⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸ ︻╦̵̿╤──
Contact :[email protected]
⚠ bangladesh borisal bohawhhin vola garam chrtiya bohanwhin

 #প্রফেসর_উজান_চৌধুরী #লেখনীতে_বন্যা_সিকদার #পর্ব— ৩৭​দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুটি সপ্তাহ। এই দুই সপ্তাহের পর অবশে...
07/07/2026

#প্রফেসর_উজান_চৌধুরী

#লেখনীতে_বন্যা_সিকদার
#পর্ব— ৩৭

​দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুটি সপ্তাহ। এই দুই সপ্তাহের পর অবশেষে মৌ এবং মেহেরের সব পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হলেও মেহেরে’র মনটা বিষণ্ন‚ মোটামুটি পরীক্ষা দিলেও রেজাল্ট কেমন হবে তা নিয়ে সে ভীষণ টেনশনে ভুগছে। অন্যদিকে মৌ’য়ের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরীক্ষা কেমন হয়েছে সেটা একমাত্র মৌ আর ওপরওয়ালাই জানেন। দু-একটা প্রশ্ন মেহেরে’র ইশারায় লিখলেও বাকিটা নিজের খেয়াল খুশি মতোই লিখে এসেছে সে। তবে পাস মার্ক উঠবে কিনা তা নিয়ে বিন্দুুমাত্র চিন্তার রেখা নেই তার কপালে। সে মেতে আছে নিজের বিন্দাস দুনিয়ায়। ​গত এক সপ্তাহ উজান ঢাকার বাইরে ছিল অফিশিয়াল ইনভেস্টিগেশনের কাজে। আর এই সুযোগে মৌ পড়াশোনাকে একপ্রকার শিকেয় তুলে রেখে মন যা চেয়েছে‚ ঠিক তাই করেছে। এর পরিণতি সামনে কী হতে পারে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা ভয় নেই তার মনে।

​সন্ধ্যার দিকে উজান ফিরে এসে মৌ’কে নিয়ে শপিংয়ে বের হলো। বাইরে ঘোরাঘুরি আর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে তাদের বেশ রাত হবে। মৌ চেয়েছিল মেহের’কেও সাথে নিয়ে যেতে। কিন্তু মেহের অন্য ধাতুতে গড়া। সে কখনোই কারও ব্যক্তিগত সময় বা প্রাইভেসি নষ্ট করতে চায় না। তাই মাথা ব্যথার অজুহাত দিয়ে সে বাসায় থেকে গেল। মেহেরে’র এই পরিপক্বতা ইফাত’কে বারবার মুগ্ধ করে। মেয়েটা অদ্ভুত সুন্দরভাবে বোঝে কখন কাকে কতটা স্পেস বা প্রাইভেসি দেওয়া উচিত। ​এদিকে ইফাতও জরুরি কিছু কাজে উজানদে’র সাথেই বাইরে বের হয়েছে। চারদিকের এই নীরবতায় মেহেরে’র বড্ড একাকী আর একঘেয়ে লাগছিল। নিজেকে একটু হালকা করতে সে এসে বসল ছাদের দোলনাটায়।

​বুকের ভেতরের কালবৈশাখী
​ঠিক তখনই প্রকৃতির রূপ বদলাতে শুরু করল। পুরো আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে‚ খানিক বাদে বাদেই তীব্র আলোয় বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিন্তু আকাশের এই রুদ্রমূর্তি মেহের’কে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারছিল না। কারণ প্রকৃতির এই ঝড়ের চেয়েও শতগুণ তীব্র এক কালবৈশাখী ঝড় বয়ে চলছিল তার নিজের ভেতরে। ​আজকে ইফাত’কে তার জীবনের অতীতটা বলতেই হবে। কিন্তু বুকের ভেতর থেকে যেন সমস্ত সাহস উবে যাচ্ছে। একটা অজানা আতঙ্ক তাকে গ্রাস করছে‚ মানুষটা যদি সব সত্য জানার পর তাকে ভুল বোঝে? যদি চিরকালের জন্য তার জীবন থেকে হারিয়ে যায়? কথাগুলো ভাবতেই মেহেরে’র দু-চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। মাথাটা ঝিমঝিম করছে‚ কোনো কিছু চিন্তা করার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলছে সে। নিজের জীবনে এর আগে অনেক বড় বড় ঝড় সে একা হাতে সামলে এসেছে কিন্তু আজ সামান্য অতীতটা প্রকাশ করতে গিয়ে তার বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। বুকের ভেতর যেন এক প্রলয়ংকরী টর্নেডো আছড়ে পড়ছে।

​এমন সময় হঠাৎ করেই মেহের নিজের কাঁধের ওপর কারও পরিচিত হাতের স্পর্শ পেল। ​ভয়ে ​স্পর্শটা পেতেই মেহের তড়িৎ গতিতে ছিটকে সরে এলো। আতঙ্কে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠলেও সামনে ইফাত’কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার বুক থেকে এক দীর্ঘশ্বাস নেমে গেল‚ খানিকটা স্বস্তি পেল সে। ইফাত মুচকি হেসে মেহেরে’র গা ঘেঁষে দোলনায় বসল। পকেট থেকে একটি কিটক্যাট চকলেট বের করে মেহেরে’র দিকে বাড়িয়ে দিল সে।
​কিন্তু আজ মেহেরের হাত দুটো যেন অবশ। চকলেটটা নেওয়ার মতো সাহস সে সঞ্চয় করতে পারল না। উল্টো সে ইফাতে’র থেকে বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে বসল। ইফাত ব্যাপারটা খেয়াল করল। সে নিজেও মেহেরে’র দেওয়া দূরত্বটুকু বজায় রেখে বসল‚ তবে তার মুখে লেগে রইল সেই চেনা এক গাল হাসি। সেই হাসিতে যেন প্রতিধ্বনিত হলো তার গভীর ভালোবাসা।

​“মিস থেকে মিসেস চৌধুরী হতে চলেছেন‚ তবুও এত কিসের ভয়‚ হুম? ইফাত চৌধুরীকে আপনি কেন ভয় পাবেন বলুন তো? বরং ইফাত চৌধুরী নিজেই আপনাকে ভয় পাবে। আপনার সব কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে। আপনার সকল আবদার পূরণ করবে সে। আপনার হাতের ইশারায় চলবে। 'আপনি' থেকে খুব দ্রুতই 'তুমি'তে আবদ্ধ করবে নিজেকে। আর এখনো যদি এমন পাগলামি করেন‚ তাহলে কীভাবে হয় বলুন তো? আপনাকে তো আগেই বলেছিলাম‚ ইফাত চৌধুরী বড্ড অধৈর্যশীল একজন পুরুষ। সে দুনিয়ার সবার কাছে ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেও‚ তার শখের নারীর কাছে বড্ড দুর্বল‚ বড্ড অসহায়।

​মেহের মন্ত্রমুগ্ধের মতো প্রতিটি কথা শুনছিল। মানুষটার প্রতিটি শব্দের ভাঁজে ভাঁজে কত তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। কিন্তু মেহেরে”র বিবেক তাকে দংশন করছে। সে কীভাবে এই মানুষটাকে ঠকাবে? সে তো ইফাত‘কে ভালোবাসে‚ আর ভালোবাসার মানুষকে কখনো ঠকানো যায় না। এই অপরাধবোধ থেকেই গত চারদিন ধরে সে ইফাত’কে এড়িয়ে চলছে। ক্রমাগত এভয়েড করে যাচ্ছে। মেহের ভেবেছিল‚ অবহেলা পেয়ে এবার অন্তত ইফাত নিজে থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে। মেহের নামের কোনো নারী যে তার জীবনে এসেছিল‚ হয়তো তা ভুলেই যাবে। কিন্তু মেহেরে’র সেই ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হলো। মেহের গত চারদিন কথা না বললেও‚ ইফাতের শেষ বার্তাটা ছিল স্পষ্ট ও ধারালো.....

