Mainak Dey Photography

Mainak Dey Photography Mainak Dey, A passionate Photographer, Photography Mentor in Photographic Society of America. P.PSA (USA)
2. GPU Crown 2 (Greece)
3. c.MOL (Canada)
4. Hon.

Mainak Dey, A passionate Photographer, believes in capturing Life and stories of People through his Lenses. He also takes interest in Fashion Photography as well as Travel Photography.Mainak Dey has taken Part in many International Photography Contests and won more than 400 Awards which includes Gold Medals from Worlds leading Photographic Governing Bodies like Fédération Internationale de l'Art P

hotographique, France;Photographic Society of America, USA; Federation of Indian Photography, India. He has been awarded following distinctions from Different Countries:
1. M.APS (Bangladesh)
5. A.HPS (Greece)
6. A.FIP (India)
7. A.NPS(Cyprus)
8. Bronze Exhibitor of APF (Singapore)
9. CPE (Romania)
10. PESGSPC GPA PESGSPC (Cyprus)

Out for Some shoppingMother and Son Duo.Sloth bear with CubNikon Z8 With Nikkor 180-600 mm.
25/02/2026

Out for Some shopping
Mother and Son Duo.
Sloth bear with Cub

Nikon Z8 With Nikkor 180-600 mm.



















"Can I get an icecream mom?"F2 with her cub.              .n.wings
24/02/2026

"Can I get an icecream mom?"
F2 with her cub.

.n.wings



Sub-adult Cub of Riddhi amidst of Aravalli range.
20/02/2026

Sub-adult Cub of Riddhi amidst of Aravalli range.

Entering to Home after scoring zero in Math.DJ9 on a role during her territory marking.Nikon Z9 with Nikkor 24-120 mm.  ...
22/01/2026

Entering to Home after scoring zero in Math.

DJ9 on a role during her territory marking.

Nikon Z9 with Nikkor 24-120 mm.









Majestic Male T-101 RTR 2025
09/12/2025

Majestic Male T-101
RTR 2025












দিল্লি রোড পেরিয়ে কালনার দিকে বাঁ দিক ঘুরছে যখন গাড়িটা, মোবাইলে সময় দেখাচ্ছে প্রায় ২. ১৫. বেরোতে এবার খানিক দেরি হয়ে গেছ...
07/07/2025

