15/08/2026
স্বাধীনতা নাকি পরাধীনতা ?
কলমে - কৌস্তভ বিশ্বাস
"স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?"
হ্যাঁ সত্যিই তো, স্বাধীনতা ছাড়া কেউ বাঁচতে চায়না।
১৯৪৭ সালের ১৫'ই অগাস্ট স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলো আপামর ভারতবাসী.... কিন্তু কতদিন সেই স্বাদ অক্ষয় ছিল তা আমরা অনুধাবন করতে পারিনা..! স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটা রাজনৈতিক দল নিজেদের আখের গোছানোর জন্য উলুখাগড়ার মতো সাধারণ জনতাকে ব্যবহার করে চলেছে। কখনো রাজনৈতিক বিরোধ আবার কখনো ধর্ম বিরোধ, এদের প্রধান অস্ত্র। যাঁদের জন্য এই দেশ এবং দেশবাসী স্বাধীনতার স্বাদ পেলো তাঁদেরকেই আমরা ভুলতে বসেছি, তাঁদের কথা, তাঁদের এই আত্মবলিদান আমাদের বিস্মৃত করেছে। বিশেষ দিন ছাড়া তাঁদের কথা আমাদের মনেও পড়েনা আর তাঁদের আদর্শ মেনে চলা তো দুরস্ত।
শুধু বড়ো বড়ো ভাষণ আর প্রতিশ্রুতি তে ভরে গেছে দেশ। স্বামীজী - নেতাজী এর দেশভক্তির প্রতি আঙ্গুল তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কখনো স্বামীজী কে বলা হচ্ছে 'চরিত্রহীন', কখনো নেতাজিকে বলা হচ্ছে 'গুন্ডা' আবার ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবী আখ্যা পাচ্ছেন আতঙ্কবাদী হিসাবে। তাঁরা কি ভীষণ অমানবিক যন্ত্রনা সহ্য করেছিলেন তা আজকের রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী আর তাদের মূর্খ অন্ধঅনুসারীরা হয়তো জানেনা বা জেনেও না জানার ভান করে থাকে..!
শুধু প্রশাসনকে দোষ দিয়েও লাভ নেই... কারণ আমরাই তাদেরকে এই জায়গাটা করে দিয়েছি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়ে। আমরা সাধারণ নাগরিকও কম যাইনা.... "যেই দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল"— আমরা বলি এই দেশ আমাদের মা..! আর প্রতিনিয়ত সেই মা কে দূষিত করে চলেছি বিভিন্নভাবে, কখনো শব্দদূষণ কখনো দৃশ্যদূষণ কখনো বায়ুদূষণ ইত্যাদি প্রভৃতি। আমরা যে গঙ্গা নদীকে মায়ের মতন পূজা করি সেই গঙ্গাবক্ষে আবর্জনার স্তুপ। বাড়ির অন্দরমহল পরিষ্কার অথচ রাস্তায় পথ চলতে চলতে জলের বোতলটা, বিস্কুটের প্যাকেটটা, সিগারেট বিড়ির টুকরোটা ফেলে দিই যত্রতত্র।
যে ডাক্তারদের আমরা ভগবানের পরেই স্থান দিই তাদের ভুল চিকিৎসায় এবং লালসার জেড়ে কতো শত মানুষের প্রাণ যায়, অবলা প্রাণীদের ওপর নির্ধিদ্বায় কোনো কারণ ছাড়াই ঢিল ছোড়া হয়, ইঞ্জিনিয়ারদের ভুল নকশায় কতো শত বহুতল তাসের ঘরে পরিণত হয়। পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা না দিয়ে নেতা মন্ত্রীর ঘর পাহারায় ব্যস্ত।
১৫'ই অগাস্ট, ২৬'শে জানুয়ারি দেশভক্তির প্রবল উন্মাদনা দেখা যায় দেশবাসীর মধ্যে, চারিদিকে তেরঙ্গায় সাজানো হয়, কিন্তু উৎসব শেষে সেই তেরঙ্গা ছড়িয়ে থাকে পথের ওপর, পদদলিত হয় ক্রমাগত। যদি মায়ের আঁচলের সমান পতাকা কে সম্মান দিতে না পারেন তবে দরকার নেই লোক দেখানো দেশভক্তির। আপনি কতোবড় দেশভক্ত সেটা কেউ জানতে চায়নি আপনাদের থেকে। অনুরোধ রইলো,দেশভক্তির উৎসব পালন হয়ে গেলে দয়া করে সেই স্থান পরিষ্কার করে রাখবেন, এটা আপনার আমার সবার দায়িত্ব।
শুধু সীমানা পাহাড়া দিলেই দেশ ভক্ত হওয়া যায় এই ধারণাটা ভুল। আসলে "আমরা সবাই নিজেদের অধিকার চাই, কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব কেউ পালন করিনা" - আমরা দেশের ভেতরে থেকে প্রত্যেকে যদি নিজের দায়িত্বটুকু পালন করি তাহলে দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব।
বীর বিপ্লবী দের অবমাননা করে, দেশনায়ক কে অপমান করে 'হর ঘর তেরঙ্গা' একটা বিলাসিতা মাত্র। আগে সম্মান দিতে শিখুন তবেই তো সম্মান পাবেন... কি তাই তো...??
আমার "আতঙ্কবাদী"(ভগৎ সিং, রাজগুরু, সুকদেব, ক্ষুদিরাম), "তোজোর কুকুর, গুন্ডা"(দেশনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস), "চরিত্রহীন"(গুরুমহারাজ স্বামী বিবেকানন্দ) যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদেরকে নতজানু হয়ে প্রণাম জানাই। ওনাদের জীবন দর্শন হোক আমাদের আগামী পথ চলার পাথেয়।
🇮🇳জয় হিন্দ🇮🇳
🇮🇳বন্দে-মা-তরম🇮🇳