15/09/2025
বাংলাদেশে পারসিমন ফল চাষ পদ্ধতি।
পারসিমন (Persimmon) একটি উচ্চমূল্যের বিদেশি ফল, যাকে অনেকে “জাপানি ফল” নামেও চেনে। এটি দেখতে টমেটোর মতো এবং স্বাদে মিষ্টি। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে পারসিমন চাষ হচ্ছে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। নিচে বাংলাদেশে পারসিমন চাষ পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
---
✅ জমি নির্বাচন
দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও উঁচু জমি সবচেয়ে ভালো।
জলাবদ্ধতা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। তাই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
---
✅ চারা উৎপাদন
পারসিমন সাধারণত কলম ও চারা দুইভাবেই করা যায়।
গ্রাফটিং (কলম) করা চারা ভালো মানের ফল দেয়।
নার্সারিতে ৬–১২ মাস বয়সী সুস্থ চারা রোপণের উপযুক্ত।
---
✅ রোপণ মৌসুম
বর্ষাকালে (জুন–আগস্ট) রোপণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।
---
✅ গর্ত প্রস্তুত
গর্তের আকার: ২.৫ × ২.৫ × ২.৫ ফুট।
মাটি, পচা গোবর/কম্পোস্ট (২০–২৫ কেজি) ও টিএসপি ২০০ গ্রাম, এমওপি ১৫০ গ্রাম মিশিয়ে গর্ত ভরতে হবে।
রোপণের ১০–১৫ দিন আগে গর্ত প্রস্তুত রাখা উত্তম।
---
✅ রোপণের দূরত্ব
গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১৫–২০ ফুট রাখতে হবে।
---
✅ সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা
শুষ্ক মৌসুমে ২০–২৫ দিন পর পর সেচ দিতে হবে।
সার প্রয়োগ (প্রতি বছর গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে বাড়াতে হবে):
ইউরিয়া ২৫০–৩০০ গ্রাম
টিএসপি ২০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম
পচা গোবর ২০–২৫ কেজি
---
✅ ছাঁটাই ও পরিচর্যা
পারসিমন গাছের ডালপালা দ্রুত বেড়ে ওঠে, তাই নিয়মিত ছাঁটাই করতে হয়।
ফল আসার সময় অতিরিক্ত ডালপালা কেটে দিলে আলো-বাতাস চলাচল সহজ হয়।
---
✅ রোগবালাই
তুলনামূলকভাবে রোগবালাই কম হয়।
মাঝে মাঝে পাতা ঝলসানো, পাউডারি মিলডিউ ও ফল পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত ডালপালা কেটে ফেলা এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার করতে হবে।
---
✅ ফল ধারণ ও সংগ্রহ
কলমের চারা থেকে ৩–৪ বছর বয়সে ফল আসতে শুরু করে।
অক্টোবর–ডিসেম্বর মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়।
একেকটি গাছে বছরে গড়ে ৫০–৮০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
---
✅ অর্থনৈতিক দিক
বাজারে পারসিমনের কেজি প্রতি দাম তুলনামূলক বেশি।
সঠিকভাবে বাগান করলে এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল হতে পারে।