দিল্লি রোড পেরিয়ে কালনার দিকে বাঁ দিক ঘুরছে যখন গাড়িটা, মোবাইলে সময় দেখাচ্ছে প্রায় ২. ১৫. বেরোতে এবার খানিক দেরি হয়ে গেছে, অন্যবার পৌঁছে যাই ২. ৩০এর মধ্যে কিন্তু এবারে কোনোভাবেই ৩টের আগে পৌঁছাবোনা. কাঁচের বাইরে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি পশ্চিম আকাশে ঘন কালো মেঘ করে আসছে. উল্টো রথের দিন প্রতিবার আমি যাই গুপ্তিপাড়া আর ঠিক আদি সপ্তগ্রাম থেকে বলাগড় এর মাঝামাঝি বৃষ্টি আসে এভাবে আকাশ কালো করে. যতক্ষণে পৌঁছে যাই গুপ্তিপাড়া, বৃষ্টি প্রতিবার ঠিক থেমে যায়, খানিক রোদ বেরোয়. এবারেও মেঘ দেখে বিচলিত হলামনা বরং দেরি হয়ে গেছে. ভীড় বাড়ার আগে গুপ্ত বৃন্দাবন মন্দির ঢুকতে না পারলে পুরো প্ল্যানের বারোটা বাজবে.কিন্তু ঐ যে মানুষ ভাবে এক আর প্রভু ঘটান আরেক.
আজ আমার ছবিতে গল্প এক রথযাত্রা নিয়ে.পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথ, হুগলীর গুপ্তিপাড়ার রথ.
বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মতে ১৭৪০ সালে এই রথের প্রচলন করেন শ্রী মধুসুদনান্দ এবং সেই হিসাবে এই রথ এবছর ২৮৫ বছরে পা দিলো!!সেসময় বহু মানুষ শ্রীক্ষেত্র যেতেন পায়ে হেঁটে প্রভুর দর্শন পেতে. অনেক কষ্ট করে ফেরত আসা, পথিমধ্যে লুঠতরাজ এসব ছিলো প্রতি বছরের নিয়মিত ঘটনা.কথিত আছে এই সময় স্বামী পিতম্বরানন্দ স্বপ্নাদেশ পান এখানে রথযাত্রা প্রচলন করার. সেই শুরু, তারপর থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এখানে রথের দিন.
প্রায় ৩৬ ফুটের এই রথের ৯টি চূড়া এবং এটিকে দেখতে গেলে আপনাদের পৌঁছে যেতে হবে গুপ্তিপাড়া বৃন্দাবন জিউএর মন্দিরে.
রথযাত্রার দিন মূল মন্দির থেকে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে রথ যায় গোসাঁইগঞ্জ বড়োবাজারে মাসির বাড়ি. রথের রশিতে প্রথম টান পড়ে বেলা বারোটায়. তার আগে রথ পুজো হয়.কিছুদূর যাওয়ার পর বিরতি.
আবার রথের রশিতে টান পড়ে বেলা চারটেয়.
দুপুরের তীব্র দাবদাহে ক্লান্ত, পিপাসার্ত দর্শনার্থীদের জন্যে এখানে বিনামূল্যে ঠান্ডা লেবুর শরবতের ব্যবস্থা থাকে. দুপুরে থাকে ভোগের বন্দোবস্ত.
গুপ্তিপাড়ার মূল আকর্ষণ উল্টোরথের আগের দিন হওয়া ভান্ডার লুঠ.কথিত আছে লক্ষ্মীর সঙ্গে মন কষাকষি হওয়ায় জগন্নাথ লুকিয়ে মাসির বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। সেখানে ভাল ভাল খাবার পেয়ে জগন্নাথ মাসির বাড়িতেই থেকে যান। অন্যদিকে লক্ষ্মীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে স্বামী বোধহয় পরকীয়ার টানে কোথাও চলে গিয়েছেন। পরে তিনি বৃন্দাবনের কাছে জানতে পারেন যে জগন্নাথ মাসির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তারপরেই স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্মী লুকিয়ে গিয়ে মাসির বাড়িতে সর্ষে পােড়া ছিটিয়ে আসেন। কিন্তু, তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় বৃন্দাবন ও কৃষ্ণচন্দ্র লোকজন নিয়ে মাসির বাড়িতে হাজির হন।
সেখানে গিয়ে তারা দেখেন যে ঘরের তিনটি দরজা বন্ধ। তাই লক্ষ্মীর অনুরোধে তার স্বামীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরজা ভেঙে বৃন্দাবন ও কৃষ্ণচন্দ্র ভেতরে ঢােকেন। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেই তারা দেখতে পান মালসায় করে রকমারি পদের খাবার সাজানাে রয়েছে। ভাল ভাল খাবার চোখের সামনে দেখে তারা সেই সমস্ত মালসা লুট করে নেন। যা ভাণ্ডার লুট নামে সকলের কাছে পরিচিত।
আপনারা চাইলেই সেদিন পৌঁছে যেতে পারেন এই অনুষ্ঠান চাক্ষুষ দেখার জন্যে.
আমার আজকের ছবি উল্টোরথ এর. তা যেমন ভেবেছিলাম ঠিক তাই হলো, প্রায় ৩টে নাগাদ যখন পৌঁছলাম তখনো চলছে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি. চারিদিক জল থৈ থৈ করছে. মেলার মাঠ পরিণত হয়েছে পুকুরে. কি করবো বুঝতে না পেরে গাড়িতেই বসে রইলাম এই বুঝি বৃষ্টি থামবে তার আশায়. ৩. ৩০টে নাগাদ বুঝলাম আর দেরি করা যাবেনা, যাই হয়ে যাক ঠিক ৪টায় রথের রশি তে টান পড়বে. এদিকে যেখান থেকে নো এন্ট্রি শুরু সেখান থেকে মন্দির প্রায় ১. ৫ কিমি হাঁটা, সেই পথেই দাঁড়িয়ে আছে রথ.
মানে আমাকে জল ঠেলে, হাজার মানুষের জমায়েত টপকে রথ টানতে শুরু করার আগে কোনো ভাবে পৌঁছতে হবে মন্দিরে. অগত্যা ছাতা মাথায় নেমে পড়লাম বৃষ্টির মাঝে. মনে মনে "জয় জগন্নাথ" বলে জল ঠেলে এগোলাম মন্দিরের দিকে. এদিকে লোভ হচ্ছে ষোলো আনা. বৃষ্টির মধ্যে যদি রথ টানা শুরু হয় স্নান মঞ্চ থেকে সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হবে. কোনমতে ভীড় পেরিয়ে যখন মন্দির পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে বাজে ঠিক ৪টা.
নিজের কার্ড দেখিয়ে স্নান মঞ্চে উঠে ক্যামেরা সেট করতে করতে দূরে শুনতে পেলাম লক্ষ মানুষের জয়ধ্বনি, বুঝলাম রথের রশিতে টান পড়লো যথা সময়ে. প্রকৃতির কি লীলা, বৃষ্টিও ততক্ষণে একটু কমে এসেছে.
তারপরের এক ঘন্টা মানুষের উৎসাহ, উদ্দীপনা, রথের রশি টেনে প্রভুকে মন্দিরে নিয়ে আসা আর পড়ন্ত বিকেলের বৃষ্টি স্নাত দৃশ্য কল্প রইলো আপনাদের জন্যে.
কিভাবে পৌঁছবেন : হাওড়া স্টেশন থেকে কাটোয়া লোকাল ধরে গুপ্তিপাড়া বা বেহুলা স্টেশনে নেমে টোটো করে পৌঁছে যান বৃন্দাবন জিউর মন্দির.
শিয়ালদহ থেকে আসতে পারেন দুভাবে. শান্তিপুর এসে ঘাট পেরোলেই গুপ্তিপাড়া. বা কাটোয়া লোকাল ধরে পৌঁছনো যায় গুপ্তিপাড়া.
রথের দিন অবশ্যই পৌঁছতে হবে ৯.৩০টার ভেতর..
উল্টোরথ এর দিন ২. ৩০ টের ভেতর.
এখানে সবার জন্যে দুপুরে ভোগের বন্দোবস্ত থাকে.
তাই আগামী বছর রথে চলে যান গুপ্তিপাড়া, নিয়ে আসুন পশ্চিমবঙ্গএর দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা সামনে থেকে দেখার আনন্দ.
জয় জগন্নাথ. 🙏🙏

