Manas Halder

Manas Halder *addiction to camera*

♣️ ব্রিটিশ আমলে উইনস্টন চার্চিল একটা স্টেটমেন্টে বলেছিল "মুসলিমরা হিন্দুদের উপর রাজ করবে কারণ মুসলিমরা যোদ্ধা অন্যদিকে হ...
13/07/2026

♣️ ব্রিটিশ আমলে উইনস্টন চার্চিল একটা স্টেটমেন্টে বলেছিল "মুসলিমরা হিন্দুদের উপর রাজ করবে কারণ মুসলিমরা যোদ্ধা অন্যদিকে হিন্দুরা বাগাড়ম্বর বিলাসী। তারা কথার বেলায় অনেক ভালো কথা বলতে পারে কিন্তু কাজের বেলায় তারা মুসলিমদের থেকে পিছিয়ে। [ সোর্সঃ দি স্টেইটস্ ম্যান ]
আমরা দেখতে পেলাম কোলকাতায় হিন্দু নিধ*ন, কেরালার মোপলায় হিন্দু গণহ*ত্যা, নোয়াখালীতে লক্ষ্মীপূজার দিন নৃশংস নরসং*হার, নবীজির চুল চুরি করেছে হিন্দুরা অপবাদে নি*র্যাতন, ৫০ এ বরিশালে মুলাদি গণহ*ত্যা, ৬৫ এ হিন্দু নি*ধন, ৭১ এ হিন্দু নি*ধন, দেইল্লা রাজাকারকে চাঁদে দেখা গেছে বলে নির্যাতন, বাবরি মসজিদের ঘটনায় হিন্দু নি*র্যাতন।
হিন্দুরা আফগানিস্তান থেকে পালালো, পাকিস্তান থেকে পালালো আবার পূর্ববাংলা থেকেও পালাচ্ছে। মনে প্রশ্ন জাগে, যে ধর্মের সকল দেব দেবী অস্ত্রধারী ; মহারানা প্রতাপ,যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য, দিনরাজ রায়, রায়বাঘিনী, শিবাজি, সাম্ভাজী, বাপ্পা রাওয়াল, রানা কুম্ভ দের মতো মহান বীরেরা যে ধর্মের অনুসারী, যে ধর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় আরাধ্য দেবতা রাম আর কৃষ্ণ দু'জনেই মহান যোদ্ধা সেই ধর্মের মানুষের এই অবস্থা কেন?

♣️ বর্তমানে হিন্দুদের দিকে তাকালে দেখা যায় - একদল হিন্দু জয় শ্রী রাম বলবে বা লিখবে না, হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবে না, কোথাও হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে অন্তত সোস্যাল মিডিয়ায় কথা বলা তো দূরে থাক ঐসব পোস্টে রিএক্টও দিবে না। কারণ সরকারি চাকুরিটা যদি না হয় পরে। বিসিএস-এ টেকার পর যদি গোয়েন্দা রিপোর্টে বাদ যায় এই শঙ্কায়। যদিও এসব করে সরকারি চাকরিতে ফাটিয়ে দিচ্ছে এমনটা নয়, উলটো নিজেদেরই ফেটে যাচ্ছে। চাকুরি থেকে বাদ দেয়ার জন্য মৌলবাদী প্রশাসনের- প্রার্থীর হিন্দু পরিচয়ই যথেষ্ট, সে কি লিখলো কি বললো ঐটা না।
দেশভাগের সময় মুসলিম লীগকে নির্বাচনে জেতাতে ৩ লক্ষ টাকা আর ৫ টি লঞ্চ দেয়া, ৬৫ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে নিজের দেশ (পূর্ব) পাকিস্তানকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করার পরেও শুধু হিন্দু হওয়ার কারণে ৭১ এ ম*রতে হয় দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহাকে।

♦️আরেকদল নিহিলিস্ট ( হতাশাবাদী) হিন্দু আছে যারা মনে করে এসব করে কোন লাভই নেই। এর চেয়ে যেকোনভাবে দেশের বাইরে পালালে অনেক লাভ। দেশের বাইরে গিয়েই এরা ভুলে যায় দেশে থাকা স্বজাতির কথা। বিদেশিদের সামনে স্বীকার করে না হিন্দু নির্যাতনের কথা। তারা দেশ থেকে পালালে দেশে থাকা হিন্দুর জনসংখ্যা যে আরো কমে যায় এবং নির্যাতন আরো বেশি হয় তা এদের বোধগম্য হয় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর কথা। তার পরিবার ১৯৫০ এ বরিশাল থেকে ভারতে চলে যায়। [ ১৯৫০ সালে বরিশালে পৃথিবীর অন্যতম বড় সাম্প্রদায়িক গণহ*ত্যা- মূলাদি গণহ*ত্যা হয়েছিল ] সাম্প্রদায়িক কট্টর মুসলিমদের ভয়ে দেশ ছেড়ে তিনি যুক্ত হলেন ভারত ভাঙার নকশাল আন্দোলনে। যে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থাকার জায়গা দিলো তাকে ভাঙতেই শুরু করলো লড়াই।

♦️সম্প্রতি একধরনের এলিট হিন্দুপক্ষ জন্ম নিয়েছে। এইপক্ষ স্বীকারই করতে চায় না এদেশে হিন্দু নির্যা*তন হয়। এরা সাধারণত বিত্তবান পরিবারের হয়ে থাকে। তাদের কাছে মন্দির ভাঙা সাম্প্রদায়িক নয় বরং রাজনৈতিক। ধর্ম অবমাননার নামে হ*ত্যা রাজনৈতিক। এরা সব কিছুর পেছনে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র, ইহুদি ষড়যন্ত্র খুজে বেড়ায়। কিন্তু যারা ধর্মের নামে হামলা করছে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলবে না। এদের একটি কমন স্বভাব হলো ভালো দাদা / দিদি হওয়ার চেষ্টা করা। এরা প্রায়ই বলে " আমি হিন্দু হয়ে বলছি, এদেশে হিন্দুরা খুব সুখে আছে ", তাদের এই উক্তি ফ্রিতে প্রচুর পপুলারিটি এনে দেয় তাদের৷
২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিট/লারও এমন কিছু পোষা ইহু*দিদের রেখেছিল যারা ইহু*দি গণহ*ত্যার সময় বলতো সব কিছু স্বাভাবিক আছে, ইহু*দিদের উপর কোন অত্যা*চার হচ্ছে না।

