13/07/2026
♣️ ব্রিটিশ আমলে উইনস্টন চার্চিল একটা স্টেটমেন্টে বলেছিল "মুসলিমরা হিন্দুদের উপর রাজ করবে কারণ মুসলিমরা যোদ্ধা অন্যদিকে হিন্দুরা বাগাড়ম্বর বিলাসী। তারা কথার বেলায় অনেক ভালো কথা বলতে পারে কিন্তু কাজের বেলায় তারা মুসলিমদের থেকে পিছিয়ে। [ সোর্সঃ দি স্টেইটস্ ম্যান ]
আমরা দেখতে পেলাম কোলকাতায় হিন্দু নিধ*ন, কেরালার মোপলায় হিন্দু গণহ*ত্যা, নোয়াখালীতে লক্ষ্মীপূজার দিন নৃশংস নরসং*হার, নবীজির চুল চুরি করেছে হিন্দুরা অপবাদে নি*র্যাতন, ৫০ এ বরিশালে মুলাদি গণহ*ত্যা, ৬৫ এ হিন্দু নি*ধন, ৭১ এ হিন্দু নি*ধন, দেইল্লা রাজাকারকে চাঁদে দেখা গেছে বলে নির্যাতন, বাবরি মসজিদের ঘটনায় হিন্দু নি*র্যাতন।
হিন্দুরা আফগানিস্তান থেকে পালালো, পাকিস্তান থেকে পালালো আবার পূর্ববাংলা থেকেও পালাচ্ছে। মনে প্রশ্ন জাগে, যে ধর্মের সকল দেব দেবী অস্ত্রধারী ; মহারানা প্রতাপ,যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য, দিনরাজ রায়, রায়বাঘিনী, শিবাজি, সাম্ভাজী, বাপ্পা রাওয়াল, রানা কুম্ভ দের মতো মহান বীরেরা যে ধর্মের অনুসারী, যে ধর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় আরাধ্য দেবতা রাম আর কৃষ্ণ দু'জনেই মহান যোদ্ধা সেই ধর্মের মানুষের এই অবস্থা কেন?
।
♣️ বর্তমানে হিন্দুদের দিকে তাকালে দেখা যায় - একদল হিন্দু জয় শ্রী রাম বলবে বা লিখবে না, হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবে না, কোথাও হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে অন্তত সোস্যাল মিডিয়ায় কথা বলা তো দূরে থাক ঐসব পোস্টে রিএক্টও দিবে না। কারণ সরকারি চাকুরিটা যদি না হয় পরে। বিসিএস-এ টেকার পর যদি গোয়েন্দা রিপোর্টে বাদ যায় এই শঙ্কায়। যদিও এসব করে সরকারি চাকরিতে ফাটিয়ে দিচ্ছে এমনটা নয়, উলটো নিজেদেরই ফেটে যাচ্ছে। চাকুরি থেকে বাদ দেয়ার জন্য মৌলবাদী প্রশাসনের- প্রার্থীর হিন্দু পরিচয়ই যথেষ্ট, সে কি লিখলো কি বললো ঐটা না।
দেশভাগের সময় মুসলিম লীগকে নির্বাচনে জেতাতে ৩ লক্ষ টাকা আর ৫ টি লঞ্চ দেয়া, ৬৫ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে নিজের দেশ (পূর্ব) পাকিস্তানকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করার পরেও শুধু হিন্দু হওয়ার কারণে ৭১ এ ম*রতে হয় দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহাকে।
♦️আরেকদল নিহিলিস্ট ( হতাশাবাদী) হিন্দু আছে যারা মনে করে এসব করে কোন লাভই নেই। এর চেয়ে যেকোনভাবে দেশের বাইরে পালালে অনেক লাভ। দেশের বাইরে গিয়েই এরা ভুলে যায় দেশে থাকা স্বজাতির কথা। বিদেশিদের সামনে স্বীকার করে না হিন্দু নির্যাতনের কথা। তারা দেশ থেকে পালালে দেশে থাকা হিন্দুর জনসংখ্যা যে আরো কমে যায় এবং নির্যাতন আরো বেশি হয় তা এদের বোধগম্য হয় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর কথা। তার পরিবার ১৯৫০ এ বরিশাল থেকে ভারতে চলে যায়। [ ১৯৫০ সালে বরিশালে পৃথিবীর অন্যতম বড় সাম্প্রদায়িক গণহ*ত্যা- মূলাদি গণহ*ত্যা হয়েছিল ] সাম্প্রদায়িক কট্টর মুসলিমদের ভয়ে দেশ ছেড়ে তিনি যুক্ত হলেন ভারত ভাঙার নকশাল আন্দোলনে। যে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থাকার জায়গা দিলো তাকে ভাঙতেই শুরু করলো লড়াই।
।
♦️সম্প্রতি একধরনের এলিট হিন্দুপক্ষ জন্ম নিয়েছে। এইপক্ষ স্বীকারই করতে চায় না এদেশে হিন্দু নির্যা*তন হয়। এরা সাধারণত বিত্তবান পরিবারের হয়ে থাকে। তাদের কাছে মন্দির ভাঙা সাম্প্রদায়িক নয় বরং রাজনৈতিক। ধর্ম অবমাননার নামে হ*ত্যা রাজনৈতিক। এরা সব কিছুর পেছনে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র, ইহুদি ষড়যন্ত্র খুজে বেড়ায়। কিন্তু যারা ধর্মের নামে হামলা করছে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলবে না। এদের একটি কমন স্বভাব হলো ভালো দাদা / দিদি হওয়ার চেষ্টা করা। এরা প্রায়ই বলে " আমি হিন্দু হয়ে বলছি, এদেশে হিন্দুরা খুব সুখে আছে ", তাদের এই উক্তি ফ্রিতে প্রচুর পপুলারিটি এনে দেয় তাদের৷
২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিট/লারও এমন কিছু পোষা ইহু*দিদের রেখেছিল যারা ইহু*দি গণহ*ত্যার সময় বলতো সব কিছু স্বাভাবিক আছে, ইহু*দিদের উপর কোন অত্যা*চার হচ্ছে না।
।
♣️ সুনামগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় ঢুকে প্রকাশ্যে মন্দির ভে*ঙে দিয়ে গেছে, লোকজন বলেছে দুর্বৃত্তরা অপরিচিত। তবে হিন্দুরা সবাই একজোট হয়ে মন্দিরে হামলা ঠেকাতে পারেনি।
কারণ হিন্দুরা সব প্রেমধর্মে বিশ্বাস করে। গান্ধীজি শিখিয়ে গেছেন একগালে থাপ্পড় খেলে আরেক গাল এগিয়ে দিতে হয়।
হিন্দুরা আরও শিখেছে " মেরেছো কলসির কানা তাই বলে কি প্রেম দেবো না?" পরিস্থিতি না বুঝে সব পরিস্থিতিতে এই প্রেমধর্ম ধারণ করা, সর্বরোগে প্যারাসিটামল সেবনের মতো। ক্যান্সার সারাতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ লাগে প্যারাসিটামল না। এই ভীরু মানসিকতা কিভাবে তৈরি হলো তা পরের অংশে জানবো।
♣️সত্যমেব জয়তে
©️নালন্দা
১২-০৭-২০২৬