ভালো থেকো মা.যেদিন তোমার থেকে ওরা আমাকে প্রথম দূরে সরিয়েছিলো, আমি সেদিনই জানতাম খারাপ কিছু একটা আসছে.জানো মা, যখন তোমাকে...
20/06/2025

ভালো থেকো মা.
যেদিন তোমার থেকে ওরা আমাকে প্রথম দূরে সরিয়েছিলো, আমি সেদিনই জানতাম খারাপ কিছু একটা আসছে.জানো মা, যখন তোমাকে আর ভাই, বোনকে ছেড়ে আমাকে জোর করে এখানে তুলে নিয়ে আসছে, তখন যদি বুঝতাম এই আমাদের শেষ দেখা তাহলে একটিবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলে আসতাম "জঙ্গলের রানী তুমি, হার মেনোনা কখনো". সত্যি তো, জঙ্গল আলো করে রাজত্ব করেছো তুমি, তুমি,অ্যারো হেড, রণথাম্বর সম্রাজ্ঞী, তুমি হারতে পারো কখনো?
তাই ১৬ তারিখ এতো শরীর খারাপ নিয়েও যখন তুমি কুমীর শিকার করলে তখন সব্বাই ভেবেছিলো রানী আছে রানীর মতোই. যতই ক্যান্সার দানা বেঁধে থাক তোমার শরীরে, তোমার তিন সন্তান যে তোমাকে আদর, ভালোবাসায় ঘিরে রেখেছিল.
জানো মা, রামগড়ের জঙ্গলে একা একা ঘুরতে ঘুরতে আমি খুব ভালো মতো কল্পনা করতে পারছি তুমি ভেতর ভেতর কতটা ভেঙে গেছিলে. আমাকে এখানে সরিয়ে আনার পর ভাইকেও ঢোল পুর পাঠানো আর কানকাটিকে মুকুন্দরা পাঠানোতে সেটা হওয়াই তো স্বাভাবিক. কোনো মা কি পারে তার সন্তানদের থেকে দূরে সরে বাঁচতে, তারপর যদি সে হয় ক্যান্সার আক্রান্ত? কি দোষ ছিলো বলো তো আমাদের যদি ৪৩টা বাঘের জঙ্গলে ৮৪টা বাঘ হয়ে যায়? কি দোষ আমাদের যদি আমাদের বাসস্থানে গাদা গুচ্ছের মানুষ এসে ভীড় করে আর আমাদের হাতে কেউ মারা যায়?
মানুষের গাফিলতির শাস্তি একটা মা কে দিলো ওরা. তুমি খুব কেঁদেছো মা যখন কানকাটিকে নিয়ে ধুলো উড়িয়ে ওরা চলে গেলো?
যখন মিলিয়ে গেলো গাড়িটা জঙ্গলের মধ্যে, হাঁটুর মুড়ে বসে সেই তখনি কি শেষ বারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়েছিলে হে ভারত বিখ্যাত তারকা বাঘিনী?
কেউ দেখেনি, নিঃশব্দে চলে গেলে তুমি, আমাদের সবাইকে একা করে দিয়ে.রেখে গেলে এক বর্ণময় অধ্যায় যা রণথাম্বরএর প্রতিটা গাছের পাতা ফিসফিসিয়ে বলবে কানে কানে.
আর আমি?
একা একা জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে প্রত্যেক দিন তোমাকে খুঁজবো আর তুমি ভেবে জড়িয়ে ধরবো কোনো গাছকে.
তারা দের দেশে ভালো থেকো মা.
𝐑𝐁𝐓 𝟐𝟓𝟎𝟖
𝐅𝐞𝐦𝐚𝐥𝐞 𝐜𝐮𝐛 𝐨𝐟 𝐀𝐫𝐫𝐨𝐰𝐡𝐞𝐚𝐝