​"আমাকে এভয়েড করার ফল কী জানো? সোজা বউ বানিয়ে ঘরে তুলব। ইফাত চৌধুরী সব সহ্য করতে পারলেও শখের নারীর অবহেলা সহ্য করতে পারে না। জাস্ট রেডি থাকো পানিশমেন্ট পাওয়ার জন্য। ইফাত চৌধুরী যেমন তার শখের নারীকে উজাড় করে ভালোবাসতে পারে‚ ঠিক তেমন করে আঘাতও করতে পারে। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি।

​অভিমানের অবসান ​সেই কথার গভীরতা মেহের বুঝেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কাছে সে ছিল নিরুপায়। দোলনায় বসে মেহের যখন তখনও চকলেটটা হাতে নিচ্ছিল না। তখন ইফাতে’র ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। সে প্রচণ্ড রাগে নিজের ফোন আর হাতের চকলেটটা দূরে ছুঁড়ে মারল। শূন্য ছাদের মাঝে সেই তীব্র শব্দে মেহের হকচকিয়ে উঠল‚ কেঁপে উঠল তার পুরো শরীর। ​পাশে ফিরে ইফাতে’র রাগান্বিত‚ থমথমে মুখটা দেখে মেহেরে’র গলার ভেতরটা শুকিয়ে এলো। সে ঢোক গিলে নিজের ভয়টা আড়াল করার চেষ্টা করল। অতঃপর মুখে একটা জোড়াতালির শুকনো হাসি ঝুলিয়ে দোলনা থেকে নামল। ছিটকে যাওয়া ফোন আর চকলেট দুটো কুড়িয়ে নিয়ে সে এবার ইফাতে’র একদম কাছাকাছি এসে বসল।

​কাঁপাকাঁপা হাতে ফোনটা কোনো রকমে ইফাতে’র হাতের মুঠোয় গুঁজে দিল মেহের। তারপর চকলেটটা ছিঁড়ে খানিকটা নিজের মুখে পুরে দিল‚ আর বাকি অংশটুকু কাঁপতে থাকা আঙুলে ইফাতে’র ঠোঁটের সামনে ধরল।

​ইফাত তখনও ঠিক আগের মতোই রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেহেরে’র দিকে। তবে মেহেরে’র এই আকুলতা দেখে সে আর ফিরিয়ে দিতে পারল না‚ বাড়িয়ে দেওয়া চকলেটটুকু মুখে পুরে নিল। ইফাত’কে এতটা রাগান্বিত হতে মেহের কখনো দেখেনি। ভয়ে মেহেরের কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল। সে তোতলাতে তোতলাতে কোনোমতে বলল‚

​"চ চ চ চকলেট খেলাম তো‚ তবুও এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন? ভয় লাগে আমার।



​মেহেরে’র কাঁপা কাঁপা কণ্ঠের আকুতির জবাবে ইফাত আর কিছুই বলল না। সে কেবল থমথমে মুখে চুপচাপ বসে রইল। চারদিকের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। দীর্ঘ সময় পর‚ সেই নীরবতার বুক চিরে ইফাত নিজেই প্রশ্ন করল....

​“ফুলকন্যা চলো বিয়ে করি?

​মেহের চমকে তাকাল। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন লাফাচ্ছে। সে ধড়ফড় করে ইফাতে’র মুখোমুখি হয়ে বসল। ইফাত তখনো তার দিকে একদৃষ্টিতে গভীর‚ মায়াবী চোখ জোড়া নিক্ষেপ করে রেখেছে। মেহের কিছু বলার জন্য ঠোঁট জোড়া নাড়ার আগেই ইফাত বলে উঠল‚ “আমি তোমার কোনো অতীত জানতে চাই না। শুধু তোমাকে আমার বউ করে ঘরে তুলতে চাই‚ ফুলকন্যা।

​মেহেরের চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। সে ইফাতে’র চোখের দিকে নিজের দৃষ্টি স্থির রেখে অত্যন্ত কাঁপা গলায় বলে‚ “পারব না আমি আপনার বউ হতে। পারব না আমি আপনাকে ঠকাতে।

“কী বলতে চাচ্ছো ফুলকন্যা?

​মেহের আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারল না। সে ডুকরে কেঁদে উঠল‚ “আমায় মাফ করে দিন। সত্যি আমি পারব না আপনার হতে‚ আর না পারব নিজের অতীত ভুলতে। আমি জানি আমাদের দুজনের পথ ভিন্ন। আমরা কখনোই এক হবার নই। আপনি তো আকাশের চাঁদ‚ সেই চাঁদ কেন নিজে এসে কলঙ্ক গায়ে মাখবে? আমরা এখন যেমন আছি‚ তেমন বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে থাকি প্লিজ।

​ইফাত এক মুহূর্তও দেরি না করে মেহেরে’র কাঁপতে থাকা হাত দুটো নিজের হাতের শক্ত ভাঁজে পুরে নিল। মেহেরে’র চোখের জল আলতো করে মুছে দিয়ে ফিসফিস করে।

“তোমাকে কতবার বলব‚ তোমার কোনো অতীত আমি জানতে চাই না। আমি শুধু তোমাকে আমার বউ করে ঘরে তুলতে চাই‚ ব্যাস। আর কে বলল তুমি আমায় ঠকাচ্ছো? আমি বরং তোমাকে নিজের করে পেয়ে জিতে যাব। প্লিজ ফুলকন্যা‚ এমন করো না। বলো আমি তো এতদিন তোমাকে কোনো জোর করিনি‚ তাহলে আজ কেন তুমি নিজে থেকে এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছো?

​“কারণ আমি যে আপনার বউ হবার কোনো যোগ্যতা রাখি না। —মেহেরে’র কণ্ঠ দিয়ে যেন এক বুক হাহাকার বেরিয়ে এলো।

​“লাগবে না তোমার কোনো যোগ্যতা। শুধু তুমি আমারই হও।

​“কেন অবুঝের মতো কথা বলছেন? তাছাড়া আমি অনেক চেষ্টা করেছি এই 'বিয়ে' শব্দটা নিয়ে ভাবতে‚ তবে আমার মস্তিষ্ক কোনোভাবেই সায় দিচ্ছে না। আমি সত্যি নিরুপায়। সবকিছু জানার পর আপনি যদি আমার জীবন থেকে চলে যান‚ আমি তা সহ্য করতে পারব না। আপনি বরং অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করে সুখী হোন। আমি দূর থেকেই না হয় আপনাকে দেখবো।

​মেহেরে’র মুখে অন্য নারীর কথা শুনে ইফাতের ভেতর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল কিন্তু নিজেকে শান্ত করল সে। কোনো কথা না বাড়িয়ে সে মেহেরে’র ভেজা গাল দুটো নিজের দুই হাতের তালুতে আঁকড়ে ধরল।

​“আমার অন্য কোনো নারী চাই না ফুলকন্যা‚ আমার শুধু তোমাকেই চাই। আই প্রমিজ‚ তোমার লাইফে অতীতে যাই ঘটে থাকুক না কেন আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যাব না।

​ইফাতের এই কথায় মেহের একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। লোকটা কত সহজে কথাটা বলে দিল। কিন্তু বাস্তবতা যে বড্ড কঠিন‚ তা প্রমাণ করা আরও কঠিন।

​“পারবেন না আপনি। আমার অতীত জানার পর কোনোভাবেই আমাকে আপন করতে পারবেন না।

​“প্রমিজ করেছি‚ তবুও বিশ্বাস হচ্ছে না?

