25/01/2024
কৃতী ছেলেটার নাম জিজ্ঞেস করল, কিছু একটা বলে ডাকতে হবে তো, এই ডাকার জন্য একটা নাম চাই। সে কারণেই নাম জিজ্ঞেস করা। ছেলেটা বলল, ‘রাজ।’
কৃতী জানে ছেলেটার এই নামটা ফল্স। না, ফল্স কেন হবে, এই নামটা ছেলেটার পেশা জগতের নাম। যেমন তার নাম কৃতী।
ধরে নিন ওর নাম কৃতী। ওর আসল নাম, স্বাতী বা কমলাও হতে পারে। কিন্তু কে আর তার আসল নামের খোঁজ রাখে! সবাই নকল নাম নিয়ে খুশি। কৃতী! কৃতী! কৃতী!
ওর কৃতী নামটা দিয়েছিল অর্চনাজি। প্রথমে নামটা শুনে তার মনে হয়েছিল ‘কিটি’। কিটি পার্টির কিটি। নামটা শুনে তার মনটা খিঁচড়ে গিয়েছিল। কিটি একটা নাম হল? এর থেকে পূজা, সুইটি, বিউটি অনেক ভালো ছিল। তারপর বুঝল, কিটি নয়, কৃতী।
অর্চনাজি বলেছিল, কৃতী মানে যার অনেক গুণ।
সে মনে মনে হেসেছিল, চৌষট্টিকলা!
অর্চনাজি বললেন, তোমার অরিজিনাল নাম যা আছে থাক, ও নাম বাড়ির নাম, তোলা থাক। এখানে আজ থেকে তুমি কৃতী। কৃতী বোস।
বোস! না, না, সে বোস পদবিটা ব্যবহার করবে না, বোস বললেই কেমন নেতাজি সুভাষ বোসের নামটা মনে পড়ে যায়। আসলে কৃতীর বাবার কথা মনে পড়ে, তার বাবা নেতাজির ভক্ত। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস নেতাজি সুভাষ বোস যদি দেশের হাল ধরতেন, তবে দেশটা এমন বিকিয়ে যেত না।
‘‘কেন, বোসে তোমার কী প্রবলেম? ঠিক আছে, মিত্র লাগিয়ে নাও।’’
কৃতী বিড়বিড় করল, ‘কৃতী মিত্র।’ ঘাড় নেড়ে বলল, ‘‘ঠিক আছে।’’
সেই থেকে সে কৃতী মিত্র।
* * * * * * * * * * * * * * * *
ছেলেটা নিজের নামটি বলেই গ্লাস দুটোর দিকে তাকাল। দুটো গ্লাসই খালি। ছেলেটার মুখটায় অদ্ভুত একটা ছায়া পড়ে সরে গেল। তার মনে হল, বা মনে হতেই পারে আজ নির্ঘাত একটা পাগলির পাল্লায় পড়েছে। দুটো গ্লাসে ঢালা স্কচ এই ক-মিনিটে মেরে দিয়েছে।
কৃতী ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখে ওর চোখে-মুখে ধরা পড়ে যাওয়া অস্বস্তি। কৃতী জানে যৌনতা নিয়ে ছেলেদের যেমন পাগলামি থাকে তার থেকে মেয়েদের কম থাকে না। বিশেষ করে দু-ক্ষেত্রেই যদি ভাড়া করা হয়, সকলেই চায় নিজের মতো করে পয়সা উশুল করে নিতে।
এখন, আজ রাতে বেড়াল কৃতী, হঁzদুরছানা ছেলেটি।
কৃতী ইশারা করল গ্লাসে ড্রিঙ্কস ঢালতে। ছেলেটা ঢালতে যাচ্ছিল, কৃতী ইংরেজিতে বলল, ‘‘জামা প্যান্টগুলো খুলে ফেলো আগে।’’ এটা সে কিছুতেই বাংলায় বলতে পারবে না। ভাষার কী দোষ! বাংলায় বললে কেমন যেন অশ্লীল শোনায়। কী বলবে? এই ছেলে ন্যাংটোপুটো হ! নগ্ন তো মেয়েরা হবে, পৃথিবীসুদ্ধ সবাই মেয়েদের কাপড় খুলতে চায়। নগ্ন দেখতে চায়।
পুরুষেররা তাকিয়ে তাকিয়ে তার ভাড়া করা মেয়ের একটা একটা করে জামা-কাপড় খোলা দেখে। এটা পুরুষের কাছে উৎসব। কোনো কোনো পুরুষ নিজের হাতেই খোসা ছাড়াতে ভালোবাসে। ভাবটা এমন, যেন নতুন কোনো মূর্তির উন্মোচন হচ্ছে।