Nikon Z6II with Nikkor 24-120 mm.
Nikon Group
BBC Earth
Sony BBC Earth
Animal Planet
Discovery
Planet Tiger

"কোহলি গোজ ডাউন দ্যা গ্রাউন্ড, কোহলি গোজ আআআআআআআআআআআআউট অফ দ্যা গ্রাউন্ড" কথাগুলো বিড় বিড় করে বলতে বলতেই ভিউফাইন্ডারে চো...
24/05/2025

"কোহলি গোজ ডাউন দ্যা গ্রাউন্ড, কোহলি গোজ আআআআআআআআআআআআউট অফ দ্যা গ্রাউন্ড" কথাগুলো বিড় বিড় করে বলতে বলতেই ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখে মেশিনগানের মতো শাটার মারতে শুরু করলাম. জোন ২ আর জোন ৩ এর ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় অপেক্ষা করতে করতে আমাদের পিছনে থাকা সুধীর শিবরামের জিপসি বেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ, দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছি আমরা. উত্তর দিকের আকাশ কালো করে আসছে দেখতে পাচ্ছি,আর কিছুক্ষণ পরেই গভীর জঙ্গলের ভেতর ঝড় উঠবে.আমাদের জিপ দুদ্দাড় করে ছুটবে এক বিশালকায় বটবৃক্ষের নিরাপদ ছায়াতলে. কিন্তু তার আগের গল্পটা বলে নিই. অফিসের এসকালেশন কল কে একটু হাল্কা বামদিকে ডজ করে, ভোরের ফ্লাইট ধরার ৬ ঘন্টা আগে রাউন্ড ট্রিপ ফ্লাইট ক্যানসেল হওয়ার কড়া ট্যাকলকে এক লাফে পার করে আপৎকালীন ভিত্তিতে নতুন টিকিট বুক করে মাঝরাতে বেরিয়ে ১ মের সকালে জয়পুর যখন নামলাম খুব একটা গরম নেই. এখান থেকে আমরা গাড়িতে যাবো সওয়াই মাধোপুর, যেখান থেকে শুরু হয় বর্তমানে ভারতের জঙ্গল সাফারির "বিরাট কোহলি" রানথাম্বর টাইগার রিজার্ভ. বিরাট কোহলি বললাম কারণ পি আর প্রমোশন যদি ভারতের কোনো জঙ্গল নিয়ে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে তাহলে সেটা এই রণথাম্বর. গায়ে কাঁটা দেওয়া ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রণথাম্বর দূর্গ আর তার চারপাশের গভীর জঙ্গলে বাঘা বাঘা শার্দুল সম্রাটদের আনাগোনা শুধু এদেশে নয়, বিদেশীদের মধ্যেও বহুল জনপ্রিয় করে তুলেছে এই জঙ্গলকে. আমাদের এবারের সফর ৪ দিনের, একদিন ছুটি নিয়ে লম্বা উইকেন্ডএর সুযোগ নিয়ে ৭টা সাফারি করবো বলে টাইগার ডেন রিসোর্টে যখন পৌঁছলাম তখন সূর্য মধ্যগগনে. আগের রাত প্রায় জাগা কিন্তু বিশ্রামের সময় নেই, বেরোতে হবে এখুনি. প্রথম সাফারি জোন ৫ এ যেখানে দেখা যাচ্ছে শক্তি এবং তার ছানাপোনাদের.এই প্রসঙ্গে বলে নিই বাঘ দেখার জন্যে জঙ্গলে গেলে প্রথম দরকার গবেষণা, ভালো করে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে কোন জঙ্গলে, কোন জোনে কারা ঘোরাফেরা করছে, তারপর আসে সময় থাকতে সাফারি বুক করা কারণ সারা দেশের সবাই এই রিসার্চ করছে এবং যেখানে সম্ভাবনা বেশি সেসব জোন জলদি বুকিং হয়. তারপর আসে ভালো গাইড এবং ড্রাইভার কারণ তাঁদের প্যাশন কতটা তার ওপর অনেককিছু নির্ভর করে. সব পেশার মতোই এই পেশাতেও যাঁরা গা ছাড়া মনোভাব নিয়ে চলেন, তাঁদের নিয়ে জঙ্গলে চাপ. এই সব পেরিয়ে আসে ভাগ্য যার ওপর আমার, আপনার কারো হাত নেই. যাই হোক, আমরা ফিক্সড গাইড নিয়েছিলাম ৭টা সাফারিতেই এবং সেই ভদ্রলোক রণথাম্বরে আছেন ৪০ বছর,মানে আমার বয়সের থেকেও বেশি. ভাবা যায়!!!!