিসাব করা হয়। SC ও ST পরীক্ষার্থীরা ৫ বছরের এবং OBC রা ৩ বছরের ছাড় পাবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ৪৫ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
৫। WBCS পরীক্ষা কটি পর্যায়ে হয়?
উত্তরঃ WBCS পরীক্ষা তিনটি পর্যায়ে নেওয়া হয়, প্রিলিমিনারী পরীক্ষা, মেন পরীক্ষা ও পার্সোনালিটি টেস্ট।
৬। প্রথম পর্যায় কোন সময় হয়? মোট কত নাম্বারের হয়? এবং রেজাল্ট সাধারণত কত দিন পর বের হয়?
উত্তরঃ প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা সাধারণত জানুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এই বছর ২৮ শে জানুয়ারী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মোট ২০০ নাম্বারের হয়। রেজাল্ট সাধারণত মে-জুন এর দিকে প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে এই প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ৭৯২২ জনকে কোলালিফাই করানো হয়েছিল। এই ৭৯২২ জন মেন পরীক্ষায় বসতে পেরেছিলেন।
৭। প্রিলিমিনারী পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ কেমন হয়? কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ২০০ টি মাল্টিপল চয়েজ প্রশ্ন আসে প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১ নাম্বার করে। মোট ৮ টি বিষয় থেকে ২৫ টি করে প্রশ্ন আসে, বিষয়গুলি হলঃ-
১) ভারতের ইতিহাস, ২) ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ৩)ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল, ৪) সাধারণ বিজ্ঞান, ৫) ভারতের অর্থনীতি ও ভারতের সংবিধান (পলিটি), ৬)সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, ৭) মেন্টাল এবিলিটি ও ৮) ইংরাজি
৮। নেগেটিভ মার্কিং কি হয়?
উত্তরঃ প্রতি তিনটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নাম্বার করে কাটা যায় অর্থাৎ প্রতি তিনটি ভুলের জন্য একটি প্রশ্নের নাম্বার কাটা যায়।
৯। এই পরীক্ষার প্রিপারেশন আমরা কতদিন আগে থেকে নেওয়া শুরু করবো?
উত্তরঃ এই পরীক্ষার সাধারণ বিষয়গুলি মূলত মাধ্যমিক স্তরের, বেশিরভাগ বিষয়গুলি আমরা মাধ্যমিক স্তরে পড়েছি। গ্রাজুয়েশন স্তরেই যদি জেনারেল স্টাডিস এর বিষয়গুলি পড়তে শুরু করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়। তবে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সময় নষ্ট না করে প্রস্তুতি পুরো দমে শুরু করা উচিৎ।
১০। প্রিলিমিনারী এর রেজাল্ট বেরনোর কতদিন পর মেন হয়?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট বেরোনোর এক থেকে দেড়মাসের মধ্যেই মেন পরীক্ষা হয় তাই প্রিলিমিনারী পরীক্ষা দিয়েই পরদিন থেকেই মেন এর জন্য পড়া উচিৎ। প্রিলিমিনারী পাশ করলে তবে মেন এর জন্য পড়বো মনে করে বসে থাকলে মেন পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।
১১। কাট অফ সাধারণত কত থাকে? এবারের কাট অফ কত?
প্রিলিমিনারী পরীক্ষার কাট অফ সাধারণত জেনারেল পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১০-১২০ এর মধ্যে হয়। sc st এর ক্ষেত্রে আরও ১০ নাম্বারের মত কম হয়। পি এস সি সাধারণত কাট অফ ঘোষণা করে না তবে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা RTI এর মাধ্যমে কাট অফ জানতে চাইলে তা জানানো হয় কোন বছরের পরীক্ষা পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর।
১২। ২০১৮ এর মেন এর তারিখ?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই PSC মেন এর তারিখ জানিয়ে দেয় সাধারণত, এবছর প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট প্রকাশিত হলে তা আমরা জানতে পারব।
১৩। প্রিলিমিনারীর এর পর মেন এর জন্য সময় তো খুব কম থাকে প্রস্তুতির জন্য, তাহলে কি আমরা প্রিলিমিনারী ও মেন এর প্রিপারেশন একসাথে নিতে পারি?
উত্তরঃ হ্যা একসাথেই এই দুটি ধাপের প্রিপারেশন নিতে হবে। আমরা যদি সিলেবাস দেখি তাহলে বুঝতে পারবো যে প্রিলি ও মেনস এ একই বিষয় আছে। মেনস এর ক্ষেত্রে একটু গভীরে ঢুকে বিষয়গুলি পড়তে হয় এটাই যা তফাৎ। পরীক্ষাটিকে আলাদা ধাপে না দেখে প্রিলি মেনস ও পার্সোনালিটি টেষ্ট এই তিনটিকেই হোলিষ্টিক ওয়েতে চিন্তা করলে ও সেই ভাবে পড়াশোনা করলে খুব ভাল হয়।
১৪। Main পরীক্ষায় কটি পেপার থাকে? মোট নাম্বার কত হয় প্রত্যেকটা পেপারের?
মেন পরীক্ষায় মোট ৬ টি কম্পালসারি পেপার হয়, প্রতিটি পেপার ২০০ নাম্বারের। এর মধ্যে পেপার -১ বাংলা/ হিন্দী/উর্দ্ধু/ নেপালী/ সাঁওতালী এর মধ্যে যেকোনো একটির উপর হয়, পেপার-২ ইংরাজি,
পেপার-৩ বা জেনারেল স্টাডিস-১ ভারতের ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল এর উপর হয়।
পেপার-৪ বা জেনারেল স্টাডিস-২ বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি, পরিবেশ, সাধারণ জ্ঞান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর উপর হয়।
পেপার-৫ ভারতের সংবিধান, ভারতের অর্থনীতি এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এর কার্যাবলী এর উপর হয়।
পেপার-৬ পাটীগণিত ও রিজনিং এর উপর হয়।
পেপার ১ ও পেপার ২ অর্থাৎ বাংলা ও ইংরাজি ডেস্ক্রিপাটিভ ধরণের হয়। বাকি পেপারগুলি MCQ, এই চারটি MCQ পেপারের ক্ষেত্রে negative মার্কিং আছে।
A ও B গ্রুপের জন্য এই ৬ টি কম্পালসারি পেপারের সাথে আরো দুটি পেপার পরীক্ষা দিতে হয়, সেই দুটি পেপার হয় একটি ঐচ্ছিক বিষয়ের উপরে। দুটি পেপারে মোট ৪০০ নাম্বার থাকে।
শুধুমাত্র C ও D গ্রুপের জন্য পরীক্ষা দিলে অপশনাল বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
১৫। প্রশ্ন ডেসক্রিপটিভ না অবজেক্টিভ?
উত্তরঃ বাংলা ও ইংরাজি ডেসক্রিপটিভ, বাকি চারটি অবজেক্টিভ।
১৬। Objective পেপারের জন্য short question পড়বো না topic অনুযায়ী পড়বো? কোনটা বেশি সুবিধাজনক হবে?
উত্তরঃ Objective পেপারের জন্য কেবল মাত্র শর্ট কোশ্চেন পড়লে কিন্তু কনসেপশন ক্লিয়ার হবেনা। তাই টপিক অনুযায়ী পড়তে হবে। আর একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন প্রিলিমিনারীর প্রশ্নে ইংরাজির পাশাপাশি বাংলা তর্জমা দেওয়া থাকে কিন্তু মেন এর প্রশ্ন কেবলমাত্র ইংরাজিতেই হয় তাই মেন এর জন্য ইংরাজি ভাষায় লেখা বই পড়লে প্রশ্ন বুঝতে ও MCQ এর উত্তর করতে সুবিধা হয়। তবে পাঠ্য বই থেকে টপিক অনুযায়ী পড়ার পর ঐ চাপ্টারগুলির শেষে দেওয়া MCQ গুলি সলভ করতে হবে এবং ইংরাজি ভাষায় ওই বিষয়গুলির উপর MCQ প্র্যাকটিস করতে হবে।
১৭। ডেসক্রিপটিভ পেপারগুলির নাম্বার ভাগ কেমন? নেগেটিভ মার্কিং হয় কি? টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করবো?