ইফাত কিছুটা মরিয়া হয়ে উঠল‚ “আচ্ছা তুমিই বলো কী ছিল তোমার অতীতে? তোমার অতীত যতই ভয়াবহ বা ভয়ংকর হোক না কেন‚ আমি তবুও তোমাকেই আমার বউ বানাবো।

​মেহের কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল‚ “কেন আমাকে এভাবে মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন বলুন তো? আমি জানি‚ আমার মতো মেয়েকে কোনো পুরুষ কোনোদিন আপন করতে পারবে না। আর ঠিক সেই ভয় থেকেই আমি সবার থেকে দূরে দূরে থাকতাম। আপনি প্লিজ এখান থেকে চলে যান‚ আমি পারব না আমার সেই বিশ্রী অতীত মুখে আনতে।

​“ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড ফুলকন্যা। প্লিজ বলো না কী ছিল তোমার অতীতে? আমি সবকিছু মেনে নেব।

ইফাতে’র কণ্ঠ জুড়ে তখন আকুল মিনতি। এর মাঝেই ​আকাশ ভাঙা আর্তনাদ ​হঠাৎ করেই মেহের দু-চোখ শক্ত করে বন্ধ করে। বুকের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল‚

​“আমি একজন ধ**র্ষিতা নারী। যাকে ৫ বছর আগে ধ**র্ষণ করা হয়েছিল। যাদেরকে সমাজ নিকৃষ্ট কীট মনে করে। পারবেন এমন ধ**র্ষিতা নারীকে নিজের বউ বানাতে?”


​কথাগুলো বলার সময় মেহেরে’র কণ্ঠস্বর তীব্রভাবে কাঁপছিল। তার সেই গগনবিদারী চিৎকারের শব্দ আর কান্নার রোল যেন আকাশের মেঘের ডাক আর বিদ্যুৎ চমকানির শব্দের সাথে একাকার হয়ে গেল। ​মেহেরে’র মুখ থেকে এই একটা শব্দ শুনে ইফাত পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা যেন কেউ নির্মমভাবে মুচড়ে দিল। হৃদপিণ্ডটা এত দ্রুত গতিতে স্পন্দিত হতে লাগল যে‚ মনে হচ্ছিল বুক চিরে বেরিয়ে আসবে। কলিজাটা যেন কেউ টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। ​ইফাত’কে স্তব্ধ হয়ে যেতে দেখে মেহের আবারও কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে।

"মাত্র বারো বছরের বাচ্চা মেয়েকে ওরা ধ**র্ষন করেছিল। পারবেন এমন একটা নিকৃষ্ট মেয়েকে নিজের বউ করতে? যে মেয়েটার নিজের বলতে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই‚ সে কীভাবে আপনার বউ হবার স্বপ্ন দেখবে বলুন তো? ওই কাপুরুষ গুলো আমাকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে রেখে গিয়েছে। আমার জীবনের সবটুকু আলো‚ সবটুকু খুশি ওরা কেড়ে নিয়েছে। এরপরেও কি বলবেন যে আমি আপনার বউ হবার যোগ্যতা রাখি?



ইফাত আর এক মুহূর্তও সেখানে বসলো না‚ ঝড়ের বেগে উঠে দাঁড়াল। মেহেরে’র মুখপানে একবারও না তাকিয়ে‚ সোজা বড় বড় পা ফেলে ছাদ থেকে নেমে চলে গেল। ​মেহের তার চলে যাওয়ার পথের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। পরক্ষণেই তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চরম তাচ্ছিল্যের হাসি। সে ঠিকই আন্দাজ করেছিল। ইফাত কখনোই তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না। শুধু ইফাত কেন‚ এই সমাজের কোনো পুরুষই কি স্বেচ্ছায় তার মতো একটা মেয়েকে আপন করতে চাইবে? মেহের চাতক পাখির মতো শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতরটা যেন খাঁ খাঁ করছে‚ হৃদপিণ্ডটা তীব্র বেগে লাফাচ্ছে। ঝড়ের পূর্বাভাস নিয়ে একঝলক শীতল হাওয়া তার গায়ে এসে লাগল। মেহের স্তব্ধ হয়ে গেল। মনের কোনো এক সুপ্ত কোণে এক মুহূর্তের জন্য হলেও তার বিশ্বাস ছিল‚ ইফাত হয়তো বাকিদের মতো নয়। সে হয়তো তাকে এভাবেই মেনে নেবে। কিন্তু আজ তার সেই শেষ বিশ্বাসটুকুও কাচের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তবে কোনো আফসোস হলো না তার‚ ভাগ্যটাই যেখানে পোড়া সেখানে আর কাকে দোষ দেবে?

​মেহের ধীরপায়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। শরীর আর সায় দিচ্ছে না‚ মাথাটা প্রচণ্ড ঘুরছে‚ গা গুলিয়ে আসছে তার। সে চোখের অশ্রু মুছতে মুছতে ছাদ থেকে নিচে নামতে লাগল। নিজের রুমে এসে সশব্দে ভেতর থেকে দরজাটা আটকে দিল সে। বিছানায় ধপাস করে বসে একটা বালিশ বুকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। কিন্তু তার সেই বুকফাটা আর্তনাদ শোনার মতো কেউ ছিল না সেখানে। ​কান্নার বেগ বাড়ার সাথে সাথে তার ভেতরের কষ্টটা উন্মত্ত রাগে রূপ নিল। ক্ষোভে সে পুরো রুম তছনছ করতে শুরু করল। বিছানার চাদর‚ বালিশ‚ টেবিলের সব জিনিসপত্র এক এক করে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলতে লাগল। পাশে থাকা কাচের গ্লাসটাও হাত দিয়ে ফেলে দিল সে। ঝনঝন শব্দে মুহূর্তেই সেই কাচ ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল। মেহের হো হো করে কেঁদে উঠে মেঝেতে একপ্রকার আছড়ে পড়ল। ভাঙা কাচের পাশে গুটিসুটি মেরে বসে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল।

​"আ আ আমি তো আপনাকে বলেছিলাম‚ আপনি আমায় মেনে নিতে পারবেন না। কিন্তু আপনি শুনলেন না। আমি না হয় এইভাবেই দূর থেকে আপনাকে সারাজীবন একতরফা ভালোবেসে যেতাম। কেন আমার অতীত জানতে চাইলেন আপনি‚ কেন কেন? আমি এখন কোন মুখ নিয়ে আপনার সামনে দাঁড়াবো? কীভাবে এই মুখ আপনাকে দেখাবো? পারব না আমি...সত্যি আমার আর এত যন্ত্রণা সহ্য করার ধৈর্য নেই।

​অন্ধকার অতীতের গ্রাস
​মেহেরে’র দু-চোখ বেয়ে অবিরল ধারায় নোনা জল ঝরতে লাগল। পাঁচ বছর আগের সেই ভয়ংকর অতীতের কথা মনে পড়তেই তার কলিজাটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। সে নিজের চুল নিজেই টেনে ধরে পাগলের মতো ডুকরে কেঁদে উঠল‚

​"মেহের তুই কেন পারলি না নিজেকে পবিত্র রাখতে? কেন তুই সবার বারণ করা সত্ত্বেও সেদিন একা একা অমন জায়গায় গিয়েছিলি? সেদিন যদি ছোট আম্মুর কথাটুকু শুনতি‚ তবে আজ এই অভিশপ্ত দিনটা তোকে দেখতে হতো না। আমি কীভাবে ওই মানুষটার চোখের ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকব? পারব না আমি...এই মুখ আমি কখনোই আপনাকে দেখাতে পারব না। আমি হারিয়ে যাব‚ অনেক দূরে হারিয়ে যাব। আপনার ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে হয় না আমার জীবনে।

​কথাগুলো শেষ করেই মেহেরে’র ভেতর এক অদ্ভুত‚ ভয়ানক শান্ত ভাব চলে এলো। সে নিজের গলা থেকে ওড়নাটা খুলে ফেলল। চটজলদি বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে সিলিং ফ্যানের........