♣️ সুনামগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় ঢুকে প্রকাশ্যে মন্দির ভে*ঙে দিয়ে গেছে, লোকজন বলেছে দুর্বৃত্তরা অপরিচিত। তবে হিন্দুরা সবাই একজোট হয়ে মন্দিরে হামলা ঠেকাতে পারেনি।
কারণ হিন্দুরা সব প্রেমধর্মে বিশ্বাস করে। গান্ধীজি শিখিয়ে গেছেন একগালে থাপ্পড় খেলে আরেক গাল এগিয়ে দিতে হয়।
হিন্দুরা আরও শিখেছে " মেরেছো কলসির কানা তাই বলে কি প্রেম দেবো না?" পরিস্থিতি না বুঝে সব পরিস্থিতিতে এই প্রেমধর্ম ধারণ করা, সর্বরোগে প্যারাসিটামল সেবনের মতো। ক্যান্সার সারাতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ লাগে প্যারাসিটামল না। এই ভীরু মানসিকতা কিভাবে তৈরি হলো তা পরের অংশে জানবো।

♣️সত্যমেব জয়তে
©️নালন্দা
১২-০৭-২০২৬

03/07/2026

১. চুপচাপ বসে নিজের সঙ্গে কথা বলুন
নিজের সঙ্গে সময় কাটানো খুব জরুরি। চুপচাপ বসে ভাবুন—“আমি কী চাই?”

জীবনে যা-ই করুন, উত্তরটা আপনার মধ্যেই আছে।

- আপনি কি ব্যবসা করতে চান❓ চাকরি❓লেখালেখি❓
- আপনি কী করলে সবচেয়ে তৃপ্তি পান❓
- কোন কাজটায় নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন❓

এই প্রশ্নগুলো বারবার নিজের কাছে রাখুন। উত্তরগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আপনি যদি নিজের সঙ্গে কথা না বলেন, কেউ এসে আপনাকে পথ দেখিয়ে যাবে না।

২. ভুল করতে ভয় পাবেন না
জীবনে কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল হবে। কিন্তু ভুল না করলে আপনি শিখবেন কীভাবে?

- ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে শিখে যাওয়া মানে নতুন পথ খুঁজে পাওয়া।
- সফল মানুষরা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভুল করেছে, শিখেছে।

মনে রাখবেন, কিছু না করা আর ভুল করা—এই দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

৩. অগ্রাধিকার ঠিক করুন
আপনার সময়, শক্তি আর জীবনের লক্ষ্য সবকিছুর জন্য সীমাবদ্ধ। সব করতে গেলে কিছুই করা হবে না।

- জরুরি কাজগুলো আগে করুন।
- যেগুলো আপনার জীবনে কোনো মূল্য যোগ করবে না, সেগুলো বাদ দিন।

ধরুন, আপনার পছন্দের দুইটি কাজ আছে—একটা হলো লেখালেখি, আরেকটা হলো গান। কিন্তু আপনি যদি দুটোর পেছনে একসাথে দৌড়ান, শেষমেশ দুটোর কোনোটাই ভালোভাবে করতে পারবেন না। সুতরাং যেটা আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, সেটাতেই সময় দিন।

৪. অন্যের দেখাদেখি চলবেন না
সমাজ আপনাকে হাজার রকম পরামর্শ দেবে। বন্ধুরা বলবে একটা কিছু করো। আত্মীয়-স্বজন বলবে আরেকটা। কিন্তু সিদ্ধান্তটা আপনার।

- আপনার জীবনের গল্পটা একেবারে আলাদা। অন্য কারও পথ আপনার পথ হতে পারে না।
- অন্যের সফলতা দেখে নিজের লক্ষ্য ঠিক করবেন না। কারণ তাদের চাহিদা আর আপনার চাহিদা এক নয়।

৫. ছোট ছোট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন
সবসময় বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন।

- একটা নতুন স্কীল শিখে দেখুন।
- নতুন কোনো কাজ শুরু করুন, ভালো লাগে কি না দেখুন।

ছোট ছোট এক্সপেরিমেন্ট আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে—আপনার জীবনের পথ কোন দিকে।

আপনি যদি নিজের করণীয়টা বুঝে ফেলতে পারেন, জীবন আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আপনি জানবেন, কী করতে হবে আর কী বাদ দিতে হবে।

যদি না পারেন, জীবন আপনাকে ঠেলে নিয়ে যাবে। কখনো অন্ধকারে, কখনো অচেনা পথে। কোথায় নিয়ে যাবে, তা আপনি নিজেও জানবেন না।

জীবন একটাই।
তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন। না হলে জীবন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আর তখনই জীবনটা কঠিন হয়ে পড়বে।

আপনার সিদ্ধান্তই আপনার ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

তাই সিদ্ধান্তটা আজই নিন।

যে ১৬টি লক্ষণ বলে দেয় আপনি একজন বিপজ্জনক মানুষ ⚡
02/07/2026

যে ১৬টি লক্ষণ বলে দেয় আপনি একজন বিপজ্জনক মানুষ ⚡

আর জানিনা কতরকমের জিহাদ দেখতে হবে। জমি জিহাদ, লাভ জিহাদ, জিম জিহাদ.. এবার সামনে এল করপোরেট জিহাদ। আসুন দেখা যাক, কি হয়ে...
15/04/2026