উত্তরঃ ডেসক্রিপটিভ পেপারগুলি হল বাংলা, ইংরাজি এবং অপশনাল।
কম্পালসরি বাংলাতে পত্র লেখা ( ১৫০ শব্দে), প্রতিবেদন লেখা (২০০ শব্দে), সারংশ রচনা করা, কম্পোজিশন অর্থাৎ একটি অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়া থাকে সেখান থেকে উত্তর লিখতে হয় এবং একটি ইংরাজি অনুচ্ছেদের বঙ্গানুবাদ করতে হয়। প্রতিটিতে ৪০ নাম্বার করে মোট ২০০ নাম্বার থাকে।
কম্পালসারি ইংরাজিতে লেটার লেখা (১৫০ শব্দে), রিপোর্ট (২০০ শব্দে), সারংশ লেখা, একটি ডায়ালগ রচনা করা বা কম্পোজিশন অর্থাৎ প্যাসেজ থেকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং বাংলা থেকে ইংরাজিতে অনুবাদ করা।
প্রতিটি ক্ষেত্রে ৪০ নাম্বার করে মোট ২০০। সময় থাকে প্রতিটি পেপারে ৩ ঘণ্টা করে। যেহেতু শব্দসীমা বেঁধে দেওয়া আছে তাই খুব একটা সময়ের ক্রাইসিস হয়না। প্রেসি লেখার জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন আলাদা করে ঘরকাটা শীট সরবরাহ করে থাকে সেই শীটেই প্রেসি লিখতে হয়।
ডেসক্রিপটিভ পেপার বাংলা ও ইংরাজির ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও লেটার লেখার সময় কাল্পনিক নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করতে হয় কারণ এক্ষেত্রে আইডেন্টিটি ডিসক্লোজ করলে ১০% নাম্বার কাটা যাবে। অর্থাৎ নেগেটিভ মার্কিং এক্ষেত্রেও আছে।
টাইম ম্যানেজমেন্ট খুব বেশি মাত্রায় কাজে লাগে অপশনাল সাবজেক্ট গুলির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঐচ্ছিক বিষয়ের প্রশ্ন সবই ডেসক্রিপটিভ হয়। শব্দসীমাও কিছু বলে দেওয়া থাকে না। তবে লেখার সময় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য কত সময় তুমি ব্যয় করতে পারবে তার একটা হিসাব মনে মনে করে নিতে হবে। বাংলা, ইংরাজি ও অপশনাল এই সব বিষয়গুলির ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে পুরানো প্রশ্নপত্র থেকে ঘড়ি ধরে উত্তর লেখার অভ্যাস করা দরকার।
১৮। অপশনাল বিষয় তো অনেকগুলি থাকে কোন বিষয়ে বেশি নাম্বার ওঠে?
অপশনাল পেপার ৩৭ টি আছে এর মধ্যে Anthropology, Sociology, History, Psychology, Pali, Geography, Bengali এগুলি জনপ্রিয়। নাম্বার কেমন উঠবে সেটা পরীক্ষার্থীর উপর নির্ভর করে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে RTI করে পরীক্ষার্থীরা মাঝেমাঝে জানতে চায় কোন সাবজেক্টে কত নাম্বার সবচেয়ে বেশি উঠেছে? ২০১৩ সালের এরকম একটি প্রশ্নের উত্তরের কপি সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের নজরে এসেছিল সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে

মূলত স্কোরিং বিষয় গুলি হল Anthropology, Veterinary Science, Psychology, Pali, Geography, Zoology, Economics, Urdu, Agriculture ইত্যাদি। তবে নিজের স্নাতক স্তরের বিষয়ে ভাল দখল থাকলে সেই বিষয় অবশ্যই নেওয়া উচিৎ।
১৯। অপশনাল পেপার ফর্ম ফিল আপ করার সময় সিলেক্ট করতে হয়, মেন এর আগে তা বদলাতে পারবো? প্রসেস কি?
উত্তরঃ ফর্ম ফিল-আপ এর সময় অপশনাল পেপার সিলেক্ট করতে হয় তা আর মেন এর আগে বদলানো যায়না। সেই কারণে ফর্ম ফিল-আপ এর আগে অপশনাল পেপার টি ঠিক করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সিলেবাস দেখে ও বিগত বছরের প্রশ্ন দেখে অপশনাল পেপার নির্বাচন করতে হয়। নতুন সাবজেক্ট অপশনাল হিসাবে নেওয়ার আগে সেই সাবজেক্টের প্রাথমিক জ্ঞানের কিছু বই সংগ্রহ করে দেখে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবে বিষয়টিতে ইন্টারেস্ট না পেলে সেই বিষয়টি অপশনাল হিসাবে নিলে তুমি ভাল নাম্বার কখনোই পাবে না।
২০। মেন এর ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা পেপারে কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার না টোটালের উপর কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার?
উত্তরঃ মেন এর ক্ষেত্রে প্রতি পেপারে কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার হয়না। মোটের উপর কাট অফ মার্কস অনুযায়ী পার্সোনালিটি টেষ্টে ডাকা হয়।

২১। WBCS এর বেশিরভাগ বই বাংলাতে, ইংরাজিতে বই কম, সেক্ষেত্রে ইংরাজিতে যারা পরীক্ষাদেবে তাদের বই ছাড়া আর কি অপশন আছে?
উত্তরঃ ২০১৪ সালের আগে WBCS এর সিলেবাস সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, পরীক্ষা পদ্ধতিও অন্য রকম ছিল। তখন বাংলাতে বই পড়েও WBCS পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে যেহেতু মেন পরীক্ষায় কেবল মাত্র ইংরাজি ভাষাতেই MCQ এর প্রশ্ন হচ্ছে তাই ইংরাজি মাধ্যমের বই পড়লেই বেশি সুবিধা হবে। সিভিল সার্ভিসের জন্য ইংরাজি মাধ্যমের বিষয়ভিত্তিক যে বই গুলি পাওয়া যায় সেই বইগুলিই সবাই এখন WBCS এর জন্য পড়ে থাকে। পাশাপাশি NCERT এর ক্লাস সিক্স থেকে টেন এর বই সায়েন্স সাবজেক্ট এর ক্ষেত্রে আর ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, পলিটির ক্ষেত্রে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলভ এর পাঠ্যপুস্তক থেকে রিলেভেন্ট টপিক খুব ভাল কাজ দেবে WBCS পরীক্ষায়। বাংলা মাধ্যমের পুরানো সিলেবাসের মাধ্যমিকের পাঠ্য বই সংগ্রহে থাকলে সেগুলিও পড়া যেতে পারে। বই ছাড়াও অনলাইনে প্রচুর স্টাডি মেটেরিয়াল, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর সাইট, ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও আছে। সেগুলিও প্রস্তুতিতে সাহায্য করে।
২২। নাম্বারের ভিত্তিতে যে বিভিন্ন গ্রুপে নিযুক্ত করা হয় সেই গ্রুপ গুলি কিকি?
উত্তরঃ A, B, C ও D
২৩। এই গ্রুপ বিভাজন প্রিলির পর হয় না মেন এর পর?
