03/05/2021
#বিষয়_গল্প
#নিশুতি_রজনীতে_কে_ও
#পিয়ালীরায়
আজও ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে উঠে বসল কেকা।গলাটা শুকিয়ে কাঠ।ওপর জোরে ফ্যান চলছে,তবুও জামাটা ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গায়ের সঙ্গে সেঁটে আছে।পাশে অতনু নিশ্চিতে ঘুমাচ্ছে।মোবাইলে টাইমটা দেখল কেকা,তিনটে দশ।এই নিয়ে তিন দিন হল কেকার,রোজ রাত তিনটে দশে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে।
আস্তে আস্তে বাথরুমে গিয়ে গায়ে মুখে জল দিল কেকা।জামাটা চেঞ্জ করে আবার বিছানায় শুলো।আবার সেই অনুভূতি,কেউ যেন অলক্ষ্যে ওর ওপর নজর রাখছে।কেমন যেন দম বন্ধ লাগছে কেকার।কেন এরকম হচ্ছে বারবার!
অতনুর সাথে কেকার সাত বছরের প্রেমপর্ব শেষে গত সপ্তাহেই ওদের চার হাত এক হয়েছে।অতনুর বাড়ি তারকেশ্বর।তবে চাকরিসূত্রে অতনু টালিগঞ্জ এলাকায় একটা দু কামরা ফ্লাটে ভাড়া থাকে।বিয়ের পর বউ নিয়ে অতনু ওই ভাড়া ফ্লাটেই উঠেছে যাতে ও দশ বছর ধরে ছিল।সবে তিন দিন হয়েছে কেকার এই ফ্লাটে,রোজ রাতে ঘুম ভেঙে যায় ওর তিনটে দশে।কোন কারণ খুঁজে পায় না কেকা।
আজ হটাৎ না জানি কেন ওদের শোবার ঘরের জানলাটা দিকে এগিয়ে গেল কেকা। চারদিক নিস্তব্ধ,নিশুতি রজনী,তবে কেন বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে ওর!ভাবতে ভাবতে ওদের জানলার মুখোমুখি একটা ফ্লাটের জানলায় দৃষ্টি গেল কেকার,যা দেখল,তাতে রক্ত জল হয়ে গেল ওর।এমনিতে জানলাটা বন্ধই থাকে,অতনুই বলেছে আট বছর হল,ওই ফ্লাটে কেউই থাকে না।তবে বন্ধ ফ্লাটের জানলাটা খুলল কে!জানলায় এমন সুন্দর পর্দাটাই লাগানো হল কখন।আর জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে প্রকৃতি দেখছে কে ও?ও তো এক অল্প বয়সী সুন্দরী নারী বলেই বোধ হচ্ছে।
ভয় ভয় লাগলেও নিজেকে সামলে নিয়ে,কেকা বলল,"এই যে দিদি,আপনি বুঝি এই ফ্লাটেই থাকেন?"
মেয়েটি সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল।
"আপনি বুঝি রাতে ফেরেন? সকালে তো আপনাকে দেখতে পাইনি! "
মেয়েটি আবার সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।এবারে মুখে একটু হাসিও দেখা গেল যেন।
"পরে একদিন সময় করে আসবেন আমাদের ফ্লাটে।আমি এই নতুন এসেছি।আপনাকে কি বলে ডাকব দিদি?"