অর্ধেক সময় সাফারিতে ওঁনার গল্প শোনাও এক অভিজ্ঞতা বটে. তো এই গাইড মশাই সর্দার আমরিন্দর সিংজি ঠিক সময়ে ড্রাইভার নিয়ে এসে গেলেন রিসোর্টে.বেরোনোর আগে এবার আমার সাথীদের একটু পরিচয় দিয়ে দিই. আমাদের ৪ জনের দলের আমি বাদে বাকি তিনজন একটি মার্কিন বহুজাতিক সংস্থার কেষ্টবিষ্টু, কিন্তু তার চেয়েও বড়ো পরিচয় হলো এক দাদা যিনি ভারতের সব জঙ্গলে বাঘ দেখেছেন এবং ১৫০ খানা আলাদা আলাদা বাঘ দেখা থেকে অল্প দূরে দাঁড়িয়ে আছেন. আরেকজন ভারতের দ্রুততম ১০০০ আলাদা আলাদা পাখির ছবি তুলে বসে আছেন. এঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আমি যাকে বলে হংস মধ্যে বক যথা অবস্থায় কি করবো ভাবতে ভাবতে জিপসিতে নিজের লাকি জায়গা ছেড়ে চুপচাপ পিছনের রোতে বসে পড়লাম. কারণটা সহজেই অনুমেয়. টিমে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি থাকলে শুবমান গিলকে নিচে খেলা ছাড়া কি উপায় আছে বলুন?
যাকগে, গল্পে ফিরি. আমাদের রিসার্চ বলেছিলো আসল খেলা হবে জোন ২, জোন ৩ এ. এবার সেইমতো আমরা মিলিয়ে মিশিয়ে ৩টে জোন ২, একটা জোন ৩, দুটো জোন ৫ এবং একটা জোন ৪ নিয়েছিলাম.তাই প্রথম দিন হাল্কা মুডে জোন ৫ এ ঢোকা. টাইগার ডেন রিসোর্ট থেকে জঙ্গলে ঢোকার প্রথম গেট এক মিনিটের রাস্তা, তারপর সেখান থেকে আরো ৫ মিনিট গাড়িতে গেলে জোন ১, ২, ৪, ৫ এর গেট পড়ে. সেখান থেকে আরো এগিয়ে যোগী মহলগেট পেরিয়ে ঢুকতে হয় জোন ৩এ. এই মাঝের রাস্তায় আসতে আসতে শুনলাম সুলতানা বিকেলের দিকে নাকি মাঝে সাঝেই হাঁটছে, কখনো আবার তার একটা বাচ্চাও দেখা যাচ্ছে. সেই গল্প বলা যাবে অন্য অবসরে. আপাতত প্রথম দিন জোন ৫ এ দুপুরের সাফারি সেরে পেটপুরে ডিনার করে টেনে ঘুম দিলাম.
ওহ!!বলা হয়নি. রিসার্চ ফেল করেনি, জোন ৫এ শক্তির ছানাকে ক্যামেরাবন্দি করেছি গাছের ছায়ায় আরাম করার মুহূর্তে. লম্বা সাফারির প্রথমটায় এমন সাইটিং হওয়া মানে টি-২০ ম্যাচের প্রথম ৪ ওভারে ৫০ রান হয়ে যাওয়া. অতএব ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ১ তারিখ ঘুমোতে যাওয়া এবং একবুক আশা নিয়ে ২ তারিখ সকালে রওনা দেওয়া গেলো জোন ২ এর উদ্দেশ্যে. এমনিতেই ভোরের জঙ্গল মানে জিপসি তে যেতে যেতে মনে হয় ভেতরের সব কলুষ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাচ্ছে. চোখ বুজে সেই স্বর্গীয় অনুভূতি নেবো না জঙ্গলের মধ্যে ওতো বড়ো দুর্গ হাঁ করে তাকিয়ে দেখতে থাকবো ভাবতে ভাবতে জঙ্গলের ভেতর অনেকটা চলে গিয়ে সামনে দেখলাম আরেকটা জিপসি. যাঁরা রয়েছেন তাঁদের ক্যামেরার শাটার পড়ছে অনবরত. জিপসি উড়িয়ে পৌঁছে বুঝলাম ঝোপের পিছনে রয়েছে শ্লথ বিয়ার আর সামনের জিপসি তে সুধীর শিবরাম. কিছুক্ষণ শাটার মেরে ওঁনারা এগিয়ে গেলেন কিন্তু আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম. এমনিতে আমি ধর তক্তা মার পেরেক টাইপের হলেও জঙ্গলে ঢুকলে কোথা থেকে আমার ভেতরে দ্রাবিড়ীয় ভাব জেগে ওঠে. মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা. এখানেও তাই দাঁড়িয়ে গেলাম আর ঠিক তাই হলো যা ভেবেছিলাম. ভোরের নরম আলো মেখে ঝোপের ভেতর থেকে ভল্লুক বাবাজীবন এদিক সেদিক দেখতে দেখতে হেলতে দুলতে রাস্তা পার হলেন আর সেই মুহূর্ত বন্দী হলো আমাদের ক্যামেরায়. কিন্তু আসল গল্প এখানে নয়.সেটায় আসছি.