উত্তরঃ মেন এর পরেই মেন পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বারের উপর ভিত্তি করে ও পরীক্ষার্থীদের পার্সোনালিটি টেষ্ট এর জন্য ডাকা হয়। সেখানে তাদের একটি চয়েজ শীট ফিল আপ করতে হয়। সেই শীটের প্রেফারেন্স অনুযায়ী ও মেন ও পার্সোনালিটি টেষ্ট এর প্রাপ্ত নাম্বার অনুযায়ী গ্রুপ ও সার্ভিস নির্ধারিত হয়।
২৪। গ্রুপ গুলির নির্ধারিত পদ গুলি কিকি?
উত্তরঃ WBCS A গ্রুপে আছে ৯ টি পোষ্ট, এর প্রথমেই আছে WBCS(Exe) মূলত এটিই এই পরীক্ষার সেরা চাকরিগুলির মধ্য অন্যতম। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিয়োগ হয় এই চাকরিতে এবং ২ বছরের প্রশিক্ষণ শেষে বিডিও হিসাবে কাজ করতে হয় একদম গ্রামে গিয়ে। এই চাকরী থেকে প্রোমোশন পেয়ে এসডিও, এডিএম, যুগ্ম সচিব ইত্যাদি হওয়া যায় পরবর্তীতে।
WBCS(Exe) ছাড়াও আরো আটটি সার্ভিসে নিয়োগ হয় এই গ্রুপে সেগুলি হল, কমার্শিয়াল ট্যাক্স সার্ভিস (CTO), স্টাম্প রেভিনিউ সার্ভিস (ADSR), এগ্রিকালচারাল ইনকাম ট্যাক্স সার্ভিস ( AITO), এক্সাইজ সার্ভিস এই চারটি সার্ভিসকে সম্প্রতি একত্রিত করে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেভিনিউ সার্ভিস (WBRS) গঠিত হয়েছে, পরবর্তীতে PSC এর বিজ্ঞাপনে হয়ত WBRS এই নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ফুড সাপ্লায় সার্ভিস (DCFS/SCFS), লেবার সার্ভিস (ALC), কো-ওপারেটিভ সার্ভিস (ARSC/DRCS), এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস (Employment Exchange officer) এই ৯ টি সার্ভিসে নিয়োগ করা হয়।
B গ্রুপে আছে পুলিশ সার্ভিস, ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডন্ট পদে নিয়োগ এর মাধ্যমে চাকরী জীবন শুরু হয়। প্রমোশনের স্কোপ খুব ভাল। ১৩-১৪ বছরের মধ্যেই IPS এ পদোন্নতি হয়।
C গ্রুপে ৭ ধরণের পোষ্ট আছে, জেলর (Chief Controller of correctional services) , জয়েন্ট বিডিও, ল্যান্ড রেভিনিউ অফিসার (SLRS- Gr1), ACTO, CDPO, ACRO, Dy. Ast. Director, Consumer affairs। এই গ্রুপের বেতনক্রম ও পদমর্যাদা A ও B গ্রুপের থেকে অনেকটাই কম। এই গ্রুপে চাকরী পেয়ে চাকরী জীবন শুরু করলে A গ্রুপে প্রোমোশন পেতে ৮-১৬ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। C গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন জেলরের। ACRO বাদে বাকি পোষ্ট গুলির বেতন সমান।
WBCS ডি গ্রুপ নন গেজেটেড, বেতন ও পদমর্যাদা অনেকটাই কম। নন গেজেটেড হওয়ার জন্য এই গ্রুপের জন্য ২১-৩৯ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় বসা যায়। সমবায় পরিদর্শক, পঞ্চায়েত ডেভলপমেন্ট অফিসার, রিহ্যাবিলিটেশন অফিসার পদে নিয়োগ হয় এই গ্রুপের মাধ্যমে। বেতন ক্রম C গ্রুপের থেকেও কম।
২৫। B গ্রুপের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হয় কি?
উত্তরঃ এই ক্ষেত্রে পুরুষের ক্ষেত্রে ১.৬৫ মিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১.৫০ মিটার উচ্চতা থাকা বাঞ্ছনীয়। গোর্খা, গাড়োয়ালি, আসামী ও অন্য উপজাতিদের জন্য উচ্চতার ছাড় আছে। আবেদন করার সময় ফর্মে উচ্চতা লিখতে হয়।
২৬। পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করতে করতে বা চাকরী করতে কি আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি?
উত্তরঃ হ্যা অবশ্যই নেওয়া সম্ভব। এখন অনেকেই গ্রাজুয়েশন করতে করতেও পড়া শুরু করে। পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করার সময় যদি সময় পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই WBCS এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিৎ। চাকরী করতে করতে অনেকেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসে, দেখা গেছে প্রতি বছর যত জন সফল হন তার একটা বড় অংশ চাকরীরত পরীক্ষার্থী থাকে।
২৭। যারা WBCS দেয় তাদের মধ্যে অনেকেই UPSC পরীক্ষাও দিতে চান, এক্ষেত্রে দুটো পরীক্ষার মধ্যে কিছু মিল আছে?
ইউনিয়ন সিভিল সার্ভিসের (UPSC/IAS)ফর্ম ফিলাপ 6 March তারিখে সমাপন হয়েছে । প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে 3 June। তারপর মেন 1 October। আসুন তার আগে জেনে নিই এই পরীক্ষা নিয়ে।
সিভিল সার্ভিস বা ইন্ডিয়ান এডমেনিস্ট্র্যাটিভ সার্ভিস পরীক্ষা ভারত সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের পরীক্ষা ।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাটি নেয় ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)। ইন্ডিয়ান এডমেনিস্ট্র্যাটিভ সার্ভিস (IAS), ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS), ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) সহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষাটি নেওয়া হয়।
পরীক্ষাটি হয় তিনটি ধাপে-প্রিলিমিনারি ,মেন ও পার্সোনালিটি টেস্ট । প্রিলিমিনারি হয় ৪০০ নম্বরের ।
মেন হয় ১৭৫০ নম্বরের এবং পার্সোনালিটি টেস্ট হয় ২৭৫ নম্বরের ।
এই পরীক্ষার জন্য নোটিফিকেশন বের হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ । অনলাইন ফর্মফিলাপ হয়।
ফর্ম ফিলাপের সময় স্ক্যানকরা ছবি ও সইয়ের প্রয়োজন হয়। জেনারেল ও ওবিসি পুরুষ ক্যান্ডিডেটদের ১০০টাকা ফি লাগে । মহিলা আর এসসি (SCs), এসটিদের (STs) জন্য কোনরকম ফি লাগেনা।
এই পরীক্ষায় বসার শিক্ষাগত যোগ্যতা যে কোন বিষয়ে স্নাতক হলেই চলবে । বয়স ২১ বছর থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত (General Candidates)।
এই পরীক্ষার জন্য বসতে গেলে জেনারেল ক্যাটাগরির পরীক্ষার্থিরা সর্বাধিক ৬ বার সুযোগ পায় । আর ওবিসিরা সর্বাধিক ৯ বার ।
এসসি, এসটিরা তাদের নির্দিস্ট করা বয়সের ভিতর যতবার খুশি এই পরীক্ষা দিতে পারে।
প্রিলিমিনারি (Preliminary):
প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি হয় মে-আগস্ট মাসে। রেজাল্ট বের হয় পরের মাসেই মানে সেপ্টেম্বরে । প্রিলিমিনারি ৪০০ নম্বরের(২০০+২০০) পরীক্ষা। দুটি পেপার থাকে ।
General Studies Paper I
General Studies Paper II (Civil Services Aptitude Test -CSAT) ।
দুটি পেপারই অবজেক্টিভ টাইপের ও মাল্টিপল চয়েস টাইপের প্রশ্ন হয় । নেগেটিভ মারকিং থাকে (১/৩)।
দ্বিতীয় পেপারটি কোয়ালিফাইং পেপার । এটির নম্বর মেরিট লিস্টে যুক্ত হয় না। এটিতে কেবল পাশ করতে হয়। ৩৩% নম্বর পেলে তবেই পাশ ধরে নেওয়া হয় আর তারপরেই প্রথম পেপারের নম্বর দেখে মেন পরীক্ষায় বসার জন্য ডাকা হয়।
দুটি পেপারেরই পরীক্ষার সময় ২ ঘন্টা করে মোট ৪ ঘন্টা।
প্রথম পেপারে থাকে ১০০টি প্রশ্ন (২০০ নম্বর ) আর দ্বিতীয় পেপারটিতে থাকে ৮০টি প্রশ্ন (২০০ নম্বর )।
দুটি পেপারের প্রশ্ন ইংরেজি ও হিন্দিতে হয়।
General Studies Paper-I, সিলেবাস:-
Current events of national and international importance, History of India and Indian national movement
Indian and World Geography- Physical, Social, Economic Geography of India and the world
Indian Polity and Governance – Constitution, Political system, Panchayati Raj, Public Policy, Rights issues etc.
