04/01/2026
স্বৈরাচার হাসিনার পতনও একসময় “অসম্ভব” মনে হয়েছিল। হাসিনা নিজেও ভাবেনি পালাতে হবে, মানুষও বিশ্বাস করত না। চায়ের দোকানের মুরুব্বিরা বলত, “আমরা দু চোখে দেখে যেতে পারব না।” কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, জনগণের ঐক্য আর সাহস থাকলে ‘অসম্ভব’ও সম্ভব হয়।
তাই আজ প্রশ্নটা খুব সোজা: শহীদ হাদীর বিচার কি সত্যিই অসম্ভব? নাকি এটাকে “অসম্ভব” বানিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে?
জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলন শুরু হয়েছিল অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, মর্যাদার দাবিতে। সরকার পতন প্রথম দিন থেকে “টার্গেট” ছিল না। কিন্তু দমন-পীড়ন, জুলুম, মিথ্যা মামলা, হয়রানি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে মানুষ বাধ্য হয়ে এক দফার ভাষায় কথা বলেছে। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে: ন্যায়বিচারকে লুকিয়ে রাখা যায় না, চাপা দিলে আগুন আরও বড় হয়।
আজ শহীদ হাদীর ঘটনায় যে জিনিসগুলো মানুষকে ক্ষুব্ধ করছে, সেগুলো হলো:
এতদিনেও তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়, অথচ জনমনে প্রশ্ন জমছে।
ঘটনাটাকে “ম্যানেজ” করার চেষ্টা আছে কি না, সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সত্য প্রকাশ না করে যদি গল্প, স্ক্রিপ্ট, অজুহাত তুলে আনা হয়, মানুষ তা ধরে ফেলবে, কারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন।
অর্থ লেনদেন, যোগাযোগ, নির্দেশ, পরিকল্পনা, সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক—এসব ট্র্যাক করার সক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে। তাহলে স্বচ্ছ তথ্য কেন সামনে আসছে না?
আমরা কোনো গুজব চাই না, প্রতিহিংসাও চাই না। আমরা চাই প্রমাণভিত্তিক তদন্ত, সময়সীমাবদ্ধ অগ্রগতি, এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা।
কারণ ন্যায়বিচার না হলে বার্তা যায় এইটাই: “যে চাইবে, যে কাউকে টার্গেট করতে পারবে, আর দায় এড়াতে পারবে।” এটা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর।
আজ যদি শহীদ হাদীর বিচার দ্রুত এবং দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত না হয়, তাহলে আগামীকাল আবারও হাদীর মতো ঘটনা ঘটবে—এবং মানুষ ভয় পেয়ে চুপ করে যাবে। কিন্তু যদি বিচার নিশ্চিত হয়, তাহলে ইতিহাসে শহীদ হাদী নামটা থাকবে একটা নজির হিসেবে: এই দেশে অন্যায় করে কেউ পার পায় না।
তাই আমাদের দাবি একটাই:
শহীদ হাদীর হত্যার পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত
সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা
তদন্তের নিয়মিত পাবলিক আপডেট (কমপক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিং)
সাক্ষী-ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ
এই লড়াই কারও বিরুদ্ধে নয়—এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পক্ষে।
ছাত্রজনতা এক হও, ন্যায়বিচারের দাবিতে অটল থাকো।
বিপ্লবীদের মাথা উঁচু থাকুক।
ইনকিলাব জিন্দাব