29/06/2017
হ্যা রে,
শুনলাম তোর নাকি আজ জন্মদিন।
খুব খুশি হলাম,
হ্যা রে,
শুনলাম তোর নোটিফিকেশন ফেবু তে পেয়ে অনেকে উইশ করেছে।
দেখে ও খুশি হলাম।
হ্যা রে, শুনলাম
সকাল থেকে তুই তো রোদে পুড়ে, স্কুল করে, টিচার্স রুম এর পি এন পি সি সব সয়ে এলি
তোর না আজ স্পেশাল দিন, আজো তোর একটু ছুটি নেই?
হ্যা রে,
রাতে নাকি তুই একটু আসা করে বসে ছিলি
সে আশা তেওঁ নাকি পড়েছে ছাই, যত গন্ড মূর্খ র কুম্ভ কর্ণের দল জুটেছে তোর কপালে।
যাকগে, ছাড়।
বাড়িতে মা আজ বানাবে পায়েস
আজ দুপুরে জমিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া।
উফ, কত্ত দিন পর আজ সব্বাই তোর খুশি চাইবে মন খুলে।
আর আশীর্বাদ সেই প্রদীপ এর ডালা সাজিয়ে?
ওহ, তাও বুঝি হবে না আজ তাইনা,?
জিজ্ঞেস করছিস নিজের মনে বহুবার, কিন্তু মুখ ফোটেনি।
কেন হবেনা প্রতিপ ডালা, কেন হবেনা উলুধ্বনি, কেন হবেনা ধান দুব্য, কেন রে?
ওহঃ তুই তো মেয়ে,
মেয়ে,
মেয়ে মানেই তো ছেলে খেলা,
মেয়ে মানেই তো ঘরের আসবাব এর মত, আজ আছে কাল নেই।
মেয়ে মানেই তো খেলার পুতুল, আজ এই শোকেসে তো কাল অন্য,
মেয়ে মানেই তো অবহেলা
মেয়ে মানেই এই নিয়ম,ওই নিয়ম, এটা করেনা,ওটা করেনা,
জানি তোর মনে অনেক প্রশ্ন।
অনেক দ্বিধা, অনেক উত্তর যা মানতে পারিস না।
মেয়ে হলে নাকি মেনে নিতে হয়।
রাস্তায় বেরোলে বাবা বলে তুমি মেয়ে হয়েছ তো কি হয়েছে তুমি কোনো অংশে কম নৌও
সাহস যোগায় বাবা, ঠিক করে।
কিন্তু বাবা,
তুমি তো পড়েছ
কোনো বড় মানুষ বলেছিলেন
চ্যারিটি বিগিন্স এট হোম
তবে, এ ক্ষেত্রে কেন বাড়ি তেই মেয়ে বলে একটু বরণ ডালা পাবো না,
কেনই বা পাবো না প্রদীপ এর উষ্ণতা তোমার হাতে,
কেনই বা পাবো না মায়ের দেয়া ধান দুব্য
জানি তোমাদের আশীর্বাদ সদা আমার সাথে আছে।
কিন্তু এগুলোতে না সত্যি ভালোলাগে।
করবে বাবা একটি বার
একবার শুধু জন্মদিনে একটু সমান ভাবে দেখো আমায় জন্মদিনে।
ছেলে মেয়ের পার্থক্য বাড়ির চার দেয়াল এর মধ্যে সমান করে দাও।
হা বাবা তুমি করবে।
তুমি আমায় বোরো করেছ।
নিজের শক্ত হাতে আমায় চলতে শিখিয়েছো
তুমি আমার প্রথম টিচার
তুমি ই করবে তুমি এ বুঝবে বাবা আমার সাধ আমার আল্লাদ
হা রে বাবা বুঝবে।
আশীর্বাদ ও করবে।
জ্বলবে প্রদীপ, সাজবে ডালা, মুখ মোছাবে মায়ের আঁচল, মাথায় থাকবে বাবার উষ্ণ হাত।
তুই তো মেয়ে
তুই মায়ের জাত।
তুই দশ হাতে সংসারের প্রাণ।
তুই মা, তুই এ প্রতিমা, তুই এ সর্ব গুন সম্পূর্না,
এক শরীরে এক অত্ত্বায় তুই
অনন্যা
শুভ জন্মদিন জানাই তোকে মা।