আর জানিনা কতরকমের জিহাদ দেখতে হবে। জমি জিহাদ, লাভ জিহাদ, জিম জিহাদ.. এবার সামনে এল করপোরেট জিহাদ। আসুন দেখা যাক, কি হয়েছিল, কিভাবে হয়েছিল টিসিএস নাসিকের "কর্পোরেট জিহাদ"।

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে টিসিএসের বিপিও ইউনিটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি যৌন হেনস্থার মামলা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত, বহুস্তরীয় চক্রান্তের উদাহরণ যেখানে কর্মক্ষেত্রের ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে হিন্দু মহিলা কর্মীদের উপর ধর্মীয় ও যৌন শোষণ চালানো হয়েছে।

টিসিএস নাসিকের বিপিও ইউনিটে মোট প্রায় ৩০০ কর্মী কর্মরত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৪০ জন মুসলিম কর্মী ছিলেন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী হিন্দু মহিলা কর্মীরা ২০২২ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় ২ থেকে ৪ বছর ধরে এই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোট ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন টিম লিডার এবং ১ জন এইচআর ম্যানেজার।

অভিযুক্তদের নাম: ড্যানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শাফি শেখ এবং আসিফ আনসারি।

৬ ধাপের নিখুঁত মোডাস অপারেন্ডি। এই জিনিস জাস্ট এক দুজনের মাথা থেকে বেরোয় না, এর পেছনে রয়েছে অনেক দিনের প্রোগ্রাম, ট্যাকটিক্যাল অপারেশন ও ঢালাও ফাইন্যান্স এর যোগান। এবার এর ধাপগুলো দেখা যাক।

ধাপ ১। পরিকল্পনা ও টার্গেট নির্বাচন।

অভিযুক্ত মুসলিম কর্মীদের একটি আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল, যেখানে তারা পরবর্তী হিন্দু মেয়েকে কীভাবে টার্গেট করা হবে তা পরিকল্পনা করত। এমনকি একটি মেয়েকে একসাথে ৩ জন মিলে টার্গেট করার ঘটনাও উঠে এসেছে, যেখানে কে কোন ভূমিকা নেবে তা আগে থেকেই ভাগ করে নেওয়া হত।

ধাপ ২। ক্যারিয়ারের লোভ দেখানো।

টিম লিডার ও এইচআর ম্যানেজারের পদের সুবাদে অভিযুক্তরা মহিলা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, প্রমোশন এবং ভালো সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে কাছে টানত। এই ক্যারিয়ার ভিত্তিক ফাঁদটি ছিল প্রাথমিক দরজা। একবার মেয়েটি বিশ্বাস করলেই পরবর্তী ধাপ শুরু হত।

ধাপ ৩। উইকেন্ড ট্রিপের আড়ালে ফাঁদ।

অফিসের নামে রিসোর্ট বা ওয়াটার পার্কে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে ভেজা পোশাকে ছবি তোলা, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা জোর করে স্থাপন করা এবং গোপনে ভিডিও বা ছবি তোলা হত, যা পরে ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুচিন্তিত। একজনকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য।

ধাপ ৪। ব্ল্যাকমেল ও শারীরিক শোষণ।

আপোষকারী ছবি বা পরিস্থিতির ভয় দেখিয়ে ধারাবাহিক যৌন শোষণ চালানো হত। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হত, এমনকি তার পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করার হুমকি দেওয়া হত। তৌসিফ আত্তার বিবাহের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ।

ধাপ ৫। ধর্মীয় চাপ ও ধর্মান্তরণের প্রচেষ্টা।

শারীরিক ও মানসিক শোষণের পর শুরু হত ধর্মীয় চাপের পর্যায়। অফিসের মধ্যেই নামাজ পড়তে এবং রোজা রাখতে বাধ্য করা হত। গরুর মাংস খেতে বাধ্য করা হত, এমনকি বেতন বৃদ্ধির বিনিময়ে। হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হত, হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও আচারের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ করা হত।

ধাপ ৬। এইচআর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অভিযোগ দমন।

এই চক্রের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল এইচআর ম্যানেজার নিজেই এই চক্রের অংশ ছিলেন। ফলে গত ৪ বছরে পীড়িতরা বারবার এইচআরে অভিযোগ জানালেও প্রতিবারই তা চাপা দেওয়া হয়েছে। এটি এই ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, একটি সাংগঠনিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে।

এবার দেখা যাক, অভিযোগ কীভাবে সামনে এলো?

মহিলা কর্মীদের পোশাকে আচমকা পরিবর্তন, হিন্দু আচার অনুষ্ঠান থেকে সরে যাওয়া, রোজা রাখা শুরু করা এবং বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেখে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন। পরিবারের চাপে এবং পরিস্থিতি অসহ্য হয়ে ওঠায় ৯ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষ কর্মী পুলিশে অভিযোগ করেন।

মহিলা আন্ডারকভার পুলিশ অফিসার অফিসের ভেতরে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ৪০টি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে অনুপযুক্ত আচরণের প্রমাণ মিলেছে। এসিপি ক্রাইম সন্দীপ মিটকের নেতৃত্বে এসআইটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ পীড়িতদের সাথে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের মুখ খোলাতে সক্ষম হয়, এবং ন্যূনতম ৫০ এরও বেশি পীড়িত আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সকলকে সাসপেন্ড করেছে এবং "জিরো টলারেন্স" নীতির কথা জানিয়েছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ঘটনাটিকে "অত্যন্ত উদ্বেগজনক" বলে মন্তব্য করেছেন। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নিতেশ রানে এটিকে "কর্পোরেট জিহাদ" আখ্যা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন প্রায় ১৫ জন পীড়িত মেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এটা "লাভ জিহাদ" না। এটা একটা কর্পোরেট নেটওয়ার্ক। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরিকল্পনা, ক্যারিয়ারের লোভ, ব্ল্যাকমেল, এইচআর দিয়ে অভিযোগ দমন, এবং শেষে ধর্মান্তরণ। সিস্টেমেটিক। সাংগঠনিক। এবং দীর্ঘমেয়াদী।

আপনার পরিচিত কেউ যদি নতুন কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণ দেখেন, বা কাউকে এইভাবে বদলে যেতে দেখেন, একটু প্রশ্ন করুন। চুপ থাকবেন না। এই মেয়েগুলো ৪ বছর চুপ ছিল কারণ ব্যবস্থাটাই তাদের চুপ করিয়ে রেখেছিল। সত্যিকারের "খতরে মে" কারা আছে, সে প্রশ্ন উঠুক!