Economic and Social development – sustainable development, poverty, inclusion, demographics, social sector initiatives etc.
General issues on Environmental ecology, Bio-diversity and Climate change-that do not require subject specialization
General science
General Studies Paper-II
সিলেবাস:-
Comprehension
Interpersonal skills including communication skills
Logical reasoning and analytical ability
Decision making and problem-solving
General mental ability
Basic numeracy (numbers and their relations, orders of magnitude etc.) (Class X level), Data Interpretation (charts, graphs, tables, data sufficiency etc. – Class X level)
English Language Comprehension skills (Class X level)Questions relating to English Language Comprehension skills of Class X level. (will be tested through passages from English language only without providing Hindi translation)
সিভিল সার্ভিস্ মেন এক্সামঃ-
প্রিলিমিনারিতে পাশ করলেই মেন পরীক্ষায় বসার অনুমতি মেলে । তখন আলাদা করে প্রিলিমিনারি পাশ করা ক্যান্ডিডেটদের মেনের জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে হয়। ২০০টাকা জেনারেল ও ওবিসি পুরুষ দের তখন দিতে হয় । মেন পরীক্ষা পুরোটাই লিখিত হয় । ডিসেম্বর মাসে মেন পরীক্ষা হয়ে থাকে ।
মেন পরীক্ষা ৯টি পেপারের উপর হয় । মেন পরীক্ষা পুরোটাই লিখিত হয় আর নিজ মাতৃভাষায় দেওয়া যায় । কেউ চাইলে বাংলা ভাষায় পুরো মেন পরীক্ষা দিতে পারে।মেন পরীক্ষায় একটি অপসনাল পেপার নিতে হয়।
মেন পরীক্ষার সিলেবাসঃ-
মেন পরীক্ষা হয় মোট ১৭৫০ নম্বরের ।
Paper-A (Compulsory Indian Language, নিজের নিজের পছন্দের ভাষা) – ৩০০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।
Paper-B (English)- ৩০০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।
পেপার A এবং পেপার B কোয়ালিফাইং পেপার । এতে পাশ করতে হয়। মেরিট লিস্টে এই নম্বর যুক্ত হয় না। পেপার ৩ থেকে ৯ এর নম্বর দেখে পার্সোনালিটি টেস্টে ডাকা হয়। কিন্তু পেপার ১ ও ২ পাশ করার পরই।
Paper – I : Essay – ২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।Paper-II: GENERAL STUDIES I – ২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Indian Heritage and Culture, History and Geography of the World and Society.
Paper- III: GENERAL STUDIES II -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Governance, Constitution, Polity, Social Justice and International relations)
Paper IV: General Studies III -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Technology, Economic Development, Bio-diversity, Environment, Security and Disaster Management)
Paper V: General Studies IV -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Ethics, Integrity and Aptitude)
Paper VI : Optional Subject Paper 1-২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।Paper VII : Optional Subject Paper 2-২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
পার্সোনালিটি টেস্টঃ
মেন পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয় জানুয়ারি ফ্রেবরুয়ারিতে। তার কিছুদিন পরেই শুরু হয়ে যায় পার্সোনালিটি টেস্ট। মেন পরীক্ষায় মেরিট লিস্ট দেখে ডাকা হয় পার্সোনালিটি টেস্টে। সেটি হয় ২৭৫ নম্বরের ।
আমরা যদি দেখি WBCS এবং UPSC Civil Service পরীক্ষার সিলেবাসে একই ধরণের বিষয়গুলি থাকছে, UPSC এর ক্ষেত্রে এথিক্স, আর্ট এন্ড কালচার এই বিষয়দুটি বেশি পড়তে হবে। আর WBCS মেন এ বাংলা ও ইংরাজি এবং অপশনাল বাদে বাকি পেপারগুলি MCQ কিন্তু UPSC তে মেন এর সব পেপারই ডেসক্রিপটিভ। তাই দুটি পরীক্ষার জন্য একই সাথে প্রিপারেশন নেওয়া সম্ভব।
২৮। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কোচিং রয়েছে সেখানে WBCS পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুকরা যেতে পারে, এই প্রতিষ্ঠান গুলি কতটা সাহায্য করতে পারে?
উত্তরঃ কোচিং প্রারম্ভিক পর্যায়ে সাহায্য করতে পারে। একজন পরীক্ষার্থী নিজে থেকে সিলেবাস, প্রশ্ন ইত্যাদি ঘেঁটে কি কি বইয়ের কি কি চ্যাপ্টার পড়তে হবে সেসব ঠিক করতে গেলে একটু সময় বেশি লেগে যায়। সেই সময় যদি WBCS পরীক্ষা দিয়ে সফলতা পেয়েছে এমন কেউ একটু সাহায্য করে সেটা প্রস্তুতি নিতে অনেকটা সাহায্য করে। তাছাড়া অপশনাল চয়েজ করার ক্ষেত্রেও অনেকটা দিশা পাওয়া যায়। যে সব কোচিং সেন্টার WBCS এর জন্য প্রশিক্ষণ দেয় সেখানে এই ধরণের সাহায্য পাওয়া যায়। তাছাড়া এখন প্রিলি ও মেন এর কম্পালসারির অনেকটাই MCQ তাই কোচিং সেন্টারে মক টেষ্ট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এখন অনেকেই কোচিং না নিয়েও সাফল্য পাচ্ছে। ঠিকঠাক ভাবে বাড়িতে বসে পড়লে এই পরীক্ষায় সাফল্য না পাওয়ার কিছু নেই। স্মার্ট স্টাডি সাথে হার্ড লেবার এই দুটোই এই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি। এখন যেহেতু প্রায় সবটাই MCQ তাই সাজেশন করে পড়লে চলবে না। কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতেই হবে। যেহেতু সাজেশন করে পড়ার জাইগাটা অনেকটা কমে এসেছে তাই আমি বলবো কোচিং এর গুরুত্ব তাই অনেক কমে এসেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শুরুতে একবছর পরিক্ষার্থীরা কোচিং এ গিয়ে কি কি পড়তে হবে বুঝে নেওয়ার পর বাড়িতে বসেই পড়ে। এই বুঝে নেওয়ার ব্যাপার টা কোনও তরুণ আধিকারিক বা সদ্য পরীক্ষায় WBCS পরীক্ষায় পাশ করেছে এমন কারো কাছ থেকেও সম্ভব। এখন ইউটিউবে ও অন্য সোস্যাল মিডিয়াতেও আধিকারিকেরা এই ধরণের প্রারম্ভিক জ্ঞান শেয়ার করে থাকেন। এগুলো থেকেও এই প্রাথমিক জ্ঞান পাওয়া যেতে পারে।
২৯। এই প্রতিষ্ঠান গুলি অনেকটা খরচ সাপেক্ষ, যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে না তারা কিভাবে এগোবে?