সকালের শুরুটা এমন হওয়ায় মন বলছে ভারত -পাকিস্তান ম্যাচের মতো পাকিস্তানকে কম রানে পেড়ে ফেলা গেছে. ম্যাচটা জেতা যাবে সহজেই, সামনে কিছু ধামাকা অপেক্ষা করে আছে নিশ্চিত. এমন ভাবতে ভাবতে খানিক দূর এগিয়ে পৌঁছনো গেলো ছোটি ছাতরিতে. এই জায়গাটা এমন একটা জায়গা যার একদিকে ঘন জঙ্গল আরেক দিকে অনেক দূর অব্দি বিস্তৃত আরাবল্লির কালো পাথুরে জমি যার ঐপারে রয়েছে এক মানুষ সমান উঁচু তৃণভূমি. এই খোলা জায়গার দিকে কোনাকুনি তাকালে চোখে পড়ে জোন ৩ এর মধ্যে থাকা দুর্গের কিছু অংশ. এমন একটা জায়গায় আমরা পৌঁছে দেখি গাড়ির ভিড়, অনেকটা দূরে নাকি নালার মধ্যে বসে আছে অ্যারোহেড, এই জঙ্গলের এক বিখ্যাত বাঘিনী. সবকটা গাড়ির গাইড মোটামুটি নিশ্চিত যে আশে পাশেই তার ছানা পোনারাও থাকবে. অতএব শুরু হলো অপেক্ষা. সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা পেরোতে থাকলো, কোথাও কোনো মুভমেন্ট নেই, কল নেই. শুধু দাঁতে দাঁত চিপে বসে থাকা. সময় যত এগোতে থাকলো, গাড়ির সংখ্যা কমতে লাগলো ততো. আমরাও বুঝতে পারছি ম্যাচ ক্রমশ কঠিন হচ্ছে. একটা আপাত সহজ পরিস্থিতি থেকে জঙ্গলের স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই আজ হয়তো ফিরতে হবে খালি হাতেই. সামনে ময়ূর পাখনা মেলছে কিন্তু আমাদের সেদিকে মন নেই. এমন অবস্থায় আমাদের বার্ডার দাদা গান ধরলেন "মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়" (একদম সঠিক গান কারণ আসলে তো আমরা বাঘের জন্যেই পাগল ) আর শেষে গুনগুনিয়ে গেলেন "ও মেরে টাইগার, ও মেরে টাইগার" বলে. এদিকে সময় চলে যাচ্ছে, সুধীরের জিপসিও বেরিয়ে গেলো, গান শেষ হয়ে গেলো কিন্তু আমাদের গাইড নাছোড়বান্দা, ম্যাচ সে আজ বের করবেই. এমন সময় আমার চোখ গেলো উত্তর আকাশে. একরাশ ঘন কালো মেঘ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে. জঙ্গল নিয়ে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁরা সম্যক জানেন জঙ্গলে বৃষ্টি হলে কি হয়!!বাঘ মুভ তো করবেইনা তার সাথে জুটবে ক্যামেরা বাঁচানোর ঝামেলা. এইরকম চললে দুপুরটাও যাবে মাটি হয়ে, এদিকে সেটাও যে জোন ২.হট ফেভারিট জোন যদি আবহাওয়ার জন্যে খালি হাতে ফেরায় পুরো সাফারিটাই তো মাটি হয়ে যাবে.
এরকম জেতা ম্যাচ হাতছাড়া যখন হয় হয় তখন দূরে জোন ৩ থেকে দেখতে পেলাম খান তিনেক জিপসি দুদ্দাড় করে ছুটে আসছে পাথুরে জমির দিকে. বাঘ দেখা না গেলে তো এমন দৌড় দেবেনা কেউ, আমরাও নড়ে চড়ে বসলাম গাড়িতে. যদিও এই মুহূর্তে আমাদের কিছু করার নেই কারণ আমাদের চোখে কিছু পড়েনি এখনো. তাই জায়গা নেওয়াও সম্ভব না. আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে তার সোজাসুজি মাইলখানেক পাথুরে জমি, ওপারে জঙ্গল, বাঁদিকে কোনাকুনি জোন ৩ আর ঠিক সেখান থেকেই বেরিয়ে জিপ গুলো দাঁড়িয়ে গেছে পর পর. আমরা এখনো কিছু দেখতে পাচ্ছিনা. ওদিকের জিপসি গুলোতে তখন উত্তেজনা তুঙ্গে কারণ ওরা কাছে থাকার দরুণ বুঝতে পারছে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কেউ একজন হেঁটে