21/04/2023
আগামি ২৩ এপ্রিল, রবিবার, অক্ষয়_তৃতীয়া
এ দিন থেকে পরবর্তী ২১দিন ব্যাপি ভগবানের চন্দন শোভাযাত্রা মহোৎসব।২১ দিন সুগন্ধি চন্দন, কর্পূর, ও অগুরু মিশিয়ে ভগবানের শ্রীঅঙ্গে লেপন করা হয়। এতে পরমেশ্বর ভগবান খুবই শীতলতা ও প্রশান্তি অনুভব করেন।
অক্ষয় তৃতীয়া হলো চান্দ্র বৈশাখ মাসের তৃতীয় তিথি। এই বিশেষ তিথীতে অর্জিত পুন্য বা সুকৃতির যেমন ক্ষয় নেই, তেমনি পাপেরও কোন ক্ষয় নেই।তাই এদিন খুব সতর্কতা সহকারে দিন অতিবাহিত করা জরুরি, যেন কোন প্রকার মন্দ কর্ম না হয়, কারো মনে কোন কষ্ট না হয়।
তাই সকলের প্রতি প্রার্থনা ও অনুরোধ এদিন বেশী বেশী হরিনাম জপ, কীর্তন, ভগবৎ ও ভক্ত সেবা করে দিন অতিবাহিত করুন। সকল প্রকার খারাপ কর্ম এরিয়ে চলুন এবং পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করে অন্তে ভগবৎধামে গমন পূর্বক দিব্য চিন্ময় কৃষ্ণপ্রীতি উপভোগ করুন।
অক্ষয় তৃতীয়া কী এবং কেন?
আসছে আগামী ২৩ এপ্রিল,রবিবার অক্ষয় তৃতীয়া মহোৎসব। অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ।
তাই—
আমিষাহার পরিত্যাগ করা উচিত, কেননা প্রাণিহত্যা মহাপাপ।
কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করা উচিত।
কৃষ্ণমন্দিরে ভোগ, চন্দন, ফুল, ফল, অর্থ ইত্যাদি দান করা উচিত।
এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত।
কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে।
কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি।
তাই এদিন যথাসম্ভব কৃষ্ণকথা বলা উচিত।
এদিন পূজা,জপ,ধ্যান,দান,অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত।
৹ যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে।
এবারের অক্ষয়তৃতীয়া সবার ভালো কাটুক – এই কামনায় করি।
যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এ দিনে—
১) বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম আবির্ভূত হন।
২) রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।
৩) গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত লিখতে শুরু করেন।
৪) চন্দনযাত্রা শুরু হয়।
৫) সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।
৬) কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
৭) ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।
৮) দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং ভগবান তার সখীকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরণাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণা দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।
৯) পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।
১০) কেদার-বদরী গঙ্গোত্রী-যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন 🙇♂️🙏হয় হরে কৃষ্ণ🙏 জয় শ্রীল প্রভুপাদ কি জয় জয় গুরু মহারাজ কি জয়।🙇♂️🙏💕