শেয়ার করুন। মানুষ জানুক।

** নিচের ছবিতে, পলাতক এইচ-আর ম্যানেজার নিদা খান। যাকে পুলিশ আর NIA খুঁজছে।

(শান্তনু সোম)

🔱 গাজন থেকে চড়ক: বাংলার বিলুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতি : বুড়ো শিবের কৃপা🔱বাংলার ঋতুচক্রে চৈত্র মানেই এক বিদায়ের সুর, আবার নতু...
11/04/2026

🔱 গাজন থেকে চড়ক: বাংলার বিলুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতি : বুড়ো শিবের কৃপা🔱

বাংলার ঋতুচক্রে চৈত্র মানেই এক বিদায়ের সুর, আবার নতুনের আবাহন। মাঠ-ঘাট ফাটা রোদ্দুর আর দুপুরের তপ্ত বাতাসের মাঝেও যখন গ্রামবাংলার আকাশে-বাতাসে ঢাকের কাঠি বেজে ওঠে— ‘গুর গুড় গুর’— তখন আমরা বুঝি, দরজায় কড়া নাড়ছে শিবের গাজন। চৈত্র মাস জুড়ে চলা এই উৎসব কেবল এক লৌকিক অনুষ্ঠান নয়, এটি হলো সাধারণ মানুষের সাথে তাঁদের ঘরের দেবতা ‘বুড়োশিবের’ এক আত্মিক টান।
গাজন মূলত ত্যাগের উৎসব। শিবের চরণে নিজেদের সঁপে দিয়ে একদল মানুষ সারা মাস জুড়েই কঠিন কৃচ্ছ্রসাধন করেন। এই সন্ন্যাসীদের জন্য একটি পরম পবিত্র অনুষঙ্গ হলো 'বেতের ছড়ি'। সন্ন্যাস নেওয়ার পর থেকেই এই বেতের ছড়ি তাঁদের শরীরের এক অভিন্ন অঙ্গ হয়ে ওঠে। লোকবিশ্বাস বলে, এই পবিত্র বেতের ছড়ি ধারণ করে যদি কোনো ভক্ত সমগ্র চৈত্র মাস কাটিয়ে দেন, তবে মৃত্যুর পর তাঁর স্থান হয় পুণ্যময় শিবলোকে।
উৎসবের শুরুতে একটি বিশেষ কাঠের পাটার ওপর মহাদেবের শায়িত রূপ খোদাই করে তাঁকে গঙ্গাস্নানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পবিত্র 'পাটাস্নান' দিয়েই শুরু হয় মূল উৎসব। চৈত্র-বৈশাখের এই প্রচণ্ড দাবদাহে জগৎপিতার অঙ্গ শীতল করার জন্যই এই আয়াজন। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, বাবার মাথা শীতল হলে ধরিত্রীও শীতল হবে।

গাজনের সবথেকে রোমহর্ষক দৃশ্য হলো সন্ন্যাসীদের 'ঝাঁপ'। বাঁশ বা কাঠের তৈরি উঁচু মাচা (কোথাও কোথাও স্থায়ী যায়গা আছে) থেকে সন্ন্যাসীরা নিচে পেতে রাখা ধারালো বঁটি, কাঁটা বা আগুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কয়েক তলা সমান উঁচু থেকে অবলীলায় এই মরণঝাঁপ দেওয়া দেখে দর্শকের বুক কাঁপলেও, সন্ন্যাসীদের মুখে থাকে অটল হাসি আর 'হর হর মহাদেব' ধ্বনি। ভক্তি যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন শরীরের মায়া তুচ্ছ হয়ে যায়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, ওপর থেকে পড়ার সময় কোনো এক অদৃশ্য হাত বা পরশ তাঁদের আগলে রাখে, তাই অসাধ্য সাধন করেও ভক্তের অঙ্গে আঁচ লাগে না।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন এই উৎসব পৌঁছায় তার চূড়ান্ত পর্বে, যার নাম 'চড়ক পুজো'। গ্রামের কোনো ফাঁকা জায়গায় একটি উঁচু চড়ক গাছ বা কাঠের খুঁটি পোঁতা হয়। সেই খুঁটির মাথায় ঘুরন্ত অবস্থায় সন্ন্যাসীরা অনেক সময় বড় বড় লোহার বড়শি পিঠে গেঁথে শূন্যে পাক খান। আপাতদৃষ্টিতে যা ভয়ংকর মনে হয়, শিবভক্তের কাছে তা মোটেও ভয়ের নয়। যেমন ছোটবেলায় কেউ সাইকেল শেখানোর সময় হাতটা ছেড়ে দিলেও আড়াল থেকে নজর রাখেন যাতে আমরা পড়ে না যাই, মহাদেবও ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য ভরসা।

