05/02/2023
অন্ধকার ঘরের নীলচে আভায় বিছানার দুপ্রান্তে বসে আছে দুটো নরনারী। দুজোড়া চোখেই জ্বলছে কামনার আগুন। তবুও দুজনেই অপেক্ষার প্রহর গুনছে কে আগে হার স্বীকার করবে। একটা সময়ের পর ত্রিভিক থাকতে না পেরে ওর সামনে বসা ঈশানি কে এক ঝটকায় নিজের কোলের ওপর বসিয়ে, ছোটো ছোটো চুমু একে দিল ওর গলায় আর ঘাড়ে। ওর হাত তখন ঈশানির বুক পেরিয়ে নেমে এসেছে নাভির কাছে। ক্ষিপ্র গতিতে বিবস্ত্র করতে লাগলো একে অপরকে। ঈশানির নগ্ন শরীর চাপা পড়েছে ত্রিভিকের পুরুষালি শরীরের নীচে। একে অপরের ঠোঁট আকড়ে ধরে ভেসে যাচ্ছে আদিমতার বন্য সুখে। ওদের আত্ম-তৃপ্তির চিৎকারে ভরে উঠেছে ঘর।
ঈশানির বুকে মাথা রেখে শান্ত হয়ে শুয়ে আছে ত্রিভিক। ওদের মুখে লেগে রয়েছে আত্মতৃপ্তির ছাপ। কিছুক্ষন পরে নীরবতা ভেঙে ত্রিভিকই প্রথম বললো - এখনো ভুলতে পারোনি না শুভকে?
ঈশানি - (আনমনে) হু? কিছু বললে?
ত্রিভিক - বললাম যে এখনো শুভকে ভুলতে পারোনি তুমি।
ঈশানি - এই কথা বলার কারণ জানতে পারি?
ত্রিভিক- কারণ কিছুই না। আসলে তুমি হয়তো আমার মধ্যেই শুভকে বার বার খুঁজতে চাইছিলে,তাই যতবার তোমায় আঁকড়ে ধরেছি ততবারই শুভর নামেই তুমি চিৎকার করেছো।
ঈশানি - (ম্লান হেসে) তুমিও তো আমাকে আঁকড়ে ধরতে চাওনি। তুমি তো চোখ বন্ধ করে আমার শরীরের মধ্যে তোমার প্রিয়সীকে অনুভব করতে চেয়েছিলে।
ত্রিভিক- নিশ্চুপ
ঈশানি - (ত্রিভিকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে) আসলে কি বলতো তুমি আর আমি দুজনেই নিজেদেরকে ভালো রাখার জন্য একে অপরকে বেছে নিয়েছি। আমরা দুজনেই জানি আমরা একে অপরকে ভালোবাসতে পারবো না। আর হয়তো আমি চাইলেও তুমি.....
ঈশানিকে শেষ করতে না দিয়েই ত্রিভিক বললো - তুমি সবটাই জানো ঈশানি। আমার পক্ষে ভলোবাসা বা কোনো কমিটমেন্ট দেওয়া সম্ভব না।(ঈশানির হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে) কিন্তু আমি তোমায় কথা দিয়েছি আমি নিজের মতো সারাজীবন আগলে রাখবো। আর তুমি জানো আমি কথা দিলে আমি রাখতে জানি। তোমার সমস্ত দরকারে প্রতিটা কাজে পাশে পাবে আমাকে। ছেড়ে যাবো না।
ঈশানি - আচ্ছা তুমি কি আদেও কোনোদিন ধরা দিয়েছিলে আমার কাছে? যে ছেড়ে যাবার কথা বলছো? আর তুমি যে আশা-প্রত্যাশার কথা বলছো,আমি তোমার কাছে কেনো কারোর কাছেই কোনো আশা রাখি না। আমি নিজেকে সামলে নিতে জানি।তবে তুমি যেই কারণে আমার কাছে আছো ঠিক সেই কারণে আমি তোমার কাছে আছি। একটু শান্তির জন্য একটু ভুলে থাকার জন্য, একটু ভালো থাকার জন্য।
ত্রিভিক - (ঈশানির বুকে মুখ গুজে দিয়ে) জানো তো কোনো আশা- প্রত্যাশা না রেখে, কোনো বাঁধনে না জড়িয়ে,গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো থেকে যায়। আর যদি বাঁধনে বাঁধতে যাও শুধু মাত্র হারাতে হবে আর ঠকতে হবে।এই মিথ্যে বাঁধনের মাঝে পড়ে আবার দমবন্ধ হয়ে মরতে চাই না আমি। খুব কম মানুষই আমার জীবনে আছে যারা আমায় ভালোবেসেছে, থেকে গেছে কোনো স্বার্থ ছাড়াই। তাদের জন্য আমি কোনো শর্ত ছাড়াই কোনো কারণ ছাড়াই আমি আমার সমস্ত জীবনটা বিলিয়ে দিতে রাজি। আর আমার কাছের মানুষ গুলোর মধ্যে তুমিও একজন। এবার তোমার ওপর নির্ভর করছে তুমি থেকে যাবে নাকি চলে যাবে।
ঈশানি - (ত্রিভিককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ) যদি রেখে দিতে পারো থেকে যাবো শেষ পর্যন্ত। কোনো কারণ ছাড়াই কোনো শর্ত ছাড়াই। আমাদের সম্পর্কের নাম না থাকুক তবে সম্পর্কের গভীরতাটা যেনো অন্তর থেকে হয়। এর বেশি আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। শুধু এটুকুই বলবো থেকে যেও।
ত্রিভিক -(ঈশানির ঠোঁটে চুমু দিয়ে) থেকে যাবো কথা দিলাম।
লিখিতদলিলে:- ইসিকা
ছবি:- সংগৃহীত(DM FOR CREDIT)
কর্পূর- Karpoor