25/10/2024
সুরা কাহাফ থেকে শিক্ষাঃ
আমি একজন সাধারণ মুসলমান। চেষ্টা করি নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও কোরআন হাদিস চর্চা করতে এবং সে অনুযায়ী চলতে।
আমার নবী (স:) প্রতি শুক্রবার সুরা কাহাফ পড়তেন। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, নিশ্চয়ই এ সুরায় এমন শিক্ষা আছে যা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ ও চর্চা করা উচিত। তাই নিজে নিজে চর্চার জন্য আমার এ প্রয়াস।
সুরা কাহাফে যা শিখলাম:
১। জমিনের বুকে যে সব চমৎকার আকর্ষণীয় বস্তু বা নেয়ামত আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সবই মানুষকে পরীক্ষা করার নিমিত্তে যে , কর্মে কে উত্তম? যার যত বড় নিয়ামত তার ততবড় পরীক্ষা!
২.গুহা ও রাকিমে আশ্রয় নেয়া যুবকদের আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তাই তারা উদ্দেশ্যহীন ভাবে কেবল বিশ্বাসের জোড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে এসেছিলেন।তারা খাস দিলে তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত দান ও তাদের ব্যপারটি সমাধানের করে দেয়ার প্রার্থনা জানান, কি ব্যবস্থা তাদের জানা ছিল না। আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দিলেন।
আসলে খাস দিলে প্রার্থনা করে কোন ভালো কিছু আল্লাহর কাছ থেকে মন্জুর করে নেয়া সম্ভব। এখানে আল্লাহ এটাই আমাদের শিক্ষা দিলেন।।
৩। আল্লাহ বলছেন এ যুবকরা ঈমান এনেছিল এবং তিনি তাদের ঈমানী চেতনা বাড়িয়ে দিলেন,সত্যের উপর তাদের হৃদয় মজবুত করে দিয়েছিলেন।
এটা থেকে বুঝা যায় আমরা সত্যের পথে থাকার চেষ্টা করাটা আসল কথা, সত্য পথকে আল্লাহই সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
৪। যুবকদের সংখ্যা সম্পর্কে অল্প লোক ই জানতো,তাই আল্লাহ বলেই দিলেন এ সংখ্যা আল্লাহ ভালো জানেন, তাই অজানা বিষয় নিয়ে তর্ক বা আলোচনা এড়িয়ে যেতে আল্লাহ নির্দেশ দিলেন।
৫। আল্লাহ কোরআনে সরাসরি নিষেধ করলেন যে, আমরা যেন না বলি যে, আগামীকাল কোন কাজ করা হবে । বরং বলতে হবে ইনশাআল্লাহ হবে বা আল্লাহ চাহে তো করা হবে।
৬ । আল্লাহ কাদেরকে এ দুনিয়াতে বন্ধু হিসেবে বেছে নিব তাও এ সুরায় বলে দিয়েছেন। যারা পার্থিব দুনিয়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টায় রত তাদের বন্ধু বানাতে বলেছেন। আর যাদের অন্তরকে আল্লাহ আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে রেখেছেন এবং যারা সিমালংঘনমুলক কাজ করেন বা প্রবৃতির অনুসরণ করেন তাদেরকে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
৭ । দুই বন্ধুর মাঝে একজনের অধিক ধনসম্পদ ও জনশক্তির নিয়ে গর্বিত হওয়ার গল্প থেকে , আল্লাহ অকৃতজ্ঞ ও অধিক সম্পদের বা ক্ষমতার জন্য দম্ভ
দেখানোর প্রতিফল হিসাবে যে এক নিমিষেই সকল সম্পদ ধুলোয় মিশে যেতে পারে তা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং সতর্ক করলেন।
৮। ধন, সম্পদ ও সন্তান এসবকে আল্লাহ বলেছেন দুনিয়ার জীবনের শোভা। এবং তিনি আরো বলেছেন আল্লাহর নিকট পুরস্কার লাভের উপায় হলো স্থায়ী সৎকাজ।