উত্তরঃ বিগত বছরের ফলাফল গুলি বিচার করে দেখা যাচ্ছে অনেক ছেলেমেয়েই এই কোচিং এর বাইরে থেকে চাকরী পাচ্ছে। তাগেই বলেছি এখন বিভিন্ন জেলায় কর্মরত তরুন আধিকারিকেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় সোস্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে চলেছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ফ্রি ওয়ার্কশপ আয়োজন করে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন জেলায় ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও এগরায়, বর্ধমান জেলার কালনা ও কাটোয়ায়, বীরভূমের সিউড়ি ও রামপুরহাটে (IDEA নামক প্রতিষ্ঠান) এই পরীক্ষার জন্য অবৈতনিক কোচিং চালু আছে। পুরুলিয়ার সিধু কানু বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় মাসিক ১০০ টাকার বিনিময়ে WBCS এর কোচিং চালু করতে চলেছে। তবে প্রথমেই বলেছি আবারও বলছি এখন MCQ ধরণের প্রশ্নে কোচিং সেন্টারের খুব বেশি ভূমিকা নেই। নিজেকে টপিক অনুযায়ী পড়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাড়িতে বসে পড়ে খুব সহজেই এই চাকরী পাওয়া সম্ভব। বাজারে এখন খুব ভাল ভাল বই পাওয়া যায় সিভিল সার্ভিসের জন্য তার সাথে NCERT এর বই ফলো করলে ব্যাপারটা আরও বেশি সহজ হবে।
৩০। মেন এর রেজাল্ট বেরনোর কতদিন পর পার্সোনালিটি টেষ্ট হয়?
উত্তরঃ মেন পরীক্ষায় যারা ভাল নাম্বার পায় তারা পার্সোনালিটি টেষ্ট এর জন্য ডাক পেয়ে থাকেন। প্রথমে A গ্রুপের পার্সোনালিটি টেষ্টের ডাকা হয়। রেজাল্ট বেরোনর ১৫-২০ দিন পর শুরু হয় পার্সোনালিটি টেষ্ট। এক দিনে ১৪-২০ জনকে ডাকা হয় তাই বেশ কিছুদিন ধরে এই টেষ্ট চলে। মোটামুটি ৩৫০-৪০০ জন ডাক পায় এই ক্ষেত্রে। এর মধ্যে থেকে A গ্রুপে সব মিলিয়ে ১২০-১৪০ জনের মত চাকরি পায়। এর পর B গ্রুপের জন্য আলাদা ইন্টারভিউ এর আয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে A গ্রুপের ইন্টারভিউ এর পরপরই B গ্রুপের ইন্টারভিউ হয়ে থাকে। C ও D গ্রুপের জন্য আলাদা ইন্টারভিউ এর আয়োজন করা হয়। তবে যারা A গ্রুপের জন্য ইন্টারভিউ দেওয়ার পর চাকরী পেলেন না তারা আর নতুন করে ইন্টারভিউ এর মুখোমুখি হবেন না। পুর্বের ইন্টারভিউ এ প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে C বা D গ্রুপে বিবেচিত হবেন। A ও B গ্রুপের জন্য পার্সোনালিটি টেষ্টের নাম্বার ২০০ করে, c গ্রুপের জন্য ১৫০ ও D গ্রুপের জন্য ১০০।
৩১। পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেব?
উত্তরঃ আগেই বলেছি পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য বেশ ভাল নাম্বার ধার্য্য আছে এই পরীক্ষায়। তাই এই পর্যায়টির জন্য প্রস্তুতি খুব ভাল ভাবে নেওয়া দরকার। A ও B গ্রুপের ক্ষেত্রে ৫ জন করে বোর্ড মেম্বার এর বোর্ড হয়। সাধারণত বাংলা ও ইংরাজি দুটি ভাষাতেই ইন্টারভিউ হয়। প্রশ্ন যদি ইংরাজিতে হয় তাহলে উত্তরও ইংরাজিতেই দেওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাতে হলে বাংলায়। তবে ভাষাগত খুব সমস্যা হলে অনুমতি নিয়ে বাংলায় উত্তর দেওয়া যেতে পারে। ইন্টারভিউ এর জন্য কিছু কমন টাইপের প্রশ্ন ধরা হয়ে থাকে, যেমন Introduce yourself, what is your hobby? কেন তুমি এই চাকরীতে আসতে চাইছ, কেন নিজের সাবজেক্ট অপশনাল হিসাবে নিচ্ছনা?, কেন ব্যবসা করনি? গ্রাজুয়েশনের পর এত দিন কি করছিলে? সিভিল সার্ভিসে কোন পদটি তোমার পছন্দ এবং কেন? বিডিও হলে কি কি করবে? আর কিছু হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন করা হয়, তুমি এই জাইগায় থাকলে কি করতে? রুরাল ডেভলপমেন্ট কি ঠিকঠাক হচ্ছে? যদি না হয় কেন হচ্ছে না? নিজের জেলার ও এলাকার ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর থেকে অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন, বর্তমানে সরকারের প্রকল্পগুলি, সংবিধান ও অর্থনীতির কিছু অতিপরিচিত সংজ্ঞা যেমন habeas corpus(বন্দীপ্রতক্ষীকরণ), ব্যাঙ্ক রেট ইত্যাদি, সংবিধানের প্রস্তাবনা ইত্যাদি ধরা হয়। অতিপরিচিত সংজ্ঞা গুলি ইংরাজিতে বলতে পারার মত করে বুঝে পড়ে নেওয়া দরকার। পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য একটা খাতা বানালে খুভ ভাল হয়। সেই খাতাতে নিজের মত করে ইংরাজি ও বাংলায় প্রশ্নের উত্তরগুলি লিখে লিখে তৈরি করলে খুব সুবিধা হয়। আর বন্ধুদের কাছে বা দাদা-দিদিদের কাছে মক পার্সোনালিটি টেষ্ট দিতে পারলে খুব ভালো হয়। কেউ না থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কনটেম্পোরারি ইস্যু নিয়ে বললেও ভয় কাটে। মনে রাখতে হবে পার্সোনালিটি কিন্তু খুব বেশি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তোমার মধ্যেই তোমার ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে। মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কাছে একবার জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি কিভাবে পাথর দিয়ে এত সুন্দর মূর্ত্তি বানান? উত্তরে তিনি বলেছিলেন এই মূর্ত্তি পাথরের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, তিনি কেবল কিছু বাড়তি অবাঞ্ছিত অংশ বাদ দিয়েছেন মাত্র। তোমার মধ্যেই তোমার ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে সেটাকে খুঁজে বার করার দায়িত্ব তোমার। অনেক ছেলেমেয়েকে দেখেছি এই টেষ্ট-এ খুব কম নাম্বার পাওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষায় ভাল নাম্বার পেয়েও ভাল চাকরি পাচ্ছেনা আবার অনেকেই লিখিত পরীক্ষায় কম পেয়েও পার্সোনালিটি টেষ্টের জোরে ভাল চাকরী পেয়ে যাচ্ছে। মনে রাখবে এখানে তথ্য জানতে চাওয়া হয় না, কারণ তুমি কি জানো আর কি জানো না সেটা পরীক্ষাতেই জানা হয়ে গেছে। এখন তুমি পরিস্থিতি কেমন করে ট্যাকেল কর সেটা দেখার পরীক্ষা। এখানে কিছু অজানা থাকলে তুমি সেটা জানোনা সেটা স্বীকার করাই ভালো। ভুল উত্তর একদম দেওয়া উচিৎ নয়। সেক্ষেত্রে একটি ভুল উত্তর থেকে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে। একদম ঘাবড়ে যাওয়া চলবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে ২০-৩০ মিনিট ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে পারলেই জেনে রেখো দিনটা তোমার।
৩২। পার্সোনালিটি টেষ্ট-এ যদি কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারে তাকে কী পরের বছর পুনরায় প্রিলি ও মেন দিতে হবে?