মেয়েটি এবার অস্ফুটে বলল,"তনুশ্রী।"
কেকা এবার হেসে ঘুমতে চলে গেল।সকাল হতেই অতনুকে ঘুম থেকে তুলে,অতনুর টিফিন ও জলখাবার রেডি করতে লাগল কেকা।অতনু তখন সবে চান করে বেড়িয়েছে টাউয়াল কোমরে জড়িয়ে,ভিজা গা,মাথার চুল দিয়ে জল গড়াচ্ছে।হা করে অতনুর দিকে চেয়ে থাকে কেকা,এত সুদর্শন,সুপুরুষ স্বামী ওর ভাগ্যে ছিল তা ও কল্পনাই করতে পারিনি কখনো।মনে মনে ভগবানকে ধন্যবাদ দেয় কেকা।কেকাকে এমনভাবে চেয়ে থাকতে দেখে অতনু কেকার কোমর জড়িয়ে ধরে।
"কি করছ কি!আমার শাড়ি ভিজে যাচ্ছে যে!"কেকা এবার নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে।
"বেশ করছি,আমি আমার বউকে জড়িয়ে ধরছি,কারোর কোন আপত্তি আছে!"অতনু নিজের মাথা ঝাঁকালে,ওর চুলের জল কেকার মুখে ছিটকে পড়ে।
"এই না না প্লিজ,ছাড়ো,ভালো হবে না কিন্তু!"কেকা বলে চলে।
হা হা করে হাসতে থাকে অতনু,দেখে কেকার মুখে জলের ছিটা লেগেছে।সুন্দরী কেকাকে যেন আরও সুন্দরী লাগছে এতে।অপার বিস্ময়ে ওর সৌন্দর্য পান করতে থাকে অতনু দু চোখে।কেকা খানিক পড়ে অতনুকে চিমটি কাটলে অতনু চমকে গিয়ে ওকে ছেড়ে দেয়।এবার হাসতে থাকে কেকা।
"তবে রে!"বলে কেকাকে ধরতে পিছু নেয় অতনু।কেকাও হাসতে হাসতে পালাতে থাকে।পালাতে পালাতে শোবার ঘরের বিছানায় পড়ে যায় কেকা।অতনুও কেকাকে ধরে সুড়সুড়ি দিতে থাকে।হা হা করে হাসতে থাকে কেকা," অঅতনু,হা হা হা হা,অআআআর নাআআআ প্লিইইইজ!"বলতে বলতে কেকার চোখ ওদের জানলার মুখোমুখি ফ্লাটের জানলায় পড়ে।কই,কেউ তো নেই! জানলাটা বন্ধ,পর্দাও নেই।এক রাত্রির মধ্যেই পর্দাটা খুললো কে!
এবার হাসি থামিয়ে ধড়মড় করে উঠে বসে কেকা। অতনুও অবাক হয়।
"জানো অতনু,কাল রাতে ওই ফ্লাটে একজন সুন্দরী মহিলাকে দেখলাম।উনি রাতেই ফেরেন।খুব সুন্দর পর্দা লাগানো ছিল জানলায়!এখন কে খুলে নিল!"
"ধুর,তোমায় বলিনি,ওই ফ্লাটে কেউই থাকে না,তুমিও না,কি দেখতে কি দেখেছ!"অতনুর গলায় বিরক্তি।
"কিন্তু,বিশ্বাস করো অতনু,আমি ঠিক দেখেছি।আমি ওই মহিলার সাথে কথাও বলেছি।ওনার নাম বলল তনুশ্রী!"
"কি বললে,তনুশ্রী!"অতনুর মুখ গম্ভীর।কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেল অতনু।কেকা কথা বলার চেষ্টা করাতেও লাভ হল না।চুপচাপ খেয়ে টিফিন আর অফিসের ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে গেল অতনু।কেকা ভাবতে লাগলো,অতনুর এহেন আচরণের কারণ কি?