চড়ক পুজোর সেই মেলা আর মানুষের ঢল জানান দেয় যে, অভাব-অনটনের মাঝেও গ্রামবাংলা তার সংস্কৃতিকে আজও বুকে করে বাঁচিয়ে রেখেছে। গাজনের নীল ঠাকুরের নাচন, উঁচু থেকে দেওয়া সেই বীরত্বের ঝাঁপ আর ঢাকের শব্দে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ভক্তি আর বিশ্বাস। সংক্রান্তির শেষ সূর্য যখন পাটে যায়, তখন সন্ন্যাসীরা তাঁদের ব্রত শেষ করেন এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেন। আমাদের এই জীবনচক্রটাও যেন সেই চড়কের চাকার মতোই অবিরাম ঘুরে চলে— বিশ্বাস আর মাটির টানের এক চিরন্তন আশ্রয়ে।

চড়কের ঠিক আগের দিনটি হলো নীল ষষ্ঠী। ঢাকের শব্দের সাথে পাল্লা দিয়ে মায়েরা উপোস থেকে শিবের মাথায় জল ঢালেন। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে মায়েরা যখন নীল বাতি জ্বালান, তখন মনে হয়—ভক্তি আর বাৎসল্য মিলেমিশে গাজন যেন এক পারিবারিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

🔱
#সংগৃহীত

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন যে আপনি আজ নিজেকে উন্নত করতে কী করেছেন।যখন আপনার ম...
24/02/2026

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন যে আপনি আজ নিজেকে উন্নত করতে কী করেছেন।

যখন আপনার মনে হয় যে আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিয়ে ফেলেছেন এবং আর পারছেন না, আসলে তখন আপনি আপনার ক্ষমতার মাত্র ৪০ শতাংশ ব্যবহার করেছেন।

আপনি যদি বড় কিছু অর্জন করতে চান, তবে আরামদায়ক জীবন ত্যাগ করতে হবে।প্রতিকূলতার মধ্যেই প্রকৃত উন্নতি লুকিয়ে থাকে।

​আপনার জীবনের অতীত সাফল্য এবং কঠিন সময়গুলো জয় করার স্মৃতি একটি কাল্পনিক জারে জমা রাখুন। যখনই ভেঙে পড়বেন, সেখান থেকে সাহস সঞ্চয় করুন।

​আপনার মন আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে আবার সবচেয়ে বড় বন্ধুও। মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না শিখলে এটি আপনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে।

​আপনি যা ভয় পান, বারবার সেটিই করুন। ভয়কে জয় করার মাধ্যমেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।

​ব্যর্থতা কোনো শেষ নয়, বরং এটি একটি ডেটা বা তথ্য যা আপনাকে শিখিয়ে দেয় আপনার কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন।

​অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা বন্ধ করুন। আপনার একমাত্র প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত আপনার গতকালের ভার্সনের সাথে।

​অজুহাত দেওয়া বন্ধ করুন। প্রতিকূল পরিবেশ বা ভাগ্যকে দোষারোপ না করে নিজের বর্তমান অবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী মনে করুন এবং তা পরিবর্তনের দায়িত্ব নিন।

​যখন সবাই থেমে যায়, তখন আপনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এটাই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

​যন্ত্রণাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করুন। জীবনের কষ্ট এবং অপমানকে ঘৃণা হিসেবে না দেখে সেগুলোকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করুন।

​সবসময় 'স্টুডেন্ট' থাকুন। নিজেকে কখনোই সর্বজ্ঞ ভাববেন না। সবসময় নতুন কিছু শেখার এবং নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা রাখুন।

​শৃঙ্খলাই স্বাধীনতা। একটি কঠোর রুটিন এবং শৃঙ্খলা আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে, যা শেষ পর্যন্ত আপনাকে মানসিক মুক্তি দেবে।

​সকালটাই হোক যুদ্ধের শুরু। দিনের শুরুতে সবচেয়ে কঠিন কাজটি শেষ করুন। এতে পুরো দিনের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে।

​আপনার জীবনের গল্প আপনার হাতে৷ আপনার অতীত যেমনই হোক না কেন, আপনার ভবিষ্যৎ আপনি নিজেই লিখছেন। তাই কলমটি নিজের হাতে রাখুন।

​যেকোনো কঠিন কাজে নামার আগে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং সম্ভাব্য বাধাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবেন তা ভেবে রাখুন।

​সাময়িক স্বস্তি ত্যাগ করুন। সাময়িক আরাম বা আনন্দ অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বড় অর্জনের জন্য তাৎক্ষণিক তৃপ্তি ত্যাগ করতে শিখুন।

​নিজের কাছে সবসময় সৎ থাকুন। আপনি কতটা পরিশ্রম করছেন বা ফাঁকি দিচ্ছেন তা আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।

​কখনো হাল ছাড়বেন না। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই হলো একজন চ্যাম্পিয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

#সংগৃহীত

✌️মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এক লোক বাচ্চা নিয়ে কিছু একটা কিনতে এসেছে। লোকটা সম্ভবত রিকশাচালক, দিনমজুর বা ওইরকম ক...
22/02/2026

✌️মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এক লোক বাচ্চা নিয়ে কিছু একটা কিনতে এসেছে। লোকটা সম্ভবত রিকশাচালক, দিনমজুর বা ওইরকম কিছু। শুকনো, হাড্ডাসার, কন্ঠার হাড্ডি বেরিয়ে গেছে। অভাব-অনটনের ছাপ তার চোখেমুখে।

বাচ্চাটারও একই অবস্থা। লোকটা আড়াইশো গ্রাম সয়াবিন তেল আর লবন কিনল। বাচ্চাটা জুলজুল চোখে লজেন্সের বয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা চাইতে সাহস পাচ্ছে না। ওর বাবা সেটা বুঝতেও পেরেছে, কিন্তু দারিদ্র্য মাঝে মাঝে চোখে নির্লজ্জ টিনের চশমা পড়িয়ে দেয়। ছেলের মায়াভরা মুখটা দেখে বাবা থাকতে না পেরে বলল, "কিছু নিবি?"