উত্তরঃ হ্যা, অবশ্যই দিতে হবে। প্রতি বছর নতুন করে পরীক্ষা হয়। যে পরীক্ষা হয়ে গেল তার আর কোনো গুরুত্ব থাকছে না যদি না তুমি সেটাতে চূড়ান্ত সফল হও।
৩৩। মেন পরীক্ষায় অপশনালের উত্তর কি বাংলাতে লেখা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মেন পরীক্ষাতে অপশনালের উত্তর বাংলা বা ইংরাজি যেকোনো ভাষাতে লেখা যায়। তবে একই পেপারে একটি প্রশ্ন বাংলা ও অন্য প্রশ্ন ইংলিশে লেখা যায়না।
৩৪। পড়ার শিডিউল কেমন হবে?
উত্তরঃ পড়ার শিডিউল নিজেকেই তৈরি করতে হবে। মনে রাখবে অনেকগুলি বিষয় আছে এই পরীক্ষায়। অনেকেই এমন আছেন যারা নিজেদের ভাললাগার বিষয়গুলিতে বেশি সময় দিয়ে ফেলেন এবং নিজের ডিসকোমফোর্ট জোনে খুব কম স্টাডি করেন। এটা একদম ঠিক নয়। কোনো একটি সাবজেক্টে খুব বেশি নাম্বার দিয়ে অন্য একটি পেপারের কম নাম্বার মেকআপ করা খুব কঠিন। তাই প্রতি সপ্তাহে পড়ার একটা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করে নেওয়া খুব দরকার। সাধারণত প্রতিটা সাবজেক্ট প্রত্যেক সপ্তাহে বা প্রত্যেক মাসে যেন সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়া হয়। কত ঘন্টা করে পড়বে এটা তোমার ক্যাপাসিটির উপর নির্ভর করছে। মোটামুটি প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা পড়া দরকার।
৩৫। কি কি বই পড়বো?
উত্তরঃ এখন প্রচুর বই বাজারে পাওয়া যায়। বাংলা ও ইংরাজি মিলিয়ে এই বই গুলোর নাম বলা হল তবে এর বাইরেও অনেক ভাল বই আছে,
ভারতের ইতিহাসঃ- স্বদেশ সভ্যতা ও বিশ্ব – জীবন মুখ্যোপাধ্যায়
Indian History – 3 part by protijogita Darpan
0r Modern Indian Histrory – By Rajiv Ahir, Sprectum Publication. And Indian ancient & Mediaval period – By Punam Dalal Dhaiya.
Or Indian History by- Krishna Reddy.
ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল – কার্ত্তিক চন্দ্র মন্ডল
Know your State- West Bengal – Arihanth Publication
Indian Geography – by Majid Hossein
ভারতের শাসন ব্যবস্থা – অনাদি কুমার মহাপাত্র । Indian Polity – M. Lakshmikanth
Indian Ecomomy – Ramesh singh or Indian Economy – Sanjiv Verma. ভারতের অর্থনীতি- জয়দেব সরখেল
মাধ্যমিক স্তরের পুরানো সিলেবাসের জীবন ও ভৌতবিজ্ঞান বই। NCERT এর ক্লাস সিক্স থেকে সেকেন্ডারী স্তর পর্যন্ত বিজ্ঞান বই। And/or – Encyclopaedia of General Science – Arihanth Publication.
Higher English Grammar – by P.K. Dey Sarkar or S.P. Bakshi
একটি মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর ইংরাজি ও একটি বাংলা পত্রিকা প্রতি মাসে পড়তে হবে।
বাংলা ও ইংরাজি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ও গুরুত্বপূর্ণ টপিক পড়তে হবে। এবং কিছু টপিকের বাংলা ও ইংরাতি অনুবাদ করা প্রাকটিস করতে হবে, এতে করে বঙ্গানুবাদ ও ইংরাজিতে ট্রান্সলেশন করা রপ্ত হয়ে যাবে। পরীক্ষাতে রিপোর্ট ও প্রতিবেদন লিখতে দেওয়া হয়, গুরুত্বপূর্ন টপিকগুলো বাংলা ও ইংরাজি পত্রিকাথেকে পড়ে সেই পেজ গুলো কেটে রেখে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে পরীক্ষার সময় রিভিশনে সুবিধা হবে।

24/10/2017

পুরুষ
স্কুলজীবনে কোনোদিনই পড়াশোনায় ভালো ছিলাম না। চিরকাল ওই নাম্বারের রেঞ্জ ছিলো ওই ৬০%-৬৫% এর মধ্যেই।জীবনের সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট হলো মাধ্যমিকে, ২০০৯ সালে ৭২% পেলাম।অংকে ৭৬, জীবনবিজ্ঞানে ৭৬, ভৌতবিজ্ঞানে ৭৪।নিজের স্কুলে অনেক কষ্টে সায়েন্স জুটলো।১১-এ জীবনের প্রথম প্রেম করা শুরু করলাম।কেমেস্ট্রি ব্যাচে একসাথে পড়তাম। তারই মাঝে লুকিয়ে দেখা করা, ফুচকা খাওয়া ইত্যাদি। কলকাতার মতো বড়ো শহরে আমি বড়ো হইনি,তাই প্রিন্সেপ ঘাট-ভিক্টোরিয়া-রবীন্দ্র সরবোর গিয়ে নিশ্চিন্তে প্রেম করার সুখটাও ছিলোনা।কিন্তু পড়ার ফাঁকে হালকা করে হাত ধরা, টিউশন থেকে একসাথে সাইকেল করে ফেরা, এগুলোর মধ্যেই আমাদের প্রেম সীমাবদ্ধ ছিলো। ১১টা বেশ কাটলো...