******************************
আজ দুদিন হলো অতনু চুপচাপ হয়ে গেছে।কেকা চেষ্টা করলেও কোন লাভ হয়নি।কেমন যেন বিমর্ষ ভাব অতনুর।ডাকলে সাড়া দেয় না,অফিসের কাজে ব্যাস্ত থাকে।আজ কেকা সিনেমা দেখার জন্য জোরাজুরি করতে,অতনু অফিসের ফাইল থেকে মুখ তুলে,রেগে,"ডিস্টার্ব করো না তো!"বলে পাশের ঘরে চলে যায়।কাঁদতে থাকে কেকা,এমন কি করেছে ও!আজকাল অতনুকে কেমন যেন অচেনা লাগে।তনুশ্রীর নাম শুনেই ওর আচরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে কেকা।কে এই তনুশ্রী?জানতেই হবে ওকে।
সকালে আলমারির উপরের তাকে ব্যাগগুলো রাখছিল কেকা।টুলের পায়াটা হটাৎ ভেঙে পড়াতে ব্যালেন্স হারিয়ে একটা বড়সড় এক্সিডেন্ট হতে যাচ্ছিল কেকার,যদি না অতনু ঠিক সময় ওকে ধরে ফেলত।দুদিন আগেও বাথরুমে গিয়ে বাথটাবে চান করবে বলে পোষাক ছাড়ছিল কেকা,অতনুর তাড়ায় বাথরুম থেকে জামা কাপড় পড়ে বেড়িয়ে আসে ও।অতনু নাকি তক্ষুনি বাথরুম ইউস করার দরকার।আজ কেকা ভাবে,ভাগ্যিস,অতনু সেদিন বাথরুম গেছিল,অতনুই তো আবিষ্কার করল,বাথটাবে দুটো ইলেকট্রিকের তার ছিঁড়ে পড়ে আছে।কেকা আর একটু হলেই সোজা পটলডাঙ্গার টিকিট কাটত!তাই তারপর থেকেই অতনু চোখে চোখে রাখছে কেকাকে,কিচ্ছু কাজ করতে দিচ্ছে না একা একা।পাগলটা পারেও বটে।দুদিন রান্না অতনু করেছে একা,অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে,কেকা খালি বসে বসে খেয়েছে শুধু।
সন্ধ্যেবেলা অতনু একটু বাজারে বেরিয়েছে,সেই ফাঁকে অতনুর স্টাডি টেবিলটা গোছাতে গিয়ে একটা ডায়রি পায় কেকা,সাথে একটা অ্যালবাম।ডায়রিটায় খুব সুন্দর করে মেয়েলি হাতে লেখা,"মাই লাভ স্টোরি বাই তনুশ্রী আগারওয়াল।"
কাঁপা কাঁপা হাতে অ্যালবামটা খোলে কেকা,"ইউ এন্ড মি-আস" তাতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে,কখনো বসে অতনুর ছবি,তাতে কখনো কখনো একটি মেয়েকেও দেখা যাচ্ছে,এদের মধ্যে কিছু ছবি অতনুর অজান্তেই তোলা হয়েছে মনে হয়,কখনো ড্রেস চেঞ্জ করছে অতনু,কখনো চান করে বেরোচ্ছে,কখনো ঘুমোচ্ছে,সেগুলিতে আবার ওই মেয়েটির ছবি কেটে সাঁটা হয়েছে।মন দিয়ে দেখে কেকা,এ তো তনুশ্রীর ছবি।হটাৎ অতনুর বাঘাটে হুঙ্কারে হাত থেকে অ্যালবামটা পড়ে যায় কেকার,"কি করছ ওখানে!"
কেকার তখন চোখে জল,কোনরকমে অ্যালবামটা মেঝে থেকে কুড়িয়ে স্টাডি টেবিলে রেখে দ্রুতবেগে ঘরে ঢুকে গেল কেকা।পিছন পিছন যায় অতনু।কেকা তখন কাঁদতে কাঁদতে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ব্যাগ গোছাচ্ছে বাপের বাড়ি চলে যাবে বলে।অতনু এসে কেকার হাত ধরে বাঁধা দেয়,"কি করছটা কি!কেকা জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিতে কাপড়গুলো মেঝেতে পড়ে যায়,কাঁদতে কাঁদতে এবার ভেঙে পড়ে কেকা।অতনু ধীরে ধীরে কেকাকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিতে থাকে।কেকা নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে,"ছাড়ো,ছোঁবে না আমায়,তুমি আমায় মিথ্যে বলেছ,যে আমিই তোমার প্রথম ভালোবাসা!"
অতনুর চোখও এবার শুষ্ক নেই,কোনমতে বলে"কেকা,সোনা,বিশ্বাস করো,তুমিই আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা!"
"তাহলে এগুলো কি!কে এই তনুশ্রী?তার সাথে কি তোমার সম্পর্ক!" অতনুর জামার কলার খামচে জিজ্ঞেস করে কেকা।
"ঠিক আছে,আজ আমি সব বলব তোমায়।তোমার মনে আছে যে কলেজ লাইভ থেকে এই ফ্লাটটায় আমি ভাড়া ছিলাম?"