ছেলেটা লাজুক হেসে আঙুল তুলে দেখাল। বাবা লজেন্সের বয়াম খুলে দুইটা লজেন্স ছেলের হাতে দিয়ে বলল, "তিনের ঘরের নামতাটা বল তো বাবা।" বলেই আড়চোখে সবার দিকে তাকাল। তার সেই দৃষ্টিতে কেমন একটা চাপা ভয়! যদি না পারে? সবাই তো তাকিয়ে আছে!

কৌতূহল নিয়ে আমিও চেয়ে আছি ছেলেটার দিকে। দোকানদারও সরু চোখে দেখছে। এই পিচ্চি ছেলে! নাক দিয়ে সর্দি ঝরছে, সে বলবে তিনের ঘরের নামতা!

ছেলেটির হাতে লজেন্স। সে বাবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লজ্জা ঝেড়ে ফেলে সে বলতে শুরু করল, "তিন এক্কে তিন, তিন দুগুনি ছয়, তিন তিরিক্কে নয়, তিন চারে বারো..."

কেমন টেনেটেনে গানের তালে মাথা নেড়েনেড়ে সে বলে যাচ্ছে। বাবার চোখে যেন নামতার পাতাটা সেঁটে আছে, ও শুধু দেখে দেখে পড়ে যাচ্ছে। নামতা শেষ হলো ত্রিশ কি চল্লিশ সেকেন্ডে। শেষ করে সে একটা লজেন্স মুখে পুরল। ঝলমলে মুখে বাবাকে বলল, "আমি চারের নামতাও জানি। বলব?"

সেই জীর্ণ শীর্ণ লোকটা, হয়তো প্রতিদিন ঠিকমতো খেতেও পায় না, পাঁচ টাকা বেশি চাইলে দুইচারটা গালি খায়, মহাজনের গুঁতো খায়। গাল ভাঙা কুঁজো হয়ে যাওয়া মানুষটা প্রতিদিনই হেরে যায় — সমাজের কাছে, সংসারের কাছে, পিতৃত্বের কাছে।

আজ সে হারেনি। আজ তার অনেক বেশি আনন্দ। সবার সামনে ছেলে তার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার সে আড়চোখে না, পূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের সবার দিকে তাকাল। তার বুক গর্বে ভরে গেছে, তার চোখে আনন্দের অশ্রু।

যে লোক শুধু পরাজিত হওয়ার জন্যই জন্মেছে, আজ সে পরাজিত না। সে আসলে অনেক বড় যোদ্ধা। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী। আমরা তো যুদ্ধের আগে নানান পরিকল্পনা করি, কত ফন্দিফিকির, কাকে নিচে নামিয়ে, কাকে মাড়িয়ে উপরে উঠব। কিন্তু এই লোকগুলো কাউকে মাড়িয়ে উপরে উঠতে চায় না, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রাণপণ যুদ্ধ করে যায় — প্রতি মুহূর্তে!

যে সিঁড়ি বেয়ে আমরা তড়তড়িয়ে উপরে উঠে যাই, আমরা কি জানি এদের মতো মানুষদের কাঁধের উপরেই সেই সিঁড়ি চাপানো? লোকটা আজ সাহস পেয়েছে। তিনের ঘরের নামতাটা যেন শুধু নামতা নয়, একটা সাহস, একজন বাবার বুকভরা আশা, একটি অবলম্বন। তিনের ঘরের নামতাটা এই দরিদ্র লোকটার স্বপ্ন পূরণের উপাখ্যান।

লোকটা তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল। সে গামছা দিয়ে চোখ মুছছে। দোকানি হঠাৎ ফ্রিজ খুলে একটা ললি আইসক্রিম পিচ্চির হাতে দিল, "সাবাস বেটা! জজ ব্যারিস্টার হয়ে দেখিয়ে দিস সবাইকে। নে, আইসক্রিমটা খা।"

ছেলেটা খুশি মনে আইসক্রিমটা নিল। বাবা ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে আছি। দোকানদার আমাকে বলল, "আমি তো ভাবতেও পারিনি, বাঁদরটা কেমন গড়গড় করে নামতা বলে গেল! দেখলেন কারবারটা!"

একি! দোকানির চোখেও অশ্রু! আসলে যারা ক্ষুধার কষ্ট জানে, তাদের একজনের সাথে অন্যজনের মন একই সুতোয় গাঁথা থাকে। একজনের ব্যথা আরেকজন বুঝতে পারে, আবার আনন্দগুলোও স্পর্শ করে প্রবলভাবে।

আর আমরা? কোটি টাকার স্বপ্নে বিভোর আর প্রতিযোগিতার উন্নাসিকতায় বিভোর হয়ে ভুলে যাই আমরা আসলে কি!

আমি রাস্তায় নেমে একা একা হাঁটছি আর বলছি, "তিন এক্কে তিন, তিন দুগুণে ছয়...!" ওদের আনন্দ আজ আমাকেও সংক্রামিত করেছে।

#সংগৃহীত
#সমাজ

#মানসিকতা

#সহানুভূতি

১৯৬০ সালের এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা আজও আমাদের জীবনের এক ন'গ্ন সত্যকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ঘটনাটি পড়ার পর হয়তো আপনি কিছু...
19/02/2026

১৯৬০ সালের এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা আজও আমাদের জীবনের এক ন'গ্ন সত্যকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ঘটনাটি পড়ার পর হয়তো আপনি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকবেন… আর নিজের জীবনটাকেই নতুন করে ভাববেন।

গল্পটা শুরু হয় একটি কাঁচের খাঁচা দিয়ে।

১৯৬০ সাল, আমেরিকা। বিজ্ঞানীরা একটি ইঁদুরকে একটি বিশেষ কাঁচের খাঁচায় রাখলেন। সেখানে ছিল একটি ‘লাল বোতাম’। এমনভাবে সেট করা হয়েছিল যে, ইঁদুরটি যখনই বোতামটি চাপবে, তার মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল যাবে এবং নিঃসৃত হবে ‘ডোপামিন’ সুখের হরমোন।