যাকগে, অনেক কাব্য হলো।এবার একটু কঠিন গদ্য শোনাই।
১১-এর রেজাল্ট হলো জীবনের সবচেয়ে জঘন্য রেজাল্ট, ৫১%।এদিকে আমার প্রেমিকা ছিলো পড়াশোনায় দারুন ।সে অলরেডি মাধ্যমিকে ৮৮% পেয়ে এসেছে।১১ এও তার রেজাল্ট খুব একটা খারাপ হয়নি। তবে তার ১১-এ ৭১% পেয়েও কান্নাটা কোনোদিন ভুলবো না( তার এই নাম্বারটাই ছিলো জীবনের সবচেয়ে খারাপ নাম্বার। আর আমার মধ্যমিকে ৭২% ছিলো জীবনের সবচেয়ে ভালো নাম্বার।কাজেই আশা করি, পাঠক পাঠিকা -রা অনায়াসেই বুঝতে পারছেন আমি তার চেয়ে কতোটা গবেট ছিলাম)।তো যাইহোক, সে চাইতো তার বয়ফ্রেন্ড যেন পড়াশোনায় দুর্দান্ত হোক, কিন্তু আমি যে হাঁদারাম সেটা তাকে বোঝাই কীভাবে? মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি ভর করলো। সুন্দর করে কম্পিউটারে এডিট করে রেজাল্ট বানালাম, সেখানে আমার নাম্বার ৮১% দেখে কি আমার প্রেমিকার মুখে খুশি যেন আর ধরছিলো না।
যাই হোক, ১২ এর পড়াশোনা শুরু হলো। ভাবলাম ১১এর মতো ভুল আর এবার করবো না। কিন্তু সারাটা বছর যে কোনদিক থেকে কেটে গেলো বুঝলামই না। ১২ এ ফেল করলাম।হ্যা,ক্লাস ১২-এ ফেল।ফেল করলাম ফিজিক্সে আর কেমেস্ট্রিতে।ফিজিক্সে থিওরিতে ৮০তে ১৯, কেমেস্ট্রিতে ১৮, ম্যাথে ৩০।সবমিলিয়ে জঘন্য নাম্বার।
রেজাল্টটা দেখার পর মুহূর্তে চারপাশটা অন্ধকার হয়ে গেলো।কিছুক্ষণ পর আমার ব্রিলিয়ান্ট প্রেমিকার ফোন। তার নাম্বার ৪৪৬,প্রায় ৯০%।আর আমি ফেল।২বছর ধরে তাকে বলা মিথ্যের পাহাড়টি কেমন করে যেন ধসে পড়লো।সে বুঝে গেলো যে, যে আমি কোনোদিনই আহামরি রেজাল্ট করিনি, ১১ এর রেজাল্টটাও ধাপ্পা ছিলো ,তার কাছে আমি একটা নকল মুখোশ পরে ছিলাম ,এটা তার বুঝতে আর বাকি রইলো না।
একেএকে খবর পেলাম সব বন্ধুরা মোটামোটি ভালোই নাম্বার পেয়েছে। কেউ ৭৫%, কেউ ৮০% আবার কেউ ৮৫%। বাবা-মার লজ্জায় মাথা কাটা গেলো।
সেদিন রাতেই প্রেমিকা বললো “ দেখ।যেটা করেছিস, খুব ভুল করেছিস। তুই আবার পড়ে আবার পরীক্ষা দে। আমি তোর পাশে সবসময় আছি”। ঠিক তার পরদিনই সে বললো ,” দেখ ,তোর সাথে আমার আর রিলেশন রাখা সম্ভব না। মা শুনে খুব খারাপ পেয়েছে, বন্ধুরাও হাসাহাসি করছে। আমি এগুলো সহ্য করতে পারছি না।আমি ব্রেকাপ চাই”।
সেই যে ব্রেকাপ হলো, সেই যে ফোনে আমাকে ব্লক করা হল, সে যে ফেসবুকে ব্লক করা হল, আজও আমি ব্লক। আজও সেই একই অবস্থায়...
পাক্কা দুমাস বাড়ি থেকে বের হইনি।কিছু খেতেও পারতাম না। মাঝে মাঝে মনে হতো নিজেকে শেষ করে দেই।কিন্তু আত্মহত্যা করতেও তো সাহস লাগে, সেটাও আমার ছিলো না।বাবা-মা সারাক্ষণ কথা শোনাতো, প্রেমিকা ততদিনে ছেড়ে তার এক সিনিয়ারের সাথে রিলেশনে চলে গেছে...এভাবেই চলছিলো জীবন।
একে একে সব বন্ধুরা কলকাতায় এসে গেলো, তাদের প্রতিদিনের ফেসবুকের পোস্ট দেখে আমি আরও হীনমন্যতায় ভুগতে লাগলাম। বছরটা ছিলো ২০১১, আমার বাবা-মার মধ্যে সম্পর্ক কোনোদিনই ভালো ছিলো না, সেই বছরেই আবার তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।উচ্চমাধ্যমিক ফেল-ব্রেকাপ-বাবা মায়ের ডিভোর্স, সবমিলিয়ে জীবনটাকে যেন নরকের চেয়েও কঠিন লাগছিল।
যাই হোক, ২০১২তে সবগুলো বিষয়ে আবার উচ্চমাধ্যমিক দিলাম।প্রস্তুতি আগেরবারের মতোই ছিলো, পাশ না করার মতো। টুকলি করে প্রতিটা বিষয়ে (বাংলা ও ইংরেজি বাদে)পাশ করেছিলাম।নম্বর আসলো ৫৯.৮%। জয়েন্ট দিলাম, র‍্যাংক হলো ৬৪৮৭০।
কোনো ইঞ্জিলিয়ারিং কলেজে ডোনেশন ছাড়া চান্স পাবোনা বাবা সেটা আগেই ধরে রেখেছিলো। তাই যথারীতি কলকাতায় একটা বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৩.৫লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে বাবা ভর্তি করালো।
কলকাতার মতো বড়ো শহরে আসলাম, মেসজীবন শুরু হলো। সঙ্গী হলো সিগারেট-মদ।তার সাথে শুরু হলো মেয়েবাজি। একদিন এর সাথে ফিজিকাল হওয়া ,তো আরেকদিন ওর সাথে। পড়াশোনার পরিমাণ আগের চেয়েও গেলো কমে। ফার্স্ট সেমেস্টারে ৫টা সাবজেক্টের মধ্যে ৪টেই সাপ্লি আসলো, সেকেন্ড সেমেস্টারের ৫টা সাবজেক্টের মধ্যে ৩টে সাপ্লি, থার্ড সেমে ৬টার মধ্যে ৫টা সাপ্লি, ৪র্থ সেমে ৫টার মধ্যে ৩টে সাপ্লি।
৪র্থ সেমের ছুটিতে বাড়ি ছিলাম তখন।একদিন হঠাৎ করেই দেখি তার ফোন। প্রায় আড়াই বছর পর।হ্যালো বলতেই তার খিলখিল করে তাচ্ছিল্যে ভরা হাসি।বললো “ কি রে? কেমন আছিস? শুনলাম তোর বাপ-মার নাকি ডিভোর্স হয়েগেছে? আর তুই নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং এও ফেল করে যাচ্ছিস? খুব ভালো করেছি তোকে ছেরে!আমার বয়ফ্রেন্ড তোর চেয়ে হাজারগুনে ভালো পড়াশোনায়”। এসব কথা শুনে আমার মুখ দিয়ে নিজের অজান্তেই একটা কথা বেরিয়ে গেলো, বললাম “আজ ভাবছিস ব্রেকাপ করে ভালো করেছিস, একটা দিন এমন আসবে যে ভাববি কেন ব্রেকাপটা করতে গেলাম? ওর পাশে থাকলেই তো পারতাম!”