কেকা সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে।
"এই ঘরের জানলার মুখোমুখি যে জানলাটা দেখা যায়,সেটা আমার ক্লাসমেট তনুশ্রীর ছিল।"অতনু বলতে শুরু করে,"তনুশ্রী মা বাবা ছোটবেলায় একটা এক্সিডেন্টে মারা যায়,কাকার কাছে মানুষ।পাশাপাশি ফ্লাটে থাকার সুবাদে আমাদের কথাবার্তা হত প্রায়ই।একই সাবজেক্ট থাকার দরুন নোটস নিতে আসত ও আমার ঘরে প্রায়ই।এমনকি পরীক্ষার সময়ও লাস্ট মিনিট সাজেশন আমার কাছেই পেত।অচিরেই আমরা বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম।উইকএন্ডে আমি ভালো রান্না করলে ও বরাবরই নিজেকে সেল্ফ ইনভাইট করে নিত,বলত,"ওয়াও!ক্যা খানা বানায়া হে ইয়ার,মু মে পানি আ গেয়া।সাচমে তুঝসে যো লরকি সাদি করেগি,বহত খুশনসিব হোগি।"
মাঝখানে আমার মাকে কদিন এখানে এনে রেখেছিলাম,তখনই দেখি ওদের মধ্যে বন্ডিংটা ভালো হয়ে গেছে,মা ওর চুল বেঁধে দিত,ওদের নানা আলোচনা হত।জিজ্ঞাসা করলে মা বলত,"মা আর মেয়ের আলোচনা শুনতে নেই!"
পরে মা চলে গেলে দেখি,মার কাছে থেকে আমার ছেলেবেলার সব খবর জেনেছে ও!তাই নিয়ে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত করত ও।আমার আর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিজয় বলেছিল,"দ্যাখ ভাই আমার মনে হয় তনুশ্রী তোকে পচ্ছন্দ করে!"
আমি ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।আমরা শুধু মাত্র বেষ্ট ফ্রেন্ড তার বেশী কিচ্ছু না।
পরে আমার জন্মদিনে আমায় একটা ছোটো টেলিবিয়ার গিফ্ট করেছিল তনুশ্রী।আমি হেসে বলেছিলাম,"ছেলেদেরকে কে টেলিবিয়ার দেয়!"
ও জেদ করে বলেছিল,এটা নাকি ওর খুব প্রিয়,তাই যেন কখনো কাছ ছাড়া না করি।আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম তবে ওটা ড্রয়িং রুমে রেখেছিলাম।দুদিন পর তনুশ্রী এসে টেলিবিয়ারটা ড্রয়িং রুমে দেখে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, "ম্যায়নে কাহা থা না ইসে আপনে পাশহি রাখনা!ইসে আকেলা মেহসুস হোতা হে!"
তারপর থেকে যে ঘরেই যেতাম টেলিবিয়ারটা সাথে করেই নিয়ে যেতাম।একদিন তনুশ্রীর ঘরে আমার একটা খাতা আনতে যাই।তনুশ্রী বসতে বলে চা আর জলখাবার আনতে যায়।তখনই এই অ্যালবামটা আর ডায়েরিটা আমার চোখে পড়ে,আমি অ্যালবামে আমার কিছু ছবি যেগুলো অজান্তেই তোলা,দেখে ঘাবড়ে যাই,আর ডায়েরিটা কিছুটা পড়ে যা বুঝতে পারি তা হল,তনুশ্রী আমায় প্রচন্ড ভালোবাসে যাকে ভালোবাসা না বলে অবসেশন বলাই বাহুল্য।তনুশ্রী তখনই চা জলখাবার নিয়ে আসে,আমার হাতে ওগুলো দেখে ঘাবড়ে যায়।আমি ওকে শুধরে যেতে বলি,কেননা ও যা করছে ভালোবাসার নামে,তা হল ক্রাইম,ওর শাস্তি হওয়া দরকার!কাউকে ভালোবাসা অপরাধ নয়,তবে কারোর ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানো এভাবে,জঘন্য অপরাধ।
ও খুব কান্নাকাটি করে,বলে,"আই লাভ ইউ অতনু,প্লিজ ফরগিভ মি,ম্যায় স্যাচ বোল রেহি হু,কোইভি তুমে মুঝসে জাদা প্যার নেহি ক্যার সাকতা হে!তুম স্যাচ বোলো,ক্যা তুমনে কাভিবি মুঝসে প্যার নেহি কিয়া?"