আসছে. আমরা বুঝতে পারছি ম্যাচ ঘুরছে. কি হবে কি হবে ভাবতে ভাবতেই দূরে জঙ্গলের ভেতর থেকে দেখা গেলো কালো হলুদ ডোরাকাটা আর তারপরেই জঙ্গল থেকে মুখ বার করলেন তিনি এবং নিজের মেজাজে হাঁটা লাগালেন সেইদিকে যেদিকটায় সেই সকাল থেকে বসে আছে অ্যারোহেড. এবার ওটা কিন্তু আমাদের নজরের বাইরে আর এই বাঘটা অনেক দূরে সোজা হেঁটে যাচ্ছে জোন ৩ এর জিপসি গুলোর দিকে. ঠিক এই সময় আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কেন জানিনা বলে উঠলো ট্র্যাক ও চেঞ্জ করবেই আর ঘটলোও তাই. খানিকটা গিয়ে তাঁর মেজাজ গেলো পাল্টে আর তিনি সোজা হাঁটা লাগালেন আমাদের দিকে. উত্তর দিকের আকাশে তখন মেঘ আরো কালো করে এসেছে, মাইল খানেক রাস্তা পাথুরে জমি পেরিয়ে ঠিক সোজাসুজি আমাদের দিকে চোখে চোখ রেখে এগিয়ে আসছে একটা গাবদা বাঘ, এটা লিখতেও গায়ে কাঁটা দিচ্ছে. আমি বেশ বুঝতে পারছি পরের ২০-৩০ মিনিট খেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট, শুধু ধরে রাখতে হবে নার্ভ. বিড় বিড় করে হর্ষ ভোগলের অমর উক্তিগুলো আউড়ে নিয়ে শাটার মারতে শুরু করলাম. আরেকটু কাছে আসতে বুঝলাম ইনি আসলে আরেকটা বিখ্যাত বাঘিনী ঋদ্ধির মেল কাব যে জোন ৩ গেছিলো কোনো কারণে, এবার ফিরছেন জোন ২ এ. সে এক মারাত্মক অবস্থা. ধীরে ধীরে হাওয়ার গতিবেগ বাড়ছে আমরা টের পাচ্ছি, ওদিকে ঋজু গতিতে ঠিক সোজাসুজি এগিয়ে আসছেন শার্দুল সম্রাট, তাও আবার হেড অন. ঠিক ৫ মিনিট বাদে আমাদের সামনে দিয়ে পেরিয়ে আড়াআড়ি কাটিয়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়লেন তিনি.
এরপরের খেলা দেখানোর পালা সর্দারজির. ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি ঠিক আন্দাজ করেছিলেন বাঘ বাবাজি কোথা দিয়ে বেরোবেন, আমাদের পিছনে তখন আরো ২টো গাড়ি, বাকিরা খবর পেয়ে তখনো পৌঁছায়নি. আমাদের ড্রাইভারকে বলে ঝড়ের গতিতে গাড়ি উড়িয়ে পরের বাঁকের মুখে দাঁড়াতেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলেন জঙ্গলের মহারাজ. এক ঝলক আমাদের দিকে তাকিয়ে নিজের খেয়ালে হাঁটতে শুরু করলেন রাস্তা দিয়ে, সাথে চলতে থাকলো নিজের টেরিটরি মার্কিং আর গাছে গাছে ইউরিন স্প্রে. বাকি সব গাড়ি ওঁনার পিছনে, সামনে শুধু আমরা. এই পজিশন যেকোনো ফোটোগ্রাফারের জন্যে স্বপ্ন. ভুল হয়নি আমাদের অশ্বিনএর মতো আরামসে মিড অফের ওপর দিয়ে শেষ বাউন্ডারিটা মেরে একটা টান টান উত্তেজনার ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে. এই ২০টা মিনিট ভোলার নয়. প্রায় ৬০০-৭০০ ছবি তুলতে দেওয়ার পর রাজকীয় মেজাজে তিনি যখন জঙ্গলের ভেতর মিলিয়ে গেলেন চারদিকের সবুজ ভাসিয়ে তখন বৃষ্টি নেমেছে.তখন যে আমাদের মনের ভেতর কি চলছে তা লিখে প্রকাশ করা বোধহয় সম্ভব নয়.
যাইহোক সাময়িক ঘোর কাটিয়ে পড়িমরি করে জিপসি নিয়ে দৌড়োলাম গাছের নিচে দাঁড়াতে.
গভীর জঙ্গলের ঝড়ের মতো হাওয়ার সাথে এহেন বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে হারতে হারতে জেতা ম্যাচের সাফল্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে করতেই ঘটলো আরেকটা ঘটনা।
সেটা লিখবো পরের পর্বে.
আজ থাকলো কিছু ছবি.