অর্থাৎ, বোতাম চাপলেই তীব্র আনন্দ।

প্রথমে ইঁদুরটি কিছুই জানত না। একদিন ভু'ল করে বোতামে চাপ পড়তেই শরীর ভরে গেল অদ্ভুত সুখে। সে আবার চাপল। আবার সেই অনুভূতি। খুব দ্রুত সে বুঝে গেল এই বোতামই আনন্দের উৎস।

এরপর শুরু হলো নে'শা।

বিজ্ঞানীরা খাঁচায় খাবার দিলেন। এমনকি একটি স্ত্রী ইঁদুরও রাখা হলো তার সঙ্গের জন্য।

কিন্তু কী হলো জানেন?

ইঁদুরটি খাবার খেল না।
সঙ্গিনীর দিকেও তাকাল না।
সে শুধু বোতাম টিপতেই থাকল।

দিনের পর দিন।
নাওয়া-খাওয়া ভু'লে।
জীবনের চেয়েও ‘সুখ’ বড় হয়ে গেল তার কাছে।

শেষ পর্যন্ত সে মা'রা গেল আর মৃ'ত্যু'র মুহূর্তেও তার পা ছিল সেই লাল বোতামের ওপর।

এখন প্রশ্ন হলো…

পরীক্ষাটা কি সত্যিই শে'ষ হয়েছে?

না। খাঁচাটা বদলেছে। বোতামের রং বদলেছে। কিন্তু নে'শা একই রয়ে গেছে।

১৯৬০ সালের সেই লাল বোতাম আজ ২০২৫ সালে একটি চারকোনা স্ক্রিন হয়ে আমাদের হাতেই আছে।

ভাবুন তো,
◾আমরা কি খাবারের টেবিলে বসেও সেই স্ক্রিনে সুখ খুঁজছি না?

◾পাশে বসা মানুষকে উপেক্ষা করে ভার্চুয়াল জগতে ডুবে যাচ্ছি না?

◾মাঝরাতে ঘুম ভে'ঙে স্ক্রল করছি না?

ইঁদুরটি কৃত্রিম সুখের পেছনে জীবন হা'রি'য়ে'ছি'ল। আমরা কি সময়, সম্পর্ক আর বাস্তব জীবন হা'রা'চ্ছি না?

সেই আয়তাকার জিনিসটির নাম আপনি জানেনই।

সময় থাকতে খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসুন।
বাস্তবের মানুষদের কাছে ফিরুন।

#সংগৃহীত
#সমাজ
#মানসিকতা

ভারত কিংবা বাংলাদেশের —দুই জায়গাতেই একটা দৃশ্য খুব পরিচিত।কেউ অসুস্থ হলে আমরা ছুটে যাই হাসপাতালে বা বাড়িতে —হাতে ফল, মিষ...
11/02/2026

ভারত কিংবা বাংলাদেশের —দুই জায়গাতেই একটা দৃশ্য খুব পরিচিত।
কেউ অসুস্থ হলে আমরা ছুটে যাই হাসপাতালে বা বাড়িতে —
হাতে ফল, মিষ্টি, জুস, প্রিয় খাবার, দামী খাবারের প্যাকেট।

কিন্তু একটু থেমে ভাবুন—
যে মানুষটা শুয়ে আছে, বমি বমি, জ্বর, ব্যথায় কাতর—সে কি এগুলো খেতে পারে?

দুঃখজনক সত্য হলো, বেশিরভাগ সময় খেতে পারে না।

তবু আমরা নিয়ে যাই।
আর যে মানুষটা সুস্থ, হাঁটছে, হাসছে, কাজ করছে—তার জন্য আমরা এই যত্নটা করি না।

এটা কেবল অভ্যাস নয়—
এটা আমাদের মানসিকতার গভীর একটি অসংগতি।

কেন আমরা এমন করি?

সমাজের শিখিয়ে দেওয়া রীতি
আমরা শিখেছি—রোগী দেখতে গেলে “খালি হাতে যাওয়া যাবে না”।
কিন্তু কী নিয়ে যাব, কেন নিয়ে যাব—এই প্রশ্ন করার শিক্ষা পাইনি।

প্রতীকী সহানুভূতি
খাবার নিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে যত্নের প্রতীক।
কিন্তু সেই যত্ন রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী নয়—
বরং আমাদের নিজের বিবেক শান্ত করার জন্য।

দেখানোর সংস্কৃতি
ফল নিয়ে গেলাম—মানুষ দেখল।
দামী কিছু নিলাম—আমার দায়িত্ব পালন হলো।
রোগী খেল কি খেল না—সেটা গৌণ।

বাস্তব সত্যটা কী?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়,
অসুস্থ অবস্থায় অনেক সময়—

ভারী ফল হজম হয় না

অতিরিক্ত মিষ্টি ক্ষতিকর

জুস বা ফল সংক্রমণ বাড়াতে পারে

রোগীর আসলে দরকার বিশ্রাম, সঠিক ওষুধ, মানসিক সাপোর্ট

অথচ আমরা কী দিই?
যা সে খেতে পারে না।

তাহলে বদলানো দরকার কী?
অসুস্থ মানুষের জন্য খাবার নয়—প্রয়োজন বুঝে যত্ন
ফলের ঝুড়ির চেয়ে—সময় আর সহানুভূতি
হাসপাতালে গিয়ে ছবি তোলার চেয়ে—নীরব উপস্থিতি
সুস্থ মানুষের জন্যও যত্ন দেখানোর মানসিকতা

সবচেয়ে বড় কথা—
যে যত্ন খাওয়া যায় না, সেটাই অনেক সময় সবচেয়ে দরকারি।

যে মানুষ খেতে পারে না, তার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া—
এটা দয়া নয়, এটা একধরনের সামাজিক অটোমেশন।

