06/05/2026
৩৪ লাখ টাকা পাওনা এক কোম্পানীর মালিকের কাছে। ৬ মাস ধরে ঘুরাচ্ছে। আজকে টিমের পোলাপান সবগুলোরে একসাথে পাঠালাম!" যেভাবেই হোক টাকা তুলে নিয়ে আসবি। টাকা তুলতে না পারলে একটারও চাকুরী নাই।"
ম্যানেজার মুনেজার সব লেংটি কেচে দৌড় দিয়েছে। সব মিলে হৈ হোল্লড় করতে করতে বেরিয়ে গেল৷ দুপুরে ফোন দিয়ে ম্যানেজার বললো " বস! এমডি আপনারে আসতে বলে!" গেলাম আমি।
মালিকের সাথে মিটিং এ বসলাম। সে খুব ব্যাস্ততা দেখালো। ফোনে কথা বলে। পিয়নকে ডাকে৷ তার একাউন্টসের জিএমকে ডাকে। তাদের আমার সামনেই ধমকাধমকি করে। আমিও তার ব্যাস্ততা উপভোগ করলা। প্রায় ৫ মিনিট তার এক্টিং চললো। এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "আপনাদের মালে কিছু সমস্যা ছিল। বিলের পেপারসেও সমস্যা। এগুলো ঠিক করে নিয়ে আসেন।" আমি বুঝতে পারছি সে ঘুরাচ্ছে। এরকম সে এর আগেও বহুবার করেছে।
আমি তার অফিস থেকে বের হয়ে কল দিলাম খোকন ভাইকে। বললাম "ভাই একটু আসতে হবে গুলশানে। খুহ জরুরী। একটা ঝামেলায় পড়েছি!" উনি বললেন, "আমি আছিই গুলশান। কই আসতে হবে বলো ছুডু ভাই? পোলাপান লাগবে? আমি বললাম ভাই শুধু আপনি এলেই হবে।"
উনি আসলেন। আমি উনাকে সব খুলে বললাম। এবং আরও বললাম ভাই টাকা তুলে দিতে পারলে " ১ লাখ আপনার। উনি সাথে সাথে বললেন "কয় ট্রাক পোলাপান লাগবে, খাড়াও কল দেই। আমি বললাম ভাই "কিছু লাগবে না। আপনি শুধু একটু গরম দেখাবেন।" ওকে, চলো চলো! গরম দেখাইয়া আসি।
উনাকে নিয়ে আবার ভেতরে গেলাম। পেছনে টিমের পোলাপান হাতা মাতা গুটিয়ে ঢুকেছে। তারা ভাবছে মাইরপিট করতে হবে। আজকে এসপার উসপার হবে। খোকন ভাই ঢুকেই রিসিপশনে বললেন, "এই আপনার মালিক কই? ঢাকেন!" রিসিপশনে ছিল একটা মেয়ে। সামনে একটা প্লেটে কিছু আনারস রাখা। ডেস্কের নীচে মুখ দিয়ে আনারস ভর্তা খাচ্ছিল। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে সে ভয় পেয়ে প্রায় দৌড়ে ভেতরে চলে গেল। খোকন ভাই বললো, "ছুডু ভাই! এসব ডাকাডাকি আমার ধাঁচে নাই। চলো ভেতরে চলো। ওরে ওর রুমে গিয়ে ধরি৷"
খোকন ভাই এগিয়ে গেলেন। আমি উনার পেছনে। আমার পেছনে টিমের পোলাপান তাবলীগের লাইনের মতো সিরিয়াল ধরে এগুতে লাগলো।
এমডির রুমে ঢুকেই খোকন ভাই হুংকার ছুড়ে দিলেন। উনার একটা প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সরাসরি মালিককে বললেন- "৩০ মিনিটের মধ্যে টাকা না দিলে আজকে আপনি বাসায় ফিরতে পারবেন না। বাইরে দুই ট্রাক পোলাপান ফালাইয়া রাখব দিন রাত।" মালিক আমাকে দেখলেন। বেশ ঘাবড়ে গেলেন। বললেন, "নাদিম ভাই, ইনি কে?"আমি বললাম "আমার বস।" খোকন ভাই এটা শুনে আরও খুশি হলেন। দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে ২য় দফায় আরও জোড়ালো থ্রেড দিলেন। এবার আপনি থেকে সরাসরি তুই তোকারিতে চলে গেলেন " জানের মায়া থাকলে এখনই টাকা ফেল।" এই বলে আবারও প্যান্টের পকেট নাড়াচাড়া করতে লাগলেন!" আরও কিছু বাকবিতন্ডা শেষে মালিক চেক লিখে দিল ১৫ লাখ টাকার। বললো, বাকীটা সামনের সপ্তাহে দিবে।
খোকন ভাই চেক হাতে নিয়ে বললেন, " সামনের সপ্তাহে ঠিক এই সময় আমার পোলাপান আসবে। যদি কথা হের ফের হয়, তুলে নিয়ে এমনভাবে গা* ব করে দিব যে র্যাবের কু// ত্তাও তোর লা: শ খুঁজে পাবে না।" এই বলে খোকন ভাই বেরিয়ে আসলেন। বাইরে এসে চেকটা আমার হাতে দিলেন। আমার টিমের পোলাপান ইম্প্রেসড। পারলে খোকন ভাইয়ের পায়ে ধরে সালাম করে ফেলে।
খোকন ভাই আমাকে নিয়ে একটু সাইডে এলেন। এসে বললেন "ছুডু ভাই কিছু টাকা আমার নাম্বারে বিকাশ করে দিও।" আমি বললাম, দিয়ে দিব ভাই। কোন সমস্যা নাই। আচ্ছা ভাই, আপনার পকেটে কি মেশিন মুশিন আছে নাকি? খোকন ভাই হাসলেন। ছুডু ভাই! মেশিন কি পকেটে রাখার জায়গা? আমার রানের চিপায় চুলকানি হইসে। খালি চুলকায়। এ জন্য এক পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটু চুল্কাইয়া নিচ্ছিলাম আর কি! কিন্তু হ্লায় ভয় পাইসে এইটা দেখেই। হাহাহহা! খোকন হেসে হেসে একটা রিক্সা ডাকলেন। "বিকাশ করে দিও তাইলে। গেলাম ছুডু ভাই!" খোকন ভাই চলে গেলেন।
আমার টিমের পোলাপান দূরে দাঁড়িয়ে আছে সব। ম্যানেজার জিজ্ঞাসা করলো, বস উনি কি বড় কোন সন্ত্রা**!? আমি বললাম "উনি খোকন ভাই। আমার এলাকার রকি ভাই। বিএনপি নেতা।" ম্যানেজার কিছু বুঝলো বলে মনে হলো না।
অফিসে একাউন্টে চেক জমা দিয়ে আমি আমার ব্যাক্তিগত একাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা খোকন ভাইকে বিকাশ করে দিলাম। সাথে সাথে খোকন ভাই ভুল ইংরেজিতে একটা মেসেজ দিলেন "Sarvise ok. Thonk yuo!"🤣🤣🤣