Nikon Z8 with Nikkor 180-600 mm.
Nikon Group
National Geographic
National Geographic TV
BBC Earth
Discovery
Animal Planet
Planet Tiger

𝗧𝗛𝗘 𝗚𝗢𝗟𝗗𝗘𝗡 𝗖𝗛𝗔𝗥𝗜𝗢𝗧 & 𝗧𝗛𝗘 𝗗𝗜𝗩𝗜𝗡𝗘 𝗟𝗜𝗚𝗛𝗧𝗥𝗔𝗧𝗛𝗔𝗬𝗔𝗧𝗥𝗔 𝟮𝟬𝟮𝟰.National Geographic MagazineNikonBBCNikon Bengal - নিকন বেঙ্গল
16/07/2024

𝗧𝗛𝗘 𝗚𝗢𝗟𝗗𝗘𝗡 𝗖𝗛𝗔𝗥𝗜𝗢𝗧 & 𝗧𝗛𝗘 𝗗𝗜𝗩𝗜𝗡𝗘 𝗟𝗜𝗚𝗛𝗧

𝗥𝗔𝗧𝗛𝗔𝗬𝗔𝗧𝗥𝗔 𝟮𝟬𝟮𝟰.

National Geographic Magazine
Nikon
BBC
Nikon Bengal - নিকন বেঙ্গল

Awards Received from Czech Republic..
21/11/2023

Awards Received from Czech Republic..

কুমোরটুলি থেকে কয়েকশো মাইল দূরে.. মা দূর্গার আগমনীর সুরে সৃষ্টিতে মজে শিল্পী..
14/10/2023

কুমোরটুলি থেকে কয়েকশো মাইল দূরে..
মা দূর্গার আগমনীর সুরে সৃষ্টিতে মজে শিল্পী..

Smile for the Big Catch..                                        Head On Photo Festival  National Geographic   Admin WPC
20/07/2023

Smile for the Big Catch..







Head On Photo Festival National Geographic Admin WPC

Address

Kolkata
712223

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mainak Dey Photography posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category