এই মানসিকতাটা বদলানো দরকার।
কারণ সত্যিকারের মানবিকতা মানে শুধু দেওয়া নয়—
বোঝা।

#সংগৃহীত


#মানসিকতা
#সহানুভূতি
#সমাজ

💥 পুরুষ কেন নারীকে বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয় – কার্ল জুঙ্গ(কার্ল জুঙ্গ: আধুনিক মনস্তত্ত্বের জনক, ফ্রয়েডের যোগ্যতম শিষ্য) ...
11/02/2026

💥 পুরুষ কেন নারীকে বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয় – কার্ল জুঙ্গ
(কার্ল জুঙ্গ: আধুনিক মনস্তত্ত্বের জনক, ফ্রয়েডের যোগ্যতম শিষ্য) সম্পর্কের শুরুটা প্রায়ই রঙিন স্বপ্নের মতো হয়। নারী যখন তোমার দিকে তাকায়, সে আসলে তোমাকে নয়, বরং তার কল্পনার তৈরি ‘তোমাকে’ দেখে। তুমি হয়তো সেই দৃষ্টিতে আশা কিংবা আকাঙ্ক্ষার ছায়া দেখতে পাও, আর ভাবো—সে বুঝি তোমাকেই চাইছে।

কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। তুমি তখন কেবল একটি “পেইন্টিং”—একটি যাচাইযোগ্য অবজেক্ট। নারী মিলিয়ে নিচ্ছে—সে যা কল্পনা করেছে, তার সঙ্গে তুমি মেলে কি না। অথচ সেই কল্পচিত্র তুমি নও—না ছিলে কখনও।

কার্ল জুঙ্গ এই প্রবণতা নিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। একজন দার্শনিকের গভীর উপলব্ধি এবং মনোবিদের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন—নারীরা প্রকৃত পুরুষকে নয়, বরং তাদের মনের গোপনে গঠিত একটি “ফ্যান্টাসি পুরুষ”-কে ভালোবাসে।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নারীরা নিজেরাও জানে না তারা প্রতারিত হচ্ছে। তারা ভাবে, তারা বাস্তব কাউকে নির্বাচন করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা নির্বাচন করছে এমন একজনকে—যার চরিত্র তাদের মনের ভিতর বহু আগেই রচিত হয়েছে। আর সেই নাটকে “তুমি” কেবল একজন নিযুক্ত অভিনেতা।

যখন তোমার বাস্তব রূপ তাদের কল্পনার চরিত্রের সঙ্গে মেলে না, তখনই তারা নতুন ‘অভিনেতা’ খোঁজে। এই কল্পনার পুরুষ-চরিত্রকে জুঙ্গ বলেছিলেন "অ্যানিমাস"—নারীর অন্তরের পুরুষসত্তা। যখন এই অ্যানিমাস নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন তা এক স্বৈরাচারে রূপ নেয় এবং নারীর সিদ্ধান্তকে চালিত করে।

পুরুষও এই ফাঁদে পড়ে। তারা ধরে নেয় নারীর আকর্ষণ মানেই আমন্ত্রণ। কিন্তু বাস্তবে তারা একটি মনের নাটকে ঠিক করা চরিত্রে অভিনয় করছে মাত্র।

এই কল্পনার জগৎ যখন ভেঙে পড়ে, তখন পুরুষ আহত হয়। যদিও তারা দোষী নয়। ইয়ুং বলেন, এই মায়াজাল থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো "ইন্ডিভিডুয়েশন"—অর্থাৎ নিজেকে সম্পূর্ণভাবে জানা ও প্রতিষ্ঠা করা।

ইন্ডিভিডুয়েশন মানে নিজের সত্তাকে অন্যের অনুমোদনের উপর নয়, নিজের আত্ম-উপলব্ধির উপর দাঁড় করানো। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা—দুটোই মেনে নেওয়া। জুঙ্গ বলতেন, প্রকৃত পুরুষ তার অবচেতনের মুখোমুখি হয়—সে আর কারও কল্পনার পুতুল নয়, বরং নিজের বাস্তবতার নির্মাতা।

আধুনিক পুরুষের সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো—নিজের স্বত্বাকে হারিয়ে অন্যের চাহিদার ‘পুতুল’ হয়ে ওঠা। তুমি একে প্রেম বা সমঝোতা ভাবতে পারো, কিন্তু ইয়ুং বলছেন—এটি আত্মপ্রতারণা। কারণ নারীরা প্রকৃত আকৃষ্ট হয় সেই পুরুষের প্রতি, যে রহস্যময় এবং নিজের পরিচয়ে স্বতন্ত্র।

এই সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে দরকার নিঃসঙ্গতা, নিজের মনের গভীরে যাত্রা, নিজের ভেতরের নারীসত্তা—"অ্যানিমা"—কে চেনা এবং মেনে নেওয়া। জুঙ্গ বলতেন, এই পথে চললেই তুমি খুঁজে পাবে প্রকৃত স্বাধীনতা, এক নিঃস্বার্থ ও বাস্তব ভালোবাসা—যেখানে কল্পনার কোনো মায়া নেই।

এই পথ কঠিন, অনেকেই মাঝপথে থেমে যায়। কিন্তু যদি সাহস থাকে শেষ অবধি হাঁটার, তাহলে তুমি নিজের জীবনের প্রকৃত রচয়িতা হয়ে উঠবে। কার্ল জুঙ্গ তোমাকে সহজ পথ দেখাননি, বরং দিয়েছেন আত্ম-অনুসন্ধানের এক গভীর চ্যালেঞ্জ।

#সংগৃহীত

Address

Tollygunje
Kolkata
700040

Telephone

+919874746002

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Manas Halder posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Manas Halder:

Shortcuts

Share