10/08/2025
একজন আদর্শ চালক হতে হলে। ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমেই জানতে হবে – ট্রাফিক সাইন কী?
রাস্তায় চলাচলের সময় রাস্তার পাশে বা উপর বিভিন্ন নির্দেশনামূলক চিহ্নকে ট্রাফিক সাইন বলা হয়।
এই চিহ্নগুলো আমাদেরকে সচেতন করে, বাধ্যবাধকতা জানায় এবং তথ্য দেয়।
চালক, যাত্রী ও পথচারী—সকলেরই এই সাইনগুলো জানা এবং মানা উচিত।
কারণ, একজন চালক যদি ট্রাফিক সাইন না জানেন বা না মানেন, তবে দ্রুত গাড়ি চালালেও তিনি কখনোই ভালো চালক হতে পারেন না।
ট্রাফিক সাইন মূলত তিনটি প্রকারে ভাগ করা হয়:
১. বাধ্যতামূলক সাইন (Mandatory Signs):
এই সাইনগুলো মেনে চলা আইনের দৃষ্টিতে বাধ্যতামূলক। সাধারণত গোলাকৃতির হয়।
না-বাচক সাইন: লাল বৃত্তের মধ্যে থাকে। যেগুলো নিষেধাজ্ঞা নির্দেশ করে। যেমন: ডানে মোড় নেওয়া নিষেধ, হর্ন বাজানো নিষেধ, ওভারটেকিং নিষেধ, পার্কিং নিষেধ ইত্যাদি।
হ্যাঁ-বাচক সাইন: নীল বৃত্তের মধ্যে থাকে। যেগুলো করণীয় নির্দেশ দেয়। যেমন: ডানে মোড় নিতে হবে, উভয়দিকে যাওয়া যাবে, নির্দিষ্ট গতিসীমা অনুসরণ করুন ইত্যাদি।
২. সতর্কতামূলক সাইন (Warning Signs):
এই সাইনগুলো চালককে রাস্তায় চলাচলের সময় সতর্ক করে তোলে। সাধারণত ত্রিভুজাকৃতির হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ:
টি-জাংশন, সামনে বাঁকা রাস্তা, রেললাইন, স্কুল বা বাজার এলাকা, গতিরোধক, জেব্রা ক্রসিং, ট্রাফিক সিগনাল ইত্যাদি।
৩. তথ্যমূলক সাইন (Informative Signs):
এই সাইনগুলো রাস্তার ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
যেমন:
পার্কিং স্থান, হাসপাতাল, ফিলিং স্টেশন, পাবলিক টয়লেট, পুলিশ স্টেশন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, পথচারী পারাপার স্থান, বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার দূরত্ব ইত্যাদি। এছাড়াও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সেনানিবাস বা বিশেষ এলাকার প্রবেশপথে সাইনবোর্ডের মাধ্যমে তথ্য প্রদান করা হয়।
ড্রাইভার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এই ট্রাফিক নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো।
আপনারা যারা ড্রাইভার সার্ভিসের সাথে আছেন কিংবা ফলো করেন, আশা করি এই নিয়মগুলো মেনে চলবেন। আমাদের দায়িত্ব হলো আপনাদের জানানো, শেখানো—কিন্তু মানার দায়িত্ব আপনাদের।
আমরা সর্বদা আপনাদের পাশে আছি, যেন রাস্তায় সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।
নিয়ম জানুন, মানুন—নিরাপদ থাকুন।