কথাগুলো যে কেন বলেছিলাম নিজেও জানতাম না, কেবল মনে হলো জীবনে কিছুই করতে পারিনি এখনো অব্দি, এবার কিছু একটা করে দেখাতে হবে। সামনে ছিলো ৫ম সেম। মাথায় এখনো ৯খানা সাপ্লির খাঁড়া। পরদিন থেকেই নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আস্তে আস্তে পড়াশোনা শুরু করলাম। GATE এর জন্যে প্রিপারেশান শুরু করলাম (গেট পরীক্ষার ব্যাপারে যাদের আইডিয়া নেই তাদের জন্যে বলি, এটা মেইনলি ইঞ্জিনিয়ারিং এর এম.টেকের প্রবেশিকা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ভালো র‍্যাংক করলে বিভিন্ন IIT এবং IISc( Indian institute of Science) -এ এম.টেক করা যায়, এছাড়া বিভিন্ন PSU( Public Sector Unit) বা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রথিস্থান যেমন ISRO( Indian Space Research Organization) , BAARC( Bhabha Atomic Research Center ), IOCL( Indian Oil Corporation Limited, DRDO ( The Defence Research and Development Organization ), ONGC ( Oil and Natural Gas Corporation Limited) ইত্যাদিতে লোভনীয় চাকরি পাওয়া যায়)।প্রথমে কিছুই জানতাম না গেট খায় না মাথায় দেয়, আস্তে আস্তে জানলাম, শিখলাম, পড়াশোনা শুরু করলাম। ৫ম সেমে আমাকে টোটাল ১৪টা পেপার দিতে হলো(৪টে ১ম সেমের সাপ্নি, কারণ আমার প্রথম সেমের সাপ্লির পরীক্ষাতেও রিসাপ্লি এসেছিলো। ৩য় সেমের ৫টে সাপ্লি আর রেগুলারের ৫ম সেমের ৫টে পেপার)।সবগুলোতে সন্মানজনক সি.জি.পি.এ এলো। ৩য় ইয়ারেই আমি মেস পালটে ফেলি, নিজের ইচ্ছেতেই খানিকটা আইসোলেটেড হয়ে পরি, মেসটাও চেঞ্জ করে অন্য একটা জায়গায় সিংগেল রুমে থাকতে শুরু করি। শুরু হয় কঠোর পরিশ্রম।কলেজে শুধু ৩ ঘন্টার জন্যে ল্যাব করতে যেতাম, বাকি সময়ে আমার শুধু ৩টে কাজ ছিলো, পড়া,খাওয়া আর ঘুমোনো।রাত সাড়ে ৳টে অব্দি পড়তাম, ৪ঘন্টা ঘুমিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় উঠে আবার পড়া, রাতে মুড়ি-তেল-পেয়াজ দিয়ে খেতাম কারন, রাতে ভাত খেলে আমার ঘুম পেয়ে যেতো। এভাবে চলেছে দিনের পর দিন,মাসের পর মাস।মাঝেমাঝে মনে হতো ছেড়ে দেই, ওতো কঠিন পরীক্ষা কি আমি পাশ করতে পারবো? তারপরই কানে ভেসে আসতো এক্সের সেই তাচ্ছিল্যযুক্ত হাসি, এবং হাজারটা মুখ থেকে হাজারবার নির্গত হওয়া “ তোর দ্বারা কিছু হবেনা”। তারপরই উঠে বসতাম, ঘাড় গুঁজে শুরু করে দিতাম পড়া।
এভাবেই আসলো ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস, আমার GATE পরীক্ষা। পরীক্ষা যতোটা আশা করেছিলাম, তার চেয়ে হাজারগুনে ভালো হলো। মার্চের শেষে রেজাল্ট বেরোলো। আমার র‍্যাংক গোটা দেশে ২৪। হ্যাঁ, উচ্চমাধ্যমিক ফেল করা ,ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ১৫টা সাপ্লি খাওয়া স্টুডেন্টের গেটে র‍্যাংক ২৪। যেই মুহূর্তে নিজের র‍্যাংকটা ল্যাপটপের স্ক্রিনে দেখতে পেলাম সেই মুহূর্তে যেন আবার চারপাশটা অন্ধকার হয়ে উঠলো। ঠিক উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করার পর যেমনটা হয়েছিলো।ফ্ল্যাশব্যাকে আসতে লাগলো উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের পর মার কান্না, নানা দিক থেকে ছুটে আসা বিদ্রূপ, এক্সের তাচ্ছিল্য আরও অনেক কিছু।
IIT-BOMBAY , IIT-KANPUR, IIT- DELHI তে আমি এম.টেকের সুযোগ পাই। এছাড়া IOCL, DRDO ,ISRO তে চাকরি পাই। সেন্ট্রালের চাকরি করবো না IIT তে এম.টেক করবো সেটা নিয়ে ভীষণ ধন্দে ছিলাম। সবশেষে IIT তে এম.টেক ছেড়ে আমি এখন ISRO-তে গড়েদ-বি সায়েনটিস্ট পদে নিযুক্ত। হ্যাঁ, একজন উচ্চমাধ্যমিক ফেল করা, বি.টেকে ১৫খানা ব্যাক পাওয়া সুডেন্ট এখন ইসরো্র বিজ্ঞানী। রূপকথার মতো শুনতে লাগছে না? হ্যাঁ, রুপকথা তো আমাদের চারপাশেই ঘটে, না ভুল ভুললাম। ঘটে না, তাদেরকে ঘটানো হয়।
অনেক কথা বাদ পড়ে গেলো। তবুও দেখছি লেখাটা অনেকটাই বড়ো হয়ে গেলো। যাকগে, যারা আমার মতো পড়াশোনায় তাদেরকে কিছু জ্ঞান নিয়ে কনফেশনে ইতি টানি।
১) যাদের মাধ্যমিক\উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, বা ফেল করেছিস ,তারা জেনে রাখ জীবন এখানেই শেষ নয়।কয়েকবছর পর যদি তুই ভালো জায়গায় যাস তাহলে কেউ তোকে জিজ্ঞেস করবে না যে ,তোর ১২ এর রেজাল্ট কেমন ছিলো?আমার অনেক বন্ধু মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করেও এখন বসে আছে।
২) কখনও অজুহাত দিস না।অনেককে বলতে শুনি যে আজকাল নাকি চাকরি নেই, চাকরির অবস্থা নাকি খুব খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদি। হ্যাঁ, ঠিক । চাকরির বাজার দিনদিন আরও খারাপ হবে।দেশে এস.সি,এস.টি -রাও থাকবে জেনারেলের চাকরি খেতে। কিন্তু মনে রাখবি, তোর কাছে যদি ৯৯টা দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে একটা দরজা খোলা থাকবেই ।সেই দরজা দিয়েই তোকে ঢুকতে হবে। সেই ভাবে পরিশ্রম কর।
৩)কখনও হার মানিস না। অবস্থা যতোই খারাপ হোক না কেন হার মানবি না।যতোক্ষন বেঁচে থাকবি লড়াই করবি।মনে রাখবি, সব সমস্যার সমাধান ঘুরেফিরে একটাই- কঠোর পরিশ্রম। পরিশ্রমের কোনো বিকল্প হয়না। আমি যদি উচ্চমাধ্যমিক ফেল করে, কলেজে ১৫টা সাপ্লি খেয়ে ইসরোর বিজ্ঞানী হতে পারি, তাহলে তোরাও ভালো কিছু করতে পারবি। নিজের ওপর বিশ্বাসটা হারাস না।
৪)উচ্চমাধ্যমিকের আগে প্রেম না করাই ভালো। মনে রাখবি, স্কুলজীবনের প্রেম না টেকার চান্স সি.বি.এস.ই বোর্ডের টপারের পাওয়া পারসেন্টেজের সমান, যেটা-৯৯.৪%।
ইতি,
একজন উচ্চমাধ্যমিক ফেল ইসরোর বিজ্ঞানী
পুনশ্চ
১) আমার সেই প্রাক্তন প্রেমিকাটির পরে আর কোনো খবর পাইনি। শুনেছি যে কোনোমতে কেমেস্ট্রি অনার্স পাশ করে এখনো বেকার এবং তার সেই বয়ফ্রেন্ডটির সাথেও ব্রেকয়াপ হয়েগেছে অনেকদিন। তবে তার প্রতি আমার এখন কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। দোষ আমিই করেছিলাম নিজের ব্যাপারে মিথ্যে বলে।
তবে আমার চাকরি পাওয়ার খবরটা আমি ওর এক বান্ধবীকে দিয়ে বলিয়েছিলাম।তার প্রতিক্রিয়া কি ছিলো সেটা সহজেই অনুমানযোগ্য।
২)আমি জেনারেল ক্যাটাগরির স্তুদেন্ত।তাই বন্ধুরা যেন কোনোমতেই ভেবে না বসেন যে আমি কোটাকে লাগিয়ে সরকারি চাকরি পেয়েছি।

Address

Bongaon, West Bengala
Bongaon

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shovan dutta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category