To be continued…
[ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]



পেইজের রিচ কমে গেছে সবাই বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করবেন প্লীজ
আর সবাই ১০০ ফলো করে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
ফেইক পেইজ গুলো থেকে দুরে থাকুন
পরবর্তী পর্ব বড় করে দিবো যদি সবাই এই পর্বটি রেসপন্স করেন এবং পেইজটি ফলো করে রাখেন
গল্প গুলো সুধু মাত্র পাঠক পাঠিকাদের জন্যে পোষ্ট করি
প্লীজ নিজের বোন মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজ টি ফলো করে রাখুন প্লীজ প্লীজ প্লীজ
ফলো পেইজঃ জিসা হুসাইন ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

,,,

 #তোমাতেই_বসন্ত #জেরিন_আক্তার(১৯)                 প্রাণেশা আর স্নিগ্ধ কথা বলতে বলতে নিচে আসছিলো। যা শুনতেই সুবহা এক পা প...
07/07/2026

#তোমাতেই_বসন্ত

#জেরিন_আক্তার

(১৯)

প্রাণেশা আর স্নিগ্ধ কথা বলতে বলতে নিচে আসছিলো। যা শুনতেই সুবহা এক পা পিছিয়ে গেলো। যাতে সৌরভ আগে যেতে পারে। সৌরভ ফোন বের করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। আর সুবহা ওর পেছনে। প্রাণেশা আর স্নিগ্ধ নিচে এসে নিজেদের রুমে ঢুকলো। প্রাণেশা চুলগুলো বেধে নিলো। স্নিগ্ধ পানি খেয়ে আয়নায় প্রাণেশার দিকে তাকিয়ে আছে।

প্রাণেশা আয়নায়ই স্নিগ্ধর দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঠিয়ে বলল,
“কি দেখছেন? আমি এখন একজনের বউ ওভাবে তাকিয়ে থাকবেন না আমার স্বামী আপনাকে বকবে। তখন?”

স্নিগ্ধ পানির গ্লাস রেখে মোলায়েম কণ্ঠে বলল,
“নিজের বউ ভালো লাগে না। তাই পরের বউ দেখছি ম্যাডাম। এতে কি আমার পাপ হবে?।”

প্রাণেশা তালে তাল মিলিয়ে বলল,
“হুমম খুব পাপ হবে। আজ আসুক আমার স্বামী বলে দিবো একজন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।”

স্নিগ্ধ প্রাণেশার কাছে এসে ওর কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
“এখনই আদুরে গলায় স্বামীর কাছে নালিশ করুন না।”

প্রাণেশা স্নিগ্ধর মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,
“সময় হলে নালিশ করবো। এখন না। বুঝেছেন?”

স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে ছেড়ে দিয়ে চুলগুলো চিরুনি দিয়ে সেট করতে করতে বলল,
“ঠিক আছে রাতে নালিশ শুনবো।”

দুজনে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদে চলে এলো।

এদিকে সৌরভ ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। ইভা ওকে দেখে হাঁসফাঁস করছে। সুবহা ইভাকে বলল,
“তুমি কি এইখানে কমফোর্টেবল না?”

ইভা সৌরভকে দেখিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
“আসলে সৌরভ ভাই আসছে না। কই ভেবেছি কাছে এসে বসবে কিন্তু তার কথা বলাই শেষ হচ্ছে না।”

সুবহার মুখটা আরও ছোট হয়ে গেলো। সিয়াম ইভাকে জিজ্ঞাসা করলো,
“তোমরা কি রিলেশনে আছো?”

ইভা কিছু বলে উঠার আগেই স্নিগ্ধ আর প্রাণেশা এলো। প্রাণেশা সুবহার পাশে বসলো। সৌরভও এলো। ইভা ডেকে বলল ওর পাশে বসতে। কিন্তু সৌরভ তা কেয়ারই করলো না। গা ছাড়া ভাব নিয়ে স্নিগ্ধর পাশে বসলো। মনে মনে বলল, তোর মতো বাঁচালের পাশে বসলে মাথাটা নষ্ট হয়ে যাবে। একাই বস। পাগল কোথাকার। আল্লাহ এর থেকে মুক্ত করো আল্লাহ।

ওরা আড্ডা দেওয়া শেষে ছাদে থেকে নেমে এলো। ছাদেই ইভা সুবহার সাথে কথা বলছে। ইভা সুবহার হাত ধরে বলল,
“তুমি অনেক ভালো।”

সুবহা মলিন হেসে বলল,
“থ্যাংক ইউ।”

ইভা আস্তে করে বলল,
“একটা গুড নিউজ আছে।”

“কি?”

ইভা লাজুক হাসি দিয়ে আস্তে করে বলল,
“সৌরভ ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ের প্রস্তাব দিতে আসবে আমার বাবা। আমাদের জন্য দোয়া করো।”

সুবহা মলিন হেসে বলল,
“হুমম।”

সুবহার ইচ্ছে করে চিৎকার করে কাঁদতে। এই কষ্ট আর বয়ে বেড়াতে পারছে না ও। একতরফা ভালোবাসা মৃত্যুর মতো যন্ত্রনা দেয়।

ইভা চলে গেলো। সুবহা ছাদের এককোণে গিয়ে হাটু গেরে বসে পড়লো। হাঁটুতে মুখ গুজে কাঁদতে শুরু করলো।

প্রাণেশা এসেছে ছাদে। কারো কান্নার শব্দে নিরেট হয়ে এগিয়ে গেলো। দেখলো ছাদের এককোণে বসে কাঁদছে সুবহা। প্রাণেশা তড়িৎ পায়ে ওর কাছে গিয়ে বসে ওকে ধরে বলল,
“এই কি হয়েছে? কাঁদছিস কেনো? সুবহা…”

সুবহা প্রাণেশাকে ধরে কেঁদে উঠল। প্রাণেশা ওর মাথায় হাত রেখে শুধানো গলায় বলল,
“এই পাগল কাঁদছিস কেনো? আমি সেই আমার বিয়ের আগে থেকে দেখছি। তোর কি হয়েছে? কাউকে না বলতে পারলে তু্ই বিশ্বাস করে আমাকে বল।”

সুবহা মাথা তুলে কান্না থামিয়ে চোখ মুছে বলল,
“কিচ্ছু হয়নি আমার। এমনেই ভালো লাগছিলো না। কোনোকিছুতেই মন বসাতে পারছি না।”

প্রাণেশা গভীর গলায় বলল,
“কোনো একটা কারণে তো তু্ই এমন করছিস সেটা তো বল?”

সুবহা হেসে বলল,
“কোনো কারণ নেই চল। আমার মন! একাই ঠিক হয়ে যাবে রে। আর তু্ই কিন্তু ভাইয়াকে বলবি না।”

…..