৯। আল্লাহ বলছেন, তিনি ইচ্ছা করলে যে কাউকে সীমালংঘনের জন্য সাথে সাথে পাকড়াও করতে পারতেন। কিন্তু বাড়াবাড়ির জন্য যত জনপদ এ পর্যন্ত ধ্বংস করেছেন,তাদের প্রত্যেকের জন্য তিনি একটা প্রতিশ্রুত সময় ঠিক করে রেখেছিলেন অর্থাৎ সীমালংঘনের একটা লিমিট ক্রস করলেই কেবল ধ্বংস করা হয় সেসব জনপদ।
১০/ মুসা (আ) এবং খিজির (আ) এর আপাত দৃষ্টিতে অলৌকিক কাহিনী গুলো বর্ণনা কালে আল্লাহ খিজির (আ) কে তাঁর দাসদের মাঝে একজন দাস হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন যাকে ভবিষ্যত দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। এই কাহিনী থেকে আমি বুঝলাম যে আল্লাহ চাইলে কাউকে কাউকে কিছু অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে দিতে পারেন যদিও তারাও আল্লাহর বান্দা। হয়ত তারা তাদের সৎকর্ম দিয়ে আল্লাহর বেশী রহমতের ভাগ পেয়েছেন।
১১। খিজির (আ) একজন মাঝির নৌকা রক্ষা করেছেন কারন মাঝি টি সৎ ছিল, একটা বালককে হত্যা করেছিলেন কারণ তার মাতাপিতা সৎ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছিল, আল্লাহ ওনাদের এর চেয়ে উত্তম সন্তান দিতে চেয়েছিলেন, তিনি হেলে যাওয়া দেয়াল তুলে দেয়ার মাধ্যমে দুটো এতিম বালকের গুপ্ত ধন রক্ষা করেন। কারন তাদের পিতামাতা সৎ ছিলেন।
এ গল্প পড়ে আমি খুবই আনন্দিত ও আশ্বস্ত হই। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন থাকি। অথচ আল্লাহ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সৎ কর্ম করে যেতে হবে , এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ই যথেষ্ট। আল্লাহই সৎকর্ম শীল কে এবং তাদের সন্তানদের যেকোনোভাবে রক্ষা করেন।
১২. এই সুরায় আল্লাহ এমন মানুষের পরিচয় করিয়ে দিলেন যারা মনে করেন তারা নিজেরা সঠিক কাজ করেছেন, অথচ তাদের দুনিয়ার জীবনের সকল আমল ব্যর্থ হয়ে গেছে, এরা আল্লাহর নিদর্শন কে এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছেন।তাদের জন্য পরকালে কোন প্রতিদান নেই।
এ থেকে বুঝলাম সৎ আমলের সাথে সাথে আল্লাহর বাণী তে ঈমান ও পরকালে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো তে বিশ্বাস করাটা জরুরি। ঈমান না থাকলে সকল সৎ কাজের পরিনাম ব্যর্থ বলে পরিগণিত হবে।
১৩। এ সুরার শেষ আয়াতে আল্লাহ আমাদের নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিনি অন্য সকলের মত একজন মানুষ এবং তার প্রতি ওহি নাজিল হয় যে, আল্লাহই একমাত্র ইলাহ। এবং যারা আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে তারা যেন সৎকর্ম করে এবং আল্লাহর ইবাদাতের সাথে যেন অন্য কাউকে শরীক না করে।
এর মাধ্যমে আল্লাহ নবী (স) কে নিয়ে মানুষের বাড়াবাড়ি ভাবনার ইতি টানলেন। তিনি সকল কিছুই আল্লাহর নির্দেশে মানুষের নিকট পেশ করেন ,এ কথাটাকে সত্যায়নকরা হলো।
১৪. আমি জুলকারনাইনের রাজত্ব ও রাজ্য শাসন থেকে পরপোকারী শাসকের রুপ দেখতে পাই।যিনি অনেক বড় রাজত্বের মালিক হয়েও তার রাজ্যের প্রতি কোনার খবর রাখতেন ও সমাধান দিতেন।
ডা তাসলিমা বেগম