19/05/2026
“The pull of power turns people into a herd.”
“ক্ষমতার ঝোঁক মানুষকে ঝাঁকে বদলে দেয়।”
“The louder the roar of the herd grows, the farther freedom retreats.”
“ঝাঁকের হুঙ্কার যত বাড়ে, স্বাধীনতা তত সরে যায়।”
আঙ্গুল তুলে শাসানো
*********************
ঝক্কি ঝামেলায় না থেকে,
আমার ঝোঁক মনোযোগ দিয়ে দেখা,
শিক্ষা নেওয়া—-
ঝূঁকিপূর্ণ বাঁশ এড়িয়ে যাওয়া।
প্রকৃতির ঝোঁক শিখিয়ে পড়িয়ে দেখিয়ে
সকল কাজ করিয়ে নেওয়া।
নিষ্ঠা সহকারে ইন্দ্রিয়ের অসভ্য ঝোঁক গুলো কমিয়ে ফেলা – মুক্ত হওয়া।
সেবার ঝোঁকে ক্ষমতাশালী হওয়ার লোভ না করা,
সেবার করার প্রতিযোগিতায় দল-বাছাইয়ে ঝুঁকে না পড়া।
ঝাঁকের গতিবিধি একসময়ে হয়ে যায় টলোমলো।
ঝোঁকের মাথায় এঁকে তাকে দেখে কটুক্তি হুঙ্কার না করাই ভালো।
ন্যায় নীতির ঝোঁক, যে করে হোক
আনুগত্য তৈরি করা—
তল্পিবাহকদের সহোযোগিতা দেওয়া।
তার জন্য আছে নানারকম বহনযোগ্য থলি,
ঝোঁকের আছে ঝাঁঝালো আত্মপরিচয়ের বুলি।
বুঝেশুনে প্রভাব দেখাতে পারা যায় — যেকোনো কর্ম যদি করা যায় নিখরচায়।
ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহে ঝুঁকে থাকার ভাব নয় বিক্রম,
বীরত্বের প্রতিযোগিতা যদি হয় পছন্দ মতো ছাতার তলায় আশ্রয়, তৈরি হয় দাস-প্রভুর সম্পর্ক।
প্রকৃতিতে শক্তি স্বাধীন – ঝোঁক নয় দম্ভ, নয় লোভ, নয় খামখেয়ালীপনা।
ঝোঁকের শিকড় থাকে চেতনায়, শিক্ষার ঝোঁক মানুষেকে সেখানে পৌঁছে দেয়।
ক্ষমতা — একরকম বাঁশের মতোই দ্রুত বর্ধনশীল, শিক্ষার পথে অসুবিধা সৃষ্টিকারী, বাগাড়া দেয়।
বলদর্পীদের ঝাঁক ক্রমেই হয়ে যায় ভারী, ঝুঁকিপূর্ণ,
একসময়ে দম্ভ ঔদ্ধত্যে হয়ে যায় চূর্ণবিচূর্ণ।
“ঝাঁক হওয়া” — আঙ্গুল তুলে শাসানো,
ক্ষমতার লোভে যায় না এড়ানো।
—- শংকর ভট্টাচার্য ✍️ ১৯/০৫/২৬
# # ক্ষমতার অসভ্যতা ও নিয়ন্ত্রিত জ্ঞানচক্ষু: একটি সামাজিক বিপন্নতা
**প্রবন্ধকার: শংকর ভট্টাচার্য**
আধুনিক সভ্যতায় ক্ষমতা কেবল শাসনদণ্ড নয়, বরং এটি একটি সর্বগ্রাসী কাঠামো যা মানুষের মগজধোলাই এবং চিন্তার জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ক্ষমতার এই কাঠামোগত অসভ্যতা যখন সমাজকে গ্রাস করে, তখন প্রথম বলি হয় ব্যক্তিগত ‘জিজ্ঞাসা, ভালো মন্দ বিচার’ বা প্রশ্ন করার ক্ষমতা।
# # # ১. ‘ঝাঁক’ ও ব্যক্তিত্বের বিলোপ
মানুষ যখন ক্ষমতার মোহে বা ভয়ে একটি ‘ঝাঁকে’ বা পালে পরিণত হয়, তখন তার নিজস্ব নৈতিক মেরুদণ্ডটি শিথিল হয়ে পড়ে। এই ঝাঁকতন্ত্রে ব্যক্তি কেবল সংখ্যামাত্র। ক্ষমতার আস্ফালন যত বাড়ে, ব্যক্তির স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের পরিসর ততটাই সঙ্কুচিত হয়। এই ঝোঁক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে কাজ করে, যেখানে মানুষকে প্রতিবাদী বা বীরত্বের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে দাস-প্রভু সম্পর্কের জালে আটকে ফেলা হয়।