প্রাণেশা আর সুবহা ভার্সিটি থেকে ফিরছিলো রিক্সা নিয়ে। স্নিগ্ধ পরে আসবে। ভার্সিটিতে সব টিচারদের আজ মিটিং হবে তাই লেট্ হবে।

সুবহা আর প্রাণেশা দুজনে মাঝ রাস্তায় একটা সুন্দর বসার জায়গা দেখে রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিলো। এরপরে দুজনে সেখানেই গিয়ে বসলো। ওদের বাড়িটাও কাছেই। প্রাণেশা কয়েকবার সুবহাকে জিজ্ঞাসা করেছে কি হয়েছে? কেনো এমন চুপচাপ থাকিস? কিন্তু প্রতিবারই সুবহা এড়িয়ে গিয়েছে। প্রাণেশা ভাবলো, এভাবে না অন্যভাবে জিজ্ঞাসা করতে হবে।

প্রাণেশাকে একা বসিয়ে রেখে সুবহা গেলো ফুচকাস্টলে ফুচকা আনতে। প্রাণেশা ফোন বের করে স্ক্রল করছিলো। তখন ৩-৪ টা ছেলে আসে। প্রাণেশা সামনে দুটো ছেলেকে চিনতে পারলো। বিয়ের আগে যে স্নিগ্ধর সাথে শপিংয়ে গিয়েছিলো সেদিন এই ছেলে দুটো প্রাণেশাকে উল্টো-পাল্টা কথা বলেছিলো। যার কারণে স্নিগ্ধ দুজনকেই মেরেছিলো। সেই ছেলে দুটোই এসেছে। সাথে আরও ২ টা ছেলে।

সামনের একটা ছেলে প্রাণেশাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কিগো সুন্দরী! তোমার সেই প্রেমিকপুরুষটা কোথায়? আজ যে সাথে নেই।”

প্রাণেশা তপ্ত কণ্ঠে বলল,
“কেনো তার হাতে আবারও মার খেতে চান নাকি?”

ছেলেটা বলে উঠল,
“আজ আসুক দেখি কত মারতে পারে। আজ ৪ জন এসেছি।”

সুবহা দূর থেকে ওই ছেলেগুলোকে দেখেই সিয়ামকে কল দেয়। বাড়িটা বেশি দূরে না ও আসতে পারবে। সুবহা একহাতে ফুচকার প্লেট আর একহাতে ফোন নিয়ে সিয়ামের সাথে কথা বলতে বলতে এলো।

সুবহা ফোন রেখে ছেলেদের সাথে কথা বলছিলো। সেই পর্যন্ত সিয়ামও এসে উচিত শিক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু এই পাশ দিয়েই স্নিগ্ধ বাড়িতে যাচ্ছিলো। আজকে ভার্সিটিতে টিচারদের সাথে মিটিং হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু ৪ জন টিচার সেখানে না থাকায় সেই মিটিং আজকে হয়নি, বরং কালকে সকালে হবে।

স্নিগ্ধ সুবহাদের দেখার সাথে সাথে গাড়িটা থামিয়ে নেমে হনহন করে ওদের দিকে এগিয়ে আসছিলো। একটা ছেলে স্নিগ্ধকে দেখে প্রাণেশাকে বলল,
“ওই যে তোমার প্রেমিক পুরুষ চলে এসেছে।”

প্রাণেশা পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে ওর অতি কাছে স্নিগ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে সরিয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে নিতে নিতে বলল,
“কি যেনো বলছিলি তোরা?”

পেছনে থেকে সিয়াম ডাক দিলে সবার দৃষ্টি ওদের দিকে যায়। ওর সাথে ওর বন্ধু আছে। দুজনের হাতেই ক্রিকেট খেলার ব্যাড। অতঃপর সিয়ামরা এগিয়ে এলো। সবাই ভেবেছে ওরা হয়তো এখানে খেলতে এসেছে। কিন্তু সিয়াম স্নিগ্ধর দিকে একটা ব্যাড এগিয়ে দিয়ে বলল,
“খেলো.. ”

ছেলেগুলো বোঝার আগেই স্নিগ্ধ ওদের মারতে থাকে। সাথে সিয়ামও। স্নিগ্ধ মারছিলো আর বলছিলো….
“কুত্তার বাচ্চা তোদের কি সেদিন কান দিয়ে কথা যায়নি? আমি ওর প্রেমিক পুরুষ না, আমি ওর হাসব্যান্ড। ও আমার বিবাহিতা স্ত্রী। তোদের তো আজকে মেরে হাড়গোড় সব ভেঙে ফেলবো। আমার বউয়ের দিকে আবার নজর দেওয়ার সাহস পাস কই থেকে? তোদের চোখদুটো তুলে ফেলবো। এই সিয়াম থানায় ফোন দে!”

ছেলেগুলো কোনোরকম সেই মার থেকে পালিয়ে যায়। নাহলে হাত-পা সত্যি সত্যি ভেঙে দিবে।
.
এরপরে স্নিগ্ধ প্রাণেশা আর সুবহাকে গাড়িতে উঠতে বলে। প্রাণেশা স্নিগ্ধর পাশে বসলো। কিন্তু স্নিগ্ধ কোনো কথা বলছে না। গম্ভীর হয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। প্রাণেশা দু-এক বার বলেছে কিন্তু স্নিগ্ধ উত্তর দেয়নি।

আজ দুপুরেই সৌরভ এলো অফিসে। তবে কোনো ফরমাল ড্রেসে না। কালো ফরমাল ড্রেসে। হাতে সানগ্লাস। সেইযে প্রাণেশা আর স্নিগ্ধর বিয়ের কথা চলছিল তখন রেগে চলে গিয়েছিলো তারপর প্রথম এলো। শুধু একটা ডিলের সাইন করতে এসেছে।

সৌরভ এসে নিজের কেবিনে বসলো। সেখানে এটাচ করা একটা রুম আছে সৌরভের। সেখানে ঢুকে কিছু টুকটাক ফাইল দেখছিলো।

আরশাদ খান ওর কেবিনে এসে ডাকলেন। সৌরভ সাড়া দিলে তিনিও সৌরভের রুমে ঢুকেন। সৌরভ ফাইল রেখে ফোনটা হাতে নিয়ে বেডে বসলো। আরশাদ খান হেসে বললেন,
“আজ এখানকার স্পেশাল গেস্ট তুমি। বলো কি খাবে টি ওর কফি?”

সৌরভ বিড়বিড় করে কিছু একটা বলল। আরশাদ খান বুঝতে না পেরে বললেন,
“কি বললে, কি খাবে?”

“কিছুনা। আপাতত কফি হলেই হবে।”

আরশাদ খান শ্বাস ছেড়ে বললেন,
“তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। ইভাকে নিয়ে। ডিল ফাইনাল হলে আগেই যেও না।”

সৌরভ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমাকে আর্জেন্ট যেতে হবে।”

আরশাদ খান ছেলের মতিগতি বুঝে বললেন,
“বেশি সময় না, জাস্ট ১০ মিনিট।”

সৌরভ বলল,
“তাহলে এখন বলো।”

আরশাদ খান হালকা হেসে বললেন,
“না থাক পরেই বলবো।”

আরশাদ খান ইভা এবং সুবহা দুজনকে নিয়েই কথা বলতে চান। এখন যদি সৌরভকে বলেন তাহলে এই ডিল রেখেই রেগে চলে যাবে। মাঝখান থেকে তার পরিশ্রমটাই জলে যাবে। তার থেকে পরে বলাই ভালো।

….