"নো,নেভার!হাম সির্ভ আচ্ছে দোস্ত হ্যায়,ওর কুছ নেহি!"
তনুশ্রী ভেঙে পড়ে,কাঁদতে থাকে।আমি ওকে সতর্ক করি,ভবিষ্যতে যেন এমনটা না করে তা বোঝাই।ওর সামনে গোটা ফিউচার পড়ে আছে,আমার থেকেও ভালো কেউ অপেক্ষা করছে ওর জন্য বলি।ও কি বোঝে ওই জানে।চুপচাপ হয়ে যায়।আমিও বাড়ি ফিরে আসি।টেলিবিয়ারটার খুলে মিনি ক্যামেরাটা বের করে নষ্ট করে দিই।
পরদিন ভোরে তনুশ্রীকে ডাকতে গিয়ে ওর কোন সাড়া শব্দ পাই না।পরে কেয়ারটেকার দরজা খুলতেই ওর ঝুলন্ত দেহ অবিষ্কার হয়।পুলিশ এসে তদন্ত করেও মৃত্যুর কারণ জানতে পারেনি তনুশ্রীর।কোন সুইসাইড নোট উদ্ধার হয় নি।আমায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ,তবে আমি গোটা ঘটনাটা চেপে যাই।এই ঘটনার পর মনে মনে আমি খুব ভেঙে পড়ি,নিজেকে দোষারোপ করতে থাকি।মা বাবা বারবার চেষ্টা করে অন্য ফ্লাট ভাড়া নেবার,তবে এত কম ভাড়ায় কোথাও ফ্লাট পাওয়া যাচ্ছিল না।সুতরাং এই ফ্লাটটায় আমি রয়ে যাই।তোমার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর আমি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরি।তবে বিয়ের আগে আমি তনুশ্রীর ফ্লাটের দিকের জানলাটা সবসময় বন্ধ রাখতাম।আমার কেন জানি মনে হতো,তনুশ্রী ওই জানলাটা দিয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।প্রথম প্রথম ভয় পেলে মার কথায় জানলাটা বন্ধ করে রাখতাম,"অতনু বলা থামায়।
"হুম,এবার বেশ বোঝা যাচ্ছে যে তোমার বান্ধবী তনুশ্রী আমায় সহ্য করতে পারছে না তোমার সাথে," কেকার স্বর গম্ভীর।
"মানে?"অতনুর প্রশ্ন।
"মানে,আমার দুদিন এক্সিডেন্ট হতে হতে বাঁচা,জানলায় তনুশ্রীকে দেখা সবটাই কাকতালীয় নয়।তনুশ্রী তোমার আমার মনের ভূল নয়,ওর আত্মা এখনও এখানেই বিরাজমান।ও তোমায় ভুলতে পারেনি অতনু,আর আমাকেও তোমার সঙ্গে মেনে নিতে পারছে না ও,"কেকা বলে।
" তাহলে উপায়!"এবার অতনু ভয় পায়।
কেকার পরামর্শে অতনু ব্যাপারটা ওর বাবা মাকে খুলে বলে।ওর বাবা মা পরদিনই ওনাদের ঠাকুরমশাইকে নিয়ে হাজির।উনি সব কিছু দেখেন, বোঝেন,তারপর বিধান দেন,গয়ায় গিয়ে পিন্ড দিতে তনুশ্রীর নামে।ততদিন সবার হাতে মন্ত্রপূত ধাগা বেঁধে দিয়ে যান,বলেন পিন্ডদানের পর খুলতে।অতনু সেইমত ওর পরিবারের সাথে গয়ায় গিয়ে পিন্ড দেয়।তারপর থেকে ওদের জীবনে আর কখনো অশরীরী ছায়া পড়েনি।
সমাপ্তি