22/08/2022
অজপাড়াগাঁ
নীলিমার বক্তব্যের প্রাঞ্জলতা এবং বিষয়ভিত্তিক দূরদর্শিতায় উপস্থিত সবাই যখন মুগ্ধ হয়ে করতালি দিচ্ছিলেন ঠিক তখন জানালার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইফতেখার হুহু করে হেসে উঠলো! উপস্থিত কারো কাছে এই হাসি অর্থবহ না হলেও নীলিমা বেশ বিরক্ত হলেন! সেই সাথে কিছুটা কৌতূহল নিয়ে জানালার দিকে তাকালেন।
এলোমেলো চুল, জীর্ণ-শীর্ণ শারীরিক ভাষা, ২৫-২৬ বছরের এক যুবক কে দেখে তার কৌতুহলের মাত্রা পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেল। কিন্তু সে প্রত্যুৎপন্নমতি, তাই উপস্থিত কাউকে কিছু বুঝতে দিল না।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দৈনন্দিন কাজ সেরে যখন সে তার কর্মদিবসের রিপোর্ট লিখতে বসলো, ঠিক তখনই তার চিন্তাজগতের সবটুকু জায়গা দখল করে নিলো সেই হাসি! কোনমতে সে তার রিপোর্ট টি প্রস্তুত করলো। কিন্তু কোনভাবেই সে এই হাসি রহস্যভেদ করতে পারল না! পরদিন যথারীতি সে তার কাজে বের হ'ল, গ্রাম সমিতির অফিসের রাস্তার মোড়ের টং দোকান পার হতেই তার দৃষ্টিতে পড়লো আরে এ তো সেই যুবক! একটু এগিয়ে তার সাথে কথা বলতে যাবে কিন্তু দোকানের অনেক মানুষ হওয়াতে তার মন সায় দিলনা।
সে সোজা সমিতির অফিসের ভেতর চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর ছোট্ট একটা মেয়ে এসে বললো ইফতেখার ভাইয়া, আপনাকে ম্যাডাম ডাকে। কোন ম্যাডাম? ইফতেখারের প্রশ্নের জবাবে ছোট্ট মেয়েটি বললো সমিতির ম্যাডাম।
ইফতেখারের বুঝতে বাকি রইলো না তিনি(ম্যাডাম) কেন ডেকেছেন।
সে মেয়েটিকে সাথে নিয়ে সমিতির অফিসে গেলো।
নীলিমা ইফতেখারকে একটি চেয়ার দেখিয়ে বসতে বললে ইফতেখার ধন্যবাদ জানিয়ে বসলো।
নীলিমা কিছু বলতে যাবেন ঠিক তার আগে ইফতেখার বলে উঠলো আমি ইফতেখারুজ্জামান, যদি আমি ভুল না হই তাহলে আপনি নিশ্চয় নীলিমা বিএসসি।
নীলিমার কৌতুহলের মাত্রা আরো বেড়ে গেলো। উভয় পারস্পরিক স্বাভাবিক সম্ভাষণ করলেন।
নীলিমা: কিছু মনে না করলে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই।
ইফতেখার: অবশ্যই আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, তবে আপনি কী জানতে চান আমি বোধহয় তা বুঝতে পারছি।
নীলিমা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ইফতেখার বললো, শুরুতেই আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যদি গতকালের ঘটনায় আপনি কষ্ট পেয়ে থাকেন। আমি মুলত দু'টি কারণে হেসেছিলাম।
এক, আপনারা কথা বলার সময়-জ্ঞান দুর্দান্ত, আপনি যদি গল্পকার হতেন তাহলে দারুণ কিছু সৃষ্টি হত আপনার দ্বারা এটা ভেবে।
দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ জনজীবন সম্পর্কে আপনার জ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যবহারিক নয়। বাস্তবতা যতই কুৎসিত হোক বইয়ের ভাষায় তা খুব সুন্দর। দ্বিতীয় কারণটা এই।
নীলিমা: ঠিক আছে, তাহলে আপনি দ্বিতীয় কারণটা বলুন, আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে।
ইফতেখার: আজ না, আপনার কর্মদিবসের বাইরে যদি কোন দিন দেখা হয় তাহলে বলব, তবে এটুকু অবশ্যই বলছি আপনার নাগরিক অধিকার নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে, দেখুন রেললাইনের শেষ মাথাটা কখনই আকাশের সাথে মিশে যায়না। শহুরে জীবন আর গ্রামীণ জীবন ঠিক সেই দুই ভাইয়ের মতো যাদের কাছে একজন সহজাত সৎমা রয়েছেন।
#অজপাড়াগাঁ
#মোহাম্মদ_জে_আই_জাহেদ