প্রাণেশা শাওয়ার নিয়ে বের হলো। লাল রঙের থ্রি-পিস পড়েছে। স্নিগ্ধও শাওয়ার নিবে তাই ও কাভার্ড খুলল স্নিগ্ধর জামাকাপড় বের করার জন্য।

জামাকাপড় বের করার সময় কাভার্ডের স্নিগ্ধর পার্সোনাল ড্রয়ারে চোখ আটকে যায়। স্নিগ্ধর শার্ট প্যান্ট কাঁধে রেখে একটা নিল রঙের ফাইল হাতে নিলো। সেখানে কিছু লেখা পড়ে প্রাণেশা পুরো হতভম্ব। বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া। বিড়বিড় করে বলল, “তার মানে স্নিগ্ধ একজন বড় মাপের….

তখনই স্নিগ্ধ রুমে আসে। প্রাণেশা ফাইলটা রেখে কাভার্ড বন্ধ করতে নিলে স্নিগ্ধ এগিয়ে এসে শয়তানি করে বলল,
“কি চুরি করছো?”

প্রাণেশা বুকে হাত গুজে বলল,
“টাকা-পয়সা, সোনা-দানা সব।”

স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“ওমা তাহলে কি এখন পালাবে?”

প্রাণেশা মাথা নাড়িয়ে বলল,
“একদমই না। আপনাদের বাড়ির সমস্ত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে পালাবো।”

স্নিগ্ধ এগিয়ে আসে কাভার্ডের দিকে। প্রাণেশা সাথে সাথে সামনে দাঁড়ায়। অতঃপর স্নিগ্ধর শার্ট শুকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল,
“সিগারেট খেয়েছেন?”

স্নিগ্ধ মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। প্রাণেশা কোমরে হাত রেখে বলে উঠল,
“মিথ্যে বলবেন না। আমি এর আগেও আপনার থেকে সিগারেটের স্মেল পেয়েছি।”

স্নিগ্ধ টেডি স্মাইল দিয়ে বলল,
“তুমি জানোই না সিগারেটের স্নেল কেমন হয়। এটা সিগারেটের স্মেল না।”

প্রাণেশা চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে বলল,
“আমাকে বোকা ভাববেন না। আমি জানি এটাই সিগারেটের স্মেল। কয়েকবছর ধরে এই স্মেলের সাথে পরিচিত বুঝলেন।”

“মোটেও না।”

“মোটেও হ্যা।”

দুজনে কিছুক্ষন ঝগড়া করার পরেও স্নিগ্ধ হার স্বীকার করে না। এরপরে প্রাণেশাকে বলে জামাকাপড়গুলো ওয়াশরুমে রেখে আসতে। প্রাণেশা তা রাখতে ওয়াশরুমে যায়। স্নিগ্ধ কাভার্ড খুলতেই নিজের পার্সোনাল ড্রয়ারের দিকে তাকায়। সেটা লক করা না দেখে ও সাথে সাথে চাবি দিয়ে লক করে ফেলে শ্বাস ছাড়ে।

চলবে....


সামনে টুইস্ট আছে। যারা যারা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

পেইজের রিচ কমে গেছে সবাই বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করবেন প্লীজ
আর সবাই ১০০ ফলো করে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
ফেইক পেইজ গুলো থেকে দুরে থাকুন
পরবর্তী পর্ব বড় করে দিবো যদি সবাই এই পর্বটি রেসপন্স করেন এবং পেইজটি ফলো করে রাখেন
গল্প গুলো সুধু মাত্র পাঠক পাঠিকাদের জন্যে পোষ্ট করি
প্লীজ নিজের বোন মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজ টি ফলো করে রাখুন প্লীজ প্লীজ প্লীজ
ফলো পেইজঃ জিসা হুসাইন ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

❤️🥰...more
07/07/2026

❤️🥰...more

07/07/2026

িঠে_ভালোবাসার_রোদ্দুর

#লেখিকা_কবিতা [৫]

[•••কপি করা নিষিদ্ধ•••]

উদয়ের গাড়ি এসে থামল চৌধুরী বাড়ির সামনে। অর্পিতা চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে উদয়কে একটা ধন্যবাদ জানাতে যাবে, তার আগেই সে ঝড়ের গতিতে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল।
কোমরে দুই হাত রেখে বিরক্ত মুখে অর্পিতা বিড়বিড় করে বলল,

— "যাহ বাবা! কী লোক রে! একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিতে দিল না। এমন ভাব করল যেন আমি জোর করে উনার গাড়িতে উঠেছিলাম!"

রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিল সে। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই বুকটা ধক করে উঠল।আয়নার সামনে পড়ে আছে একটি কলম যেটা ক্লাস নাইনে পড়ার সময় তোয়াশ তাকে উপহার দিয়েছিল।ধীরে ধীরে কলমটা হাতে তুলে নিল অর্পিতা। অজান্তেই দু'ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। কিন্তু পরক্ষণেই চোখের পানি মুছে ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে তুলল।এরপর আলমারি খুলে তোয়াশের দেওয়া একে একে সব জিনিস বের করতে লাগল চুড়ি, কানের দুল, জুতো, থ্রি-পিস সবকিছু। একটি বড় প্যাকেটে ভরে লাইটার হাতে ছাদে উঠে গেল।ছাদের মাঝখানে সব জিনিস ছড়িয়ে রাখল। তারপর দুই হাত শক্ত করে প্রথমে থ্রি-পিসটিতে আগুন ধরিয়ে দিল।মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন।সেই জ্বলন্ত আগুনের মাঝেই একে একে ছুড়ে দিল কলম, কানের দুল, চুড়ি সব স্মৃতি। চুড়িগুলো হাতে নিয়ে রাগে, ক্ষোভে একের পর এক মুচড়ে ভাঙতে লাগল। ভাঙা কাচের ধার তার হাতে বিঁধে রক্ত বের হতে শুরু করল, কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।যেন সমস্ত জমে থাকা ঘৃণা আর বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিচ্ছে সে।সবশেষে ভাঙা চুড়িগুলোও আগুনে ছুড়ে মেরে দুই হাত শক্ত মুঠো করে দাঁড়িয়ে রইল। জ্বলন্ত আগুনের দিকে ঘৃণাভরা চোখে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলল,

"আই হেট ইউ, তোয়াশ আই হেট ইউ!"

চুপচাপ দুই হাত বুকে ভাঁজ করে জ্বলন্ত আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে রইল অর্পিতা। রাতের নিস্তব্ধতায় আগুনের লেলিহান শিখা তার মুখে পড়ছে। সেই আলো-আঁধারিতে তার চোখ-মুখ এতটাই কঠিন আর নির্লিপ্ত লাগছে, যেন ভেতরের সব কোমলতা অনেক আগেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।এদিকে তোয়াশ বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিল। কিন্তু অদ্ভুত এক অস্থিরতা তাকে গ্রাস করে আছে। কিছুতেই মনটা শান্ত হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত একটু হাওয়া খেতে ছাদে উঠে এলো।ছাদে পা রাখতেই সে থমকে গেল।সামনেই অর্পিতা দাঁড়িয়ে। তার সামনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।আগুনের ভেতর আধপোড়া থ্রি-পিসের অংশ, ভাঙা চুড়ির কাচ, কানের দুল আর পরিচিত সেই কলমটা দেখে তোয়াশের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।এসব তো তারই দেওয়া।তাহলে অর্পিতা তার দেওয়া প্রতিটি স্মৃতি আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে।বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলেও ঠোঁটে এক চিলতে বাঁকা হাসি টেনে নিল তোয়াশ। ধীরে ধীরে হেঁটে এসে অর্পিতার পাশে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলল,

"এত ঘৃণা জন্মে গেছে আমার প্রতি?"