# # # ২. জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হলো জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ওপর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ। যখন গবেষণাগার বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শাসকের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়ে, তখন ‘সত্য’ আর নিরপেক্ষ থাকে না। বিজ্ঞানের যুক্তিকে যখন ক্ষমতার প্রয়োজনে বিকৃত করা হয়, তখন সমাজ তার সঠিক দিশা হারায়। এই ঝোঁক বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ, পরিবেশ দূষণের চেয়েও ভয়ংকর, কারণ এটি মানুষের বিচারবুদ্ধিকে ভেতরে থেকে পঙ্গু করে দেয়।
# # # ৩. অসভ্যতার স্বাভাবিকীকরণ ও সামাজিক দূষণ
ক্ষমতার কাঠামোতে থাকা ব্যক্তিরা যখন ‘আঙুল তুলে শাসানো’ বা উদ্ধত আচরণকে বীরত্ব হিসেবে প্রচার করে, তখন তা সমাজে একটি নেতিবাচক সংস্কৃতির জন্ম দেয়। এই ‘অসভ্য ঝোঁক’ গুলো ক্রমেই সংক্রামক হয়ে ওঠে। এর ফলে সমাজের পরতে পরতে যে দূষণ ছড়ায়, তার পরিমাপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে কারণ পরিমাপের যন্ত্র অর্থাৎ ‘শিক্ষা’ তখন নিজেই দূষিত বা নিয়ন্ত্রিত।
গান মন্ত্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে না বরং শিক্ষার মূল্যবোধ প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়তে পারে।
# # # ৪. মুক্তির পথ: সচেতনতার নতুন বিন্যাস
এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে বলিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও কর্ম প্রয়োজন। যেখানে ‘সেবা’ মানে ক্ষমতা বা রাজনীতির লোভ হবে না, বরং হবে শিক্ষিতদের নিঃস্বার্থ কর্ম। মানুষের চেতনার শিকড়কে যদি প্রকৃত শিক্ষার আলোক দিয়ে সিক্ত করা যায়, তবেই এই দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষমতার ‘বাঁশ’ বা বাধার দেওয়াল টপকানো সম্ভব। একমাত্র নির্মোহ আত্মজিজ্ঞাসা এবং বিজ্ঞানের সত্যকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই পারে সমাজকে এই টলোমলো অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে।
**তারিখ:** ১৯ মে, ২০২৬
**© ২০২৬, শংকর ভট্টাচার্য। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।**
# # # **স্বত্ব ও কপিরাইট ঘোষণা (Copyright Notice)**
> এই কবিতা, কাব্যিক পঙক্তিমালা এবং এর ওপর ভিত্তি করে রচিত প্রবন্ধটির পূর্ণ স্বত্ব লেখক **শংকর ভট্টাচার্য** কর্তৃক সংরক্ষিত। লেখকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই রচনার কোনো অংশ কোনো মাধ্যমেই (মুদ্রিত, ডিজিটাল বা সোশ্যাল মিডিয়া) পুনরুৎপাদন, প্রতিলিপি বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লেখকের নাম উল্লেখপূর্বক এর নির্যাস আলোচনা করা যেতে পারে।
—--
#ক্ষমতার_অসভ্যতা #ঝাঁক_বনাম_ব্যক্তিত্ব
#সামাজিক_দূষণ #মুক্ত_চেতনা #জিজ্ঞাসার_অধিকার #প্রতিবাদী_কবিতা
#ক্ষমতার_কাঠামো
#বাংলার_Renaissance (ঐতিহ্যগত প্রেক্ষাপটের জন্য)
—--