অর্পিতা একটুও চমকাল না। সে আগেই টের পেয়েছিল, কেউ একজন তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর সেই উপস্থিতিটা যে তোয়াশের, সেটা বুঝতে তার এক মুহূর্তও লাগেনি।আগুনের দিকেই তাকিয়ে থেকে সে শীতল কণ্ঠে বলল,

"বেইমানদের সবাই ঘৃণা করে। সেই তালিকা থেকে আমি বাদ যাব কেন?"

তোয়াশ কিছুক্ষণ আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,

"এসব পুড়িয়ে ফেলছিস কেন?"

অর্পিতার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।

"কী করব রেখে? আবর্জনা ঘরে জমিয়ে রাখার কোনো শখ আমার নেই। যে মানুষটা আমার চোখে পচে গেছে, তার দেওয়া জিনিসগুলোও আমার কাছে পচা স্মৃতি ছাড়া আর কিছু না। তাই আগুনেই সঁপে দিলাম।"

স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তোয়াশ। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

"এত তাড়াতাড়ি সব ভুলে যাচ্ছিস?"

অর্পিতা ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে নির্বিকার এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,

"আশা করেননি, তাই না?"

তোয়াশ হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

"সেরকম না। কিন্তু তুই আমাকে 'আপনি' বলে সম্বোধন করছিস? তোর ব্যবহারটাও কেমন যেন অচেনা লাগছে আমার কাছে।"

অর্পিতা মৃদু হেসে বলল,

"আপনিই বানিয়েছেন এই দূরত্বটা।"

কথাটা শুনে তোয়াশ চুপ করে গেল। তারপর শান্ত গলায় বলল,

"তুই চাইলে আমার সঙ্গে অন্তত ভালোভাবে কথা বলতে পারিস।"

অর্পিতা মুখ ফিরিয়ে নিল।

"ইচ্ছে হয় না।"

এক মুহূর্ত থেমে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল,

"থাকুন বাই।"

তোয়াশ কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তার আগেই অর্পিতা সেখান থেকে চলে গেল। স্থির হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল তোয়াশ। তারপর ধীরে ধীরে মাথা তুলে শূন্য আকাশের দিকে তাকাল। বুকের ভেতর অজানা এক শূন্যতা আর অস্থিরতা তাকে ক্রমশ গ্রাস করতে লাগল।

_________

পরদিন সকাল।

ডাইনিং টেবিলে সকালের নাশতায় বসেছে সবাই। শুধু অর্পিতারই দেখা নেই। সে এখনো নিজের রুম থেকে বের হয়নি।নাস্তা শেষ করেই তোয়াশ অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।অফিসে ঢুকতেই কপালে ভাঁজ পড়ল তার। পুরো অফিসে যেন উৎসবের আমেজ। কর্মচারীরা সবাই ব্যস্ত। কোথাও ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে, কোথাও নতুন ব্যানার লাগানো হচ্ছে। রিসেপশন থেকে শুরু করে করিডোর সবকিছু ঝকঝকে করে সাজানো হয়েছে।তোয়াশ পাশ দিয়ে যাওয়া ম্যানেজারকে থামিয়ে বলল,

"অফিসে কী হচ্ছে?"

ম্যানেজার সম্মানের সঙ্গে বললেন,

"স্যার, আজ থেকে কোম্পানির নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন করছেন। চেয়ারম্যান স্যার, অর্থাৎ মি. তারেক চৌধুরী নিজেই সব আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছেন।"

কথাটা শুনে তোয়াশের ভ্রু কুঁচকে গেল।

"নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর?"

"জি, স্যার।"

তোয়াশ আর কিছু না বলে নিজের কেবিনে চলে এলো। চেয়ারে বসে গভীর ভাবনায় ডুবে গেল।তার বাবা হঠাৎ কাকে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বানালেন?ভাবনার মাঝেই বাইরে কর্মচারীদের ফিসফাস আর কোলাহল ভেসে এলো।

"ম্যাম এসে গেছেন!"

"দ্রুত সবাই রিসেপশনে চলুন!"

তোয়াশও আর বসে থাকতে পারল না। কেবিন থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসের মূল প্রবেশদ্বারের দিকে এগিয়ে গেল।ঠিক তখনই একটি চকচকে কালো বিলাসবহুল সেডান গাড়ি এসে থামল অফিসের সামনে।দুজন নিরাপত্তারক্ষী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিল।ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নেমে এলো একজন তরুণী।তাকে দেখেই তোয়াশের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।

"অ... অর্পিতা!"

কিন্তু এ যেন সেই আগের অর্পিতা নয়।আজ তার গায়ে নিখুঁত ফিটিংয়ের চারকোল ব্ল্যাক থ্রি-পিস বিজনেস স্যুট। ভেতরে আইভরি সিল্ক শার্ট, সঙ্গে স্ট্রেইট-কাট ট্রাউজার। পায়ে কালো স্টিলেটো হিল। চোখে কালো প্রিমিয়াম সানগ্লাস। কব্জিতে মার্জিত একটি বিলাসবহুল ঘড়ি। এক হাতে কালো লেদারের ব্রিফকেস, অন্য হাতে গাড়ির চাবি। খোলা চুলগুলো পরিপাটি করে স্টাইল করা। মুখে হালকা মেকআপ, ঠোঁটে আত্মবিশ্বাসী একটুকরো নির্লিপ্ত হাসি।
সে গাড়ি থেকে নেমে ধীরে ধীরে সানগ্লাস খুলে সহকারীর হাতে তুলে দিল। তারপর একবার চারপাশে শান্ত, স্থির দৃষ্টিতে তাকাল।মুহূর্তের মধ্যেই কর্মচারীরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

"গুড মর্নিং, ম্যাম।"

অর্পিতা শুধু মাথা নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করল।তার হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব আর কর্তৃত্বের এমন এক ছাপ, যা দেখে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
আর তোয়াশ। সে যেন পাথর হয়ে গেছে।তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।এই মেয়েটা এতটা বদলে গেল কীভাবে?যে মেয়েটা একসময় তাকে দেখলেই ভয় পেয়ে কুঁকড়ে যেত, চোখ তুলে ঠিকমতো কথাও বলতে পারত না সেই মেয়েটাই আজ এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই বিশাল কোম্পানির নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর!তোয়াশের মাথা যেন কাজ করা বন্ধ করে দিল।
ঠিক তখনই ম্যানেজারের কণ্ঠে তার হুঁশ ফিরল।

"স্যার, ইনি আমাদের কোম্পানির নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মিস ইয়াশা জাফরিন অর্পিতা।"

তোয়াশ ধীরে ধীরে অর্পিতার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দুই হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,

"শেষ পর্যন্ত কোম্পানিতেও রাজত্ব করতে চলে এলি?"

অর্পিতাও সমান শান্ত ভঙ্গিতে এক হাত ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে তার চোখে চোখ রেখে বলল,

"নিজের অধিকারে রাজত্ব করব না তো কোথায় করব, মি. তোয়াশ চৌধুরী?"

তোয়াশের ভ্রু কুঁচকে গেল।

"মানে?"

ঠিক তখনই আরেকটি বিলাসবহুল গাড়ি এসে অফিসের সামনে থামল।গাড়ি থেকে নেমে এলেন তারেক চৌধুরী।
তিনি ধীর পায়ে তাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।তোয়াশের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

"আজ থেকে অর্পিতা এই কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সে তার নিজের প্রাপ্য দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে।"

কথা শেষ করেই অর্পিতা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। নির্বিকার ভঙ্গিতে নিজের কেবিনের দিকে হেঁটে চলে গেল।তোয়াশ বিস্মিত চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

"বাবা তুমি কী বলছ? ও এমডি মানে?"

তারেক চৌধুরী শান্ত গলায় বললেন,

"তুই হয়তো ভুলে গেছিস, এই কোম্পানির সত্তর শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিল অর্পিতার বাবা। সেই শেয়ারের বৈধ উত্তরাধিকারী অর্পিতা। সেই হিসেবেই আজ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব নিয়েছে।"

একটু থেমে তিনি আরও বললেন,

"সত্যি বলতে কী, ও চাইলে তোকে সিইওর পদ থেকেও সরিয়ে দিতে পারত। আমি সেটা হতে দিইনি। বরং তোরা দু'জন একসঙ্গে কোম্পানিটা চালাবি এই সিদ্ধান্তই নিয়েছি।"

কথাগুলো শুনে তোয়াশের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।তার বুকের ভেতর রাগ, অপমান আর বিস্ময় একসঙ্গে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল।তার মনে হতে লাগল, অর্পিতা যেন ধীরে ধীরে তার জীবনের প্রতিটি জায়গায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছে।একসময় যে মেয়েটাকে সে গুরুত্বই দিত না, আজ সেই মেয়েটাই তার সমকক্ষ ক্ষমতার আসনে বসেছে।
আর সেই সত্যটাই সবচেয়ে বেশি জ্বালিয়ে দিচ্ছে তোয়াশকে।

_______

সকাল ঠিক ৯টায় ঘুম থেকে উঠল উদয়। ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখে তার বাবা-মা ডাইনিং টেবিলে বসে তারই অপেক্ষা করছেন। উদয় চেয়ার টেনে বসতেই হালকা হেসে বলল,

"গুড মর্নিং, ড্যাড। গুড মর্নিং, মম।"

উর্মিলা খান স্নেহভরা হাসি দিয়ে বললেন,

"গুড মর্নিং, বাবা।"

রায়ান খানও মৃদু হেসে বললেন,

"গুড মর্নিং।"

এরপর তিনজন নীরবে নাশতা করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পর রায়ান খান গম্ভীর কণ্ঠে উদয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"উদয়, আর কতদিন এভাবে চলবি? এবার অন্তত আমার কোম্পানির সিইওর দায়িত্বটা নে। বয়স তো আর কম হচ্ছে না। এত বড় কোম্পানি একা সামলানো এখন সত্যিই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

উদয় বিরক্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

"ওহ, ড্যাড! আবার একই কথা? কতবার বলেছি, ব্যবসা আমার ভালো লাগে না। আমি এসব সামলাতে পারব না। প্রয়োজন হলে একজন দক্ষ সিইও নিয়োগ করে দাও।"

রায়ান খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্ত্রীর দিকে তাকালেন।

"দেখো তো তোমার ছেলের কথা। আমার নিজের ছেলে থাকতে আমি কেন বাইরের কাউকে কোম্পানির দায়িত্ব দেব? আমার যা কিছু আছে, সবই তো ওর ।"

উর্মিলা খান ছেলের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন,

"তোর বাবার কথাটা একবার ভেবে দেখ, বাবা। এত বছর ধরে উনি একা সব সামলেছেন। এখন বয়স বাড়ছে। সব দায়িত্ব একা বহন করা আর সহজ নয়। তুই যদি পাশে দাঁড়াস, উনিও একটু নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।"

উদয় রেগে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই রায়ান খান তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,

"দেখ বাবা, এবার আর না করিস না। কাল তিন গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস মিটিং। বিদেশ থেকে ক্লায়েন্টরা আসবে। আর শুনলাম, চৌধুরী গ্রুপে নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছে চৌধুরী পরিবারের মেজো মেয়ে অর্পিতা।"

"অর্পিতা" নামটা শুনেই উদয় থমকে গেল।তার হাতে ধরা চামচটা মাঝ আকাশেই স্থির হয়ে রইল।ভ্রু কুঁচকে বাবার দিকে তাকিয়ে সে বলল,

"কী বললে? অর্পিতা জয়েন করেছে?"

রায়ান খান মাথা নেড়ে বললেন,

"হ্যাঁ। আজই অফিসে যোগ দিয়েছে। আর কাল আমাদের কোম্পানির সঙ্গে ওদের বড় একটা ডিল ফাইনাল হওয়ার কথা। সম্ভবত মিটিংয়েও ও উপস্থিত থাকবে।"

কথাগুলো শুনে মুহূর্তেই উদয়ের ঠোঁটের কোণে রহস্যময় এক হাসি ফুটে উঠল।কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

"ওকে, ড্যাড। আমি কাল থেকেই অফিসে জয়েন করছি। আর কালকের মিটিংটাও আমি নিজেই হ্যান্ডেল করব।"

রায়ান খান বিস্ময়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

"সত্যি বলছিস?"

উদয় চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।সিঁড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,

"তুমি তো জানো, তোমার ছেলে কথা দিলে সেটা রাখে।"

একটু থেমে মুচকি হেসে আবার বলল,

"অফিসে ফোন করে জানিয়ে দাও আগামীকাল থেকে রায়ান খানের ছেলে অফিসে দায়িত্ব নিচ্ছে।"

কথা শেষ করেই উদয় সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল।উদয়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন রায়ান খান। পাশে বসে থাকা উর্মিলা খানও হাসলেন।কারণটা তাদের অজানা নয়।অনেক আগেই তারা জানতেন, তাদের ছেলে অর্পিতাকে কতটা পছন্দ করে। উদয়ের রুম গোছাতে গিয়ে কতবার যে অর্পিতার ছবি তাদের চোখে পড়েছে, তার হিসাব নেই। কখনো কোনো বইয়ের পাতার ভাঁজে, কখনো প্যান্টের পকেটে, কখনো আবার ওয়ালেটের ভেতরে যত্ন করে রাখা। প্রতিটি ছবিই যেন উদয়ের কাছে ছিল অমূল্য।কিন্তু ছেলেটা কোনো দিন নিজের অনুভূতির কথা মুখ ফুটে বলতে পারেনি।তাই আজ যখন রায়ান খান জানতে পারলেন, অর্পিতা চৌধুরী গ্রুপের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছে, তখনই বুঝেছিলেন এই খবরটাই উদয়কে রাজি করানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র।আর সেটাই হলো।
যে ছেলে এতদিন কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার নাম শুনলেই হাজারটা অজুহাত দিত, সেই ছেলেই অর্পিতার নাম শুনে এক মুহূর্ত দেরি না করে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়ে গেল।রায়ান খান ও উর্মিলা খান দুজনেই মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। তাদের পরিকল্পনা সফল হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা ভাগ্য শেষ পর্যন্ত উদয় আর অর্পিতার গল্পকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

চলবে...!



পেইজের রিচ কমে গেছে সবাই বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করবেন প্লীজ
আর সবাই ১০০ ফলো করে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
ফেইক পেইজ গুলো থেকে দুরে থাকুন
পরবর্তী পর্ব বড় করে দিবো যদি সবাই এই পর্বটি রেসপন্স করেন এবং পেইজটি ফলো করে রাখেন
গল্প গুলো সুধু মাত্র পাঠক পাঠিকাদের জন্যে পোষ্ট করি
প্লীজ নিজের বোন মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজ টি ফলো করে রাখুন প্লীজ প্লীজ প্লীজ
ফলো পেইজঃ জিসা হুসাইন ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

,,,

Adresse

Dakar

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸ publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Raccourcis

Partager